October 23, 2017

Demon challenge

ফেইসবুকের দুর্দান্ত গ্রুপ Character Design Challenge প্রতি মাসে নতুন ক্যারেক্টার ডিজাইন প্রতিযোগিতা ছাড়ে। কত মহা মহা আঁকিয়ে যে এখানে কাজ দেয়! অসামান্য সব কাজ খালি মুগ্ধ হয়ে দেখি। এবারে ছিলো ডেমন- মানে শয়তান। ক'দিন আগেই নেপাল ঘুরে এলাম সে সময় হিন্দু ও বৌদ্ধ ডেমনোলজির দুটো ছোট বই কিনেছিলাম, Ritual objects and Deities: An iconography on Buddhism and Hinduism (এটা অবশ্য মিতু কিনেছে). আরেকটা স্রেফ-Himalayan Folklore: Ghosts and Demons from West NEPAL (এটা আমি)। এই জিনিস নিয়ে পড়তে গিয়ে দেখি হিন্দুইজম বা বুঢিজম এ কোন পরম শয়তান বলে কিছু নেই। সেমিটিক ধর্মগুলিতে যেমন একদিকে ইশ্বর আরেকদিকে শয়তান এখানে ব্যাপারটা তা না। আমি এদ্দিন শয়তানের মুখোশ বলে যা সব দেখে এসেছি যেমন কালভৈরব, বজ্রকিলা, বজ্রপানি, বা যে কোন 'লাখে' এগুলো আসলে উলটো ভাল জিনিস। মানে এরা বরং অশুভকে বিতারণে ব্যস্ত। যাই হোক মাঝখান থেকে বেশ কিছু মাস্ক আর সেই ইলাস্ট্রেটেড বইয়ের কিছু মোটিফ স্টাডি করেছিলাম, সেগুলি মিলিয়ে ঝিলিয়ে সেই গ্রুপেও দিলাম। সাথে সাথে সেটা শ'খানে অসামান্য কাজের আড়ালে কই চলে গেল। 

এঁকে দারুণ মজা পেয়েছি। ভাবলাম ব্লগে তুলে রাখি এইবেলা।


October 22, 2017

বিমূর্ত শিল্পকলা ও আমাদের সংকট


শিল্পাচার্জ জয়নুল আবেদীনের দুর্ভিক্ষ সিরিজ থেকে। ছবির সোর্স

শিল্পী কেন শিল্প তৈরী করেন? এর আসলে কোন সহজ উত্তর নেই। সহজ উত্তর হল- তার ইচ্ছে করে তাই, তার ভালো লাগে তাই, অথবা তার খারাপ লাগে তাই। সোজা কথা কোন তীব্র আবেগ মানুষ নিজে নিজে ধারন করতে পারে না। তার কাউকে বলতে হয়। কাউকে জানাতে হয়। একটা সুন্দর বসন্তবৌরী পাখি প্রথমবারের মত কেউ দেখলে আগে নিজে অভিভূত হবে আর তারপরেই সে চাইবে আশেপাশে আর কাউকে দেখাতে। শিশু যেমন অদ্ভুত কিছু দেখলে সাথে সাথে সেটা আঙ্গুল দিয়ে কাউকে দেখাতে চায়, সেই একই কারণে। এটা অন্যের কাছে আরো উপাদেয় করে তুলতে পারে শিল্পী। শিল্পী মানে কিন্তু আঁকিয়ে বলা হচ্ছে না শুধু। চিত্রকলা, কলাবিদ্যার একটা মাধ্যম মাত্র। সব মাধ্যমেই কথা একই। মূল ব্যাপারটা হল- আমি যেটা দেখেছি বা ভেবেছি সেটার গল্পটা অন্যকে বলা। সেটা গানে, কবিতায়, নাটকে, সিনেমায় যেভাবে হোক বলা চাই।

এবারে ঠিক পরের কথাটাই হল এই বলাটা কে কাকে বলতে চাইছে?  শিল্পী যাকে বলতে চাইছে সে যদি ব্যাপারটা না-ই বোঝে তবে তা বলার মানে থাকে না। ধরা যাক আমি খুব দারুণ একটা চীনা গল্প পড়েছি। আমি চাচ্ছি অন্যেরাও সেটা শুনুক। আমি গল্পটা চাইনিজ ভাষাতেই পড়েছি কারণ আমি চাইনিজ জানি। এখন যেহেতু গল্পটা চাইনিজ আমি সেটা চাইনিজ ভাষাতেই আমার সব বন্ধুদের বললাম। ফলে যেটা হবে সব বন্ধুরা জানবে যে আমি চাইনিজ ভাষা জানি কিন্তু গল্পটা তারা বুঝবে না। তাদেরকে আমার আসলেই সেটা বোঝাতে হলে বলতে হবে তাদের ভাষায়। 

শিল্পের ক্ষেত্রে বিমূর্ত ভাবধারা একটা দারুণ উৎকর্ষ সন্দেহ নেই, কিন্তু যদি কেউ আশা করে সেটা সর্বসাধারণের বোঝা উচিত তবে আমার মতে সেটা এই বন্ধুদের চাইনিজ গল্প বলার মত ঘটনা। যাকে বলছি তার ভাষায় যদি বলা না যায় তবে বলার মানে নেই। তাই শিল্পীকে বলার আগে প্রথমে ভাবতে হবে এটা আমি কাকে বলছি? সবাইকে বলার কিন্তু দরকার নেই, হতে পারে চাইনিজ গল্পটা আমি যারা চীনা ভাষা জানে খালি তাদেরই বলছি। কিন্তু সেটা আগে নিজের কাছে নিজের পরিষ্কার থাকা দরকার। সবাই কেন চাইনিজ বোঝে না সেটা ভেবে সবাই যে আসলে অশিক্ষিত এবং আমি যে এদের থেকে আলাদা এটা বলাটা কতটা হাস্যকর তা আশা করি এই উদাহরণ থেকে বোঝা যাচ্ছে। 

আমার কাছে মনে হয় আমাদের শিল্পকলায় এরকম দুই মেরু তৈরী হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। একটি অতি বিমুর্ত, অন্যটি অতি খেলো। খেলো শিল্প বলতে আমি সেইসব কাজের কথাই বলব যা আসলে শিল্পের তাড়নায় হয় না, হয় শুধুমাত্র অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে। রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে উঠতে। বিমূর্ত চিত্রকলা বা শিল্প থাকাটা জরুরী, আর খেলো লাফালাফিও সমাজ থেকে নাই হয়ে যাবে না, সেটা বরং সাময়িক গণ মানুষের কাছে জনপ্রিয়তাও পাবে। কিন্তু এসব বাদ দিয়ে আরেকটা অতি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা খালি হয়ে যাচ্ছে সেটা হল- মধ্যপন্থার শিল্প, মানে যা বিমূর্তও না, অকারণে জনপ্রিয় হবার লাফালাফিও না, সেটার ব্যাপক অভাব দেখা যাচ্ছে।  শুধু চিত্রকলা নিয়েই যদি বলি কতিপয় ব্যাতিক্রম ছাড়া আমাদের অসম্ভব গুণী শিল্পীরা কিন্তু চাইনিজ গল্পই বলে যাচ্ছেন, আমরা বুঝতে পারছি না। ইউরোপীয় ভাববাদ ও বিভিন্ন ইজম তাঁরা মধ্যপন্থার বাংলায় ব্যাখ্যা করতে পারছেন না। আমাদের নিজেদের ইজম গড়ে উঠছে না, আমরা দুর্বল অনুবাদেই আটকে আছি। একই সাথে চিত্রকলায় পপুলার ধারা শীর্ণ হয়ে আসছে। সমসাময়িক সমাজ, রাজনীতি, অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে শিল্পীরা কাজ করছেন না তা নয়, কিন্তু সেটা কেন জানি সুখপাঠ্য হচ্ছে না। দুর্বোধ্য সংকেতের মারপ্যাঁচে তা তাদের নিজেদের বৈঠকখানার চায়ের কাপেই আটকে যাচ্ছেন, মডার্নিজম পার হয়ে পোস্ট মডার্নিজম চলে যাচ্ছে, আমরা আমজনতা যেই তিমিরে সেই তিমিরেই রয়ে যাচ্ছি। একটা বড় শিল্পীগোষ্ঠী ইউরোপমুখী যশাক্রান্ত বিধায় দেশের মানুষদের মূর্খ ভাবছেন। কিন্তু বাস্তবতা হল প্রতিটা দেশই আলাদা, তার নিজস্ব একটা ইতিহাস থাকে, থাকে নিজস্ব দৃশ্য-ভাষা। সবাই চেনে ও জানে এমন ভাষায় না বলে আমি বাইরের ভাষায় বলে আশা করতে পারি না সবাই বুঝবে, এবং ইউরোপীয় দর্শন জানি না বলে আমি ততটা মূর্খ না যতটা সেই শিল্পী তার নিজের দেশের দর্শন না জেনে হচ্ছেন। 

এখন এ তো গেল সংকটের কথা, সমাধান কী? সমাধান এক কথায় বলা সহজ না, তবে যে কারণে এই লেখার অবতারণা সেটা হল- এই মুহূর্তে অসম্ভব প্রতিভাবান আঁকিয়ে ও শিল্পীর দারুণ একটা জাগরণ ঘটছে আমাদের দেশে। তাঁরা আঁকছেন, গাইছেন, শিল্প সৃষ্টি করছেন। তাঁরা তাঁদের উচ্চমার্গীয় বোধে আঁকুন সমস্যা নেই কিন্তু আমাদের নিজেদের ভাষার আঁকিয়েও খুব দরকার। যার গল্পটা বাংলায় বলা, যার গল্প বলে আসলেই কিছু আছে। শুধু আমি কতটা ভাল কাজ করি এটা দেখানোই উদ্দেশ্য না। আমার একটা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যও থাকতে হবে সাথে। যা সবাইকে ভাবাবে ও একটা জীবনদর্শন দেবে। 'জনমানুষের জন্যে শিল্পই একমাত্র সার্থক শিল্প' এমন না হলেও জনমানুষের শিল্প সবচেয়ে প্রয়োজনীয় শিল্প বটেই। 

তাই শিল্পীদের আঁকা উচিত প্রথমে নিজেদের জন্যে তারপরেই নিজেদের আশাপাশের সবার জন্য। যাকে পাশে তাকালেই দেখা যায়। যাকে আঙ্গুল উঁচিয়ে দূরের বসন্তবৌরী দেখিয়ে বলা যায়। ইউরোপের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করলে সেটা অতদূরে না-ও পৌঁছাতে পারে। আর কোনভাবে পৌঁছালে দেখা যেতে পারে এরকম পাখি তারা ১০০ বছর আগেই ঢের দেখেছে। তাই পা নিজের মাটিতে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

October 11, 2017

বাংলাদেশ কার্টুন ফেস্ট-২০১৭



বাংলাদেশ কার্টুনিস্ট এসোসিয়েশনের বার্ষিক প্রদর্শনী অবশেষে ত্রি-বার্ষিকী আকারে হলেও শুরু হতে যাচ্ছে। মানে মাঝে প্রায় আড়াই বছর আমাদের কোন প্রদর্শনী নেই। কারণ? কারণ আর কিছুই না, স্পন্সর জটিলতা। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট যাদের করার কথা তারা বার বার শেষ মুহূর্তে জানাচ্ছিলো যে টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু টাকার অভাবে কার্টুন প্রদর্শনী হবে না এটা ভাবতেই আমার মনে পড়লো সেই বছর ১৫ আগের করা প্রথম কার্টুন প্রদর্শনীর কথা। আক্ষরিক অর্থে পকেট ভোঁ ভোঁ। তখন মনে আছে আঁলিয়স ফ্রাঁসেজ গ্যালারি ছিল ফ্রি (এবং আমার ভুল না হয়ে থাকলে উলটো তখন যারা প্রদর্শনী করত তারা টাকাও পেত।) অন্য অনেক কার্টুনিস্টের মত আমারও কোন মোবাইল ফোন ছিল না। মনে আছে সবার নাম ঠিকানা নাম্বার অনেক কষ্টে জোগাড় করে একটা খাতায় লিখে নিয়েছিলাম, যেদিন সবাইকে কল দিতে হবে সেদিন সেই খাতা নিয়ে বের হয়ে মোড়ের ফোনের দোকানে যেতাম। ল্যান্ড ফোনে পার মিনিট ২ টাকা ছিল তাদের। এক টানা প্রায় তিরশটার মত কল করে থামতাম। দোকানদার ছেলেটা খুবই সন্দেহের চোখে তাকাতো যে ঘটনাটা কী? আমি তার সন্দেহ ভাঙ্গাতাম না। 

ফোনের পরের পর্ব ছিলো আরো কষ্টের, তখন ডিজিটাল কার্টুন বলে কিছুর অস্তিত্ব নেই। দুই একজন বিত্তশালী যাদের স্ক্যানার আছে তারা মাঝে  মাঝে কার্টুন স্ক্যান করে ফটশপে কিছু রঙ চং করত, ওইটুকুই। তার মানে সবই ট্রাডিশনাল হার্ড কপি। অর্থাৎ প্রত্যেকের বাসায় গিয়ে গিয়ে নিয়ে আসো। আমার তখন খুবই গরিবী দশা (এখনো)। ভাগ্য ভাল লোকাল বাসে তখনো ওঠা যেত, আর ছিল গরীবের বন্ধু টেম্পো। সব মিলিয়ে দিন দশেক ছোটাছুটি করে কার্টুনও জোগাড় করে ফেলা যেত। সমস্যা হত ফ্রেম নিয়ে। এটা তো আর ফ্রি পাওয়া যাচ্ছে না। গুরু আহসান হাবীব বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন লাগসই প্রজেক্ট হাতে নেন। তার একটা অংশ হিসেবে একবার করা হল ইলেকট্রিক চ্যানেলের ফ্রেম। মানে যেই প্লাস্টিকের ফাঁপা নল দিয়ে ইলেকট্রিকের লাইন ওয়ারিং করা হয় সেগুলি-ই ৪৫ ডিগ্রিতে কেটে কেটে জোড়া দিলে ফ্রেম বানানো যায়। এর চেয়ে সস্তা আর হয় না (যদিও প্রজেক্টটা প্রথমে সফল হয়নি, কেন জানি ফ্রেমগুলি কোণায় কোণায় ভালমত জোড়া লাগছিলো না) । এতেই কিন্তু শেষ না। প্রদর্শনীর লাগে পোস্টার, লাগে দাওয়াত কার্ড, লাগে ব্রোশিওর। একটা কাগজেই কিভাবে কেটেকুটে জোড়াতালি দিয়ে তিনটা জিনিস বের করা যায় সেটা সেবার দেখলাম। এবং আশ্চর্য ব্যাপার, দিনশেষে আঁলিয়সে যখন শুরু হল সেই প্রদর্শনী তখন কিন্তু এর পেছনের গরিবী হাল আর কারো চখেই পড়লো না। শেষে এসে দুর্দান্ত জম্পেশ হল সেই প্রদর্শনী। 

তার মানে সেই শূন্য হাতে (পকেটে) আমরা সেই ১৫ বছর আগের ইন্টারনেট বিহীন সময়ে যদি প্রদর্শনী করে ফেলতে পারি তবে এখন এই সময়ে এসে কেন পারবো না? যেই ভাবা সেই কাজ। আমাদের ৫ বছর ধরে অস্থায়ী অফিসে কারওয়ানবাজারের স্টার কাবাবে মিটিং চল্ল বারবার। ঠিক হল আমরা কার্টুনিস্টেরাই চাঁদা দিয়ে এবারের প্রদর্শনী করে ফেলব। হিসাব নিকাশ করে দেখা গেল তাতে মাথাপিছু খুবই অল্প পড়ছে। তাহলে আর বসে থাকা কেন? শুরু হয়ে গেল সব কাজ। ডিজিটাল যুগের সুবিধা টের পাওয়া গেল অচিরেই। ইভেন্টের মাধ্যমে সবাই জেনে গেল, মেইলের মাধ্যমে চলে এল কার্টুন। পৃন্ট হয়ে ফ্রেমে চলে গেল সব কাজ। শত ব্যস্ততার মধ্যেও প্রায় সবাই কাজ দিয়ে দিল। 

আগামীকাল বিকেল ৩ টায় শুরু হবে এবারের প্রদর্শনী, আমাদের প্রদর্শনী। অনেকটা পদ্মা সেতু করে ফেলার অনুভূতি হচ্ছে। স্পন্সর ছাড়াই এ সময়ে এত ব্যাবহুল একটা কাজ আমরা সবাই মিলে করে ফেললাম।
এবং এবারের ফ্রেমগুলি কাঠের :D

সবাইকে প্রদর্শনীতে আসার অনুরোধ জানাই।





September 21, 2017

Cartoon on Rohingya issue at Cartoon movement

cartoon movement নামে আন্তর্জাতিক পলিটিক্যাল কার্টুনিস্ট পোর্টালে বেশ আগে থেকেই একটা একাউন্ট ছিল। খুব বেশী আন্তর্জাতিক কার্টুন করা হয় না বলে পোস্ট কম করি। তবে এবারে হঠাত খেয়াল হল মায়ানমার ইস্যুতে তো কার্টুন করাই যায়। এবং তার আগে সাইটে ঢুকে দেখি ইতিমধ্যে সেখানে মায়ানমারের বেশ কিছু কার্টুনিস্ট কার্টুন পোস্ট করে যাচ্ছে এই মর্মে যে আসলে মায়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন ঘটছে না, বরং ARSA নামের আরাকানি সন্ত্রাসীরাই এটাক করছে। সু কি ষড়যন্ত্রের শিকার। কী আর করা, গণতান্ত্রিক প্লাটফর্মে, সবাই যে যার কথা বলবে। আমরা খালি আমাদেরটা বলতে পারি। তাই প্রকৃত ঘটনার আলকে আমাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে করা কার্টুন সেখানে পোস্ট দিয়ে যাচ্ছি সময় এলেই। আজকে দেখি এই ইস্যুতে দ্বি-পাক্ষিক কার্টুন-লড়াই নিয়ে কার্টুন মুভমেন্ট একটা পোস্ট বানিয়েছে, সবার জন্যে শেয়ার করা গেল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের মত জানাতে এটিও একটি ভাল মঞ্চ।http://blog.cartoonmovement.com/…/there-is-more-than-one-tr…


September 14, 2017

বোর্ড বই প্রজেক্ট: 2017

দীর্ঘ দশ মাস পর ২০১৮ সালের বিজ্ঞান বিভাগের নবম-দশম শ্রেণির ৫ টা (গণিত, উচ্চতর গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান)  ও আর্টস ও কমার্স বিভাগের একটা (বিজ্ঞান), মোট ৬ টা বইয়ের কাজ শেষ হল। এই মহা-প্রজেক্টের মূল দায়িত্বে ছিলেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার। আর স্যার যখন বলেন যে এটি তাঁর জীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ন প্রজেক্ট তখন প্রজেক্টটার গুরুত্ব কিছুটা বোঝা যাবে আশা করি।
বাংলাদেশের বোর্ডের বইয়ের প্রজেক্ট যে কত বিরাট স্কেলের তা বোঝাতে হলে কয়েকটা পরিসংখ্যান জানা জরুরী। এই বই ছাপা হয় মোট ৩৬ কোটি কপি। শুধু নবম-দশম শ্রেণিতেই মোট শিক্ষার্থী ১৫ লক্ষ! এবং এদের সবার হাতে সব জায়গায় বিনামূল্যে এই বই পৌঁছে যেতে হবে জানুয়ারি মাসের এক তারিখে! এটা প্রায় অবিশ্বাস্য একটা ব্যাপার। আমাদের কারো জানামতে বিনামূল্যে এভাবে এত সংখ্যক পাঠ্যপুস্তক পৃথিবীর আর কোথাও বিলানো হয় না। সেই পাঠ্যপুস্তকের কাজে এবার ডাক পড়েছে আমাদের!

কারোরই ভুলে যাবার কথা না আমাদের পাঠ্যপুস্তকের ইলাস্ট্রেশন আর কন্টেন্টের মানের কী অবস্থা দাঁড়িয়েছিলো। কিছু বই দেখে আমার মনে হয়েছে এতটা অবহেলা নিয়ে যে ছবি আঁকে সে আর যাই হোক শিল্পী নয়। এত গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজে এত অবহেলার প্রভাব কি ভয়ানক সেটা ভাবলে আঁতকে উঠতে হয়। ড্রয়িং বা গ্রাফিকাল প্রেজেন্টেশন বইয়েরই অংশ, এবং অনেক গুরুত্বপূর্ন অংশ। সেটা ভাল হলে শিক্ষার্থীরাও ভাল মত বুঝবে ও শিখবে। স্কুলে আমি নিজে খুবি পঁচা ছাত্র ছিলাম, আমি সব কিছুই অনেক দেরীতে বুঝতাম আর সে জন্যে ক্লাসে একটা হাসাহাসিও হত। আমার তখন বেশ রাগ হত, কারণ আমি জানতাম যে এটা বুঝে ফেলছে তার আই কিউ আমার চেয়ে বেশী না। পরে এইচ এস সি তে ওঠার পর আমি একেবারে নিজে নিজে সব বই বুঝে বুঝে পড়া শুরু করি আর তখন আমি আবিষ্কার করি আমাদের বইয়ে সহজ জিনিস গুলি কী কঠিন করে দেয়া আছে। আমি অসংখ্য ডায়াগ্রাম আর চিত্র নিজে বোঝার জন্যে সহজ করে এঁকে নিতাম। এমনকি স্যারদের জিজ্ঞেসও করতাম যে এটা এভাবে না এঁকে এভাবে আঁকলে কি হয় কি না? উত্তর পেতাম- 'বইয়ে যা আছে তাই কর।' বইয়ের প্রতি এই অন্ধ আনুগত্য আর ভুল থাকলেও সেটা মেনে নেবার প্রবণতা দেখলে খুবই বিরক্ত লাগতো। মনে মনে ভাবতাম কখনো যদি এই কাজটা আমি করতে পারতাম।

আমার জীবনের আরো অনেক ঘটনার মতই এবারেও যেটা মনে মনে ভেবেছি সেটা জুটে গেল! ২০১৭ এর জানুয়ারিতে স্বয়ং মুহম্মদ জাফর ইকবাল ফোন দিয়ে বললেন
- টেক্সট বইয়ের ইলাস্ট্রেশন করতে পারবে? সাথে বুক ডিজাইন?

পারবো না মানে? আবেগাপ্লুত হয়ে কী করব বুঝতে না পেরে দুইদিন ঝিম মেরে থাকলাম। তারপর প্রথম মিটিং এ গিয়ে পরে বিশ্বাস হল কাজটা আসলেই করছি।

প্রথম মিটিং জানুয়ারি ২৭, ২০১৭। ইয়াসমীন ম্যাডামের মায়ের বনানীর বাসায় আমরা সবাই।

একই ছবি, খালি আগেরটার ক্যামেরাম্যান হিসেবে থাকা তাম্রলিপির
প্রকাশক রনি ভাই বাদ পড়েছিলেন, উনি এবারে মাঝখানে

এবং প্রথম মিটিং এ আমরা আবিষ্কার করলাম কাজটা এত সহজ না। কারণ এনসিটিবির কাছে কোন বইয়ের সফট কপি নাই! মানে এতদিন যা যা টাইপ করা হয়েছিল তা আবার টাইপ করতে হবে। এবং সেই সাথে তাদের কোন ইউনিকোড বেইজড ফন্ট ও নাই। তার মানে আমাদের এমনকি ফন্ট ও তৈরি করতে হবে। কিন্তু আমি ভুলে যাচ্ছিলাম এই কাজের মূল মানুষটার নাম জাফর ইকবাল। আমাদের কাছে যা অসম্ভবের কাছাকাছি তাঁর কাছে আসলে সেটা খুবই সহজ, কারণ উনি যদি একবার বলেন তাঁর একটা ফন্ট লাগবে, সেটা বানানোর জন্যে অসংখ্য তরুণ ফন্ট নির্মাতা চলে আসবে। এবং সত্যি সত্যি 'অভ্র' খ্যাত সিয়াম রুপালি ফন্টের সিয়াম চলে এসেছে। প্রথম মিটিং এ ফন্ট নিয়ে এত কথা বলার দুটো কারণ।

১. বইগুলি কাজ শেষে ইন্টারনেটে দিলে সেটা ইউনিকোডে না হলে পড়া যাবে না।

২. এনসিটিবির খুবই অদ্ভুত যুক্তাক্ষর রীতির একটা ফন্ট আছে সেটা আর কোথাও নেই, তার মানে আমাদের ঠিক সেটার কপি একটা ইউনিকোড বানাতে হবে।

সিয়াম অসাধ্য সাধন করলো, সেই অদ্ভূত ফন্টের রেপ্লিকা বানিয়ে ফেললো। আর ওদিকে স্যারের সাথে বুয়েটের স্বনামধন্য কায়কোবাদ স্যার মিলে বইয়ের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। প্রজেক্টের মূল উদ্দেশ্য বই সহজবোধ্য/ সুখপাঠ্য করা, ও নির্ভুল করা। তাই লেখকেরা যে আমূল পালটে ফেলবেন সব বই তা হয়নি। কিন্তু যা হয়েছে আমার মনে হয় না এর আগে এনসিটিবির আন্ডারে অন্য কেউ এইটুকু স্বাধীনতাও পেয়েছে। আমরাও আঁকিয়ে হিসেবে ভাগ্যবান। কার্টুনিস্ট মিতু আগেই পাঠ্যবইয়ের কাজে সিদ্ধহস্ত। বেশ কয়েকটা বইয়ের ইলাস্ট্রেশন সে আগে করেছে, কিন্তু সেগুলি ছিল যাকে বলে অন ডিমান্ড। বলে দেয়া থাকবে কী আঁকতে হবে, আর সেটা এঁকে দিতে হবে। এবারের ব্যাপারটা পুরোই আলাদা। পুরো দায় আমাদের মাথায় আর বই গুলো বিজ্ঞান বিভাগের। মানে কোন তথ্যগত ভুল থাকা আবে না। উদাহরণ দেই, হয়ত একটা ড্রয়িং আছে, একটা বাচ্চা ঘুড়ি উড়াচ্ছে। সে এখন যেইভাবে ইচ্ছা ঘুড়ি উড়াতে পারে,  ছাদে-মাঠে-ঘাটে যেখানে ইচ্ছা, ঘুড়িটাও যে কোন রঙ্গে যে কোন ঢঙ্গের হতে পারে। কিন্তু এখানে যেমন আঁকতে হবে কিডনির প্রস্থচ্ছেদ! বোঝো এবার। এবং এই প্রথম আমরা জানতে পারলাম আগের বইয়ে এমনকী আমরাও যা যা পড়ে এসেছি সেগুলিতে বেশ কিছু ভুল আঁকা তো ছিলোই, সাথে ছিলো দুর্বোধ্য এমবিবিএস লেভেলের টেক্সট বই থেকে সরাসরি কপি করা জটিলতম ড্রয়িং, যা ডাক্তার হবেন এমন কেউ ছাড়া কাজে লাগার কোন কারণ নেই। পদার্থবিজ্ঞানের জন্যে আছে স্যার স্বয়ং। এবং তাঁর 'ড্রাফট' করে দেয়া আঁকাগুলি আমাদের ফাইনালের চেয়ে সহজবোধ্য। স্যার তরুণ বয়সে কার্টুন আঁকতেন, এই প্রজেক্টে গিয়ে আবিষ্কার করেছি আঁকাআঁকি নিয়ে তাঁর আইডিয়া খুবই উঁচুমানের, খুবই নিপাট। যাই হোক, আমরা বিপদে পড়লাম জীববিজ্ঞান নিয়ে, গুগল ঘেঁটে আর অন্যান্য টেক্সট বই ঘেঁটে মোটামুটি নামিয়ে দেবার পরে দখা গেল বেশ কিছু ভুল তাও রয়ে গেছে। আমাদের হাতের কাছের ডাক্তার ও পিজি হাসপাতালের শিক্ষক ডা: রোমেন রায়হান- অর্থাৎ কিনা রোমেন ভাই- তাঁর শরণাপন্ন হয়ে বেশ কিছু কনফিউশন কাটলো। ওদিকে কেমিস্ট্রির টেস্টটিউব, পরমাণুর ঘূর্ণন, নল, বিকার ইত্যাদি নির্বিকার চিত্তে এঁকে ফেলছে আসিফ। পদার্থবিজ্ঞানের বোরিং ডায়াগ্রাম ধরিয়ে দিয়েছি কার্টুনিস্ট রোমেলের হাতে। সে আমাকে না করতে পারে না বলে সুযোগ নেয়া। আর এদিকে আমি আর মিতু আমাদের পাশাপাশি চেয়ারে বসে এঁকে চলেছি জীববিজ্ঞান আর বিজ্ঞান বই। সত্যি বলতে আমরা পূর্ণ কাজ করেছি এই দুইটা বইতেই। গণিতের দুই বই কায়কোবাদ স্যার তাঁর টিম নিয়ে করেছেন, সেখানে আমাদের হাত দিতে হয় নি। পদার্থবিজ্ঞানে খালি এঁকেছি, সেটার পেইজ মেকাপও জাফর স্যার নিজে করেছেন। তাঁর যুক্তি ছিল কোথাও কোন লাইন না আঁটলে তিনি ঠাস করে দুই এক লাইন ডিলিট মেরে মিলিয়ে দিতে পারবেন দিতে পারবেন, কারণ সেটা তাঁরই লেখা। আমরা সেটা পারব না। আসলে তিনি আমাদের কাজের প্রেশার কমাতেই এটা বলেছেন সেটা বুঝলেও তাঁর ওপরে আর কথা নেই। দিনের পর দিন এই কাজের ফাঁকে আমি নতুন করে আরেকজনের ভক্ত হয়ে গেছি, তাঁর নাম ড: ইয়াসমীন হক। এমন প্রাণচঞ্চল ভালো মানুষ আমি খুব বেশী দেখিনি।

এই প্রজেক্ট চলাকালীন কতবার ভেবেছি কী কী লিখব প্রজেক্ট শেষে, সত্যি বলতে এখন কেমন খেই হারানো লাগছে। আসলে এত এত ঘটনা এত এত কাজ, কার কথা রেখে কার কথা লিখব। কেমিস্ট্রি বইয়ের অন্যতম লেখক বিদ্যুৎ স্যারের কথা বলব? সেটাই একটা বই হয়ে যাবে। জীববিজ্ঞনের লেখক ড: সৌমিত্রকে নিয়ে বলব? পেইজ মেকাপের জন্যে মাহবুব ভাই কত গুলি ছুটি নষ্ট করে দিনের পর দিন কাজ করেছে তা বলব? আসলে কোনটাই এইটুকু জায়গায় বলা যথেষ্ট হবে না, তাই সেই চেষ্টা বাদ দি'। কাজটা আমরা সময়মত শেষ করতে পেরেছি এটাই বড় কথা। কেমন হয়েছে সেটা শিক্ষার্থীরাই দেখবে, তাদের জন্যে বই সহজবোধ্য হলেই আমরা সার্থক। বই সহজ হলে প্রাইভেট পড়া বা কোচিং যদি কিছুটাও কমে সেটাই প্রাপ্তি। আমাদের মান্ধাতা পদ্ধতির মুখস্থ কেন্দ্রিক পড়াশোনার কালচার যদি কিছুটাও কমে তবেই হল। 

এই কাজে আরেকটা উপলব্ধির কথা বলে শেষ করি। জাফর স্যারের আমি অনেক আগে থেকেই ভক্ত। কিন্তু এই কাজে এসে আমি কিছু জিনিস তাঁর থেকে শিখে আরো বড় ভক্ত হয়ে গেছি। তাঁর অসম্ভব মনের জোর, আর কাজের স্পৃহা। এটা এবনরমাল। উনি সকাল ১০ টায় কাজে বসে টানা রাত ১১ টা পর্যন্ত একইভাবে বসে কাজ করেন, আমি আর মিতু একটু পরেই মোচড়ামুচড়ি শুরু করি কিন্তু তিনি একইভাবে বসা। এবং সেটা একদিন না, মাসের পর মাস! এর মাঝে স্যার আর ম্যাডাম দুইজনেরই পালাক্রমে চিকুনগুনিয়ায় ধরলো। এই ভয়ানক অসুখের মধ্যেও তাঁরা কাজ করেছেন। অবিশ্বাস্য মনের জোর আর ডেডিকেশন না হলে এটা সম্ভব না। 
যাই হোক, পোস্ট আর লম্বা করা যাচ্ছে না, তার চেয়ে বরং কিছু ছবি দেয়া যাক ধারাবাহিকভাবে।



ঢাকা কমিক্সের স্টুডিওতে কাজ চলছে

স্যারের সাথে মিতু

স্যারের সাথে আমি (অনেক কাজ করছি এমন একটা ভাব ধরার চেষ্টা)

স্টুডিও, ডানদিকে মাহবুব চাই, মাঝে আসিফ



অবশেষে কম্পিউটার পৃন্ট করে বইএর ডামি প্রস্তুত। সর্বডানে সময় প্রকাশনীর প্রকাশক ফরিদ ভাই।
ডামি বই বাঁধাই এর গুরুত্বপূর্ণ কাজটা করে দিয়েছেন।

১২ সেপ্টেম্বর, শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে স্যার আমাকে ও মিতুকে বললেন
শিক্ষামন্ত্রীকে বইয়ের সিডি তুলে দিতে। শিক্ষামন্ত্রী শুধু যদি জানতেন
কী পরিমাণ কার্টুন আমরা তাঁকে নিয়ে এঁকেছি!

কাজ শেষে গ্রুপ ছবি। মাহবুব ভাই খালি নাই। ডান থেকে কার্টুনিস্ট রোমেল বড়ুয়া,
কার্টুনিস্ট আসিফ, ইয়াসমীন ম্যাডাম, জাফর স্যার, মিতু, আমি আর সিয়াম

বইগুলির কভার বসিয়ে করা মক-আপ গ্রাফিক্স।

বাঁয়ে আগের ড্রয়িং ডানে আমাদের।

সুন্দর করে দাঁত আঁকার পর স্যার ঘেঁটে দেখলেন কারিকুলামে আছে পরিপাকতন্ত্র, দাঁত তার একটা অংশমাত্র,
কিন্তু বইয়ে আছে অসংখ্য দাঁতের ড্রয়িং আর লেখা, যা না থাকলেও ক্ষতি ছিলো না।
আগের ড্রয়িং এখনকার ড্রয়িং, ব্যপারটা শুধু 'সুন্দর' করা ছিলো না।
আরো যথার্থ ও সহজবোধ্য করাটাই ছিলো চ্যালেঞ্জ। এটা মিতুর আঁকা।

মিতুর আর একটা কাজ। রেফারেন্স হিসেবে যা পাওয়া যায় সেটা আঁকলেই কিন্তু চলছে না,
কারণ সেটায় আবার এতই ডিটেইল থাকে যা আবার এই বইয়ের মূল টেক্সট এ নাই।

আগের ডিএনএ বনাম এখনকার ডিএনএ, এখন বেশী প্রোটিন :P 

আগের বইয়ে শুধু তীর চিহ্নের ডায়াগ্রাম ছিলো, এখন কমপ্লিট করে রক্ত সংবহন বোঝানো হল।
এটা একই সাথে একটা পেইজের উদাহরণ।

ওপরে আগের ড্রয়িং, আর নতুন ড্রয়িং আরো পলিটিক্যালি কারেক্ট করার চেষ্টা

রেশম তৈরির প্রক্রিয়া, আগের ড্রইং ওপরে, আমাদেরটা নীচে

কেমিস্ট্রি বইয়ের আঁকা বাই আসিফ
আসিফের বাত্যাচুল্লী
রোমেল বড়ুয়ার করা পদার্থবিজ্ঞানের ডায়াগ্রাম
বিরাট প্রজেক্ট শেষ হতেই মাথায় এখন রাজ্যের অন্য প্রজেক্ট এসে ঢুকলো। একগাদা কাজ জমে আছে, বইমেলা এল বলে। আপাতত আবার বিদায়। ব্লগে আরেকটু নিয়মিত লেখার আশা রাখি বাকি বছর।

September 09, 2017

ওয়ার্ল্ড প্রেস কার্টুন কনটেস্টে আমার কাজ!

ওয়ার্ল্ড প্রেস কার্টুন কনটেস্ট এ কার্টুন পাঠানোর চিন্তা অনেক দিন থেকেই ভেবেছি কিন্তু এঁকে সেটা পাঠানোর জটিলতা (বিরাট কেরাঞ্চি করে দিতে হয়, এবং পাঠাতে হয় DHL এ :/ ) আর সেই সাথে আমার আঁকা রাজনৈতিক কার্টুন প্রায় সবগুলি-ই শুধুমাত্র বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে করি, এদের প্রতিযোগিতার চাহিদার সাথে সেটা যায় না । তবে এবারে আর চিন্তা না করে মোটামুটি আন্তর্জাতিক ধরনের একটা কাজ পাঠিয়ে দিলাম। মহাত্মা গান্ধীর দেশে কট্টর হিন্দুত্ববাদী বিজেপির জয়ের যে আইরনি সেটা নিয়ে করা আমার একটা প্রিয় কার্টুন। এবং যথারীতি আমার বিখ্যাত ভাগ্যের ফেরে মেইল পোস্ট করার দিন পরেই তাদের ফেইসবুক পেইজ এ দেখি তারা তাদের অফিস পাল্টাচ্ছে! মানে ঠিকানা বদল হয়ে যাচ্ছে। বেশ কয়েকবার মেইল করেও জানা গেলো না আদৌ আমার কাজ তারা পেয়েছে কি না। শেষে দেখি শুধু অফিস শিফট-ই না, স্পন্সর জটিলতায় এবারের প্রদর্শনী এবং অনুষ্ঠান দুই ই স্থগিত। সব ভুলে বসে আছি এমন সময় হঠাত জবাব এল, আমার কার্টুন তারা পেয়েছেন, এবং সেটা এবারের ওয়ার্ল্ড প্রেস কার্টুন অফ দ্যা ওয়ার্ল্ড এর জন্যে নির্বাচিতোও হয়েছে! এটা একটা দারুণ ব্যাপার আমার জন্যে-
এই কাজটা পাঠিয়েছিলাম
যদ্দুর জানি ডেইলি স্টারের সাদাত এরও একটা কার্টুন এর আগে এই সংকলনে ছিল। স্বভাবসুলভ প্রচারবিমুখতায় সে সেটা জানায় নি (নাকি আমি মিস করেছি?)। যাই হোক, এই খবরটা শেয়ার করার কারণ আত্মপ্রচার না, বরং আমাদের দেশের কার্টুনিস্ট, আঁকিয়ে, পেইন্টার সবাই যাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় কাজ পাঠায় তার জন্যে একটা অনুরোধ। জন এ লেন্ট এসে আমাদের বলে গিয়েছিলেন আমরা যাতে সব জায়গায় কাজ পাঠাই। পৃথিবীর অনেক দেশের কার্টুন প্রদর্শনীর জুরি তিনি কিন্তু বাংলাদেশের নাম তিনি লিস্ট এ দেখেন না, আমার মতে কাজ পাঠালে অন্তত বিভিন্ন দেশের নামের সাথে সাথে বাংলাদেশের নামটাও দেখা যাবে, সেটা দেখতে ভাল লাগে- এটাই অনেক।

এর চেয়ে ভাল রেজ্যুলিউশনের ছবি দিতে পারলাম না বলে দুঃখিত :/



অলস ডুডল


এমনি এমনি

August 19, 2017

পেইন্ট ওভার: কালার টিপস

আবারো আঁকান্তিসের একটা পোস্ট নিয়ে পেইন্ট ওভার, কালার নিয়ে টিপস।

আঁকান্তিস পোস্টের ড্র ওভার

আঁকান্তিসের আরেকটা পোস্টের ড্র ওভার এডিট করলাম।



প্রথমে সেই বেসিক ফর্ম গুলি এঁকে নেয়া। এটা অনেকেই পাত্তা দেই না,
অনেক সহজ মনে করি। কিন্তু এটাই মূল ভিত্তি। একটা বিল্ডিঙের পিলার বানানোর মত।
দেখতে সাধারণ ও সহজ, কিন্তু সেটার ওপরেই পুরো বিল্ডিং ভর করে দাঁড়াবে।

এবারে একটা টিপ। কাঁধের লাইন আর কোমরের লাইন, এই দুটো লাইন
এক টানে এঁকে নিলে হাত পা কোনটা কোনদিকে কোন জায়গা থেকে নামবে
সেটা ফিক্স করে নেয়া যায়। নাইলে শেষ উলটাপালটা লেগে যায়।

সেই লাইন বরাবর এবারে হাত পা শুরু 

আরেকটু ডিটেইল, হাত পা আঁকা।

এবারে সবার জানা সেই সিলিন্ডার, মানে হাত পা শরীর সবই সাধারণ পাইপের মত করে এঁকে নেয়া। আর কোনটা কোন দিকে মানে কোন হাত সামনের দিকে কোন পা পিছনের দিকে, সেটা ওপরে কিছু রিঙের মত লাইন টেনে নিজে বুঝে নেয়া।

একটু ক্লিন করে নেয়া, কাইন্ড অফ পেন্সিলিং।

পছন্দমতন ইংক, কোথাও কোন গোঁজামিল নেই, জানি যে কোন পার্ট কিভাবে কোথায় শুরু কোথায় শেষ। 

এবং কালার

এই ড্রয়িংটা এনাটমির প্রিন্সিপাল ফলো করে করা হলেও যে কোন কার্টুনিশ আঁকাতেও এটা একইভাবে এই কয়েক ধাপেই করা ভাল, সবটা বেশ আয়ত্তে থাকে।

আশা করি ছোট এই পোস্ট টা কাজে আসবে। এ ছাড়া অন্য কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে দিতে পারেন।

August 07, 2017

সুলতান ক্যারিকেচার

আঁকান্তিস গ্রুপের ক্যারিকেচার চ্যালেঞ্জের জন্যে আঁকা শিল্পী এস. এম. সুলতানের ক্যারিকেচার।  এই লোকটা অন্যরকম ছিল।

আঁকান্তিস পোস্ট ফিডব্যাক

এ বছর কাজের চাপে একটু 'ঠেসান্তিস' পরিস্থিতিতে আছি। আঁকান্তিস গ্রুপেও বলতে গেলে ঢোকা হয় না। অনেক দিন পর একটু অবসর পাওয়াতে মনে হল কোন একটা পোস্টের ফিডব্যাক দেয়া যায় কিনা। সত্যি বলতে আজকাল এত দারুণ দারুণ আঁকিয়ে চারিদিকে দেখতে পাই ফিডব্যাক দেবার বদলে বরং শেখার চেষ্টা করি বেশী। যাই হোক, সিফাতুল আলম নামের একজন সেধে ফিডব্যাক চেয়েছে একটা পোস্ট নিয়ে। আমার মনে হয় এই একটা ফিডব্যাক পোস্ট অনেককেই আঁকাআঁকির ধাপগুলি বুঝতে সাহায্য করবে। দেখা যাক, ক্যাপশনেই দেবার চেষ্টা করি।
সেই আদি ও অকৃত্রিম 'ভঙ্গী' বা যেশ্চার। মানে খুব সহজে একেবারে রাফলি ক্যারেক্টারের দাঁড়ানোর ভঙ্গীটা এঁকে নেয়া। এই সময়ে টিপস হল পেন্সিল, চারকোল বা ডিজিটাল পেন যা-ই হাতে থাকুক না কেন খুব আলতো করে ধরে লুজলি আঁকা। এখানে যাচ্ছেতাই হোক না সব লাইন, কোন সমস্যা নেই।
এই ক্ষেত্রে একটা ব্যাপার, যদিও এটা কিছুটা 'এডভান্সড' জিনিস। কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেটা হল ফর্মগুলির একটার সাথে আরেকটার সম্পর্ক যেন খুব রিদমিক হয়। যেমন অনেকটা গাছের এক ডালের সাথে আরেক ডালের হয়, একটা গাছের একেক ডাল একেকরকম হলেও কেন যেন কোথাও অসামঞ্জস্য লাগেনা। এটা ড্রয়িং এ আনা খুব দরকার।
এবারে একেবারে অংক মিলানোর মত সেই আগে আঁকা যেশ্চারের অপর একটা একটা করে ফর্ম- মানে মাথার জন্যে দিলাম গোল্লা, হাতের জন্যে সিলিন্ডার- এভাবে একটা একটা করে সব ফর্ম ডিফাইন করে নেয়া।
এর পর থেকে আসলে কাজ সহজ। ফাইনাল কাজ- ইংকিং। আগের আঁকার ওপরই লাইন ফাইনাল করে গাঢ় করা।
এবারে মনে মনে একটা আলোর উৎস ধরে নিয়ে তার উলটো দিকে বেসিক শ্যাডোগুলি ফেলা।


রং ইচ্ছামতন। কালার হুইলটা একটু বুঝে নিয়ে রঙ করা ভাল। আর সব ডার্ক না করে কিছু জায়গা ছেড়ে দেয়া ভাল। 

May 27, 2017

নিহিলিন ক্লাব কমিক্সঃ গোরদানো

নিহিলিন ক্লাব,এই সিরিজটা একেবারেই আমার নিজের, সেটাই কেন জানি করা হয় সবচে' কম। অনেক ভেবে কারণ বের করেছি। সেটা হল যেহেতু সবচেয়ে পছন্দের সেহেতু সবচেয়ে ভাল করে করব ভাবতে ভাবতে করাই হয় না। এইবারে ঠিক করেছি সবচেয়ে পছন্দের কাজ যাতে বেশী বেসী করা যায় সে জন্যে সহজ একটা স্টাইল বানাবো। দেখা যাক কী হয়। গল্প টা কিশোর আলোর ঈদ সংখ্যায় আসছে। সবার কাছে কেমন লাগল জানার অপেক্ষায় রইলাম।

ভাল কথা এই প্রথম মাঙ্গাস্টুডিওর নতুন ভার্সন ক্লিপ্সটুডিওতে কাজ করলাম। খুবই স্মার্ট এবং কমপ্লিট সফটওয়ার, তবে বেশ ভারি, আর কালার ক্যালিব্রেশন ভালো না তেমন। দেখি হয়ত করতে করতে হাতে আসবে। এখনো পর্যন্ত মাঙ্গা ফোর ইএক্স আমার দেখা সেরা।