March 06, 2017

আমার পড়া ভাল বই-০১ঃ ভবঘুরে শাস্ত্র


আমাকে মাঝেই মাঝেই যেই প্রশ্নটা শুনতে হয় সেটা হল
- ভাই আইডিয়া কিভাবে পাব? অথবা,
-গল্প কিভাবে লিখব? 

আইডিয়া পাওয়া বা ক্রিয়েটিভ কাজ ইত্যাদিকে এখনো আমাদের সমাজে একটা অলৌকিক প্রতিভা হিসেবে ভাবা হয়। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাপারটা সত্যও বটে। তবে আমি মনে করি মহা ট্যালেন্টেড হয়েও লাভ নেই যদি আপনি নিজে না পড়েন, বা না দেখেন। ধরা যাক আপনি দারুণ শক্তিশালী একটা কম্পিউটার এর মত। দুর্দান্ত প্রসেসর, টেরা টেরা স্টোরেজ, র‍্যাম এর তো কথাই নাই, গ্রাফিক্স ও সেই রকম। আমি বলতে পারি আপনি দারুণ ট্যালেন্টেড একটা কম্পিউটার- বা মানুষ। কিন্তু সেই কম্পিউটার এ যদি কোন সফটওয়ার ই না ইন্সটল করি? যদি কোন ডেটাই না থাকে? তবে আপনি কী প্রসেস করবেন? কাজই বা কী করবেন? তার মানে আপনার কাজ করার জন্যে দরকার উপাদান। সফটওয়ার লাগবে, লাগবে ডেটা। সেই ডেটা প্রসেস করে ভাল গ্রাফিক্স এর পর সেটা আপনি পুর্নাঙ্গ একটা কাজ আকারে শেষ করবেন।  মানুষের ক্ষেত্রে সমস্যাটা হল সে কোন কম্পিউটার না যে কয়েকটা সিডি বা পেন ড্রাইভ থেকে কিছু জিনিস কপি পেস্ট করে ভরে দিলাম, আর সে সব বুঝে গেল। তার বুঝতে হয় নিজের চারিদিক থেকে দেখে দেখে, শুনে শুনে। তবে কেউ যদি সারাজীবন তার আশপাশ থেকে সব দেখে ফেলে বা শুনে ফেলে তারপরেও কিন্তু বিশাল যেই মানব সভ্যতার ইতিহাস তার কিছুই তার জানা হবে না। এই সমস্যার একটা দারুণ সমাধান হল বই। যে বই চাইলেই হাজার বছর আগের একটা মানুষ বা একদল মানুষ কী ভাবতো তা জানিয়ে দিতে পারে।

বই এর এখনো কোন বিকল্প মানুষ তৈরী করতে পারে নি। যতই ভিডিও দেখি, গান শুনি, আলোচনা করি, বইয়ের একটা আলাদা জায়গা থেকেই যাচ্ছে। যেখানে লেখকের আর পাঠকের মধ্যে আর কারো আনাগোনা নেই।  তাই আমাকে যখনই কেউ জিজ্ঞেস করে- এমনকি কার্টুনের ক্ষেত্রেও, যে কিভাবে আইডিয়া পাব, আমার একমাত্র উত্তর হয়- বই পড়া। এর পরেই যেই প্রশ্নটা আসে সেটা হল কী বই পড়ব? আসলে এটা বলা কঠিন। যে যেই জিননিসটা সম্পর্কে জানতে বা বুঝতে চায় তাকে সেই ধরনের বই পড়তে হবে। আর শুধুমাত্র আনন্দের জন্যে পড়াও অনেক জরুরী। তারপরেও আমার পড়া বেশ কিছু দারুণ বই ধীরে ধীরে ছোটোখাট রিভিউ ধরনের করে তুলে দিতে চাচ্ছি। তার ফলে পরিচিত ইপরিচিত কেউ হয়ত উপকার পেতেও পারেন। 

আজকের প্রথম বই -
ভবঘুরে শাস্ত্র।
লেখক রাহুল সাংকৃত্যায়ন (সাংস্কৃত্যায়ন না, অনেক বড়ো লেখক ও এই নামটা ভুল লেখেন)। রাহুল সাহেব আমার অনেক প্রিয় লেখক। বাম মতাদর্শে বিশ্বাসী ও শেষ জীবনে শান্তিপ্রিয় বৌদ্ধধর্মে দিক্ষীত এই মানুষটার অগাধ পাণ্ডিত্য আর অধ্যাবসায় অমানুষিক। অসংখ্য বই নিয়ে তিনি কাজ করেছেন, নিজে লিখেছেন আরো অনেক। তাঁর এই বইটি আসলে কেন মানুষের ঘুরতে বেরিয়ে পড়া উচিত, এবং কেন সেটা যৌবন থাকতেই- তা নিয়ে লেখা। ভ্রমণের জন্যে রীতিমত গাইডবই এটা। আমি এই বই পড়ে মোহিত হয়ে ছিলাম। এবং সময় পেলেই আমার দেশের আনাচ কানাচ ঘুরে বেড়ানোর পিছনে এই বইটার একটা দারুণ ভূমিকা ছিলো। আমাদের ঘুরে বেড়ানোর অনেক দ্বিধা থাকে, অনেক আয়োজন করতে চাই, অনেক দুশ্চিন্তা থাকে। মনে হয় টাকা কই পাব? কোথায় থাকব? কিন্তু ইউরোপিয়ান ব্যাকপ্যাকার বা অন্যান্য দেশের অনেকেই এই সব চিন্তা না করে আগে ইচ্ছে হলেই বের হয়ে পড়ে। যারা ঘুরতে পছন্দ করেন তাদের তো কথাই নাই, আর যারা ঘোরাঘুরি নিয়ে দ্বিধায় থাকেন তাদের জন্যেও পরামর্শ দিচ্ছি বইটা পড়তে, খুবই ছোট বই। তবে খুব সাবধান, এই বই পড়লেই ইচ্ছে করবে একেবারে গৃহত্যাগী হয়ে যেতে। প্রাকৃতিক ভাবে মানুষ যে আসলে যাযাবর আর সেটা ভুলে যে সে ঘরের মধ্যে বসে হেঁদিয়ে যাচ্ছে এটা হঠাত মাথায় ঢুকলে আপদও আছে। 
বইটার ভাল দিক হল, এক বসাতেই পড়ে ফেলা যাবে। আর যে কোন বড় বইয়ের দোকানেই মেলার কথা রাহুল সাংকৃত্যায়নের আরো সব বইও বেশ কিছু প্রকাশনীতে পাবেন, খুঁজে না পেলে আমাকে এখানে জানান। আমার কাছে এনার সব বই ই আছে। বেশ কিছু কেনা হয়েছে রুক্কু-শাহ-ক্রিয়েটিভ-পাবলিশার্স থেকে।

এর পর এই লেখকেরই আরেকটা বই নিয়ে বলবঃ ভোলগা থেকে গঙ্গা। ধীরে ধীরে আমার পড়া সেরা বইয়ের তালিকা শেষ হলে কবে কী পড়ছি তা নিয়েও বলা যাবে। ভালো থাকুন সবাই।



1 comment:

  1. এই বই আমার পড়া উচিত হবে না। এমনিতেই ইদানীং বৈরাগ্য এসেছে মনে। :| সন্ন্যাসী হয়ে যেতে মন চায়।

    ReplyDelete