August 19, 2017

পেইন্ট ওভার: কালার টিপস

আবারো আঁকান্তিসের একটা পোস্ট নিয়ে পেইন্ট ওভার, কালার নিয়ে টিপস।

আঁকান্তিস পোস্টের ড্র ওভার

আঁকান্তিসের আরেকটা পোস্টের ড্র ওভার এডিট করলাম।



প্রথমে সেই বেসিক ফর্ম গুলি এঁকে নেয়া। এটা অনেকেই পাত্তা দেই না,
অনেক সহজ মনে করি। কিন্তু এটাই মূল ভিত্তি। একটা বিল্ডিঙের পিলার বানানোর মত।
দেখতে সাধারণ ও সহজ, কিন্তু সেটার ওপরেই পুরো বিল্ডিং ভর করে দাঁড়াবে।

এবারে একটা টিপ। কাঁধের লাইন আর কোমরের লাইন, এই দুটো লাইন
এক টানে এঁকে নিলে হাত পা কোনটা কোনদিকে কোন জায়গা থেকে নামবে
সেটা ফিক্স করে নেয়া যায়। নাইলে শেষ উলটাপালটা লেগে যায়।

সেই লাইন বরাবর এবারে হাত পা শুরু 

আরেকটু ডিটেইল, হাত পা আঁকা।

এবারে সবার জানা সেই সিলিন্ডার, মানে হাত পা শরীর সবই সাধারণ পাইপের মত করে এঁকে নেয়া। আর কোনটা কোন দিকে মানে কোন হাত সামনের দিকে কোন পা পিছনের দিকে, সেটা ওপরে কিছু রিঙের মত লাইন টেনে নিজে বুঝে নেয়া।

একটু ক্লিন করে নেয়া, কাইন্ড অফ পেন্সিলিং।

পছন্দমতন ইংক, কোথাও কোন গোঁজামিল নেই, জানি যে কোন পার্ট কিভাবে কোথায় শুরু কোথায় শেষ। 

এবং কালার

এই ড্রয়িংটা এনাটমির প্রিন্সিপাল ফলো করে করা হলেও যে কোন কার্টুনিশ আঁকাতেও এটা একইভাবে এই কয়েক ধাপেই করা ভাল, সবটা বেশ আয়ত্তে থাকে।

আশা করি ছোট এই পোস্ট টা কাজে আসবে। এ ছাড়া অন্য কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে দিতে পারেন।

August 07, 2017

সুলতান ক্যারিকেচার

আঁকান্তিস গ্রুপের ক্যারিকেচার চ্যালেঞ্জের জন্যে আঁকা শিল্পী এস. এম. সুলতানের ক্যারিকেচার।  এই লোকটা অন্যরকম ছিল।

আঁকান্তিস পোস্ট ফিডব্যাক

এ বছর কাজের চাপে একটু 'ঠেসান্তিস' পরিস্থিতিতে আছি। আঁকান্তিস গ্রুপেও বলতে গেলে ঢোকা হয় না। অনেক দিন পর একটু অবসর পাওয়াতে মনে হল কোন একটা পোস্টের ফিডব্যাক দেয়া যায় কিনা। সত্যি বলতে আজকাল এত দারুণ দারুণ আঁকিয়ে চারিদিকে দেখতে পাই ফিডব্যাক দেবার বদলে বরং শেখার চেষ্টা করি বেশী। যাই হোক, সিফাতুল আলম নামের একজন সেধে ফিডব্যাক চেয়েছে একটা পোস্ট নিয়ে। আমার মনে হয় এই একটা ফিডব্যাক পোস্ট অনেককেই আঁকাআঁকির ধাপগুলি বুঝতে সাহায্য করবে। দেখা যাক, ক্যাপশনেই দেবার চেষ্টা করি।
সেই আদি ও অকৃত্রিম 'ভঙ্গী' বা যেশ্চার। মানে খুব সহজে একেবারে রাফলি ক্যারেক্টারের দাঁড়ানোর ভঙ্গীটা এঁকে নেয়া। এই সময়ে টিপস হল পেন্সিল, চারকোল বা ডিজিটাল পেন যা-ই হাতে থাকুক না কেন খুব আলতো করে ধরে লুজলি আঁকা। এখানে যাচ্ছেতাই হোক না সব লাইন, কোন সমস্যা নেই।
এই ক্ষেত্রে একটা ব্যাপার, যদিও এটা কিছুটা 'এডভান্সড' জিনিস। কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেটা হল ফর্মগুলির একটার সাথে আরেকটার সম্পর্ক যেন খুব রিদমিক হয়। যেমন অনেকটা গাছের এক ডালের সাথে আরেক ডালের হয়, একটা গাছের একেক ডাল একেকরকম হলেও কেন যেন কোথাও অসামঞ্জস্য লাগেনা। এটা ড্রয়িং এ আনা খুব দরকার।
এবারে একেবারে অংক মিলানোর মত সেই আগে আঁকা যেশ্চারের অপর একটা একটা করে ফর্ম- মানে মাথার জন্যে দিলাম গোল্লা, হাতের জন্যে সিলিন্ডার- এভাবে একটা একটা করে সব ফর্ম ডিফাইন করে নেয়া।
এর পর থেকে আসলে কাজ সহজ। ফাইনাল কাজ- ইংকিং। আগের আঁকার ওপরই লাইন ফাইনাল করে গাঢ় করা।
এবারে মনে মনে একটা আলোর উৎস ধরে নিয়ে তার উলটো দিকে বেসিক শ্যাডোগুলি ফেলা।


রং ইচ্ছামতন। কালার হুইলটা একটু বুঝে নিয়ে রঙ করা ভাল। আর সব ডার্ক না করে কিছু জায়গা ছেড়ে দেয়া ভাল। 

May 27, 2017

নিহিলিন ক্লাব কমিক্সঃ গোরদানো

নিহিলিন ক্লাব,এই সিরিজটা একেবারেই আমার নিজের, সেটাই কেন জানি করা হয় সবচে' কম। অনেক ভেবে কারণ বের করেছি। সেটা হল যেহেতু সবচেয়ে পছন্দের সেহেতু সবচেয়ে ভাল করে করব ভাবতে ভাবতে করাই হয় না। এইবারে ঠিক করেছি সবচেয়ে পছন্দের কাজ যাতে বেশী বেসী করা যায় সে জন্যে সহজ একটা স্টাইল বানাবো। দেখা যাক কী হয়। গল্প টা কিশোর আলোর ঈদ সংখ্যায় আসছে। সবার কাছে কেমন লাগল জানার অপেক্ষায় রইলাম।

ভাল কথা এই প্রথম মাঙ্গাস্টুডিওর নতুন ভার্সন ক্লিপ্সটুডিওতে কাজ করলাম। খুবই স্মার্ট এবং কমপ্লিট সফটওয়ার, তবে বেশ ভারি, আর কালার ক্যালিব্রেশন ভালো না তেমন। দেখি হয়ত করতে করতে হাতে আসবে। এখনো পর্যন্ত মাঙ্গা ফোর ইএক্স আমার দেখা সেরা।







May 25, 2017

Inking speed up

কমিক্স আঁকচি, নিহিলিনের ছোট গল্প গোরদানো। কিশোর আলো ঈদ সংখ্যার জন্যে। কাল করা স্ক্রিন ক্যাপচার।

April 06, 2017

Finished not Perfect: সাম্প্রতিক আঁকিয়ে ডাইলেমা

সম্প্রতি বিখ্যাত কমিক বুক আর্টিস্ট কাম ক্যারেক্টার ডিজাইনার Jake Perker তাঁর একটা ভিডিওতে জানিয়েছেন শিল্পীদের কাজ Perfect করার চাইতে Finish করা বেশী জরুরী। ভিডিওটি রীতিমতন ভাইরাল হয়ে গেছে, অসংখ্য আঁকিয়ে হঠাত যেন জেগে উঠে বুঝে ফেললেন কেন তাদের
   

কাজ এদ্দিন হচ্ছিলো না। আমিও দারুণ উত্তেজিত, কারণ আমার খুব ভাল করে আঁকবো ভেবে অসমাপ্ত প্রজেক্ট অসংখ্য। তাই কোমড় বেঁধে সেগুলি একে একে শেষ করব ভেবে পুরোনো স্কেচ বইয়ের ধূলো ঝাড়া শুরু করলাম। এর মাঝে হঠাত একদিন এক জুনিয়র আঁকিয়ে মুখ গোমড়া করে জানালো সে এক অদ্ভূত সমস্যায় পড়েছে। সে Jake Perker এর কথা শুনে কাজ করা শুরু করেছিল সেটা দেখে আরেক সিনিয়র আঁকিয়ে বলেছে বাজে কাজ করার চেয়ে কিছু না করা ভাল। ব্যস। সে আটকে গেছে। দুইটাই সমান যুক্তির মনে হচ্ছে তার এখন সে কিছু না করে হ্যাং মেরে আছে। শুনে আমার মনে হল তাই তো, কারণ Jake এর কথা কিন্তু অনেক তরুণ আঁকিয়ের জন্যে সমস্যাও করবে। সে হয়ত কিছু শেখেইনি, কিন্তু প্রজেক্ট ফিনিশ করার জন্যে যা-তা কাজ শুরু করে যদি ভাবে আমি অন্তত শেষ করেছি? আবার অন্যদিকে যেই আঁকিয়ে বলেছে ভাল না হলে করার দরকারই নাই সেটার কী হবে? এই দু ধরনের কথা আমরা আলাদা করে আগে ভেবে দেখি-

Jake বলেছে, 
কাজ শেষ কর, একেবারে পার্ফেক্ট করার চেয়ে সেটা জরুরী।

এখন আমার মতে Jake এটা আসলে যাদের জন্যে বলেছে তারা পেশাদার আঁকিয়ে, এবং তারা যতই তাড়াতাড়ি করে কাজ করুক না কেন , খুব বেশী খারাপ করার তাদের পক্ষে সম্ভবই না। সে আসলে এমেচারদের জন্যে বলে নাই কথাটা। তার মানে একেবারে নতুন শিখছে যারা তারা যদি এখন কাজ ফিনিশ করার প্রাধান্য বেশী দেয় তাহলে আসলেও কিছু আবর্জনা বের হবার সম্ভাবনা আছে। তার আসল কাজ শেখা। 

আর অন্য কথাটা হল,
ভাল না হলে কাজ করার মানে নাই। 
এটা চরমপন্থী বোকা বোকা কথা। কারণ ভালোর কোন শেষ নেই। সবসময়েই আমার কাজের চেয়ে কারো না কারো কাজ ভাল হবেই। তার মানে কি সারাজীবন আমি কাজ করবো না? ভাল করতেই থাকব? এই দুই ধরনের কথার থেকে মাঝামাঝি একটা জায়গা আমার মনে হয় বলা যেতে পারে সেটা হল-

প্রজেক্টের ডেডলাইন বুঝে আমার এই সময়ের সর্বোচ্চ কোয়ালিটিতে আমি কাজ শেষ করব।

যে কোন একটা মেনে চলতে গেলে ধরা খাবার চান্স আছে। হয় কমপ্লিট কিছু প্রজেক্ট হবে যা আসলে খুবই বাজে। অথবা কিছু হবেই না, মধ্যপন্থায় তাই দুইটাই করা ভাল। আর আমি যেই কাজটা করি সেটা হল যেটা আমি এখনো শিখছি মানে ভাল পারি না কিন্তু চাই করতে সেটা আমি স্কেচ খাতাতে প্র্যাকটিস করে যাই। কিন্তু প্রিন্টের জন্যে মানে ফাইনাল কাজ হিসেবে দেই যেটা আসলে আমি মোটামুটি করে ফেলতে পারি সেটা। তার মানে আমার সবসময়ের কাজের চাইতে আমার স্কেচ খাতা এগিয়ে থাকে। 

তো চলুক সবকিছুই একসাথে সমান তালে।


April 05, 2017

প্রেতনাদঃ নিহিলিন ক্লাবের ছোট কমিক্স

নিহিলিনের এই কমিক্সটা কিশোর আলো পত্রিকায় বের হয়েছিলো, ব্লগে সম্ভবত দেয়া হয়নি আগে।






April 04, 2017

রুহান রুহানঃ পৃষ্ঠা ১৫৪


প্রায় শেষ পর্যায়ে রুহানের এই পর্ব, বইমেলাতেই হয়ে যেত, মাঝপথে আরেকটা প্রজেক্ট ঢুকে যাওয়াতে সেটা আর হয়নি। এখন ধীরে সুস্থে নামাচ্ছি। শেষের থেকে একটা প্রিয় পেইজ। 

March 31, 2017

আমার পড়া ভাল বই: সুখ

আইডিয়া পাওয়া বা ক্রিয়েটিভ কাজ ইত্যাদিকে এখনো আমাদের সমাজে একটা অলৌকিক প্রতিভা হিসেবে ভাবা হয়। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাপারটা সত্যও বটে। তবে আমি মনে করি মহা ট্যালেন্টেড হয়েও লাভ নেই যদি আপনি নিজে না পড়েনবা না দেখেন। ধরা যাক আপনি দারুণ শক্তিশালী একটা কম্পিউটার এর মত। দুর্দান্ত প্রসেসরটেরা টেরা স্টোরেজর‍্যাম এর তো কথাই নাইগ্রাফিক্স ও সেই রকম। আমি বলতে পারি আপনি দারুণ ট্যালেন্টেড একটা কম্পিউটার- বা মানুষ। কিন্তু সেই কম্পিউটার এ যদি কোন সফটওয়ার ই না ইন্সটল করিযদি কোন ডেটাই না থাকেতবে আপনি কী প্রসেস করবেনকাজই বা কী করবেনতার মানে আপনার কাজ করার জন্যে দরকার উপাদান। সফটওয়ার লাগবেলাগবে ডেটা। সেই ডেটা প্রসেস করে ভাল গ্রাফিক্স এর পর সেটা আপনি পুর্নাঙ্গ একটা কাজ আকারে শেষ করবেন।  মানুষের ক্ষেত্রে সমস্যাটা হল সে কোন কম্পিউটার না যে কয়েকটা সিডি বা পেন ড্রাইভ থেকে কিছু জিনিস কপি পেস্ট করে ভরে দিলামআর সে সব বুঝে গেল। তার বুঝতে হয় নিজের চারিদিক থেকে দেখে দেখেশুনে শুনে। তবে কেউ যদি সারাজীবন তার আশপাশ থেকে সব দেখে ফেলে বা শুনে ফেলে তারপরেও কিন্তু বিশাল যেই মানব সভ্যতার ইতিহাস তার কিছুই তার জানা হবে না। এই সমস্যার একটা দারুণ সমাধান হল বই। যে বই চাইলেই হাজার বছর আগের একটা মানুষ বা একদল মানুষ কী ভাবতো তা জানিয়ে দিতে পারে।

বই এর এখনো কোন বিকল্প মানুষ তৈরী করতে পারে নি। যতই ভিডিও দেখিগান শুনিআলোচনা করিবইয়ের একটা আলাদা জায়গা থেকেই যাচ্ছে। যেখানে লেখকের আর পাঠকের মধ্যে আর কারো আনাগোনা নেই।  তাই আমাকে যখনই কেউ জিজ্ঞেস করে- এমনকি কার্টুনের ক্ষেত্রেওযে কিভাবে আইডিয়া পাবআমার একমাত্র উত্তর হয়- বই পড়া। এর পরেই যেই প্রশ্নটা আসে সেটা হল কী বই পড়বআসলে এটা বলা কঠিন। যে যেই জিননিসটা সম্পর্কে জানতে বা বুঝতে চায় তাকে সেই ধরনের বই পড়তে হবে। আর শুধুমাত্র আনন্দের জন্যে পড়াও অনেক জরুরী। তারপরেও আমার পড়া বেশ কিছু দারুণ বই ধীরে ধীরে ছোটোখাট রিভিউ ধরনের করে তুলে দিতে চাচ্ছি। তার ফলে পরিচিত অপরিচিত কেউ হয়ত উপকার পেতেও পারেন।

আজকের বই -
সুখের সন্ধানে
মূল বইটি পৃথিবী বিখ্যাত বৃটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের লেখা The Conquest of Happiness। মোতাহের হোসেন চৌধুরীর সার্থক অনুবাদে সেটা বাংলায় নাম পেয়েছে 'সুখ'। রবীন্দ্রনাথ থ্রিবেদী এটার আরেক অনুবাদ করেছেন 'সুখের সন্ধানে' নামে। সেটা আরো সার্থক নামকরণ আমার মতে। যাই হোক, এই বইটি আমি বেশ কয়েকবার পড়েছি। খুবই ছোট একটা বই, কিন্তু অনায়াসে তা কথা বলেছে মানুষের দুঃখের কারণ আর কিভাবে তার সমাধান করা যায় তা নিয়ে। কেন জীবনে ভাল কিছু বন্ধু থাকা অনেক জরুরী, এবং সেই বন্ধুর সাথে দেখা করতে প্রয়োজনে কয়েক যোজন পাড়ি দিয়ে যাওয়াও যে স্বাস্থ্যকর, কেন প্রতিযোগিতা এড়ানো দরকার। কেন নির্লিপ্ততার সাথে সাথে আবার অনেক কাজ করে যাওয়াও জরুরী। প্রবল আঁতলামী দিয়েই যে জীবন ভরে ফেলা ঠিক  না, একেবারে সহজ স্বাধারণ সবকিছুকেই উপভোগ করার যে দরকার আছে, এবং সেই সাথে কেন অন্যের দোষারোপ না করে সুস্থ জীবন বেশী কাম্য- ইত্যাদি।


গৌতম বুদ্ধ কত হাজার বছর আগে মানুষের দুঃখের কারণ ও তার বিনাশের কথা অনেক সহজে বলে গেছেন, সুখের সন্ধানে পড়ে আমার মনে হয়েছে পাশ্চাত্যের এই বিখ্যাত দার্শনিক প্রাচ্যের সেই পুরোনো দর্শন নতুন করে সহজভাবে আবার বলেছেন। 

বইটি একেবারেই ছোট, এক বসাতেই পড়া শেষ হয়ে যাবে, তবে বার বার পড়তে ইচ্ছে হবে। মাথায় অনেকদিন। এবং পড়ার পর একটা ফুরফুরে মেজাজ চলে আসা উচিত। বইটি পাওয়াও বেশ সহজ। পপুলার রিড বলে প্রায় সব বড় লাইব্রেরিতেই পাওয়া উচিত। 

March 27, 2017

আঁকাআঁকি নিয়ে কথা

আঁকাআঁকি নিয়ে কিছু কথা ভাগাভাগি করে নেয়া যাক। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে যা যা মাঝে মাঝে মনে হয় তা বললে যদি অন্য কারো কিছুটা হলেও কাজে লাগে বা চিন্তার খোরাক জোগায় তাহলে খারাপ কী? প্রথমে কিছু ঝামেলার কথা বলা যাক। আঁকতে গিয়ে আঁকিয়েরা বেশ কিছু অদ্ভূত সমস্যায় পড়েন। (এখানে আঁকিয়ে বলতে আমি মূলতঃ যারা মূলধারায় কিছুটা হলেও পেশাদারী আঁকা আকতে চাচ্ছেন তাদের কথাই বলছি শখের বশে দাগাদাগি যারা করেন তাদের কথা না।) সমস্যাগুলি অনেকটা এইরকম-

১. আঁকা ভালো হয় না
২. টাকা পাই না
৩. আমার বয়সী অন্যরা তো কতকিছু করে ফেলল, আমি কবে করব?
৪. ড্রিম প্রজেক্ট কবে হবে?

আমি নিজে এই সমস্ত সমস্যার মধ্যে দিয়ে গেছি, ভাবতে ভাবতে আমার নিজের মত করে কিছু উত্তর বের করেছি এ সবের। সেগুলি বলা যাক।

১. আঁকা ভালো হয় না

যে কোন আঁকাআঁকির ব্লগ , আর্টিকেল, বই বা সব বড়ো শিল্পীরা এক বাক্যে বলবেন - প্র্যাক্টিস কর। এটা আসলে আমার কাছে একটা দায়সারা উত্তর লাগে। প্র্যাকটিস তো অবশ্যই করব। এবং শর্টকাট বলে কিছু নাই তাও তো জানি। কিন্তু কথা হল কী প্র্যাকটিস করব? কিভাবে করব? প্র্যাকটিস করলেই হবে? যদি সারাজীবন ভুল জিনিস প্র্যাকটিস করি? আমি মনে করি এর উত্তর দেবার আগে নিজের কাছে অন্য দুটো প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।


  • আপনি কী করতে চান / হতে চান?
  • আপনার সামর্থ্য কট্টুকু?

মানে আপনি আঁকাআঁকির কোন শাখায় কাজ করতে চান? ইলাসট্রেশন, গ্রাফিক ডিজাইনার, এনিমেটর, ক্যারিকেচারিস্ট, ক্যারেক্টার ডিজাইনার, কমিক্স আর্টিস্ট, লোগো ডিজাইনার, পেইন্টিং, ক্রাফট মেকিং, স্কাল্পটিং - আসলে অসংখ্য মাধ্যম আছে চারদিকে, এবং সেই সবের মধ্যে আবার আছে ছোটখাটো শাখা প্রশাখা। তারা একে অন্যের সাথে সম্পর্কিত হলেও সবাই আবার নিজেরা নিজেরা আলাদা। সুতরাং আপনি আসলে কী হতে চান সেটা ভেবে বের করা খুবই জরুরী। এক বসাতেই এটা ভেবে বের করে ফেলা হয় না, প্রসেসটা একটু সময়সাপেক্ষ। এটা বের করার উপায় হল বিভিন্ন ধরনের কাজ করে যাওয়া একটু একটু করে। আপনি নিজে যেটায় বেশী মজা পাবেন সেটাই করুন। ব্যাপারটা আসলে আনন্দ পাওয়া না পাওয়ায়, কত ভালো হল বা কোনটা সবাই করছে তাতে কিছু যায় আসে না। এই জিনিসটা জানতে পারা জরুরী। প্রথম থেকে ফোকাস না হলে দেখা যাবে আপনি খুবই অস্থির হয়ে একবার থৃডি, একবার ফ্ল্যাশ এর এনিমেশন একবার ক্যারিকেচার ইত্যাদি করে মাখিয়ে ফেলেছেন শেষে টাকা ধার করে বানাচ্ছেন ফিল্ম বা ডকুমেন্টারি। তার মানে প্রথম কাজ হল আপনি কী করবেন সেটা ঠিক করা এবং তার পরের প্রতিটা কাজ বা প্রাকটিসের উদ্দেশ্য হবে সেই কাজকে এগিয়ে নেয়া। ধরা যাক আপনি পলিটিক্যাল কার্টুনিস্ট হবন। তার মানে আপনি এখন যাই করেন নে কেন তার প্রথম উদ্দেশ্য হবে পলিটিকাল কার্টুন বোঝা ও দেখা। পলিটিক্স বোঝা-খুব একটা সহজ কাজ না- এই কাজকে ভালো করতে হয়ত চলে আসবে প্রচুর পড়াশোনা করা, ক্যারিকেচার করা। চলে আসবে প্রিন্টিং সম্পর্কে জ্ঞান, মানে কোন কাগজে কি ধরনের কাজের প্রিন্ট কেমন আসে সেটা। অর্থাৎ আপনার পলিটিক্যাল কার্টুন আরো ভালো করতে দিন দিন আরো নতুন জিনিস শিখে যাচ্ছেন। তবে উদ্দেশ্য সেই কার্টুনটাকে আরো ভালো করা। দেখা যাবে শেষমেশ আপনি এভাবে আরো অনেক কিছুই শিখে গেছেন কিন্তু সেটা একেবারেই প্যানিকড না হয়ে। তার মানে কী হতে চান বা করতে চান সেটাই প্রথম কাজ। এখন কথা হল মাল্টিটাস্কড আর্টিস্ট কি তবে হবে না? মানে যে ক্যারিকেচার করে সে কি কমিক্স করবে না? অবশ্যই করবে কিন্তু যে কোন একটা তার মূল আইডেন্টিটি থাকলে মাল্টিটাস্কিং করতেও সুবিধা হয়। নিজে যদি বুঝে যান এনাটমি আপনার কাজ না, আপনি এটা পারছেন না, আপনার আরো সহজে অন্য কিছু করার আছে, আপনার ভালো লাগে একেবারেই চাইল্ডিশ ড্র্যইং করতে- তবে সেটাই করুন। প্রত্যেকটা মানুষ তার নিজস্ব স্টাইল নিয়ে জন্মায় অন্যদের দেখে দেখে সে সেটা হারিয়ে ফেলে। সেটা আবার যে খুঁজে বের করে সবাইকে দেখাতে পারে সেই শিল্পী। আমি তাই মনে করি। আপনার একেবারে যা-তা ধরনের ড্রয়িংও একেবারেই আপনার নিজের মত ব্যাপার আছে সেটাকে হাইয়েস্ট লেভেলে নিয়ে যান- পৃথিবীতে আপনি ইউনিক হয়ে থাকবেন।

আর সামর্থ্য বোঝা মানে হল চাণক্যের সেই কথাটা- একটা কাজ শুরু করার আগে সেটা করার সামর্থ্য আপনার আছে কি না সেটা বুঝে নেয়া। কথার কথা আপনার ইচ্ছা আপনি ডিজনির এনিমেটেড মুভির মত মুভি বানাবেন। কিন্তু সেটা এই মুহূর্তে একা শুরু করাটা স্রেফ বোকামী ছাড়া আর কিছুই না। নিজের সামর্থ্য যট্টুকু সেটার আলোকেই ভাবা দরকার। ব্যাপারটা এমন না যে ওইরকম মুভি বানানোর স্বপ্ন আপনি দেখবেন না, ব্যাপারটা হল এই মুহূর্তে যেটা অসম্ভব সেটার পিছনে সময় না দিয়ে সেটা ড্রিম হিসেবে তুলে রেখে সে লক্ষ্যে এগোতে থাকা।


২. টাকা পাই না

এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। বিশ্বাস না হলে পৃথিবী বিখ্যাত আর্টিস্ট ক্যারেক্টার ডিজাইনার বা কমিকস শিল্পীদের সাক্ষাতকার পড়েন। আসলে এটা একটা চোর পুলিশ খেলা। আপনি চাইবেন সর্বচ্চ মূল্যে আপনার কাজ বিক্রি করতে আর ক্লায়েন্ট চাইবে সর্বনিম্ন দামে সেটা কিনতে। আর আমাদের দেশের একটা সমস্যা হল পেশাদারিত্ব কোনদিকেই তেমনভাবে গড়ে ওঠেনি। আর্টিস্ট ও কেলাস, আর ক্লায়েন্ট পারলে কাজ নিয়ে পলানোর তালে থাকে। দুই দিকেই সমস্যা আছে। এটা এড়ানোর কোন ধ্বনন্তরি এখনো জানা যায়নি তবে প্রচলিত একটা পদ্ধতি হল কাগজে কলমে বোঝাপড়া করে নেয়া। মানে কয়টা কাজ, কী রেটে করতে রাজী হচ্ছি দুই পক্ষই সেটা আগে ঠিক করে নেয়া।

আমি যা করি সেটা আর কিছুই না, ক্লায়েন্টের কাজ আগে বুঝে নেই। তারপর একটা স্যাম্পল তাকে দেখানো হয় যে কাজটা এমন হবে। তারপরে সেটার মজুরি কেমন হবে সেটা বলি। ক্লায়েন্ট রাজী হলেই কেবল ফাইনাল কাজে হাত দেই। ব্যাপারটা আরো বিশদ বলতে আমার ইচ্ছে আছে আরেকটা আলাদা পোস্ট লেখা। আপাতত টাকা সমস্যার সমাধান এভাবে করা যেতে পারে,

- প্রথমত: নিজের কাজ অনেক ভাল করা। তাতে মার্কেটে একটা ডিমান্ড তৈরী হবে। এ ক্ষেত্রে অনেক টাকা নেই কিন্তু প্রচার হবে এমন কাজ বেসী বেশী করা যেতে পারে আগে। ভাল কাজ যদি মোটামুটি রকমের প্রচার ও পায় তবে সেটা অনেক কাজের। 

- ব্র্যান্ডিং তৈরী করা, নিজের একটা ব্র্যান্ডিং তৈরী করতে বিশেষ কিছু কাজ বেশী বেশী করা ভাল।/ যেমন ক্যারিকেচার হয়ত আমি ভাল পারি। তবে আমার মূল ব্র্যান্ডিং সেটাই হওয়া উচিত। অনেকেই আজকাল যেটাতে টাকা বেশী সেটা করছে, ফলে শেষমেশ তার তেমন কোন ব্র্যান্ড দাঁড়াচ্ছে না। এটা শেষমেশ কিন্তু একটা বিপদই হয়ে দাঁড়ায়। যে কোন একটা মূল আইডেন্টিটি জরুরি বলে মনে করি আমি। সেটা হলে নির্দিষ্ট সময় ধরে ভাল কাজ করে গেলে টাকা না পাবার কিছু নেই। তবে হ্যাঁ, নিজের ভালরকম পেশাদার হতে হবে, আলসেমী করে জোড়াতালির কাজ করে ক্লায়েন্টের উলটা দোষ ধরা কাজের কথা না।

৩. আমার বয়সী অন্যরা তো কতকিছু করে ফেলল, আমি কবে করব?


আপনার বয়সী আরো অনেক আবার একেবারেই কিছু করেও নি। তারমানে সবসময়েই আপনি আপনার চেয়ে ভাল ও খারাপ দুই দলকেই তুলনা করার জন্যে পাচ্ছেন, ভাল বুদ্ধি হল- এইগুলি নিয়ে একেবারেই না ভাবা। অনেক দারুণ আঁকিয়েকে আমি জানি যারা নিজে দারুণ আঁকেন কিন্তু 'বাইরের ওরা' তো আমার চেয়ে ভাল আঁকে এটা ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন আর তাদের কাজ স্ক্রল করে করে দিন কাটান। অন্যের কাজ অবশ্যই দেখতে হবে, তাদের থেকে শিখতেও হবে; কিন্তু তুলনা করতে গেলেই আপনি শেষ। আমার কাজ অন্যের চেয়ে খারাপ- তাহলে ভাল করা যাক, এরকম ভাবলে ঠিক আছে। কিন্তু, আমার বয়সী ওই আর্টিস্ট তো অলরেডি মাস্টার লেভেলে চলে গেছে আমার আর এঁকে কী হবে, এই ভাবনাটা খারাপ। এবং এইরকম ভাবার মানেও নেই। কারণ প্রত্যেকটা আর্টিস্ট আলাদা। অবশ্যই আঁকার মূল ব্যকরণ যত ভাল রপ্ত হবে তত ভাল আঁকা হবে, কিন্তু শিল্পীরা কিন্তু খালি আঁকেন না, তারা আসলে আঁকার মধ্য দিয়ে তাদের একটা বক্তব্য তুলে ধরেন। সেটা যত সুন্দর ও নাটকীয় করে করা যায় ততই সেটা ভাল শিল্প। আর সেটা করতে গেলেই ব্যকরণ জানার প্রসংগ আসে। কিন্তু দুইজন শিল্পী একই জিনিস দেখে একেবারে একই শিল্প তৈরী করবে না। তাদের বক্তব্য আলাদা হবেই। সেটাই আসল জায়গা। অন্যের আঁকা আমার চেয়ে আলোকবর্ষ দূরের ভাল হতে পারে, কিন্তু আমার সাথে তার পার্থক্য হল সে কখনই আমার বক্তব্যটা দেবে না, সেটা পৃথিবীতে দিতে পারি আমি একাই। আর কাজ ভাল করার প্রতিযোগিতাটা নিজের সাথে নিজের। অন্যের সাথে ক্রিয়েটিভ কাজ কখনই তূলনা করার মানে নেই।

৪. ড্রিম প্রজেক্ট কবে হবে?

চাইলেই হবে। তবে তার জন্যে বাস্তব প্ল্যান করতে হবে। আমি আজকে মাত্র আঁকতে বসলাম আর ভাবলাম এক বছরের মধ্যে পিকজার এর মত এনিমেশন কার্টুন ফিল্ম বানাবো তাহলে সেটা হবে অনেকটা সাঁতার শেখার বই পড়তে বসে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেবার প্ল্যান করার মত। অবশ্যই এনিমেশন ফিল্ম বানাতে হবে। তবে তার আগে আঁকা শিখতে হবে, জানতে হবে এনিমেশন কিভাবে করে। আর অবশ্যই অর্থনৈতিক বাজেট টা করে নিতে হবে। এটা শুনতে অবাক লাগলেও আমার প্রজেক্ট করতে কত টাকা লাগতে পারে তার একটা ধারনা থাকা ভাল। বা উল্টোও করা যেতে পারে যে আমার সামর্থ্য কত আছে সেই অনুযায়ী প্রডাকশন ডিজাইন করে নেয়া যায়। যেমন একটা ক্লাসিক্যাল সেল এনিমেশন (দ্বিমাত্রিক) বানাতে সেকেন্ড প্রতি আন্তর্জাতিক রেট বলা যায় সাত হাজার টাকা। এটা বাংলাদেশের বর্তমান বাজারের প্রেক্ষাপটে প্রায় অসম্ভব একটা সংখ্যা। এখন যদি আমরা ঠিক করি আমাদের বাজার সেকেন্ড প্রতি ২ হাজার টাকা দিতে পারবে, তবে সেভাবে প্ল্যান করা যেতে পারে। হতেই পারে সেটা হাতে আঁকা এনিমেশন না হয়ে পাপেট আর স্টপ মোশন মিলানো একটা নতুন আইডিয়া। এবং সেটা আমার আয়ত্ত্বের মধ্যে আমার দুই বন্ধুকে নিয়ে ঘরে বসে একটা সেট বানিয়ে কর ফেলা সম্ভব। এভাবে ছোট করে একটা প্রামাণ্য কিছু বানালে সুযোগ আসতেই পারে যে কোন ভাল ব্যবসায়ী সেটা দেখে আমার ড্রিম প্রজেক্টে লগ্নি করল। সেই সাথে অবশ্যই নিজের সর্বস্ব ঢেলে কাজ করতে হবে। আবার বাস্তব সম্মতভাবে যা করতে যাচ্ছি সেটার অর্থনৈতিক আর কারিগরি দিক আমার আয়ত্ত্বে আছে কিনা সেটাও দেখতে হবে। আমার নিজের ড্রিম প্রজেক্ট ছিল বাংলা কমিক্স করা। সেটার জন্যে আমাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৭ বছর, আমি নিশ্চিত এ সময়ের কাউকে এতটা সময় অপেক্ষা করতে হবে না। কিন্তু তারপরেও সেতা হুট করে হয়ে যাবে এমন ভাবলে কাজটা আদৌ আর হবেই না।

এই ধরনের পোস্ট আদৌ অন্যের অকটুটুকু কাজে আসবে জানি না, তবে এগুলি মূলত: নিজেকেই বারবার শোনানো, বারবার মনে করিয়ে দেয়া। ততটুকু হলেও চলবে। আঁকাআঁকি সম্পর্কিতি যে কোন কিছু আর কেউ জানতে চাইলে আমাকে এখানেই কমেন্টে জানাতে পারেন, যথাসাধ্য চেষ্টা করব সেটা নিয়ে আমার ভাবনা জানাতে।

March 24, 2017

আমার পড়া ভাল বই ০৩: মাইন ক্যাম্ফ

এই সিরিজের নাম ভাল বই না বলে বলতে আসলে বলা উচিত ছিলো মনে রাখার মত বই, সেই তালিকায় এই বইটা থাকবে। লেখক স্বয়ং এডলফ হিটলার! যতই ভিলেন হিসেবে এই লোক ইতিহাসে থাকুন না কেন, আমি মনে করি এই একজন মানুষ কিভাবে ভাবতেন, কিভাবে হাজার হাজার (আসলে লক্ষ লক্ষ) মানুষকে কোন যুক্তি ছাড়াই আরো লক্ষ লক্ষ মানুষকে মেরে ফেলতে রাজী করিয়েছিলেন সেটা সবার জানা উচিত। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ নাই- ইত্যাদি বলে আমরা যতই মুখে ফেনা তুলি না কেন, হিটলার কিন্তু সেই সব কিছুর উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি মুখে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের ভেতরের পাশবিক প্রবৃত্তিকে এভাবে এই 'সভ্য' সময়ে যে আবার বের করে আনা যায় তার একটা অকাট্য দলিল হিটলার স্বয়ং। এই যুগে এই বইটি আবার পড়া অতি গুরুত্বপুর্ণ কারণ এখন আবার একটা চরমপন্থা চারিদিকে মাথা তুলছে। মানুষ যখন খুব হতাশ হয়ে যায় তখন এই চরমপন্থাকে পুঁজি করে কিভাবে কিছু মানুষ বিভৎস যুদ্ধে মাতে এবং সব মানুষ অন্ধের মত তার পিছনে দাঁড়ায় তার একটা উদাহরণ হিটলার। এই মানুষটা কিভাবে ভাবতো, কিভাবে ধীরে ধীরে পুরো জার্মান (মুলত: আর্য্য) জাতিকে বিশ্বাস করাতে পারল যে তাঁরাই পৃথিবীর সেরা জাতি, অন্যেরা ভাইরাস মাত্র, মানুষের উপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে কিভাবে মেঠো ইঁদুর বনাম ঘরের ইঁদুরের প্রসঙ্গ টানলো তা আসলে পড়া উচিত। পৃথিবীতে এই মুহূর্তে ঘৃণায় ভরা যত ঘটনা ঘটে চলেছে তা বুঝতে হলে আমার মতে এই মাইন ক্যাম্ফ পড়া উচিত। বইটা এমনিতে একেবারেই ছোট, পড়তে খুব সময় লাগবে না, আর পাওয়া যায় প্রায় সব বড় বইয়ের দোকানেই। নীলক্ষতের ফুটপাতও হিটলারের দখলেই আছে বলা যায়। 

March 19, 2017

সবচেয়ে বেশী যে সব সমস্যা আঁকিয়ে/ শিল্পীদের হয়

একটা দারুণ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। চারিদিকে অনেক নবীন কার্টুনিস্ট আর আঁকিয়ে কাজ করে চলেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যানে সেগুলি দেখাও যাচ্ছে। তবে খেয়াল করছি অনেকেই যে পরিমাণ আগ্রহ নিয়ে শুরু করেছিলো এখন যেন তা অনেকটা কমে গেছে, অনেকে ছেড়ে দিচ্ছে সবকিছু। এই ঘটনা যদিও সবসময়ই ছিলো। সবাই টানা লেগে থাকে না, টানা একই রকম উৎসাহে সবসময় থাকে না। কিন্তু এখনকার সময়টা একটু আলাদা। এখন কেউ মহা (মাঝে মাঝে অতি) উৎসাহে শুরু করছে একটা কিছু আবার মুহূর্তেই সেটা আবার মিইয়ে যেতেও সময় লাগছে না। আমি কয়েকটা কেস স্টাডি দেখে শুনে মনে হল কিছু ব্লগিয় কাউন্সেলিং করা যেতে পারে। হঠাত ক্রিয়েটিভ কাজে আগ্রহ চলে যাবার হাজারটা কারণ থাকতে পারে, তবে আমার মতে সবচেয়ে বেশী যেসব দেখা যায় সেগুলি মাথায় রাখলে ঝামেলাটার মুখোমুখি হওয়া সহ্য হয়, যেটা যেটা না করলে আপনি আরেকটু ভালমত নিজের পছন্দের ক্রিয়েটিভ কাজ করতে পারবেন তা আমার মতে এইরকম-



১. তুলনা না করা
মানে নিজের কাজ অন্যের কাজের সাথে তুলনা করা বন্ধ করা। এই বিষাক্ত সংস্কৃতিটা আমাদের সমাজে খুব বেশী আসন গেড়ে বসেছে। ছোটবেলা থেকেই অন্যের চেয়ে আপনার কাজ কতটা কম ভাল সেটাই বারবার সবাই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাচ্ছে। একটা প্রতিযোগিতা সবসময়। প্রতিযোগিতা অবশ্যই থাকবে তবে তা হবে নিজের সাথে নিজের। আজকের আমি যেটা করলাম সেটা আসলে গতকালকের আমার কাজের চেয়ে কতটা ভাল সেটা দেখতে হবে। অন্যের সাথে প্রতিযোগিতার দুইটা সমস্যা,

১. সেটাতে হারবো, তার মানে আর কাজ করে লাভ কী? ওর চেয়ে ভাল তো আমি হবো না, কখনো 
পারবোও না।

২. সেটাতে জিতবো, তার মানে আর কাজ করে লাভ কী? জিতেই তো গেছি। এখন আর কেন কাজ করব?

সুতরাং তুলনাটা অন্যের সাথে করার কোন মানেই নেই। অন্যের থেকে শিখবেন। বুঝবেন। প্রশংসা করবেন, তুলনা করবেন নিজের কাজের সাথে নিজের।

টিপসঃ ফেইসবুকের যুগে অন্যের কাজ না দেখে থাকা বা তুলনা না করা প্রায় অসম্ভব, নিজের কাজ ফিরে পেতে একেবারে নিয়ম করে কয়েকদিন অন্যের কাজ না দেখে নিজের কাজ স্টাডি করে দেখা যেতে পারে, শেখার জন্যে অন্যের কাজ দেখা যেতে পারে, তুলনা করার জন্যে কখনই না।

২. লাইকা সমস্যা



এটাও ঘুরেফিরে প্রথম সমস্যার মতই। কাজ করে সেটা সাথে সাথে সোশ্যাল মিডিয়াতে দিয়ে অপেক্ষা করা যে লাইক পড়ছে কিনা। যদি না পড়ে বা কম পড়ে তবে আমি ভালো না। তবে আর এঁকে কী হচ্ছে। এভাবেও অনেকে থেমে যাচ্ছে। তাই নিজের শিল্পী জীবন বাঁচাতে লাইকের জন্যে না এঁকে নিজের আনন্দের জন্যে আঁকুন। অবশ্যই অন্যের আনন্দের জন্যে আঁকাও জরুরী। তবে অন্যে আনন্দ না পেলে সেটা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।

টিপসঃ ইন্টারনেট বা সোশায়ল মিডিয়াতে দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ে ছাড়া ঢুকবেন না। ভাল উপায় হল মোবাইলে ইন্টারনেট ডেটা কানেকশন অফ রাখা, একান্ত না লাগলে অন না করা।

৩. অতি উতসাহ ও শর্টকাট

এটাও একটা বিরাট সমস্যা। ক্রিয়েটিভ কাজে অতি উৎসাহ স্বাভাবিক, কিন্তু এটা বেশীদিন থাকা অস্বাস্থ্যকর। হঠাৎ করে কোন একটা মিডিয়া নিয়ে কাজ করেই রাতারাতি কেন সেটা চারিদিকে সাড়া ফেলছে না সেটা নিয়ে টেনশন করতে করতে শেষে 'দুচ্ছাই' বলে আরেকদিকে চলে যাওয়া কোন কাজের কথা না। অনেকেই গান, পেইন্টিং, ফটোগ্রাফি ইত্যাদি সবকছু শিখে ফেলেছি ভেবে সেগুলি নিয়ে কী করবে বুঝে উঠতে না পেরে শেষে সিনেমা বানাতে নেমে পড়ে আবার টের পায় এটা ঠিক জমছে না। শেষে তার যে কিছুটা সম্ভাবনা ছিলো সেটাও শেষ করে একেবারে গতবাঁধা যা সে করতে চায়নি সেটা করা শুরু করে। ব্যাপারটা এভাবে ভাবুন, দুইজন মানুষ একটা সিঁড়ির সামনে দাঁড়ানো, একজন বার বার এক লাফে সেটার ওপরে উঠতে চাইছে, আর আছাড় খাচ্ছে। আরেকজন একটা একটা করে সিঁড়ি ভেঙ্গে সেই একই সময়ে সিঁড়ির ওপরে চলে গেল। আছাড় খাওয়া মানুষটা হতোদ্যম হয়ে ফিরে গেল আর ভাবলো নিশ্চই ওই যে উঠে গেল ওর কোন লবিং ছিলো বা কোন শর্টকাট ছিলো যেটা আমি পাইনি। তাই বহুবার শোনা কথাটা আবার মনে রাখতে হবে যে শর্টকাট বলে কিছু নেই- হ্যাঁ আপনি অতি প্রতিভাবান বা প্রসেসর হাই ডেফিনিশনের হলে এক লাফে যে দুইটা করে সিঁড়ি ভাঙ্গাটা অসম্ভব তা বলছি না।

টিপসঃ প্রতি মাসের শুরুতে সময়রেখা (টাইমলাইন) বানান, মানে এই মাসে কখন আমি কী  শিখব সেটা লিখে রাখা। তাহলে অযথা যা ওই মাসে করার কথা না সেটা কেন হচ্ছে না ভেবে মেজাজ খারাপ হবে না।

আমার মতে এই তিনটা জিনিস একজন 'হতে পারতো দারুণ শিল্পী'র জন্যে বিধ্বংসী। এইগুলি এড়িয়ে/ ভেবে চললে কিছুটা ভাল থাকা সম্ভব।




March 16, 2017

আমার পড়া ভাল বই ০২ঃ ভোলগা থেকে গঙ্গা




আইডিয়া পাওয়া বা ক্রিয়েটিভ কাজ ইত্যাদিকে এখনো আমাদের সমাজে একটা অলৌকিক প্রতিভা হিসেবে ভাবা হয়। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাপারটা সত্যও বটে। তবে আমি মনে করি মহা ট্যালেন্টেড হয়েও লাভ নেই যদি আপনি নিজে না পড়েন, বা না দেখেন। ধরা যাক আপনি দারুণ শক্তিশালী একটা কম্পিউটার এর মত। দুর্দান্ত প্রসেসর, টেরা টেরা স্টোরেজ, র‍্যাম এর তো কথাই নাই, গ্রাফিক্স ও সেই রকম। আমি বলতে পারি আপনি দারুণ ট্যালেন্টেড একটা কম্পিউটার- বা মানুষ। কিন্তু সেই কম্পিউটার এ যদি কোন সফটওয়ার ই না ইন্সটল করি? যদি কোন ডেটাই না থাকে? তবে আপনি কী প্রসেস করবেন? কাজই বা কী করবেন? তার মানে আপনার কাজ করার জন্যে দরকার উপাদান। সফটওয়ার লাগবে, লাগবে ডেটা। সেই ডেটা প্রসেস করে ভাল গ্রাফিক্স এর পর সেটা আপনি পুর্নাঙ্গ একটা কাজ আকারে শেষ করবেন।  মানুষের ক্ষেত্রে সমস্যাটা হল সে কোন কম্পিউটার না যে কয়েকটা সিডি বা পেন ড্রাইভ থেকে কিছু জিনিস কপি পেস্ট করে ভরে দিলাম, আর সে সব বুঝে গেল। তার বুঝতে হয় নিজের চারিদিক থেকে দেখে দেখে, শুনে শুনে। তবে কেউ যদি সারাজীবন তার আশপাশ থেকে সব দেখে ফেলে বা শুনে ফেলে তারপরেও কিন্তু বিশাল যেই মানব সভ্যতার ইতিহাস তার কিছুই তার জানা হবে না। এই সমস্যার একটা দারুণ সমাধান হল বই। যে বই চাইলেই হাজার বছর আগের একটা মানুষ বা একদল মানুষ কী ভাবতো তা জানিয়ে দিতে পারে।

বই এর এখনো কোন বিকল্প মানুষ তৈরী করতে পারে নি। যতই ভিডিও দেখি, গান শুনি, আলোচনা করি, বইয়ের একটা আলাদা জায়গা থেকেই যাচ্ছে। যেখানে লেখকের আর পাঠকের মধ্যে আর কারো আনাগোনা নেই।  তাই আমাকে যখনই কেউ জিজ্ঞেস করে- এমনকি কার্টুনের ক্ষেত্রেও, যে কিভাবে আইডিয়া পাব, আমার একমাত্র উত্তর হয়- বই পড়া। এর পরেই যেই প্রশ্নটা আসে সেটা হল কী বই পড়ব? আসলে এটা বলা কঠিন। যে যেই জিননিসটা সম্পর্কে জানতে বা বুঝতে চায় তাকে সেই ধরনের বই পড়তে হবে। আর শুধুমাত্র আনন্দের জন্যে পড়াও অনেক জরুরী। তারপরেও আমার পড়া বেশ কিছু দারুণ বই ধীরে ধীরে ছোটোখাট রিভিউ ধরনের করে তুলে দিতে চাচ্ছি। তার ফলে পরিচিত অপরিচিত কেউ হয়ত উপকার পেতেও পারেন।

আজকের বই -
ভোলগা থেকে গঙ্গা
আবারো রাহুল সাংকৃত্যায়ন। ভবঘুরে শাস্ত্রের আগে বরং এই বইটা পড়েছিলাম। প্রথম পড়েছি ইউনাইটেড ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরি থেকে ধার করে, সেখানে আমার বন্ধুরা পড়ত। ধার করে দুই দিন ধরে সেটা পড়ে ফেরত দিয়ে সোজা নীলক্ষেতে গিয়ে দুই কপি কিনেছিলাম মনে আছে। এক কপি আর কোন ভাল পাঠককে গিফট করতে। এই কাজটা আমি মাঝে মাঝেই করি। খুব ভাল বই অন্য কারোর সাথে শেয়ার করতে ইচ্ছে করে। ভোলগা থেকে গঙ্গা যে আমি কতবার পড়েছি এখন বলতে পারবো না। আরো অনেকেই যারা পড়েছেন তারা হয়ত কারণটা বুঝবে না।  রাহুল এখানে এমন একটা সত্য সময়ের স্বাপ্নিক ছবি এঁকেছেন ইতিহাসের মোড়কে মুড়ে যে অজান্তেই পাঠক এক লহমায় হাজার বছর ঘুরে আসার একটা আমেজ পাবে। আমার নিজের প্রাচীন ভারতবর্ষ নিয়ে একটা রোমান্টিসিজম আছে, কালিদাসের মেঘদূত এ কারণে আমি বেশ কয়েকবার পড়েছি। প্রিয় বইয়ের মধ্যে মৈত্রেয় জাতকও চলে এসেছে তাই। আর ভোলগা থেকে গঙ্গা যে এই সব কিছুর প্রথম পাঠ আমার জন্যে তা বলাই বাহুল্য।

বইটি রাহুলজী শুরু করেছেন প্রাচীন কাল থেকে, রাশিয়ার ভোলগা নদীর তীর থেকে, সেখানে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০০ অব্দ থেকে তখনো 'মানুষ' এর অবয়ব পায়নি এমন কিছু প্রাগৈতিহাসিক প্রাণিদের গল্প থেকে শুরু। তারপর চমতকার ভাবে তিনি সময়ের সাথে সাথে এই বিরাট স্রোতধারার তীর ধরে ধরে এগিয়েছেন ভারতবর্ষের দিকে। শেষ হয়েছে এসে গঙ্গার তীরে। শেষ করেছেন 'সুমের' নামক অধ্যায়ে: ১৯৪২ এ এসে। এঁর ঠিক পরের  খণ্ড হল 'কনৈলা কি কথা'। সেখানে ভারতবর্ষের স্বরাজ পর্যন্ত সময়কে ধরা হয়েছে। দুই খণ্ড একত্রে মিলেই পাওয়া যায় এখন।

ভোলগা থেকে গঙ্গা অসংখ্য ইতিহাস ও পুরাণ গ্রন্থের সহায়তায় লেখা। ভাল লাগার মূল জায়গাটা হল এঁর একেবারে নৈর্ব্যাক্তিক ভাবে বলা খুবই আবেগবহুল কাহিনী। আর এই বইয়ের যেই কথাটা আমার মনে গেঁথে গেছে সেটা ছিল এরকমঃ এই পৃথিবী যদি তার বুকে ঘটে যাওয়া সব কথা বলতে পারত তবে ইতিহাস অন্য রকম হত।- হুবহু এমন ছিলো না , স্মৃতি থেকে লিখছি। কিন্তু কথাটার ভাবটা এইরকমই ছিল। 

আপাত দৃষ্টিতে সরাসরি অধ্যায়গুলি/ গল্পগুলির যোগাযোগ না থাকলেও আবার কোথায় যেন তারা ধারাবাহিক একটাই গল্প। প্রাচীন রাশিয়ান ঊনমানুষদের ধীরে ধীরে ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়ার গল্প, আর্য জাতির উত্থানের গল্প, বৈদিক যুগের গল্প। সবার উপরে- মানুষের গল্প।

যারা প্রাচীন ইতিহাস, সমাজ ও নৃতত্ত্ব ভালোবাসেন তাদের জন্যে সবসময় সাথে রাখার মত একটা বই এই ভোলগা থেকে গঙ্গা।

একটা অনলাইন পিডিএফ পেলাম এই লিংকে। তবে এটা কিনে সংগ্রহে রাখাই ভাল। প্রায় সব ভাল বইয়ের দোকানেই পাবেন, নীলক্ষেতের ফুটপাতেও এঁর উর্বর চাষ হচ্ছে। সেখানেও দেখতে পারেন।

March 14, 2017

Going back to traditional

ডিজটালি আঁকতে আঁকতে ট্রাডিশনাল আঁকার বেশ কিছু জিনিস মিস করি ইদানীং- যেমন: হ্যাপি এক্সিডেন্ট। ডিজিটালি যে একসিডেন্ট হয় না তা না। তবে সেটা আনহ্যাপি। বইমেলায় যেমন এরকম অনেক গুলি আনহ্যাপি এক্সিডেন্ট ঘটেছে। উন্মাদের ৭৪ পৃষ্ঠার কমিক্স ডিজিটাল এক্সিডেন্ট (আমার দোষ আছে সাথে একটা ভাইরাস সাহায্য করেছে) ঘটে ভুল ফাইল ২০০০ কপি প্রিন্ট হয়ে গেছে। 
যাই হোক, দুইটা জিনিস চেষ্টা করছি, 

১. লাইট আর কালার বোঝা, এজন্যে পড়ছি James Gurney'র Color and Light

২. রঙ: পিগমেন্ট- কিভাবে একটা আরেকটার সাথে মেশে আর অসংখ্য অন্য রঙ তৈরী করে সেটা সেখার জন্য তেল রঙ কিনেছি। 

এই বছরটা লেভেল আপ এর চেষ্টা করে যাব। শেখার বদলে খালি এঁকে যাচ্ছি বিভিন্ন প্রজেক্ট। এটা কোন কাজের কথা না :/

March 13, 2017

কার্টুন কোর্স


এ বছরের আঁকান্তিস স্কুলের কার্টুন কোর্স শুরু হচ্ছে। এই সময়টা দারুণ উপভোগ করি। নিজে যা জানি সেটা ঝালাই করা আর অন্যদের কাজ আগের থেকে ভাল করতে একটা আনন্দ আছে। সারাবছর অসংখ্য মানুষ কবে আবার কার্টুন কোর্স হবে, কেন হচ্ছে না ইত্যাদি বলে বলে মাথা ধরিয়ে ফেলে। মজার ব্যাপার হল কোর্স শুরু হলে এই গ্রুপটা একেবারে চুপ মেরে যায়। আর সত্যিকারে ভর্তি হয় একেবারেই অচেনা অনেকে। ব্যাপারটা মজার।


March 11, 2017

মাহশীদ আর ভল্লুক

আমার পিচ্চি ভাগ্নি মাহশীদ ছোটবেলা থেকেই 'মাশা এন্ড দ্যা বিয়ার' নামের একটা কার্টুন শো দেখে বড় হচ্ছে। সে জন্মসূত্রে আমেরিকান, থাকে ভার্জিনিয়া স্টেট এ। তাই সে বাংলা বলবে না ইংরেজী বলবে এই নিয়ে আমরা কম বেশী ভাবনা চিন্তা করছিলাম, কিন্তু দেখা গেল সে বলা শুরু করেছে রাশিয়ান! কারণ সেই কার্টুনটা রাশান ভাষার। তো সেই মাহশীদের এই গত ফেব্রিয়ারিতে জন্মদিন গেল। এত দূর থেকে কী আর করা যায় ভেবে হুট করে মাথায় এলো একটা চিলড্রেন বুক এঁকে দেই না কেন? আগে একবার আরেক ভাগ্নি মানহার জন্যেও এঁকেছিলাম যেমন। সেই ভাবে একটানে কোন রকম ভাবনা চিন্তা বা ড্রাফট ছাড়াই নামালাম 'মাহশীদ এন্ড দ্যা বিয়ার' সেই বই পেয়ে সে মহাখুশী। আপু জানালো সেই বই প্রিন্ট করে তার প্লে গ্রুপের ক্লাসের সবাইকে বিলানো হয়েছে। সে মোটামুটি ভাবের ঠেলায় অস্থির। তার মামা একটা বই এঁকে দিয়েছে যেটার মূল চরিত্র সে, তাকে আর পায় কে।
বেচারা একা একা বিদেশে বড় হচ্ছে, হাতের কাছে পাচ্ছি না, ভাবছি প্রতি বছর অন্তত একটা বই এঁকে পাঠাবো। হোক সেটা যতই তাড়াহুড়োয় করা।
ভালো থেকো মাহশীদ।।

















Mahsheed and MAMA