November 18, 2018

ঢাকা কমিক্স ইউনিভার্স

ঢাকা কমিক্সের নবীন সিরিজের দুই ক্যারেক্টার ইব্রাহীম আর জুম নিয়ে একটা ক্রস ওভার গল্পের প্ল্যান চলছে।
(আগ্রহীরা বইগুলি চাইলে ক্লিক করুন ইব্রাহীম ১ ইব্রাহীম ২ জুম ১) সেই সাথে কাজ চলছে আমাদের নিজেদের একটা ইউনিভার্স তৈরীর। স্টে টিউন্ড :)
ইব্রাহীম কন্সেপ্ট ক্যারেক্টার কস্টিউম

November 17, 2018

বোধি ১: ফান্ডেড প্রজেক্ট!



(কার্টুন কমিক্স ইত্যাদি আঁকতে গিয়ে বেশ কয়েকবার আমার বোধিপ্রাপ্ত দশা ঘটেছে। আমি হঠাত সবিস্ময়ে ভেবেছি- এই তবে জগতের স্বরুপ? তার একটা শেয়ার করা যাক।)

মাঝে মাঝেই আমার মাথায় বেশ কিছু সমাজসেবামূলক আইডিয়া চলে আসে, যেমন- কার্টুন এঁকে স্টিকার ছাপিয়ে সরকারী অফিসে সাঁটিয়ে দেব- 'ঘুষ খাই তো ... খাই'

অথবা হর্ণ দূষণ কমাতে স্টিকার বের করে গাড়ির পেছনে পেছনে সেঁটে দেই 'হর্ণেই বংশের পরিচয়'। 

শহরের ময়লা নোংরা আবর্জনা কমাতে কিভাবে বাচ্চাদেরকে ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা উচিত সেটা কমিক্স এঁকে ক্যপাটেন প্ল্যানেটের মতে করে বুঝিয়ে দেই। এসব 'বনের মোষ' প্রজেক্ট মাথায় এলেই সেটা আমি নামিয়ে দেবার চেষ্টা করি, খালি আটকে যাই অত্যন্ত বাস্তব একটা সমস্যায়, সেটা হল- এঁকে না হয় ফেললাম কিন্তু সেটা ছাপানোর/ বাস্তবায়ন করার টাকা? একেবারে মিনিমাম কিছু করলেও সেটা ছাপার জন্যে একটা টাকা দরকার। শিল্পী সম্মানী না হয় বাদই দিলাম, ছাপাখানার টাকাটা তো লাগবে? 

আশেপাশের লোকজন জানালো এটাও নাকি কোন সমস্যা না, অসংখ্য মানুষ নাকি টাকা নিয়ে বসেই আছে এইসব দারুণ দারুণ (!) প্রজেক্টে দেবার জন্যে, খালি সুন্দর করে একটা প্রোপোজাল বানালেই হবে, টাকার তাঁদের অভাব নেই, অভাব শুধু ভাল আইডিয়ার। আর কষ্ট করে আইডিয়াটা তাঁদের কাছে পৌঁছে দিলেই হবে। শুনে আমি 'হাউ টু রাইট প্রোপোজাল' ধরনের বেশ কিছু আর্টিক্যাল পড়ে নিয়ে প্রোপোজাল লেখা শুরু করলাম ও সম্ভাব্য স্পন্সরদের কাছে যাওয়া শুরু করলাম। আমার বোধোদয়ের শুরু সেখানেই। আমি এক মাসের মধ্যে বুঝে গেলাম যারা এই কথাটা বলেছে যে সমাজের কল্যাণে ফান্ড দেবার জন্যে অনেকেই টাকার বস্তার মধ্যে এক হাত ঢুকিয়ে বসে আছে তারা মিথ্যা বলেছে বা স্রেফ আমার সাথে মজা করার চেষ্টা করেছে।

সম্ভাব্য স্পন্সরদের সবাই বিভিন্নভাবে আমাকে না করে দিচ্ছে কিছু উদাহরন দেই-

ফান্ড নাই
'ইশ একটু আগে আসবেন না এ বছর ফান্ড নাই, কিন্তু চমৎকার আইডিয়া, অবশ্যই পরের বার সবার আগে আমাদের কাছে আসবেন।'
বলা বাহুল্য যে পরের বছর আগে আগে গেলে তারা এবারে আবার বেশি আগে কেন চলে এলাম সেটা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন।

জানাবো
অসম্ভব ভালো আইডিয়া, আমরা এটা স্যারকে জানাচ্ছি, উনি এখন একটু সুইটজারল্যান্ডে আছেন (যেখানে ইন্টারনেট নাই তাই এখন 
ইমেইলে জানা যাচ্ছে না), উনি আসলেই আমরা আপনাকে জানাবো।

অন্য আর কী করার আছে?
আরে এই আইডিয়া তো হবেই, এটা রাখেন, এটা তো একেবারে ছোট বাজেটের কাজ ভাই। আর কী কী করা যায় বলেন? একটা বিগ প্রোপোজাল দেন, বছর ব্যাপি পুরো দেশের জন্যে, আপনি লিখে পাঠান, এই ইমেইলে দিয়েন, আর এখানেও একটা সিসি দিয়েন। 

যাই হোক, এই উদাহরণ দিয়ে শেষ করা যাবে না। কিন্তু এর থেকে রক্ষার উপায় কী তা বুঝলাম না, ওদিকে আবর জাবর প্রজেক্ট অনেক দেখি ফান্ড টান্ড পেয়ে অস্থির অবস্থা, তাহলে এই রহস্যের সমাধান কী?

সমাধানে এগিয়ে এল আমার এক বন্ধু (তার নাম বলা নিষেধ) ধরা যাক তাঁর নাম 'বাস্তব আলম'। সে খুবই বাস্তববাদী। সে এসেই এই সব শুনে টুনে বলল
- ধূর ব্যাটা হাবা, এইভাবে কেউ প্রোপোজাল বানায়? প্রোপো লিখে শেষে জুড়ে দিবি মাছ ধরা জাল, সেইটা হল আসল প্রোপোজাল।

আমি বললাম- মানে?

-মানে শোন- তুই যা করছিস সেটা হ্ল তোর কী ইচ্ছা সেটা লিখে দিচ্ছিস, সেটায় একজন মানুষ কেন টাকা দেবে?

আমারো তাই মনে হল- তাই তো!

-তোর করতে হবে ওরা কী চায় সেটা।

-আচ্ছা- সেটা কিভাবে?

-মনে কর, কেউ চায় তার বাইক খালি বিক্রি হবে আর বিক্রি হবে, তাহলে তুই বাইকের উপকারিতা নিয়ে একটা কমিক্স করবি। পাতায় পাতায় বাইকের ছড়াছড়ি,

-ইয়ে কিন্তু সমাজের তাতে

-আরে দুত্তোর সমাজ, সমাজ হলে তো টাকা হবে না রে গাধা! শোন- মনে কর হালে কিছু একট ক্রেইজ যাচ্ছে, এই মনে কর গাব গাছা লাগান, মাটি বাঁচান। মানে গাব গাছের উপর মনে কর ইউরোপ থেকে ফান্ড আসছে, ব্যাস, সাথে সাথে নেমে পর গাব গাছের চারার ১০ টি গুণ লিখে প্রোপোজাল লিখতে। স্পন্সর পাক্কা। হঠাত দেখছিস না সবাই ক্লাইমেট নিয়ে খুব চিন্তিত, কথায় কথায় ক্লাইমেট চেইঞ্জ, তার মানে বুঝবি ফান্ড আছে! আবার দেখবি জেন্ডার ইস্যু, মানে ফান্ড এসেছে, দেখবি হার্ড টু রিচ, সাসটেইনিবিলিটি, ইনক্লুসিভ সোসাইটি এইসব কখনো শুনোসই নাই টাইপ সব টার্ম জপা শুরু হচ্ছে আশে পাশে- মানে কী বল?

-ফান্ড!

-ইয়েস! দ্যাটস দ্যা সিক্রেট। প্রোপোজালের মধ্যে তোকে ঢুকায়ে দিতে হবে কে কী চায় সেইটা। তুই কী চাস সেটা বাহ্য।

-তাহলে আমার নিজের কাজ কিভাবে হবে?

-নিজের কাজ করলে শুধু নিজের কাজই হবে, টাকা হবে না। হাবিজাবি বাদ দিয়া তারচেয়ে এইবার তুই একটা প্রোপোজাল লিখে ফেল তো।

-কী নিয়ে?

-ফেমিনিজম, বেশ বড় একটা ফান্ড আসছে।

এই শুনে সব ছেড়েছুড়ে আবার আমার তেজগাঁওয়ের ছোট্ট দশ বাই দশ ফুট স্টুডিওতে গিয়ে ঢুকলাম ও আমার নিজের কমিক্স আঁকত্রে থাকলাম, সমাজসেবার ভূত আপাতত মাথায় নেই।



November 08, 2018

কার্টুন এঁকে কত টাকা?

একেবারে বেসিক এনিমাশন শিখে সেটা দিয়ে টুকটাক কিছু ফান টিউটোরিয়াল বানাচ্ছি, এবারের পর্ব-

October 24, 2018

ক্রিয়েটিভ সেক্টরের টক্সিক 'ভাইয়া' : যেভাবে চিনবেন।

মেঘে মেঘে বেলা বয়ে যাচ্ছে, এখন আর টিআইবি তে কার্টুন জমা দিতে পারি না, এখন আর কেউ বলে না প্রতিশ্রুতিশীল। সময়ের সাথে আসলে মানুষের কিছু করার ক্ষমতা নেই, সময় তো আর হাতিরঝিলের ড্রেন না যে থেমে থাকবে, তাকে তার নিয়মে বয়ে যেতে হবে। আর এই চলার ফাঁকে ফাঁকে সে আমাদের একের পর এক বাস্তব সত্য শিখিয়ে আক্কেল গুড়ুম বানিয়ে বানিয়ে চুল পাকিয়ে দিতে থাকবে। আমি তো প্রায় দিনই নতুন নতুন সত্য জেনে তব্দা মেরে যাই। ও ব্যপারটা তাহলে এই ছিল? এদ্দিন ভেবেছি ওই? যেমন আমি আমার ছোট কার্টুন আঁকার জীবনে বেশ কিছু মজার জিনিস দেখেছি, আর মধ্যে একটা হল 'বড় ভাইয়া'। বড় ভাইয়া আর কিছুই না কোন একটা সেক্টরে (সাধারণত ক্রিয়েটিভ) কেউ একজন কিছু অধস্তন জোগাড় করবে এবং তাদের ঘাড়ে চেপে তার নিজের একটা (বা একাধিক) প্রজেক্ট হাসিল করবে। আর বিনিময়ে ছোটদের যেটা দেবে সেটা হল শর্ট টার্মে বায়বীয় 'এক্সপোজার' ও লং টার্মে 'অভিজ্ঞতা' অনেকটা সেই কৌতুকের মত, ব্যবসার আগে আমার ছিল টাকা, পার্টনারের ছিল অভিজ্ঞতা, এখন সেটা উলটে গেছে। তো এই ধরনের বেশ কিছু বড় ভাইকে আমি একটু দূর থেকে (কাছে যাইনি কারণ আমি এদের ভয় পাই) দেখেছি। আর তাদের সাথের সবার হাল ও পরিণতি ও শেষমেশ তাদের নিজেদের অবস্থা সবই কেস স্টাডি টাইপ ফাইল হয়ে মাথায় জমা হয়েছে। সেগুলি থেকে দেখেছি এই ধরনের টক্সিক (টক্সিক কারণ তারা অন্যের ক্রেডিট ও কাজ নিজের কাজে লাগিয়ে নিজের যশ ও অর্থ বাগায় ও অন্যদের মন ভেঙ্গে দিতে থাকে) ভাইয়াদের কিছু কমন বৈশিষ্ট্য থাকে। দেখে নিন, নিজের অভিজ্ঞতার সাথে মিলে যেতে পারে, অথবা হতে পারে এই মুহূর্তে আপনি এরকম কারো সাথেই আছেন-


১. টক্সিক ভাইয়া অতি আদর করবে   

ভদ্রতা জনিত ভাল ব্যবহার আর অতি আদরের পার্থক্য টের পাবার মত বুদ্ধি আপনার না থাকলে বাকিটুকু পড়ার দরকার নেই। এই ভাইয়ারা (একটু জেন্ডার বায়াসড হয়ে যাচ্ছে তবে আমি কোন আপুকে এখনো এরকম পাইনি।) সাধারণত আপনাকে না চেনার ভান করবে, তবে কোনভাবে যদি আপনার কোন রকম যোগ্যতা তার কাজে আসতে পারে বলে তারা বুঝতে পারে তবে মধুর ব্যবহারে আপনার জান ঝালাপালা হবে। সেটা অনেকটা মামু-মামু ব্যাপার, মানে আমরা আমরাই তো। এরকম একটা সম্পর্ক হবে, মাঝে মাঝেই পার্টি, খেতে যাই চল। চল আজকে আড্ডা দেই, ইত্যাদি চলতে থাকবে। হঠাত হঠাত আবার সময় বুঝে গম্ভীর মোটেভিশনাল স্পিচ চলবে যে আমাদের কাজটা কত বড়ো মাঝে মাঝেই আমাদের কাজটা যে কত সিরিয়াস দেশের (আসলে নিজের) জন্যে সেটা বলবে। 

২. অনেক কাজ করাবে  
ভাইয়া এবার অন্নেক অন্নেক কাজ করাবে, অন্নেক এক্সপোজার এর কথা বলবে, কিন্তু কাজের বিনিময়ে প্রাপ্য টাকা দেবে না, বিপ্লবের কথা বলবে। টাকা দিলেও সেটা কোন কাজের জন্যে কী হিসাবে দেয়া হচ্ছে সেটা পরিষ্কার থাকবে না। এবং কাজ করিয়ে সেটার ক্রেডিটের পুরো ভাগে থাকবে সে নিজেই, এবং মূল প্রচার প্রসারের চ্যানেল বা মূলধারার লিংক টিংক থেকে খুব সাবধানে আপনাদের সরিয়ে রাখবে।

৩. ক্রেডিট সাকার  
এরা আপনার সাথে ন্যূনতম সম্পর্ক আছে এমনটা হলেই আপনার যে কোন কাজ যে আসলে তার আর আপনার যৌথ একটা আলোচনারই ফল এটা বলে বেড়াবে, আপনি স্বীকার করুন বা না করুন। যদি কোনভাবে বাগে আনতে না পারে তবে সম্পর্ক খারাপ হবার পরে বলবে যে সেটা আসলে তারই করা ছিল।

৪. কাজ ফুরিয়ে গেলে অন্যরকম  
আপনার থেকে তার যাবতীয় কাজ শেষ হয়ে গেলে বা আপনি কোন কারণে তার ওপরে বিগড়ে গেলে তার আসল চেহারা দেখিয়ে গালাগাল করবে ও ত্যাগ করবে ও অন্যান্যদের বলবে আপনি কত অযোগ্য। আর কোনভাবে যদি আপনি তার চাইতে কোন কিছু একটু ভাল করে ফেলেন তবে সাথে সাথে আপনাকে পঁচানো হবে, আপনাকে এড়িয়ে চলা শুরু হবে কিন্তু মূল প্রচারের প্ল্যাটফর্মে আপনার কাজটাও তাঁর সফলতা হিসেবে দেখানো হবে।

৫. নিজের কাজ ভয়ানক  

এরা সন্তর্পনে তার নিজের কাজ কী সেটা গোপন করে, মানে সবই তার কাজ এরকম একটা ভাব কিন্তু আসলে তার নিজের ক্রিয়েটিভ ধরনের কাজ তার জুনিয়রদের চাইতেও খারাপ, মূলত এটাই অন্যদের ঘাড়ে সওয়ার হবার কারণ।

সবার প্রতি আমার সাজেশন হচ্ছে এমন যে কোন একটা বৈশিষ্ট্য পেলেই এ ধরনের কারো থেকে সাবধানে থাকবেন। নাইলে এক সময় এর উপর ভয়ানক বিরক্ত হয়ে আপনার যা নিজের জন্যে করার কথা ছিলো তা আর করা হবে না, এমনকি আপনি আপনার ড্রিম প্রজেক্ট বা ড্রিম ক্যারিয়ারের অপরেই বীতশ্রদ্ধ হয়ে দূরে চলে যেতে পারেন। সত্যি বলতে আপনার পরিচয় আপনার কাজ, বড় ভাইদের ধরে লিংক টিংক করে এগিয়ে যাব এটা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলির ক্ষেত্রে কাজ করতে পারে, কিন্তু ক্রিয়েটিভ সেক্টরে সেটা হলেও হবে ক্ষণস্থায়ী। সুতরাং নিজের কাজ ভালো করুন, এ ধরনের ধান্দাবাজ ভাই থাকুক বা না থাকুক, নিজে কাজ করে যান, প্রতিদিন কাজ আগের চেয়ে ভাল করার চেষ্টা করুন, সেখানে আপনাকে কেউ থামাতে পারবে না।

পুনশ্চ:
আর এই ধরনের টক্সিক ভাইদের আমি যদ্দুর দেখেছি নিজেদের পরিণতি সবচেয়ে খারাপ হয় কারণ প্রথমত অন্যের ঘাড়ে চাপতে চাপতে নিজের কাজ আর করা হয় না, যাও হত তাও খারাপ হয়। এবং শেষে একে একে সবাই  তাকে ত্যাগ করে, কারণ এই ধরনের ঘটনা জানাজানি হয় বিদ্যুতবেগে। একটা সময় সে একা হয়ে যায়। পরিণত হয় অনেক নাম করা ট্র্যাশে। নাম বা টাকা দিন শেষে উদ্বায়ী, থেকে যায় মানুষের সম্পর্ক, থেকে যায় কাজ। এই টক্সিক মানুষগুলি তাই শেষমেশ সবথেকে বড়ো লুজার।

October 15, 2018

INKTOBER 2018

I have started enjoying my Inktober2018 practice, this time I have planned a story based on the given themes. Really cheering. The character name is KANU. He is in a quest to discover the most precious jem that can bring back his dead mother. The stone can do only once.






























September 30, 2018

ইংক্টোবার কী ও কেন দরকার?

INKTOBER আসলে আর কিছুই না, October মাস জুড়ে Ink এ ছবি আঁকার একটা দুনিয়াব্যাপি আয়োজন। কোন প্রতিযোগিতা না, কোন প্রতিষ্ঠান এটার স্পন্সর করে না, কেউ কাউকে তাড়া দেয় না। আর্টিস্টরা নিজেরাই নিজেদের ইচ্ছায় প্রতিদিন একটা করে কালি-তুলিতে করে ছবি আঁকে। এটা শুরু করেছিলেন আর্টিস্ট Jake Parker, খেলাচ্ছলে শুরু করা এই জিনিস এখন দুনিয়াব্যাপী আঁকিয়েদের কাছে ব্যপক জনপ্রিয়। এখন কথা হল এই জিনিসের দরকারটা কী? কোন টাকা পাওয়া যাবে না, কেউ তাড়াও দিচ্ছে না, তাহলে দরকারটা কী এই কষ্ট করার? আমি গত বছর পুরো অক্টোবর মাস জুড়ে এটা করেছিলাম। এবং এবারেও করব। এবং তার থেকে আমি নিজে যা যা উপলব্ধি করেছি তা এরকম-



নিজের জন্যে আঁকা
যেহেতু ক্লায়েন্ট ফ্লায়েন্টের বালাই নাই, সেহেতু যা ইচ্ছা তাই নিজের জন্যে আঁকা যায়।

খাতা-কলম-মন
নো ইলেক্ট্রিসিটি, নো ইন্টারনেট, নো ফটোশপ, আদি ও অকৃত্রিম কালি কলমে আঁকা, আনডু নাই, ফিল্টার নাই। তার মানে একাগ্রচিত্তে ঠাণ্ডা মাথায় কাজটা করতে হবে। এবং ডিজিটালি আঁকার ক্ষেত্রে অনেকেরই য ফাঁকি মারার প্রবণতা আছে সেটা এখানে চাইলেও করা যাবে না, তাই এখানে একটা ড্রয়িঙে যতটা শেখা হবে তা ডিজিটালি আঁকা অনেক গুলি ড্রয়িঙ্গেও হয়ত হবে না। এই যুগে এটা খুবই জরুরী। আনপ্লাগড ভাবে একটা কাজ ধৈর্য্য ধরে ধরে শেষ করা এক ধরনের মেডিটেশনও।

ডেইলি রুটিন
বলা হয় একটা কাজ টানা ২১ দিন একই সময় একইভাবে করলে অবচেতন মন ধরে নেয় সেটা লাইফস্টাইল, তাই এরপরে আর সেটা নিজেকে কষ্ট করে করতে হয় না, অবচেতন সেটাকে দৈনন্দিন অভ্যাস ভেবে নিজেই করিয়ে নেয়। যেমন নাক খোঁটার বদভ্যাস যাদের আছে তারা নিজের 'অজান্তেই' কাজটা করে। আসলে সেটা করতে করতে তা চলে যায় অবচেতনে, তখন এমনি সেটা ঘটতে থাকে। তো টানা এক মাস এভাবে একই রকম ভাবে আঁকলে সেটা একটা ডেইলি রুটিনে পরিণত হবে যেটা অন্য সময় একা একা অতটা সহজ না।

আর সব শেষে ব্যাপারটা আনন্দের, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের অসংখ্য আঁকিয়ে সবাই মিলে একটা একই রকম প্র্যাকটিস একসাথে করার আইডিয়াটাই তো মজার। সুতরাং খাতা কলম কালি তিলি নিয়ে শুরু করে দিন আপনার ইংক্টোবার।

*ইংক্টোবারের একটা গাইডলাইন আছে সেটা এমন-

আর কেউ যদি স্বয়ং Jake Parker এর থিম, মানে কোন দিন কোন থিমে আঁকবেন সেটা জানতে চান তবে সেটাও সে করে রেখেছে এভাবে-

সুতরাং দেরি না করে শুরু করে দিন, সোশ্যাল মিডিয়াতে দিলে সাথে দিয়ে দিন #INKTOBER2018

July 29, 2018

আহসান হাবীব: কার্টুন বাণী

ইদানীং আমার যে কোন টিউটোরিয়ালে মূল যে জিজ্ঞাসাটা পাই সেটা হল- ভাই এটা কোন সফটওয়ার? আসলে সফটওয়ার একটা মাধ্যম মাত্র। সেটা আঁকা শিখায় না, কিছু সময় বাঁচায় আর কিছু ভিন্ন অপশন দেখায়। এই ব্যাপারে আমাদের কার্টুন গুরু, উন্মাদ সম্পাদক আহসান হাবীব দ্য বসের একটা ছোট ড্রায়ং দৃশ্য শেয়ার করা জরুরী মনে হল। আর শেষে তাঁর বাণী। উন্মাদ অফিসে আমার পঁচা মোবাইলে ২০১৫ সালে ধারনকৃত।


July 27, 2018

মাঙ্গাস্টুডিওতে কমিক্স আঁকা

বেশ অনেকদিন ধরেই আঁকা হচ্ছে ডিজিটালি, ডেডলাইন সামনে থাকলে আর প্রিন্টিং নিয়ে বেশী মাথা না ঘামাতে চাইলে ডিজিটাল ওয়ার্কফ্লো সবচেয়ে ভাল। আমার পছন্দের সফটওয়ার হল মাঙ্গাস্টুডিও। ড্রয়িঙের জন্যে অসাধারণ, সহজ ও একই সাথে অনেক লাইট। যাই হোক, এটা একটা খুবই সংক্ষিপ্ত বর্ণনা। আর এটা বেশ আগের রেকর্ডিং, এখন আমি আরো অন্যরকম ভাবে আঁকি। এ পর্যন্ত কারো কিছু জানার থাকলে কমেন্টে জানাবেন।

July 11, 2018

Image Comics

ফেব্রুয়ারি, ১৯৯২। মার্ভেল স্টুডিও থেকে বের হয়ে এলেন সে সময়ের কিংবদন্তীতূল্য আর্টিস্ট জিম লি (যাঁর একেকটা বই ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ কপি বিক্রি হত), রয় লি'ফিল্ড, টড ম্যাকফার্লেন, জিম ভ্যালেন্টিনোর মত মোট সাতজন। এবং ঝুঁকি নিয়ে বের শুরু করলেন IMAGE COMICS যেখানে প্রথমবারের মত প্রকাশ হতে লাগলো ক্রিয়েটরস ওউনড কমিক্স। মানে যিনি শিল্পী ও লেখকদের কাছেই থাকবে কমিক্স ক্যারেক্টার আর গল্পের কপপিরাইট। মার্ভেল বা ডিসি যেটা কখনোই দিতো না। তারা শিল্পিদের গন্য করত চাকুরিজীবি হিসেবে। কিন্তু আমরা শিল্পীরা নিছক চাকুরিজীবি নই।

আমার ঢাকা কমিক্সের ব্যবসা কাঠামো আর কাজের ধরন পুরোই এই ইমেজ কমিক্স কে ফল করে করা। আগ্রহীরা এই সময়ে সেই বিদ্রোহী আর্টিস্টদের আড্ডাটা দেখতে পারেন।


June 28, 2018

কমিকবাজ

তাহসিন সালমান চৌধুরি। আমার দেখা এ দেশের একমাত্র একাডেমিক কমিকবুক নার্ড। কালার্স এফ এম এ রীতিমতন কমিক্স নিয়ে একটা রেডিও শোও করেন তিনি। আমার বেশ কয়েকবার সেই শো'তে যাবার সৌভাগ্য হয়েছে। সম্প্রতি তিনি ইউটিউবে বাংলাদেশি কমিকসের রিভিউ করা শুরু করেছেন। নিয়মিত ফলো করার একটা বড় কারণ হচ্ছে, মাঝে মাঝে ঢাকা কমিকসের কমিক্স সেখানে রিভিউ আসে। আর এবারে চলে এসেছে আমার প্রথম কমিক্স মীনপিশাচ! তাই এখানেও তুলে দিলাম।
কমিক্স লাভাররা তাঁর চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করে রাখলে ঠকবেন না।

March 23, 2018

পিশাচ কাহিনি কনসেপ্ট আর্ট

Nathan Fowks নামের গ্রেট আর্টিস্টের টিউটরিয়াল দেখিছ টানা ক'দিন। আবারো পেইন্টারলি করে ক্রে কালারিং বোঝার চেষ্টা চালাচ্ছি। আসলে মাথা থেকে ড্রয়িং আর পেইন্টিং- এই দুইটা ডিপার্টমেন্ট আলাদা না করা পর্যন্ত এটা  শিখতে পারব না। 


March 20, 2018

কার্টুনিস্ট ও আঁকিয়েদের জন্যে ক্যারিয়ার টিপস

ব্লগে একেবারেই অনিয়মিত ছিলাম প্রায় এক বছর। এবারে ভাবছি অন্তত প্রতি সপ্তাহে একটা জনসেবামূলক পোস্ট দেব। তার একটা আজ দেয়া যাক। সবচেয়ে বেশী যেটা লেখার জন্যে বারবার ট্যালেন্টেড আঁকিয়েকূল অনুরোধ করেছে সেটাই ধরি। বাংলাদেশে কার্টুন-ইলাস্ট্রেশন ক্যারিয়ার আসলে কতটুকু সম্ভাবনাময় এবং সেদিকে এগোনোর ভাল উপায় কী?

প্রথমেই বলে রাখি- বেশী উত্তেজিত না হওয়া ভাল। সত্যি কথা হল যে পরিমাণ সম্ভাবনাময় ভালো ভালো আঁকিয়ে এই মুহূর্তে আছে বা তৈরী হচ্ছে, বাংলাদেশের মার্কেটে এই সেক্টরে অত চাকরি নাই। এটা আগে বুঝে নিতে হবে। তবে চাকরির বাইরে যদি কাজের কথা বলা হয় তবে অফুরন্ত কাজের সম্ভাবনা আছে। স্ট্রাগলিং আঁকিয়েদের এগোনোর ক্ষেত্রে অনেক সমস্যার মুখে পড়তে হয়ে, আমি সংক্ষেপে কী করিলে কিভাবে এগোতে পারিবেন সেটা লিখে দেই- ক্যাজুয়ালি,

১. আঁকুন ও দেখান
এর কোন বিকল্প নেই। প্রথমত আঁকা শিখতে হবে। সেটা ভাল না হলে পরের কিছু আর পড়ে লাভ নেই। তবে এটা একটা ধারাবাহিক যাত্রা। আজকে যেটা মনে হবে মাস্টারপিস এঁকেছি এক বছর পরে সেটা কাউকে দেখাতে যদি লজ্জ্বা না লাগে বুঝতে হবে আপনি আটকে গেছেন আর নিজেই নিজের কাজে মুগ্ধ হয়ে পড়েছেন। শিখব কোথায় এই প্রশ্ন এখন করার মানে নাই। অনলাইনে এখন দুনিয়া খোলা। চাইলে পৃথিবীবিখ্যাত আর্ট স্কুলগুলির অনলাইন কোর্সে ভর্তি হোন। ইউটউবে দেখুন টিউটোরিয়াল, বই পড়ে স্টাডি করুন। স্কেচবুক নিয়ে বের হয়ে যান পছন্দের বিষয় স্টাডি করতে। আর এরপরের যেটা সেটা হল- সেটা অন্যদের দেখান। তবে এইটা সবথেকে টৃকি পার্ট। আপনি অসাধারণ আঁকেন কিন্তু কেউ জানে না তাহলে লাভ নেই। যেভাবে পারেন আশেপাশের মাধ্যম ব্যবহার করুন। ফেইসবুক, ইন্সটাগ্রাম, ব্লগ, টাম্বলার যেটাতে আপনার দর্শক বেশী সেটাতেই শেয়ার করুন। তবে সাবধান। মানুষের বিরক্তির কারণ হবার দরকার  নেই। আজ বিশেষ দিবস, সবাই ফেইসবুকে কিছু একটা দিচ্ছে, তাহলে আমারো কিছু একটা না দিলেই না, এটা কোন আর্টিস্টের কথা না। আঁকুন নিজের তাড়না থেকে। আর কখনই-প্লিজ লাইক মাই পেইজ, যদি ভালো লেগে থাকে শেয়ার করুন- এইগুলি বলবেন না। কারো ভালো লাগলে সে এমনিতেই সেটা প্রচার করবে। কাজ ভাল করুন। সেটা ছড়াবেই। 'লাইক দিন' বলা মাত্র আপনি আসলে সস্তা হয়ে যাবেন। মানুষ আপনাকে আরো দশটা ফেইম সিকারের সাথে গুলিয়ে ফেলবে। এখানে ছ্যাবলামি আর স্মার্ট মার্কেটিং এর মাঝে একটা ফাইন লাইন আছে। সেটা মেনে চললেই হয়।
 যেমন Jake Parker সেদিন তাঁর একটা ইউটিউব ভিডিও ছাড়লেন। সেখানে তাঁর স্কাইহার্ট নামের একটা বিরাট গ্রাফিক নভেল তিনি কিভাবে এঁকে শেষ করেছেন সেটা জানালেন। এবং শেষে বললেন, 
ইউটিউবে আমি অনিয়মিত। কারণ শুধুমাত্র কন্টেন্ট দিতে হবে বলে একটা কিছু বানিয়ে পোসট করা মানে ভক্তদের সময় নষ্ট করা, আমি যদি সত্যি ই গুরুত্বপূর্ণ বলে কিছু জানানোর আছে মনে করি শুধু তখনই কিছু একটা পোস্ট করি।

সুতরাং প্রচারের ক্ষেত্রে এটা খুবই সাবধানে হ্যান্ডল করার বিষয়, মানুষের বিরক্তির কারণ হবার চাইতে প্রচার না করে কাজ শেখা বরং ভালো।

২. বড় কোন আর্টিস্টকে গুরু ধরুন

শিল্পকলা মূলতঃ গুরুমুখী বিদ্যা। গুরু বলতে সেই সত্য যুগের যোগী কাউকে ধরার কথা বলা হচ্ছে না। যেখানে গুরুর পায়ে হত্যে দিয়ে পড়ে থেকে জীবন যৌবন শেষ করে গুরুদক্ষিণা গুণতে হবে শেষে। এমন কোন আর্টিস্টের সাথে সাথে থাকুন যিনি অন্তত আপনার চেয়ে ভালো আঁকেন, এবং মানুষ হিসেবে ভালো। এই জিনিসটা কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ভালো আঁকিয়ে কিন্তু ভিতরে ভিতরে ছোটোলোক ধরনের, এমন মানুষ এড়িয়ে চলাই ভালো। সবসময় নিজের চেয়ে ভালো আঁকিয়েদের সংস্পর্শে থাকলে ভিতরে একটা তাড়না কাজ করবে যে আমাকে আরো ভালো করতে হবে।

অনেক ক্ষেত্রেই বরং উল্টোটা দেখা যায়। সাধারণতঃ ফাঁকিবাজ আঁকিয়েরা ঘোরাঘুরি করে তার চেয়ে পঁচা আর্টিস্টদের সাথে যাতে নিজেকে তাদের চাইতে বড় আঁকিয়ে মনে হয়! আর যদি মনে হয় আমার চাইতে বড় আর্টিস্ট তো দেশে দেখি না। ভাল কথা, তাহলে বাইরের দেশে খুঁজুন। মাস্টার আঁকিয়েদের তালিকা গুণে শেষ হবে না।

৩. ভিজিটিং কার্ড ও ওয়েবসাইট বানান

এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মাঝে মাঝেই আউ-ফাউ কিছু মিটিং বা সেমিনারে যাওয়া পড়বে, চেষ্টা করুন সেখানে মানুষের সাথে পরিচিত হতে। জোর করে না, যাকে সমমনা মনে হবে আর কি। এসব জায়গায় কথা শেষে বাড়িয়ে দিন নিজের ভিজিটিং কার্ডটা। আর যেহেতু আঁকেন, সেহেতু নিজের একটা গ্রাাফিক্স বা ড্রয়িং সেখানে থাকলে ভাল। তবে নিজের চৌদ্দটা ডেজিগনেশন বানিয়ে হাসির পাত্র না হয়ে সিম্পল একটা অকুপেশন লিখুন, যদি কার্টুন আঁকেন তবে লিখুন 'কার্টুনিস্ট'। যদি এনিমেশন করেন তবে লিখুন 'এনিমেটর'। আপনি যে মাঝে মাঝে বাঁশিও বাজান সেটা লেখার দরকার নাই। । সেই সাথে পারলে তাঁর কার্ডটাও নিন, সংগ্রহ করুন। কার্ড রাখার একটা এলবাম কিনে নিন। ট্রাস্ট মি, এটা কাজে লাগবেই। এটার মানে কিন্তু এই না যে যার সাথেই দেখা হবে কার্ড দিয়ে বলবেন যে,
-ভাই আমারে কাজ দ্যান। 

এটার মানে নেটওয়ার্ক বানানো। এরকম ১০০ মানুষের সাথে আপনার যোগাযোগ থাকলে দেখবেন কিছু মানুষ কাজের সময় আপনার কথা ভাববে। মানুষের সাথে মিশুন আন্তরিক ভাবে। শুধু কাজ দিবে ভেবে মেশার মত ছ্যাবলামি করলে আপনি একটা ধান্দাবাজ ছাড়া আর কিছু হবেন না। যাদের ভাল লাগে তাদের সাথে মিশুন, কথা বলুন। কাজ পান বা না পান এই সম্পর্কগুলি-ই জীবনের একটা ট্রেজার।

ভাল কথা, ফেইসবুক পেইজ যাদের আছে সেটা খুব ভালো কথা, কিন্তু একটা ওয়েবসাইট থাকা খুবই জরুরি। কারণ ফেইসবুক পেইজ খুবই ইনফর্মাল একটা জিনিস। আসল সিরিয়াস ক্লায়েন্ট আপনার ফেইসবুক পেইজ দেখতে অতটা সস্তি বোধ করবে না। আর দেশের বাইরে যে কেউ আপনি আসলে কতটূকু প্রফেশনাল সেটা জানতে আগে খুঁজবে আপনার ওয়েবসাইট। সুতরাং বেশ ভাল দেখতে একটা ওয়েবসাইট করুন, সেটার এড্রেস রাখুন ভিজিটিং কার্ডে।

৪. পোর্টফোলিও রাখুন সাথে
যে কোন ক্লায়েন্ট মিটিং এ সাথে নিজের কাজ রাখুন। নিজেকে যতটা সেলিব্রেটি ভাবেন আসলে আপনি অতটা নন যে ক্লায়েন্ট আপনার চেহারা দেখেই বলবে- আরেহ্‌, আপনি?
রিয়েলিটি হল, ক্লায়েন্ট প্রথমেই আপনি কাজটা পারবেন কিনা সেটা দেখতে চাইবে আপনার স্যম্পল কাজ দেখে। আমার মতে সবথেকে স্মার্ট উপায় হল একটা ট্যাব রাখা। মোবাইলে কিছু দেখালে খুব সস্তা দেখায়, মনে হয় বন্ধুকে কিছু একটা দেখাচ্ছেন। তার চেয়ে একটা ইঞ্চি দশেক ট্যাবে আপনার সাম্প্রতিক কাজ রাখুন, চাইলে একটা পিডিএফ করে রাখুন। কথার সময় প্রাসঙ্গিক হলে আপনার কাজ দেখান। একগাদা পেপার কাটিং নিয়ে যাওয়াটা একটু 'ইয়ে' হয়ে যাবে, আর ট্যাবটা ক্যাজুয়ালি বের করা ভাল যাতে বোঝা যায় শুধু ক্লায়েন্টকে দেখাতে না, আপনি অন্য কাজেও এটা ব্যবহার করে থাকেন।

আর ট্যাব দামি বা আনা ঝক্কি ভাবলে একটা স্কেচবুক রাখুন, যেখানে অন্তত কিছু আঁকা ভবেচিন্তে করা, মানে ক্লায়েন্ট দেখবে এটা ভেবেই করা।

৫. সমাজে থাকুন

আমি বিরাট আর্টিস্ট তাই একা একা থাকি- এটা বোকাদের কথা। একা একা মানুষ থাকলে সে বোকা বোকা হয়ে যায়। ভাবে সে-ই পৃথিবীর কেন্দ্রে। সবেথেকে ভাল হয় সমমনা দারুণ কাজ করে যারা তাদের নিয়ে থাকা, তাদের সাথে থাকা। সবসময় আঁকতেই হবে এমন না। আড্ডা দেওয়াও একটা জরুরি কাজ। এবং এভাবেই বেশ কিছু আপনার কাজের সাথে মেলে বা আপনি করতে চান এমন কাজেরও সন্ধান পেয়ে যাবেন।

মনে করার কারণ নেই মাত্র ৫ টা পয়েন্ট অক্ষরে অক্ষরে মেনে চললেই সব সমাধান। আসলে প্রত্যেকটা মানুষ আলাদা, তার সমস্যা ও সমাধানও আলাদা হবে। তবে চোখ কান খোলা রেখে কমন সেন্স ব্যবহার করলে অনেক আরামে চলা যায়। আর কোন কিছু নিয়েই দুইটা জিনিস না হওয়া ভাল

- অতি সিরিয়াস (আমাকে পৃথিবীর সেরা হতেই হবে!!!)
- অতি সন্তুষ্ট

পরেরটা আসলে বেশি ভয়ানক। অনেক আঁকিয়েকে আমি আশেপাশেই দেখেছি নিজের কাজ নিয়ে অতি আত্মবিশ্বাসের কারণে দিন দিন কাজ আরো বাজে হয়ে যাচ্ছে, যেটা প্রাইয় অসম্ভব একটা ব্যাপার, নিজে এঁকে নিজেই মুগ্ধ হয়ে গেলে আপনি শেষ। দিন শেষে নিজের কাজের সবচেয়ে বড় সমালোচক হতে হবে আপনার নিজেকেই।









March 08, 2018

জাফর ইকবাল স্যার ও আমাদের মসজিদের ঈমামের বয়ান



টেক্সট বইয়ের কাজ চলছে। জাফর ইকবাল স্যার আর ইয়াসমিন ম্যাডামের সাথে বলতে গেলে প্রায়দিনই তাঁদের বনানীর বাসায় বসে থাকি। সেই সাথে দুই বেলা নিয়মিত তাঁদের অন্ন ধ্বংস করে যাচ্ছি আমি আর মিতু। দিন দিন স্যারের নতুন করে ফ্যান হয়ে যাচ্ছি। এত পজিটিভ মানুষ যে হতে পারে আমার ধারনা ছিল না। কারো সম্পর্কেই তাঁর কোন বাজে মন্তব্য নেই, ভয়ানক বিরক্তিকর মানুষকেও হাসিমুখে ডিল করেন তিনি। এইরকম এক দিন নিজের বাসা থেকে আমাদের এলাকার মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজে গেছি। বাংলা বয়ান চলছে, অল্প বয়সি এক নতুন ঈমাম, কোরবানীর ঈদ সামনে রেখে চামড়ার ভাগাভাগি বিষয়ক কোন আলোচনা করছেন। এমন সময় হঠাত খেয়াল করলাম তিনি উত্তেজিত চিতকার শুরু করেছেন। সেটা এমন

- ‘আর এখন? এখন আমাদের দেশের নাস্তিক মুরতাদেরা কোরবানীর বিরুদ্ধে কথা বলে!’

 আমি উৎকর্ন হলাম। এমন বিরাট সংবাদ আমি সংবাদপত্রে কাজ করেও মিস করে গেলাম? শুনি কী বলে। তারপরের কথা হল-

এই দেশের অনেক বড় শিক্ষিত, ঢাকা ভার্সিটির বড় পরফেসর জাফর ইকবাল, সে বলেছে গরু নাকিমানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ! এই সব নাস্তিকদের...

আমি হতভম্ব হয়ে ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করলাম। এই মূর্খ লোকটা মুহম্মদ জাফর ইকবাল যে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান সেটাও জানে না তা বোঝা গেল কিন্তু পরের অংশটা কোত্থেকে এল? গত - মাস স্যারের সাথে সাথেই ছিলাম, গরু বিষয়ক কোন কথা উনি কোথাও বলেছেন বলে শুনি নাই। একটু পরেই বুঝতে পারলাম, কারণ ঈমাম বলছেন-

প্রথম আলো পত্রিকায় এই জাফর ইকবাল লিখেছেন গরুকে কোরবানী দেয়া যাবে না, সে মানুষের চেয়ে সেরা জানোয়ার

ঘটনাটা হল কিশোর আলো তে শাহরিয়ার ভাইয়ের একটা কার্টুন কে পেঁচিয়ে ওইরকম একটা কিছু বানানোর চেষ্টা হয়েছিলো। যেখানে একটা ভিন গ্রহে মানুষ যায় সেই গ্রহে গরুর মত দেখতে প্রানীরাই সব চালায়। তারা বলে মানুষ তো কোন ছাড় তারাই বরং সেরা। কোরবানির আগে এটা থেকে দুইয়ে দুইয়ে পাঁচ করার চেষ্টা। কিন্তু সেই চেষ্টাটা করেছে একটা অখ্যাত পোর্টাল, আরো অসংখ্য আগড়ম বাগড়ম ভুয়া নিউজ বানানোর মত পোর্টালের এই নিউজে আনিসুল হক জাফর ইকবাল স্যারের হাস্যোজ্জ্বল ছবি নিচে লেখা জাফর ইকবালের পত্রিকায় গরুকে সৃষ্টির সেরা জীব বলা। ক্লিক করে দেখা যাবে আসল ঘটনা এমন কিছুই না। জাফর স্যার এই পত্রিকার উপদেষ্টা ছিলেন, সুতরাং এটা তাঁর পত্রিকা, আর যে যা লিখছে এটা আসলে তাঁরই কথা- এভাবেই দূর্বল ব্যাখ্যার চেষ্টা সেখানে।

আমার মাথায় মুহূর্তে যেটা এল এই অল্পবয়সী ঈমাম সাহেবের তারমানে অবশ্যই ফেইসবুক একাউন্ট আছে, এবং সেখানে সে দিনের একটা বড় সময় কাটায়। কারণ এই ফেইক নিউজটা ওই পোর্টাল ছাড়া আর কোথাও আসেনি, আর সেটা শেয়ার হয়েছে শুধু ফেইসবুকে। আর সেটায় ক্লিক করে সে ডিটেইল পড়েনি ক্লিক বেইট লিংকটার।  কী ভয়ানক! আর এখন মসজিদ ভর্তি তিনশো মানুষ যাদের অনেকেই নিরীহি মুসলিম। অনেকে সাধারণ ভ্যানওয়ালা, গার্মেন্ট কর্মী তারা জানলো জাফর ইকবাল একজন ভয়ানক খারাপ ইসলাম বিদ্বেষী।

সময় আমি আমার চরিত্রের বাইরে গিয়ে একটা কাজ করলাম, ঈমামের কথার মাঝে হাত তুললাম। যদিও ভেতরে রীতিমত ধুকপুক করছিলো কারন উপাসনালয়ে মূল ব্যাক্তির বিপক্ষে হাত তোলা সাধারনত ধর্মদ্রোহ। আসলেও তাই হল। আশেপাশের অনেক বিস্মিত মানুষ আমাকে থামিয়ে দিল। যে এখন না পরে বলেন, বয়ান শেষ হোক। আমি বলতে চাইলাম, উনি মিথ্যা বলছেন, উনি ভুল তথ্য দিচ্ছেন, উনি ঘৃণা তৈরী করছেন, না জেনে। ফিতনা তৈরী করা মানুষ বর্জনীয়। এই ধরনের মানুষ মসজিদে ঢুকে ঈমাম হয়ে যাচ্ছেন এটা মানা যায় না। ওইদিন কিছু বলতে পারিনি, চেয়েছিলাম ঈমাম সাহেবকে পরে আলাদা বুঝিয়ে বলব, সবার সামনে বলে তাঁকে অপদস্থ করা ঠিক না, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সেটাই ভুল ছিলো।

জাফর স্যারের উপর হামলাকারী কিন্তু একজন ফয়জুর না, এমন হাজারো , লক্ষ লক্ষ ফয়জুর  তৈরী করছে বেশ কিছু মূর্খ মানুষ। যারা ধর্মকে সামনে রেখে ব্যক্তিগত স্বার্থ নিয়ে কাজ করছে। মসজিদে ঈমাম নিয়োগে আমার মতে আরো সতর্ক ব্যবস্থা নেয়া দরকার। সবচেয়ে স্পর্শকাতর চাকরীর এটা অন্যতম। এই পোস্টের বেতন হওয়া উচিত প্রথম শ্রেনীর, আর যারা আসবেন তাঁরা ভাল শিক্ষিত হবেন। বেশ মানসম্মত একটা নির্বাচনী পরীক্ষায় পাশ করে তাঁরা ঈমাম হবেন। সেটার প্রশ্নমালায় অন্য ধর্ম সম্পর্কে প্রার্থীদের ভাবনা কেমন সেটাও জানা হবে, তাঁর চিন্তাভাবনা ইসলামের মতই সহনশীল কি না সেটাও দেখতে হবে।

শুধু গোয়েন্দা একটিভিটি করে দুই একটা খুনের আসামী ধরে আদপে কোন লাভ নেই। আর আমাদের দিক থেকে যেটা করার সেটা হল, যে যার অবস্থানে থেকে ধর্মের নামে মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান, শুধু সাবধান সেটা আবার আরেক ধরনের ঘৃণার জন্ম দিলে তার সাথে অপরপক্ষের  পার্থক্য থাকবে না।