February 21, 2017

বর্ণমেলায়

প্রথম আলোর একটা ভাষা দিবসের আয়োজন আছে- বর্ণমেলা। মূলত: শিশুদের জন্যে এই আয়োজন। আমরা ঢাকা কমিক্স থেকে সেখানে গিয়েছিলাম বাচ্চাদের ছবি/ক্যারিকেচার করতে। আমি, কার্টুনিস্ট প্রসূন, কার্টুনিস্ট রকিব। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় ১৫০ ক্যারিকেচার করেছি তিনজন মিলে। ভয়ানক ভীড়, রীতিমত লাইন দিয়ে বাচ্চাদের নিয়ে তাদের অভিভাবক দাঁড়িয়ে ছিলেন।

বাচ্চাদের আঁকা কিন্তু ভয়ানক কঠিন কাজ। কারন তাদের নাক মুখ এর 'ফর্ম ' ডেভেলপ হয়নি তাই সেগুলি বোঝাও কঠিন। লাইন ড্রয়িং এ একটু এদিক ওদিক হলেই চেহারা পালটে বুড়োটে হয়ে যাবে। প্রথম কলম দিয়ে করতে গিয়ে মাখিয়ে ফেলে পরে একটা 6B  পেন্সিল দিয়ে করলাম। সেটা বলার জন্যে এই লেখা না, লিখছি কারণ দুইটা জিনিস আমাদের চোখে লেগেছে কাল।

১. বাচ্চাদের কে তাদের বাবা মা এমনকী কার্টুন আঁকা হবে এমন জায়গাতেও এসে তটস্থ কর দিচ্ছে। 'এভাবে বস'

'হাসো! হাসো!'

'দেখো অন্যেরা কত সুন্দর করে বসেছে'

'নড়ে কেন?'

'অ্যাই লাইন ভাংছো কেন? (এটা অন্যদের বাচ্চাকে বলা) '

মানে সব মিলে এই মজার জিনিসটাকেও আতংকজনক কিছু একটা বানিয়ে ফেললেন তাঁরা দেখতে দেখতে। বাচ্চারা সামনে বসে খুবই নার্ভাস ভাবে তাকিয়ে থাকলো। আমরা টুকটাক কথাবার্তা বলে বলে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলাম। ব্যাপারটা ভালো লাগলো না।

. আমি ক্যারিকেচার এর সাবজেক্ট এর সাথে কথা বলি। কে কেমন সে কী করে সেটাও জানি। যেমন একজনকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে সে সারাদিন রোদ এ দৌড়াদৌড়ি করে। জিজ্ঞেস করলাম- 
- 'তুমি কি খেল?'
- 'হ্যাঁ (অলরেডি সে একটু সহ্য হল, কারণ তার পছন্দের কিছু নিয়ে কথা বলা হচ্ছে) ক্রিকেট খেলি'
এর থেকে আমি সব শেষে তার হাতে একটা ক্রিকেট ব্যাট ধরিয়ে দিলাম, শেষে লেখা বেস্ট ব্যাটসম্যান অফ দ্য ওয়ার্ল্ড ২০৩৩!

কে জানে এই আঁকাটা হয়ত তার জন্যে অনেক দারুণ কিছু হয়ে গেল। 
আমার সামনে তাই যখন এক কিশোরী বছর ১২'র এসে বসলো। দেখেই মনে হল সে অনেক পড়ে, তবে একটা চাপ এর মধ্যে আছে এমন মনে হল। আই কন্ট্যাক্ট করছে না। ভঙ্গী আড়ষ্ট, পিছনে তার মা দাঁড়ানো। আমি জিজ্ঞেস করলাম- 

-'তুমি কমিক্স পড়?'

-'হ্যাঁ পড়ি।' ছোট উত্তর।

-কী পড়?

- টিনটিন

- এস্টেরিক্স পড়ো না?

- পেলে পড়ি।

- গল্পের বই?

- মেয়েটা একটু চুপ করে তারপরে বল্ল-

- সারাদিন স্কুলের পড়াই পড়ি, গল্পের বই কখন পড়ব?

- কেন ছুটির দিনে?

- সেদিন কোচিং থাকে।

শুনে আমি থেমে গেলাম। এর মানে কী? ছুটির দিনেও স্কুলের বাচ্চারা একটা গল্পের বই নিয়ে বসতে পারছে না আমরা এমন কী বিদ্যাদিগগজ প্রজন্ম বানাচ্ছি? আমি আর কিছুই বললাম না, কিন্তু মনটা খারাপ হয়ে গেল বেশ। আসলে এখনকার প্রজন্ম বই পড়ে না, মাথায় কিছু নেই আমরা যারা বলে দায় সারাচ্ছি, তারাই কি আসলে নতুনদের ঠিকমত বেড়ে উঠতে দিচ্ছি? এই বইমেলায় আমার নিজের একটা স্টল আছে, বাংলা কমিক্স এর। সেখানে বসে কিন্তু কখনো আমার মনে হচ্ছে না বাচ্চারা পড়ে না। আমরা ভীড় সামলাত হিমশিম খাই। এবং পুরোনো পাঠকেরা এসে এই সিরিজের আর কী নতুন বই এসেছে সেটা জানতে চায়। বইমেলার এই সময় ছাড়া তারা কি এই সুযোগটা পাচ্ছে? যদি না পায় সেটা আমাদের সমস্যা। বাবা-মায়ের সমস্যা। 

মার্চ মাসে বাচ্চাদের স্কুলে স্কুলে বই পৌঁছে দেবার একটা প্ল্যান মাথায় নিয়ে ঘুরছি। দেখা যাক কী করা যায়।
ক্যারিকেচার এর মডেল ও আমি।

সাবজেক্ট এত কাছে নিয়ে আঁকার সুযোগ প্রসূন এর এই প্রথম।
আরেক আঁকিয়ে রকিব এর কোন ছবি তোলা হয়নি। সে সবা বাচ্চাকে ক্যারিকেচার যে ফ্রি না সেটা বোঝাতে বিনিময়ে একটি করে ছড়া বা গান শোনাতে বলেছে। আমি শুনছিলাম পাশের বাচ্চা বলছে- সফদার ডাক্তার, মাথা ভরা টাক তার।

February 11, 2017

আহ! কাশ্মীর

বহু প্রতিক্ষীত বই, আমার আর মিতুর ট্রাভেলগ। কাশ্মীর ভ্রমণের বই। অনেক সময় নিয়ে ধীরে সুস্থে দুইজনে মিলে লিখেছি। গত বছরেই বের হবার কথা ছিলো। ডামাডোল এ বের হয়নি। এবারে কী হয় দেখা যাক। আপাতত প্রচ্ছদ দেয়া গেল।







February 01, 2017

পার্স্পেক্টিভ আর ফটো রেফারেন্স

আমার কমিক্স এ সবচেয়ে দূর্বল জায়গা হল ব্যাকগ্রাউন্ড, রুহানের এই পর্ব থেকে সেটা সারানোর চেষ্টা করছি। আসলে একটু সময় দিয়ে কিছু রেফারেন্স ফটো ঘাঁটা (কিছু ক্ষেত্রে প্রায় ট্রেস করা :p) গেলেই হয়। যেমন এই দৃশ্যটা ছিল রুহান আর রিদি একটা পুরোনো ভাঙ্গা বাড়িতে অনেক ছড়ানো ছিটানো বই দেখতে পেলো। 
এখানে প্রথমে কিছু পুরোনো বাড়ি দেখলাম গুগল করে, আসলে আজব ব্যাপার হল ভাঙ্গা বাড়ি আঁকলে কেন জানি খুব একটা ভাঙ্গা লাগে না। তখন বুঝলাম টেক্সচার মিসিং, বেশ ময়লা ময়লা কিছু টেক্সচার লাগবে। তা-ও পেলাম, এবারে লাগবে বই। ছড়ানো ছিটানো বই কখনো আঁকি নি, সেটাও অনেক শেখার আছে, বই যে কতভাবে ভাঁজ খেয়ে পড়ে থাকতে পারে সেটা দেখে এঁকে বুঝলাম। যাই হোক এটাও এমন কিছু হয় নি তবে আগের ভাসা ভাসা ব্যাকগ্রাউন্ড এর চেয়ে ভাল। আরো কিছু রেফারেন্স ঘেঁটে আঁকা কাজ দিলাম। কালার করা ফাইনালটা পরে দেয়া যাবে।




January 24, 2017

পঞ্চ রোমাঞ্চ কমপ্লিট!

এবং আসছে পঞ্চ রোমাঞ্চ! আমরা রোমাঞ্চিত। কারণ কাজী আনোয়ার হোসেনের সাথে আমরা কাজ অরেছি! তাঁর কোন গল্প নিয়ে এই প্রথম উনি কাউকে প্রিন্ট মিডিয়ায়  করার অনুমতি দিলেন। কমিক্স টা আসলে পাঁচটা অন্যরকম গল্পের সংকলন। একেকটা গড়ে ৩২ পৃষ্ঠা করে ১৬০ পৃষ্ঠা খালি আঁকা, সেই সাথে ভূমিকা আর লেখালেখি মিলিয়ে মোট পৃষ্ঠা ১৭৫। আমাদের ঢাকা কমিক্স এর থেকে এটাই সম্ভবত সব থেকে বড় কমিক্স। পকেট একেবারে খালি হয়ে যাচ্ছে এবারে এটা করতে। দেখা যাক পাঠক কিভাবে নেয়। বড়দের গল্প তাই ওপরে ম্যাচিওর্ড কন্টেন্ট লিখে দেয়া হচ্ছে। সেটার কী-না-কী প্রতিক্রিয়া দেখতে হবে কে জানে।
প্রচ্ছদ এঁকেছেন ওয়ান এন্ড অনলি তৌহিদুল ইকবাল সম্পদ ভাই। এই লোকটা মেশিন টাইপ।

January 23, 2017

রুহান রুহানঃ লাল পাহাড়

প্রায় শেষ করে এনেছি চার নম্বর পর্ব, আর ১৪ পৃষ্ঠা বাকী। এবারে মোট ৬৪ পৃষ্ঠা আঁকতে হল। শেষ পর্যন্ত এটা ২৫০ পৃষ্ঠার একটা বড় গ্রাফিক নভেল হবে, শেষ হলে এটার ভূমিকায় গ্রাফিক নভেল নিয়ে একটা ছোট লেখা লিখব ভাবছি। দেখা যাক :)
ভাল কথা, এই দুইটা আঁকাই একাধিক রেফারেন্স থেকে প্রায় টুকলিফাই করে আঁকা। আঁকা আঁকি নিয়ে আরো সিরিয়াস হচ্ছি এই বছর। এই প্রজেক্ট করতে গিয়ে টের পেলাম আঁকাআঁকিতে কত ঘাপলা আছে, পার্স্পেকটিভ, এনাটমি, কম্পোজিশন- আর মূলত ফিমেইল। বিরাট সমস্যা আছে আঁকায়। এইবারে টানা স্টাডি চালাবো।