November 18, 2018

ঢাকা কমিক্স ইউনিভার্স

ঢাকা কমিক্সের নবীন সিরিজের দুই ক্যারেক্টার ইব্রাহীম আর জুম নিয়ে একটা ক্রস ওভার গল্পের প্ল্যান চলছে।
(আগ্রহীরা বইগুলি চাইলে ক্লিক করুন ইব্রাহীম ১ ইব্রাহীম ২ জুম ১) সেই সাথে কাজ চলছে আমাদের নিজেদের একটা ইউনিভার্স তৈরীর। স্টে টিউন্ড :)
ইব্রাহীম কন্সেপ্ট ক্যারেক্টার কস্টিউম

November 17, 2018

বোধি ১: ফান্ডেড প্রজেক্ট!



(কার্টুন কমিক্স ইত্যাদি আঁকতে গিয়ে বেশ কয়েকবার আমার বোধিপ্রাপ্ত দশা ঘটেছে। আমি হঠাত সবিস্ময়ে ভেবেছি- এই তবে জগতের স্বরুপ? তার একটা শেয়ার করা যাক।)

মাঝে মাঝেই আমার মাথায় বেশ কিছু সমাজসেবামূলক আইডিয়া চলে আসে, যেমন- কার্টুন এঁকে স্টিকার ছাপিয়ে সরকারী অফিসে সাঁটিয়ে দেব- 'ঘুষ খাই তো ... খাই'

অথবা হর্ণ দূষণ কমাতে স্টিকার বের করে গাড়ির পেছনে পেছনে সেঁটে দেই 'হর্ণেই বংশের পরিচয়'। 

শহরের ময়লা নোংরা আবর্জনা কমাতে কিভাবে বাচ্চাদেরকে ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা উচিত সেটা কমিক্স এঁকে ক্যপাটেন প্ল্যানেটের মতে করে বুঝিয়ে দেই। এসব 'বনের মোষ' প্রজেক্ট মাথায় এলেই সেটা আমি নামিয়ে দেবার চেষ্টা করি, খালি আটকে যাই অত্যন্ত বাস্তব একটা সমস্যায়, সেটা হল- এঁকে না হয় ফেললাম কিন্তু সেটা ছাপানোর/ বাস্তবায়ন করার টাকা? একেবারে মিনিমাম কিছু করলেও সেটা ছাপার জন্যে একটা টাকা দরকার। শিল্পী সম্মানী না হয় বাদই দিলাম, ছাপাখানার টাকাটা তো লাগবে? 

আশেপাশের লোকজন জানালো এটাও নাকি কোন সমস্যা না, অসংখ্য মানুষ নাকি টাকা নিয়ে বসেই আছে এইসব দারুণ দারুণ (!) প্রজেক্টে দেবার জন্যে, খালি সুন্দর করে একটা প্রোপোজাল বানালেই হবে, টাকার তাঁদের অভাব নেই, অভাব শুধু ভাল আইডিয়ার। আর কষ্ট করে আইডিয়াটা তাঁদের কাছে পৌঁছে দিলেই হবে। শুনে আমি 'হাউ টু রাইট প্রোপোজাল' ধরনের বেশ কিছু আর্টিক্যাল পড়ে নিয়ে প্রোপোজাল লেখা শুরু করলাম ও সম্ভাব্য স্পন্সরদের কাছে যাওয়া শুরু করলাম। আমার বোধোদয়ের শুরু সেখানেই। আমি এক মাসের মধ্যে বুঝে গেলাম যারা এই কথাটা বলেছে যে সমাজের কল্যাণে ফান্ড দেবার জন্যে অনেকেই টাকার বস্তার মধ্যে এক হাত ঢুকিয়ে বসে আছে তারা মিথ্যা বলেছে বা স্রেফ আমার সাথে মজা করার চেষ্টা করেছে।

সম্ভাব্য স্পন্সরদের সবাই বিভিন্নভাবে আমাকে না করে দিচ্ছে কিছু উদাহরন দেই-

ফান্ড নাই
'ইশ একটু আগে আসবেন না এ বছর ফান্ড নাই, কিন্তু চমৎকার আইডিয়া, অবশ্যই পরের বার সবার আগে আমাদের কাছে আসবেন।'
বলা বাহুল্য যে পরের বছর আগে আগে গেলে তারা এবারে আবার বেশি আগে কেন চলে এলাম সেটা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন।

জানাবো
অসম্ভব ভালো আইডিয়া, আমরা এটা স্যারকে জানাচ্ছি, উনি এখন একটু সুইটজারল্যান্ডে আছেন (যেখানে ইন্টারনেট নাই তাই এখন 
ইমেইলে জানা যাচ্ছে না), উনি আসলেই আমরা আপনাকে জানাবো।

অন্য আর কী করার আছে?
আরে এই আইডিয়া তো হবেই, এটা রাখেন, এটা তো একেবারে ছোট বাজেটের কাজ ভাই। আর কী কী করা যায় বলেন? একটা বিগ প্রোপোজাল দেন, বছর ব্যাপি পুরো দেশের জন্যে, আপনি লিখে পাঠান, এই ইমেইলে দিয়েন, আর এখানেও একটা সিসি দিয়েন। 

যাই হোক, এই উদাহরণ দিয়ে শেষ করা যাবে না। কিন্তু এর থেকে রক্ষার উপায় কী তা বুঝলাম না, ওদিকে আবর জাবর প্রজেক্ট অনেক দেখি ফান্ড টান্ড পেয়ে অস্থির অবস্থা, তাহলে এই রহস্যের সমাধান কী?

সমাধানে এগিয়ে এল আমার এক বন্ধু (তার নাম বলা নিষেধ) ধরা যাক তাঁর নাম 'বাস্তব আলম'। সে খুবই বাস্তববাদী। সে এসেই এই সব শুনে টুনে বলল
- ধূর ব্যাটা হাবা, এইভাবে কেউ প্রোপোজাল বানায়? প্রোপো লিখে শেষে জুড়ে দিবি মাছ ধরা জাল, সেইটা হল আসল প্রোপোজাল।

আমি বললাম- মানে?

-মানে শোন- তুই যা করছিস সেটা হ্ল তোর কী ইচ্ছা সেটা লিখে দিচ্ছিস, সেটায় একজন মানুষ কেন টাকা দেবে?

আমারো তাই মনে হল- তাই তো!

-তোর করতে হবে ওরা কী চায় সেটা।

-আচ্ছা- সেটা কিভাবে?

-মনে কর, কেউ চায় তার বাইক খালি বিক্রি হবে আর বিক্রি হবে, তাহলে তুই বাইকের উপকারিতা নিয়ে একটা কমিক্স করবি। পাতায় পাতায় বাইকের ছড়াছড়ি,

-ইয়ে কিন্তু সমাজের তাতে

-আরে দুত্তোর সমাজ, সমাজ হলে তো টাকা হবে না রে গাধা! শোন- মনে কর হালে কিছু একট ক্রেইজ যাচ্ছে, এই মনে কর গাব গাছা লাগান, মাটি বাঁচান। মানে গাব গাছের উপর মনে কর ইউরোপ থেকে ফান্ড আসছে, ব্যাস, সাথে সাথে নেমে পর গাব গাছের চারার ১০ টি গুণ লিখে প্রোপোজাল লিখতে। স্পন্সর পাক্কা। হঠাত দেখছিস না সবাই ক্লাইমেট নিয়ে খুব চিন্তিত, কথায় কথায় ক্লাইমেট চেইঞ্জ, তার মানে বুঝবি ফান্ড আছে! আবার দেখবি জেন্ডার ইস্যু, মানে ফান্ড এসেছে, দেখবি হার্ড টু রিচ, সাসটেইনিবিলিটি, ইনক্লুসিভ সোসাইটি এইসব কখনো শুনোসই নাই টাইপ সব টার্ম জপা শুরু হচ্ছে আশে পাশে- মানে কী বল?

-ফান্ড!

-ইয়েস! দ্যাটস দ্যা সিক্রেট। প্রোপোজালের মধ্যে তোকে ঢুকায়ে দিতে হবে কে কী চায় সেইটা। তুই কী চাস সেটা বাহ্য।

-তাহলে আমার নিজের কাজ কিভাবে হবে?

-নিজের কাজ করলে শুধু নিজের কাজই হবে, টাকা হবে না। হাবিজাবি বাদ দিয়া তারচেয়ে এইবার তুই একটা প্রোপোজাল লিখে ফেল তো।

-কী নিয়ে?

-ফেমিনিজম, বেশ বড় একটা ফান্ড আসছে।

এই শুনে সব ছেড়েছুড়ে আবার আমার তেজগাঁওয়ের ছোট্ট দশ বাই দশ ফুট স্টুডিওতে গিয়ে ঢুকলাম ও আমার নিজের কমিক্স আঁকত্রে থাকলাম, সমাজসেবার ভূত আপাতত মাথায় নেই।



November 08, 2018

কার্টুন এঁকে কত টাকা?

একেবারে বেসিক এনিমাশন শিখে সেটা দিয়ে টুকটাক কিছু ফান টিউটোরিয়াল বানাচ্ছি, এবারের পর্ব-

October 24, 2018

ক্রিয়েটিভ সেক্টরের টক্সিক 'ভাইয়া' : যেভাবে চিনবেন।

মেঘে মেঘে বেলা বয়ে যাচ্ছে, এখন আর টিআইবি তে কার্টুন জমা দিতে পারি না, এখন আর কেউ বলে না প্রতিশ্রুতিশীল। সময়ের সাথে আসলে মানুষের কিছু করার ক্ষমতা নেই, সময় তো আর হাতিরঝিলের ড্রেন না যে থেমে থাকবে, তাকে তার নিয়মে বয়ে যেতে হবে। আর এই চলার ফাঁকে ফাঁকে সে আমাদের একের পর এক বাস্তব সত্য শিখিয়ে আক্কেল গুড়ুম বানিয়ে বানিয়ে চুল পাকিয়ে দিতে থাকবে। আমি তো প্রায় দিনই নতুন নতুন সত্য জেনে তব্দা মেরে যাই। ও ব্যপারটা তাহলে এই ছিল? এদ্দিন ভেবেছি ওই? যেমন আমি আমার ছোট কার্টুন আঁকার জীবনে বেশ কিছু মজার জিনিস দেখেছি, আর মধ্যে একটা হল 'বড় ভাইয়া'। বড় ভাইয়া আর কিছুই না কোন একটা সেক্টরে (সাধারণত ক্রিয়েটিভ) কেউ একজন কিছু অধস্তন জোগাড় করবে এবং তাদের ঘাড়ে চেপে তার নিজের একটা (বা একাধিক) প্রজেক্ট হাসিল করবে। আর বিনিময়ে ছোটদের যেটা দেবে সেটা হল শর্ট টার্মে বায়বীয় 'এক্সপোজার' ও লং টার্মে 'অভিজ্ঞতা' অনেকটা সেই কৌতুকের মত, ব্যবসার আগে আমার ছিল টাকা, পার্টনারের ছিল অভিজ্ঞতা, এখন সেটা উলটে গেছে। তো এই ধরনের বেশ কিছু বড় ভাইকে আমি একটু দূর থেকে (কাছে যাইনি কারণ আমি এদের ভয় পাই) দেখেছি। আর তাদের সাথের সবার হাল ও পরিণতি ও শেষমেশ তাদের নিজেদের অবস্থা সবই কেস স্টাডি টাইপ ফাইল হয়ে মাথায় জমা হয়েছে। সেগুলি থেকে দেখেছি এই ধরনের টক্সিক (টক্সিক কারণ তারা অন্যের ক্রেডিট ও কাজ নিজের কাজে লাগিয়ে নিজের যশ ও অর্থ বাগায় ও অন্যদের মন ভেঙ্গে দিতে থাকে) ভাইয়াদের কিছু কমন বৈশিষ্ট্য থাকে। দেখে নিন, নিজের অভিজ্ঞতার সাথে মিলে যেতে পারে, অথবা হতে পারে এই মুহূর্তে আপনি এরকম কারো সাথেই আছেন-


১. টক্সিক ভাইয়া অতি আদর করবে   

ভদ্রতা জনিত ভাল ব্যবহার আর অতি আদরের পার্থক্য টের পাবার মত বুদ্ধি আপনার না থাকলে বাকিটুকু পড়ার দরকার নেই। এই ভাইয়ারা (একটু জেন্ডার বায়াসড হয়ে যাচ্ছে তবে আমি কোন আপুকে এখনো এরকম পাইনি।) সাধারণত আপনাকে না চেনার ভান করবে, তবে কোনভাবে যদি আপনার কোন রকম যোগ্যতা তার কাজে আসতে পারে বলে তারা বুঝতে পারে তবে মধুর ব্যবহারে আপনার জান ঝালাপালা হবে। সেটা অনেকটা মামু-মামু ব্যাপার, মানে আমরা আমরাই তো। এরকম একটা সম্পর্ক হবে, মাঝে মাঝেই পার্টি, খেতে যাই চল। চল আজকে আড্ডা দেই, ইত্যাদি চলতে থাকবে। হঠাত হঠাত আবার সময় বুঝে গম্ভীর মোটেভিশনাল স্পিচ চলবে যে আমাদের কাজটা কত বড়ো মাঝে মাঝেই আমাদের কাজটা যে কত সিরিয়াস দেশের (আসলে নিজের) জন্যে সেটা বলবে। 

২. অনেক কাজ করাবে  
ভাইয়া এবার অন্নেক অন্নেক কাজ করাবে, অন্নেক এক্সপোজার এর কথা বলবে, কিন্তু কাজের বিনিময়ে প্রাপ্য টাকা দেবে না, বিপ্লবের কথা বলবে। টাকা দিলেও সেটা কোন কাজের জন্যে কী হিসাবে দেয়া হচ্ছে সেটা পরিষ্কার থাকবে না। এবং কাজ করিয়ে সেটার ক্রেডিটের পুরো ভাগে থাকবে সে নিজেই, এবং মূল প্রচার প্রসারের চ্যানেল বা মূলধারার লিংক টিংক থেকে খুব সাবধানে আপনাদের সরিয়ে রাখবে।

৩. ক্রেডিট সাকার  
এরা আপনার সাথে ন্যূনতম সম্পর্ক আছে এমনটা হলেই আপনার যে কোন কাজ যে আসলে তার আর আপনার যৌথ একটা আলোচনারই ফল এটা বলে বেড়াবে, আপনি স্বীকার করুন বা না করুন। যদি কোনভাবে বাগে আনতে না পারে তবে সম্পর্ক খারাপ হবার পরে বলবে যে সেটা আসলে তারই করা ছিল।

৪. কাজ ফুরিয়ে গেলে অন্যরকম  
আপনার থেকে তার যাবতীয় কাজ শেষ হয়ে গেলে বা আপনি কোন কারণে তার ওপরে বিগড়ে গেলে তার আসল চেহারা দেখিয়ে গালাগাল করবে ও ত্যাগ করবে ও অন্যান্যদের বলবে আপনি কত অযোগ্য। আর কোনভাবে যদি আপনি তার চাইতে কোন কিছু একটু ভাল করে ফেলেন তবে সাথে সাথে আপনাকে পঁচানো হবে, আপনাকে এড়িয়ে চলা শুরু হবে কিন্তু মূল প্রচারের প্ল্যাটফর্মে আপনার কাজটাও তাঁর সফলতা হিসেবে দেখানো হবে।

৫. নিজের কাজ ভয়ানক  

এরা সন্তর্পনে তার নিজের কাজ কী সেটা গোপন করে, মানে সবই তার কাজ এরকম একটা ভাব কিন্তু আসলে তার নিজের ক্রিয়েটিভ ধরনের কাজ তার জুনিয়রদের চাইতেও খারাপ, মূলত এটাই অন্যদের ঘাড়ে সওয়ার হবার কারণ।

সবার প্রতি আমার সাজেশন হচ্ছে এমন যে কোন একটা বৈশিষ্ট্য পেলেই এ ধরনের কারো থেকে সাবধানে থাকবেন। নাইলে এক সময় এর উপর ভয়ানক বিরক্ত হয়ে আপনার যা নিজের জন্যে করার কথা ছিলো তা আর করা হবে না, এমনকি আপনি আপনার ড্রিম প্রজেক্ট বা ড্রিম ক্যারিয়ারের অপরেই বীতশ্রদ্ধ হয়ে দূরে চলে যেতে পারেন। সত্যি বলতে আপনার পরিচয় আপনার কাজ, বড় ভাইদের ধরে লিংক টিংক করে এগিয়ে যাব এটা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলির ক্ষেত্রে কাজ করতে পারে, কিন্তু ক্রিয়েটিভ সেক্টরে সেটা হলেও হবে ক্ষণস্থায়ী। সুতরাং নিজের কাজ ভালো করুন, এ ধরনের ধান্দাবাজ ভাই থাকুক বা না থাকুক, নিজে কাজ করে যান, প্রতিদিন কাজ আগের চেয়ে ভাল করার চেষ্টা করুন, সেখানে আপনাকে কেউ থামাতে পারবে না।

পুনশ্চ:
আর এই ধরনের টক্সিক ভাইদের আমি যদ্দুর দেখেছি নিজেদের পরিণতি সবচেয়ে খারাপ হয় কারণ প্রথমত অন্যের ঘাড়ে চাপতে চাপতে নিজের কাজ আর করা হয় না, যাও হত তাও খারাপ হয়। এবং শেষে একে একে সবাই  তাকে ত্যাগ করে, কারণ এই ধরনের ঘটনা জানাজানি হয় বিদ্যুতবেগে। একটা সময় সে একা হয়ে যায়। পরিণত হয় অনেক নাম করা ট্র্যাশে। নাম বা টাকা দিন শেষে উদ্বায়ী, থেকে যায় মানুষের সম্পর্ক, থেকে যায় কাজ। এই টক্সিক মানুষগুলি তাই শেষমেশ সবথেকে বড়ো লুজার।