February 13, 2012

বাসন্তি খাম


গতকালের খাম। পুরো মেলায় কাল বসেছিলো বাসন্তি হাট, বছর তিনেক আগেও বসন্ত এত ঘটা করে ঢাকায় নামতো না। এই ১৩'ই ফেব্রুয়ারিতে আমাদের নিজেদের একটা উৎসব থাকাটা আমার কাছে দারুণ লাগছে। এর হলদে রঙের নীচে যেটা আমাদের না এমন- ১৪'ই ফেব্রুয়ারিটা অনেকটা চাপা পরে।

February 11, 2012

বইমেলাঃ ২০১২


প্রতিদিন অফিস ফাঁকি মেরে বইমেলায় পরে থাকছি। স্টলে বসে থাকতে থাকতে বিচিত্র সব ক্রেতাদের কর্মকান্ড দেখে প্রবল 'কৌতুকানন্দ' উপভোগ করি। সেই সাথে উন্মাদের টাকায় কেনা খাম (যাতে করে স্টিকার, ম্যাআগাজিন ইত্যাদি দেয়া হয়) ধ্বংস করে চলেছি। এত এত চরিত্র একসাথে পাওয়া এমনিতে অসম্ভব। স্টলে বসে প্রতিদিন একাধিক ব্রাউন খাম শেষ করি। কাল হঠাৎ কি মনে করে তার একটা নিয়ে এলাম। এখন থেকে প্রতিদিন একটি করে খাম ও সেই সাথে খামের গল্প বলার চেষ্টা করব।

February 09, 2012

আগুন রঙ বরফ রঙ: (রঙ সিরিজ-৪)

 [বেশ দেরি হয়ে গেল এবারের পোস্ট টা দিতে। ফেব্রুয়ারিতে অবশ্য এটা নতুন কিছু নয়। ফেব্রুয়ারির এক তারিখ থেকে প্রকাশক লেখক-ইত্যাদি ব্যক্তিরা উঠে পরে লাগেন যে কোন মূল্যে তাদের 'প্রডাকশন' দিতে। আর সে সময় (অর্থাৎ হাতে যখন আর এক সপ্তাহ আছে) খোঁজ পরে আঁকিয়েদের। তাদের বলা হয়- 'ভাই কইরা দ্যান না, আপনার তো দুই টান দিলেই হয়া যায়' এই অশ্লীল বাক্যটা শুনতে শুনতে আমরা ক্লান্ত। এই শ্রেনীর লোকজনের কারণে দেশে এখনো আঁকিয়ে গোষ্ঠীও পেশাদার হয়ে উঠতে পারেনি। প্রথম কথা- কেন তাদের শশব্যস্ততা আঁকিয়েদের ঘাড়ে চাপবে? দ্বিতীয় কথা- তারা কেন ধরে নিচ্ছে এটা সবচেয়ে সহজ ও কম সময়ে করে ফেলা যায়- দুই টান দিলেই হয়। আমি শুধু বাংলাদেশের প্রকাশনা জগতের জড়দ্গবতা আর কুপেশাদারীত্ব নিয়ে অচিরেই একটা পোস্ট দিচ্ছি-
আজ এখানেই থামি।]

রঙের তাপ




রঙ চাক্কিতে আমরা মোটামুটি রংধণুর সব রঙ পেয়েছিলাম। এই চাক্কিটা আবার চাইলে দুইভাগে ভাগ করা যায়-রঙের তাপমাত্রার ভিত্তিতে। শুনতে আজব লাগলেও ব্যপারটা আসলেই তাই। রঙ এরও ঠান্ডা-গরম আছে। ওপরের ছবিটা দেখুন। এখানে নীলের দিকের রঙ গুলিকে বলা হচ্ছে ঠান্ডা আর লালের দিকেরগুলি গরম। খুব সম্ভব বরফের রঙ নীলাভ আর আগুনের রঙ লালচে বলে আমাদের অবচেতন ব্যপারগুলি এভাবে দেখে। আঁকাআঁকির ক্ষেত্রে এই দুই ধরনের রঙের একটা ভারসাম্য রাখলে সেটা দেখতে ভাল লাগে। দক্ষ আঁকিয়েরা এই দুই ধরনের রঙ একটার সাথে আরেকটা ভেবেচিন্তে ব্যবহার করেন। আর গরমের সাপেক্ষে ঠান্ডা, বা ঠান্ডার সাপেক্ষে গরম রঙ অনেক ভাল 'ফোটে'।



রঙ আরেকটু গুলিয়ে নিয়ে চাক্কিটা খেয়াল করুন, এমনকী সবুজ, টিয়া কমলা এগুলিও অনায়াসে গরমের দিকে জায়গা করেছে। একইভাবে বেগুনী থেকে ফিরোজা সবই আবার গিয়ে পরেছে ঠান্ডা এলাকায়। ব্যপারটা আসলে আরো সুক্ষভাবে বোঝার আছে তবে সেটা আমরা পরে দেখব। এই সিরিজের শেষে গিয়ে আমরা যা যা দেখলাম তা দিয়ে মাস্টার পেইন্টারদের কাজগুলি আমরা বিশ্লেষণ করব।


 
এই ছবিটা দেখলেই আসলে ব্যপারটা সহজে বুঝে ফেলা যায়। এখানে একেবারে মোটা দাগে আকাশের ঠান্ডা নীল রঙ আর তার সাথে সামনে উষ্ণ টিয়া ঘাস। অর্থাৎ প্রকৃতিতেই ব্যাপারটার একটা ভারসাম্য থাকে। আমরা পারলে পরে কিছু ফটোগ্রাফ নিয়ে আরো খুঁটিয়ে ব্যাপারটা দেখব।


ঠান্ডা আর গরম কি আলাদা করা যাচ্ছে? -LION KING

এখানে

খেয়াল করুন, এ সব ডিজাইনে ওয়ার্ম আর কুল রঙের প্রয়োগ একেবার মোটা দাগেই করা হয়েছে। এটা খুবই কাজের একটা জিনিস। মানে যদি আপনি মূল ক্যারেকটারকে 'ফোটাতে' চান তাহলে তার গায়ে যদি ওয়ার্ম রঙ দ্যান তো তার পেছনের রঙ হবে তার উলটা, মানে কুল।

ওয়ার্ম কুল নিয়ে আপাততঃ এখানেই থামা যাক। আসলে ব্যাপারটা এতটা মোটাদাগের লাল নীল চাপানো না, এমনকী একই রঙের সাথে একটা ধুসর মিলিয়ে সেটার কুল রঙ পাওয়া যায় একইভাবে আবার সেটার স্যাচুরেশন এ গেলে তা ওয়ার্ম মনে হয়। আশা করি সেই ডিটেইলে যাবার সুযোগ আমাদের ঘটবে। আমরা এখন রঙ করবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ VALUE নিয়ে একটু ঘাঁটি।


ভ্যালু ড্রয়িং

কারো বাসায় কি সাদা-কালো টিভি আছে? এখন না থাকলেও এক সময় ছিল না এমন কাউকে হয়ত পাওয়া যাবে না। সেই সাদা কালো টিভিতেই কিন্তু আমরা বিটিভির স্বর্ণযুগের সব অনুষ্ঠান দেখেছিলাম। এবং রঙ না থাকায় তখন আমাদের কারো কোন সমস্যা হয়নি। ভ্যালু নিয়ে লিখতে গেলে এই ব্যাপারটাই আমাদের আগে বুঝতে হবে। কোন রকম রঙ না থাকলেও এমন কী ছিল যাতে কোন কিছুই বুঝতে সমস্যা হয়নি? রঙ না থাকলেও সেখানে যা ছিল তার নাম -VALUE. সোজা বাংলায় পরিমাণ। আসলে রঙের ভিত্তি এই VALUE। রংকে বরং আমরা আঁকিবুকির একটা দ্বিতীয় শ্রেনীর উপাদান বলতে পারি যা আঁকার ভাব (MOOD) ছাড়া আর তেমন কিছুই নিয়ন্ত্রণ করে না। সুতরাং VALUE যদি আমরা একবার বুঝে ফেলি তাহলে রং করার ব্যাপারটা আরো সহজ হয়ে যাবে।

(এখানে ফটোশপে কাজটা করা হয়েছে, কিন্তু নিয়ম সব ক্ষেত্রে একই)




প্রথমে মিডটোনে একটা সলিড ফিগার আঁকা হল
এবারে একটা বেসিক শেড দেয়া হল, ধরে নেয়া হল আলো ওপর থেকে আসছে। (ওয়াটার কালার, পোস্টার কালার, পেন্সিল সব ক্ষেত্রেই নিয়ম এক)
এবার আরেকটু বেশী VALUE দিয়ে ওপরের জিনিসপাতি আঁকা। খেয়াল করুন, এখানে প্রথমে কালো রঙ্গটার হয়ত ২০% VALUE নেয়া হয়েছিল। তারপর ওপরের শেডটা দেয়া হয়েছিলো ৪০% এ। আর এখন বাকি সব আঁকা হচ্ছে ৬০% এ- মানে একই রঙের বিভিন্ন পরিমাণ বা VALUE দিয়ে আমরা আঁকছি।
টুকটাক ডিটেইলিং ও ১০% VALUE দিয়ে হাইলাইট ফেলা হল






এবারে সবচেয়ে মজার অংশটা (এটা অবশ্য কম্পিউটার সফটোয়ার ছাড়া করা যাবে না)। আমাদের করা VALUE ড্রয়িং এর ওপর এবার একটা লেয়ার নিয়ে সেটাকে COLOR MODE  এ নিয়ে আসতে হবে।

এরপর ম্যাজিক! যেখানে যে রঙ চান শুধু সেটা নিয়ে চাপিয়ে দিন। 
আপনি সেটা যত গাঢ়ই নিন না কেন সে পরবে ঠিক তার আগের সাদা কালো VALUE অনুযায়ী। 
অর্থাৎ আপনি আসলে সাদ-কালো টিভির ওপর একটা রঙ্গীন পর্দা ফেলছেন।
VALUE আগেরটাই রয়ে গেছে।
শেষ! (ঠান্ডা আর গরম রঙ কি আলাদা করতে পারছেন?)

এই VALUE নিয়ে এও কিছু বলার কারণ হল আপনার আঁকার সব ঠিক থাকলেও যদি VALUE ঠিক না থাকে তবে মাঠে মারা। যদি কম্পিউটার এ আঁকেন তো এটা আগে থেকে করে নেয়া অনেক সহজ। (মাস্টার আঁকিয়েরাও এই পদ্ধতিতে আঁকছেন আজকাল, মানে আগে সাদায় কালোয় এঁকে নিয়ে) আর হাতে-কাগজে করলে আগে পেন্সিল বা চারকোল এ VALUE কোথায় কত হবে সেটা ছোট্ট করে করে নিতে পারেন।
আজ এইটুকুই, পরের পোস্ট হবে এক রঙের সাপেক্ষে আরেক রঙ কিভাবে কাজ করে তা নিয়ে। ভাল থাকুন সবাই।

February 03, 2012

কালার হারমোনি-(রঙ সিরিজ-৩)

এবারে কয়েক ধরনের হারমোনি মেনে একই ছবি কয়েকবার আঁকা হল। পার্থক্যগুলি দেখুন। চিলড্রেন বুক এ সবচেয়ে বেশী ব্যবহার হয় আসলে প্রথম দুইটাই। আর একটা সময় এগুলো হাতে এসে গেলে আপনি সহজেই সব ধরনের হারমোনি মিলিয়ে একটা ছবি আঁকতে পারবেন, সেটা আরো মজার। এখানে আমি নিজে যে সব ঠিকমত এঁকেছি তা ঠিক নিশ্চিত না। কেউ ভুল ধরিয়ে দিলে খুশী হব।





February 01, 2012

কালার হারমোনি (রঙ সিরিজ-২)

এইবার আমরা হুইলের আসল কাজটা দেখি। মানে রঙ করার সময় এটা আসলে কি কাজে লাগে। একটা ছবি রঙ করার সময় আসলে মূল যে ব্যপারটা মাথায় আগে আনতে হবে সেটা হল ছবিটা কিসের? মানে সেটার 'ভাব'টা কী। সেটা কি আনন্দ? দুঃখ? ক্রোধ? লালসা? রঙ করার আগে আসলে সেটাই প্রথম কাজ। সেটা করার জন্যে কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। তার প্রধান কয়েকটা আমরা একটু দেখি,


COLOR HARMONY  (এখানে ক্লিক করে মুল সাইটটায় যেতে পারেন যেখান থেকে এই সব কিছু নেয়া)


Complementary Harmony বা উলটা হারমোনি  
হুইলের যেকোন রঙের সাথে যদি ঠিক তার উলটো দিকের রঙ নেয়া হয় তবে এই হারমোনি ঘটে।
সাধারণতঃ উজ্জ্বল, চড়া দাগের ভাব ধরতে এই প্যালেট টা ব্যবহার করা হয়

Analogous Harmony বা পাশাপাশি হারমোনি
হুইলের পাশাপাশি কমপক্ষে তিনটা রঙ নিয়ে যদি রঙ করা হয় তবে এটা ঘটবে।
নরম কোমল ভাবের ছবি- ল্যান্ডস্কেপ, স্বপ্নালু দৃশ্যপট ইত্যাদিতে এই প্যালেট বেশ কাজে দেয়
Triadic Harmony বা ত্রিভূজ হারমোনি-
এই ধরণের একটা সমবাহু ত্রিভূজ ভেবে নিয়ে যদি হুইল থেকে রঙ নেয়া হ।
এটা আর পরের Split complementary আসলে complementary' র মতই
তবে কম চড়া


Rectangle (tetradic) color Harmony বা বাক্স হারমোনি-
এ ক্ষেত্রে একই কাজ করা হয় একটা আয়তক্ষেত্র এঁকে
চিল্ড্রেন বুক এ বা কমিক্স এ এই রঙের প্রাধান্য দেখা যায়।
বেশ ঝলমলে একটা অনুভুতি আনে এই প্যালেটটা


Square color Harmony বা 
বর্গ হারমনি আসলে এ পর্যন্ত এসে আপনি বুঝে যাবেন যে কালার হুইলের ওপর
যে কোন একটা জ্যামিতিক অবয়ব ফেলে দিলেই সেটা কিছু একটা হয়ে যায়, আর রঙের সবচেয়ে
মজাদার জগৎ এখান থেকেই শুরু হবে কারণএখন আপনি নিজেই নিজের
মত করে বিভিন্ন হারমনিয়াস স্কিম বানাতে পারবেন।


পরের পোস্ট টা হবে রঙের উত্তাপ আর সাদা কালোর ভ্যালু নিয়ে। ততক্ষণ সাথেই থাকুন :)

_________________________
ডিস্ক্লেইমার- রঙ সম্পর্কে আমি নাদান ব্যক্তি। তাও যা জানি এ পর্যন্ত তা সবার সাথে না বলে থাকতে পারছি না, কেউ যদি কোন ভুল ধরিয়ে দেন বা নতুন কিছু যোগ করে(ন) তাহলে খুবই খুশী হব।