March 24, 2017

আমার পড়া ভাল বই ০৩: মাইন ক্যাম্ফ

এই সিরিজের নাম ভাল বই না বলে বলতে আসলে বলা উচিত ছিলো মনে রাখার মত বই, সেই তালিকায় এই বইটা থাকবে। লেখক স্বয়ং এডলফ হিটলার! যতই ভিলেন হিসেবে এই লোক ইতিহাসে থাকুন না কেন, আমি মনে করি এই একজন মানুষ কিভাবে ভাবতেন, কিভাবে হাজার হাজার (আসলে লক্ষ লক্ষ) মানুষকে কোন যুক্তি ছাড়াই আরো লক্ষ লক্ষ মানুষকে মেরে ফেলতে রাজী করিয়েছিলেন সেটা সবার জানা উচিত। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ নাই- ইত্যাদি বলে আমরা যতই মুখে ফেনা তুলি না কেন, হিটলার কিন্তু সেই সব কিছুর উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি মুখে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের ভেতরের পাশবিক প্রবৃত্তিকে এভাবে এই 'সভ্য' সময়ে যে আবার বের করে আনা যায় তার একটা অকাট্য দলিল হিটলার স্বয়ং। এই যুগে এই বইটি আবার পড়া অতি গুরুত্বপুর্ণ কারণ এখন আবার একটা চরমপন্থা চারিদিকে মাথা তুলছে। মানুষ যখন খুব হতাশ হয়ে যায় তখন এই চরমপন্থাকে পুঁজি করে কিভাবে কিছু মানুষ বিভৎস যুদ্ধে মাতে এবং সব মানুষ অন্ধের মত তার পিছনে দাঁড়ায় তার একটা উদাহরণ হিটলার। এই মানুষটা কিভাবে ভাবতো, কিভাবে ধীরে ধীরে পুরো জার্মান (মুলত: আর্য্য) জাতিকে বিশ্বাস করাতে পারল যে তাঁরাই পৃথিবীর সেরা জাতি, অন্যেরা ভাইরাস মাত্র, মানুষের উপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে কিভাবে মেঠো ইঁদুর বনাম ঘরের ইঁদুরের প্রসঙ্গ টানলো তা আসলে পড়া উচিত। পৃথিবীতে এই মুহূর্তে ঘৃণায় ভরা যত ঘটনা ঘটে চলেছে তা বুঝতে হলে আমার মতে এই মাইন ক্যাম্ফ পড়া উচিত। বইটা এমনিতে একেবারেই ছোট, পড়তে খুব সময় লাগবে না, আর পাওয়া যায় প্রায় সব বড় বইয়ের দোকানেই। নীলক্ষতের ফুটপাতও হিটলারের দখলেই আছে বলা যায়। 

March 19, 2017

সবচেয়ে বেশী যে সব সমস্যা আঁকিয়ে/ শিল্পীদের হয়

একটা দারুণ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। চারিদিকে অনেক নবীন কার্টুনিস্ট আর আঁকিয়ে কাজ করে চলেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যানে সেগুলি দেখাও যাচ্ছে। তবে খেয়াল করছি অনেকেই যে পরিমাণ আগ্রহ নিয়ে শুরু করেছিলো এখন যেন তা অনেকটা কমে গেছে, অনেকে ছেড়ে দিচ্ছে সবকিছু। এই ঘটনা যদিও সবসময়ই ছিলো। সবাই টানা লেগে থাকে না, টানা একই রকম উৎসাহে সবসময় থাকে না। কিন্তু এখনকার সময়টা একটু আলাদা। এখন কেউ মহা (মাঝে মাঝে অতি) উৎসাহে শুরু করছে একটা কিছু আবার মুহূর্তেই সেটা আবার মিইয়ে যেতেও সময় লাগছে না। আমি কয়েকটা কেস স্টাডি দেখে শুনে মনে হল কিছু ব্লগিয় কাউন্সেলিং করা যেতে পারে। হঠাত ক্রিয়েটিভ কাজে আগ্রহ চলে যাবার হাজারটা কারণ থাকতে পারে, তবে আমার মতে সবচেয়ে বেশী যেসব দেখা যায় সেগুলি মাথায় রাখলে ঝামেলাটার মুখোমুখি হওয়া সহ্য হয়, যেটা যেটা না করলে আপনি আরেকটু ভালমত নিজের পছন্দের ক্রিয়েটিভ কাজ করতে পারবেন তা আমার মতে এইরকম-



১. তুলনা না করা
মানে নিজের কাজ অন্যের কাজের সাথে তুলনা করা বন্ধ করা। এই বিষাক্ত সংস্কৃতিটা আমাদের সমাজে খুব বেশী আসন গেড়ে বসেছে। ছোটবেলা থেকেই অন্যের চেয়ে আপনার কাজ কতটা কম ভাল সেটাই বারবার সবাই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাচ্ছে। একটা প্রতিযোগিতা সবসময়। প্রতিযোগিতা অবশ্যই থাকবে তবে তা হবে নিজের সাথে নিজের। আজকের আমি যেটা করলাম সেটা আসলে গতকালকের আমার কাজের চেয়ে কতটা ভাল সেটা দেখতে হবে। অন্যের সাথে প্রতিযোগিতার দুইটা সমস্যা,

১. সেটাতে হারবো, তার মানে আর কাজ করে লাভ কী? ওর চেয়ে ভাল তো আমি হবো না, কখনো 
পারবোও না।

২. সেটাতে জিতবো, তার মানে আর কাজ করে লাভ কী? জিতেই তো গেছি। এখন আর কেন কাজ করব?

সুতরাং তুলনাটা অন্যের সাথে করার কোন মানেই নেই। অন্যের থেকে শিখবেন। বুঝবেন। প্রশংসা করবেন, তুলনা করবেন নিজের কাজের সাথে নিজের।

টিপসঃ ফেইসবুকের যুগে অন্যের কাজ না দেখে থাকা বা তুলনা না করা প্রায় অসম্ভব, নিজের কাজ ফিরে পেতে একেবারে নিয়ম করে কয়েকদিন অন্যের কাজ না দেখে নিজের কাজ স্টাডি করে দেখা যেতে পারে, শেখার জন্যে অন্যের কাজ দেখা যেতে পারে, তুলনা করার জন্যে কখনই না।

২. লাইকা সমস্যা



এটাও ঘুরেফিরে প্রথম সমস্যার মতই। কাজ করে সেটা সাথে সাথে সোশ্যাল মিডিয়াতে দিয়ে অপেক্ষা করা যে লাইক পড়ছে কিনা। যদি না পড়ে বা কম পড়ে তবে আমি ভালো না। তবে আর এঁকে কী হচ্ছে। এভাবেও অনেকে থেমে যাচ্ছে। তাই নিজের শিল্পী জীবন বাঁচাতে লাইকের জন্যে না এঁকে নিজের আনন্দের জন্যে আঁকুন। অবশ্যই অন্যের আনন্দের জন্যে আঁকাও জরুরী। তবে অন্যে আনন্দ না পেলে সেটা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।

টিপসঃ ইন্টারনেট বা সোশায়ল মিডিয়াতে দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ে ছাড়া ঢুকবেন না। ভাল উপায় হল মোবাইলে ইন্টারনেট ডেটা কানেকশন অফ রাখা, একান্ত না লাগলে অন না করা।

৩. অতি উতসাহ ও শর্টকাট

এটাও একটা বিরাট সমস্যা। ক্রিয়েটিভ কাজে অতি উৎসাহ স্বাভাবিক, কিন্তু এটা বেশীদিন থাকা অস্বাস্থ্যকর। হঠাৎ করে কোন একটা মিডিয়া নিয়ে কাজ করেই রাতারাতি কেন সেটা চারিদিকে সাড়া ফেলছে না সেটা নিয়ে টেনশন করতে করতে শেষে 'দুচ্ছাই' বলে আরেকদিকে চলে যাওয়া কোন কাজের কথা না। অনেকেই গান, পেইন্টিং, ফটোগ্রাফি ইত্যাদি সবকছু শিখে ফেলেছি ভেবে সেগুলি নিয়ে কী করবে বুঝে উঠতে না পেরে শেষে সিনেমা বানাতে নেমে পড়ে আবার টের পায় এটা ঠিক জমছে না। শেষে তার যে কিছুটা সম্ভাবনা ছিলো সেটাও শেষ করে একেবারে গতবাঁধা যা সে করতে চায়নি সেটা করা শুরু করে। ব্যাপারটা এভাবে ভাবুন, দুইজন মানুষ একটা সিঁড়ির সামনে দাঁড়ানো, একজন বার বার এক লাফে সেটার ওপরে উঠতে চাইছে, আর আছাড় খাচ্ছে। আরেকজন একটা একটা করে সিঁড়ি ভেঙ্গে সেই একই সময়ে সিঁড়ির ওপরে চলে গেল। আছাড় খাওয়া মানুষটা হতোদ্যম হয়ে ফিরে গেল আর ভাবলো নিশ্চই ওই যে উঠে গেল ওর কোন লবিং ছিলো বা কোন শর্টকাট ছিলো যেটা আমি পাইনি। তাই বহুবার শোনা কথাটা আবার মনে রাখতে হবে যে শর্টকাট বলে কিছু নেই- হ্যাঁ আপনি অতি প্রতিভাবান বা প্রসেসর হাই ডেফিনিশনের হলে এক লাফে যে দুইটা করে সিঁড়ি ভাঙ্গাটা অসম্ভব তা বলছি না।

টিপসঃ প্রতি মাসের শুরুতে সময়রেখা (টাইমলাইন) বানান, মানে এই মাসে কখন আমি কী  শিখব সেটা লিখে রাখা। তাহলে অযথা যা ওই মাসে করার কথা না সেটা কেন হচ্ছে না ভেবে মেজাজ খারাপ হবে না।

আমার মতে এই তিনটা জিনিস একজন 'হতে পারতো দারুণ শিল্পী'র জন্যে বিধ্বংসী। এইগুলি এড়িয়ে/ ভেবে চললে কিছুটা ভাল থাকা সম্ভব।




March 16, 2017

আমার পড়া ভাল বই ০২ঃ ভোলগা থেকে গঙ্গা




আইডিয়া পাওয়া বা ক্রিয়েটিভ কাজ ইত্যাদিকে এখনো আমাদের সমাজে একটা অলৌকিক প্রতিভা হিসেবে ভাবা হয়। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাপারটা সত্যও বটে। তবে আমি মনে করি মহা ট্যালেন্টেড হয়েও লাভ নেই যদি আপনি নিজে না পড়েন, বা না দেখেন। ধরা যাক আপনি দারুণ শক্তিশালী একটা কম্পিউটার এর মত। দুর্দান্ত প্রসেসর, টেরা টেরা স্টোরেজ, র‍্যাম এর তো কথাই নাই, গ্রাফিক্স ও সেই রকম। আমি বলতে পারি আপনি দারুণ ট্যালেন্টেড একটা কম্পিউটার- বা মানুষ। কিন্তু সেই কম্পিউটার এ যদি কোন সফটওয়ার ই না ইন্সটল করি? যদি কোন ডেটাই না থাকে? তবে আপনি কী প্রসেস করবেন? কাজই বা কী করবেন? তার মানে আপনার কাজ করার জন্যে দরকার উপাদান। সফটওয়ার লাগবে, লাগবে ডেটা। সেই ডেটা প্রসেস করে ভাল গ্রাফিক্স এর পর সেটা আপনি পুর্নাঙ্গ একটা কাজ আকারে শেষ করবেন।  মানুষের ক্ষেত্রে সমস্যাটা হল সে কোন কম্পিউটার না যে কয়েকটা সিডি বা পেন ড্রাইভ থেকে কিছু জিনিস কপি পেস্ট করে ভরে দিলাম, আর সে সব বুঝে গেল। তার বুঝতে হয় নিজের চারিদিক থেকে দেখে দেখে, শুনে শুনে। তবে কেউ যদি সারাজীবন তার আশপাশ থেকে সব দেখে ফেলে বা শুনে ফেলে তারপরেও কিন্তু বিশাল যেই মানব সভ্যতার ইতিহাস তার কিছুই তার জানা হবে না। এই সমস্যার একটা দারুণ সমাধান হল বই। যে বই চাইলেই হাজার বছর আগের একটা মানুষ বা একদল মানুষ কী ভাবতো তা জানিয়ে দিতে পারে।

বই এর এখনো কোন বিকল্প মানুষ তৈরী করতে পারে নি। যতই ভিডিও দেখি, গান শুনি, আলোচনা করি, বইয়ের একটা আলাদা জায়গা থেকেই যাচ্ছে। যেখানে লেখকের আর পাঠকের মধ্যে আর কারো আনাগোনা নেই।  তাই আমাকে যখনই কেউ জিজ্ঞেস করে- এমনকি কার্টুনের ক্ষেত্রেও, যে কিভাবে আইডিয়া পাব, আমার একমাত্র উত্তর হয়- বই পড়া। এর পরেই যেই প্রশ্নটা আসে সেটা হল কী বই পড়ব? আসলে এটা বলা কঠিন। যে যেই জিননিসটা সম্পর্কে জানতে বা বুঝতে চায় তাকে সেই ধরনের বই পড়তে হবে। আর শুধুমাত্র আনন্দের জন্যে পড়াও অনেক জরুরী। তারপরেও আমার পড়া বেশ কিছু দারুণ বই ধীরে ধীরে ছোটোখাট রিভিউ ধরনের করে তুলে দিতে চাচ্ছি। তার ফলে পরিচিত অপরিচিত কেউ হয়ত উপকার পেতেও পারেন।

আজকের বই -
ভোলগা থেকে গঙ্গা
আবারো রাহুল সাংকৃত্যায়ন। ভবঘুরে শাস্ত্রের আগে বরং এই বইটা পড়েছিলাম। প্রথম পড়েছি ইউনাইটেড ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরি থেকে ধার করে, সেখানে আমার বন্ধুরা পড়ত। ধার করে দুই দিন ধরে সেটা পড়ে ফেরত দিয়ে সোজা নীলক্ষেতে গিয়ে দুই কপি কিনেছিলাম মনে আছে। এক কপি আর কোন ভাল পাঠককে গিফট করতে। এই কাজটা আমি মাঝে মাঝেই করি। খুব ভাল বই অন্য কারোর সাথে শেয়ার করতে ইচ্ছে করে। ভোলগা থেকে গঙ্গা যে আমি কতবার পড়েছি এখন বলতে পারবো না। আরো অনেকেই যারা পড়েছেন তারা হয়ত কারণটা বুঝবে না।  রাহুল এখানে এমন একটা সত্য সময়ের স্বাপ্নিক ছবি এঁকেছেন ইতিহাসের মোড়কে মুড়ে যে অজান্তেই পাঠক এক লহমায় হাজার বছর ঘুরে আসার একটা আমেজ পাবে। আমার নিজের প্রাচীন ভারতবর্ষ নিয়ে একটা রোমান্টিসিজম আছে, কালিদাসের মেঘদূত এ কারণে আমি বেশ কয়েকবার পড়েছি। প্রিয় বইয়ের মধ্যে মৈত্রেয় জাতকও চলে এসেছে তাই। আর ভোলগা থেকে গঙ্গা যে এই সব কিছুর প্রথম পাঠ আমার জন্যে তা বলাই বাহুল্য।

বইটি রাহুলজী শুরু করেছেন প্রাচীন কাল থেকে, রাশিয়ার ভোলগা নদীর তীর থেকে, সেখানে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০০ অব্দ থেকে তখনো 'মানুষ' এর অবয়ব পায়নি এমন কিছু প্রাগৈতিহাসিক প্রাণিদের গল্প থেকে শুরু। তারপর চমতকার ভাবে তিনি সময়ের সাথে সাথে এই বিরাট স্রোতধারার তীর ধরে ধরে এগিয়েছেন ভারতবর্ষের দিকে। শেষ হয়েছে এসে গঙ্গার তীরে। শেষ করেছেন 'সুমের' নামক অধ্যায়ে: ১৯৪২ এ এসে। এঁর ঠিক পরের  খণ্ড হল 'কনৈলা কি কথা'। সেখানে ভারতবর্ষের স্বরাজ পর্যন্ত সময়কে ধরা হয়েছে। দুই খণ্ড একত্রে মিলেই পাওয়া যায় এখন।

ভোলগা থেকে গঙ্গা অসংখ্য ইতিহাস ও পুরাণ গ্রন্থের সহায়তায় লেখা। ভাল লাগার মূল জায়গাটা হল এঁর একেবারে নৈর্ব্যাক্তিক ভাবে বলা খুবই আবেগবহুল কাহিনী। আর এই বইয়ের যেই কথাটা আমার মনে গেঁথে গেছে সেটা ছিল এরকমঃ এই পৃথিবী যদি তার বুকে ঘটে যাওয়া সব কথা বলতে পারত তবে ইতিহাস অন্য রকম হত।- হুবহু এমন ছিলো না , স্মৃতি থেকে লিখছি। কিন্তু কথাটার ভাবটা এইরকমই ছিল। 

আপাত দৃষ্টিতে সরাসরি অধ্যায়গুলি/ গল্পগুলির যোগাযোগ না থাকলেও আবার কোথায় যেন তারা ধারাবাহিক একটাই গল্প। প্রাচীন রাশিয়ান ঊনমানুষদের ধীরে ধীরে ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়ার গল্প, আর্য জাতির উত্থানের গল্প, বৈদিক যুগের গল্প। সবার উপরে- মানুষের গল্প।

যারা প্রাচীন ইতিহাস, সমাজ ও নৃতত্ত্ব ভালোবাসেন তাদের জন্যে সবসময় সাথে রাখার মত একটা বই এই ভোলগা থেকে গঙ্গা।

একটা অনলাইন পিডিএফ পেলাম এই লিংকে। তবে এটা কিনে সংগ্রহে রাখাই ভাল। প্রায় সব ভাল বইয়ের দোকানেই পাবেন, নীলক্ষেতের ফুটপাতেও এঁর উর্বর চাষ হচ্ছে। সেখানেও দেখতে পারেন।

March 14, 2017

Going back to traditional

ডিজটালি আঁকতে আঁকতে ট্রাডিশনাল আঁকার বেশ কিছু জিনিস মিস করি ইদানীং- যেমন: হ্যাপি এক্সিডেন্ট। ডিজিটালি যে একসিডেন্ট হয় না তা না। তবে সেটা আনহ্যাপি। বইমেলায় যেমন এরকম অনেক গুলি আনহ্যাপি এক্সিডেন্ট ঘটেছে। উন্মাদের ৭৪ পৃষ্ঠার কমিক্স ডিজিটাল এক্সিডেন্ট (আমার দোষ আছে সাথে একটা ভাইরাস সাহায্য করেছে) ঘটে ভুল ফাইল ২০০০ কপি প্রিন্ট হয়ে গেছে। 
যাই হোক, দুইটা জিনিস চেষ্টা করছি, 

১. লাইট আর কালার বোঝা, এজন্যে পড়ছি James Gurney'র Color and Light

২. রঙ: পিগমেন্ট- কিভাবে একটা আরেকটার সাথে মেশে আর অসংখ্য অন্য রঙ তৈরী করে সেটা সেখার জন্য তেল রঙ কিনেছি। 

এই বছরটা লেভেল আপ এর চেষ্টা করে যাব। শেখার বদলে খালি এঁকে যাচ্ছি বিভিন্ন প্রজেক্ট। এটা কোন কাজের কথা না :/

March 13, 2017

কার্টুন কোর্স


এ বছরের আঁকান্তিস স্কুলের কার্টুন কোর্স শুরু হচ্ছে। এই সময়টা দারুণ উপভোগ করি। নিজে যা জানি সেটা ঝালাই করা আর অন্যদের কাজ আগের থেকে ভাল করতে একটা আনন্দ আছে। সারাবছর অসংখ্য মানুষ কবে আবার কার্টুন কোর্স হবে, কেন হচ্ছে না ইত্যাদি বলে বলে মাথা ধরিয়ে ফেলে। মজার ব্যাপার হল কোর্স শুরু হলে এই গ্রুপটা একেবারে চুপ মেরে যায়। আর সত্যিকারে ভর্তি হয় একেবারেই অচেনা অনেকে। ব্যাপারটা মজার।