November 11, 2012

বিউটি বোন ও ঠ্যাং

এইবারে কিছু বোঝার ব্যপার। এতক্ষণ আমরা যে বুকের খাঁচা আঁকলাম তার ঠিক ওপরের দিকে গলার নিচে এক জোড়া হাড় থাকে(কন্ঠার হাড় বা বিউটি বোন যাকে বলে),  আমাদের হাত বা বাহুর গোড়া সেই হাড় থেকে 'বল-সকেট' জয়েন্ট হয়ে নামে। অর্থাৎ হাত কখনই বুকের খাঁচা থেকে নামে না, সেটা কন্ঠার হাড় আর পিঠের দিকের ডানা ধরনের হাড় (স্ক্যাপুলা) দুইটার মাঝে থেকে ঝুলে থাকে। ফলে সবসময়েই বুকের খাঁচা থেকে তার একটা দুরত্ব থাকে। নীচের ছবিটাতে ব্যাপারটা পরিষ্কার করার চেষ্টা করা হল।
পিঠের কমলা স্ক্যাপুলা আর সামনের নীল কন্ঠার হাড়ের মাঝামাঝি হাতটা ঝুলে থাকে

এবারে পা। পা কোমড়ের ঠিক দুই পাশ থেকে নামে, আর কোমড়টা আমরা আগেই জানি কিছুটা সামনের দিকে বেঁকে থাকে।

শেষে এসে সেই স্ট্রেইট কার্ভের সহজ নিয়মে মাসল বসানো হয়েছে।

আরো ভালভাবে বুঝতে গেলে এখানে একটা মজার জিনিস দেখা যাবে। সেটা হল, পায়ের প্রথম হাড়টা (ফিমার) কোমড় থেকে একটু কোণাকুণিভাবে বাইরের দিকে ছড়িয়ে যায়, আর তার একটু পরেই সেটা আবার ভেইতরের দিকে বেঁকে থাকে। মানে বাইরে থেকে আমাদের পা যতই সোজা দেখাক না কেন সেটা আসলে ভিতরে একবারে বাঁকা ধরনের একটা জিনিস। প্রথম জয়েন্ট টা 'বল-সকেট' পরেরটা (মানে হাঁটু) হিঞ্জ।
হাঁটুর সংযোগটা একেবারে অন্যরকম, এখানে দুইটা শক্ত হাড় মাঝখানে আরেকটা ছোট গোল চাকতি ধরনের হাড়ের সাথে এসে (যাকে আমরা হাঁটুর বাটি বা মালাই চাকি বলি) মেশে। মাসলে গিয়ে এটা আমরা আরো সহজে বুঝবার চেষ্টা করব

এই বাঁকা পা দুটোর ওপর দিয়ে বিভিন্ন রকম মাসল আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে তাকে আবার সোজা বানিয়ে দেয়।পায়ের এই বক্রতা বোঝাটা আমাদের ফিগার ড্রয়িং এর ক্ষেত্রে অনেক জরুরী। আমরা পরে গিয়ে এর মাহাত্ম্যটা দেখতে পাব আশা রাখি। 
আজ এটুকুই।




November 04, 2012

ফর্ম এর সাথে ফর্মঃ মাসলে যাবার আগে

এনাটমি বোঝার ক্ষেত্রে মাসলের স্টাডিটা আমার কাছে বরং খুবই সহজ মনে হয়। তার চে' কঠিন হল 'ফর্ম' বোঝা। কোন ফর্ম আগে কোনটা পরে কোনটা কোনটার চে' কত উঁচু এইগুলি বোঝা বরং কঠিন, আর এটা একবার বুঝে ফেললে মাসল বোঝাটা পানিভাত হয়ে যাবে। এই পোস্টে সেটা যতটা সম্ভব সহজে বলার চেষ্টা করা হল। আর এই ব্যাপারটা শুধু এনাটমি না, আসলে যে কোন কিছু (মূলতঃ থৃ ডি) আঁকতে গেলেই লাগবে।
প্রথমে দুইটা গোল্লা আঁকা হল। এবারে যেটা আপনি পেছনে পাঠাতে চান সেটার দাগটা (যেটুকু অন্যটার ভেতরে ঢুকে ছিল) মুছে দিন। দুইবার দুইটা গোল্লার দাগ মুছে এখানে একেকবার একেকটাকে সামনে আনা হল। এবারে ঠিক তার পরের ধাপটা দেখুন, একটাকে আরেকটা সাথে 'মিশিয়ে' দেয়া হল। এবং শেষ এ এসে আলোর বিপরীতে কোণাগুলিতে কিছু গাঢ় ছায়া ফেলা হল। এইটুকু যদি বোঝেন এনাটমি পার্ফেক্ট করে আঁকা তাহলে সহজ হয়ে যাবে।

একই নিয়মে হাতটা আঁকা, প্রথম সেই গোল্লা, তারপর কোনটা সামনে কোনটা পেছনে সেটা আঁকা, এরপরে আলোছায়া। এনাটমি স্টাডিতে আমার মতে মাসল কতগুলি আছে সেটার নাম মুখস্থ করার চে' কোনটা সামনে এবং কতটকু সামনে সেটা বোঝা অনেক জরুরী

একইভাবে পুরো বডি, খেয়াল করুন ডানে ওপরের আঁকাটা একেবারে অগোছালো ও শুন্যে ভাসা ভাসা টাইপ কিছু বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু আমাদের নতুন পদ্ধতিতে করা হাতটা ওটার চে' ভালো লাগছে। এই ব্যপারে মাস্টার আঁকিয়ে ডেভিড ফিনচ এর একটা ব্লগ পোস্ট দিয়ে দেয়া প্রাসঙ্গিক মনে হল।
ডেভিড ফিনচ এর কাজ স্টাডি করলে আমাদের আজকের পোস্ট টা আরো ভাল করে বোঝা যাবে।

ডেভিড ফিনচ এর পোস্ট থেকে, (ওপরে তাঁর নামে ক্লিক করলে মূল পোস্ট টি পাবেন)

October 30, 2012

করোটি

এতদিন গোটা মানবদেহ নিয়ে মোটামুটি একটা ধারনা করা হলেও একেবারে আসল অংশটাতেই আমরা সেভাবে মনোযোগ দেই নি, সেটা হল মাথা। ভেঙ্গে বললে করোটি ও চোয়াল। যে কোন মেরুদন্ডী প্রানীর মাথা মূলতঃ দুই ভাগে বিভক্ত। করোটি (খুলি) আর চোয়াল। মাথার মধ্যে শুধু এই চোয়ালটাই নড়ে। করোটি ও চোয়ালের ব্যপারটা একবার বুঝে ফেললে যে কোন এক্সপ্রেশন আঁকা অনেক সহজ হয়ে যায়

October 28, 2012

সোজা বনাম বাঁকা লাইন

মানব দেহে (এবং আর অনেক পশুপাখী গাছ পালায়) একটা দারুন ছন্দ পাওয়া যায়। সেটা হল সোজা আর বাঁকার ছন্দ। ব্যপারটা খুবই সহজ, কোথাও একটা সোজা লাইন থাকলে তার ঠিক উলটো দিকটা হবে বাঁকা। এই সোজা বাঁকার (straight vs curve) ব্যকরণ শুনতে অনেক সহজ মনে হলেও এই একটি ব্যপারই প্রকৃতিতে অসামান্য কিছু ডিজাইন তৈরী করেছে। এখানে আমরা আপাতত মোটা দাগে মানবদেহের সেই ছন্দটা বোঝার চেষ্টা করি
পাশ থেকে দেখলে মানবদেহের সোজা বাঁকার ব্যপারটা এভাবে ব্যাখ্যা করা যায়, একটা সোজা একটা বাঁকা, তবে সোজা মানে একেবারে স্কেল বসিয়ে টানা লাইন না, ব্যপারটা হল আর ঠিক উলটো দিকের থেকে সেটা 'তুলনামূলক সোজা'

শুধু পা
শুধু হাত


October 27, 2012

হাড়ের জোড়া

এনাটমির মাসল টাসল বোঝার আগে আমাদের আগে ভেতরের হাড়্গুলির সংযোগ বুঝে নেয়াটা জরুরী। কারণ তার ওপরেই নির্ভর করবে যে মাসলগুলি কিভাবে নড়াচড়া করবে। মোটা দাগে দেখলে দুই ধরনের হাড়ের সংযোগ দেখা যায়। একটা হল বল-সকেট (একটা বল যদি একটা তার চেয়ে একটু বড় গর্তের মধ্যে ঘুরতে থাকে) আরেকটা হল হিঞ্জ বা কব্জা (দরজা জানালার কব্জা যেভাবে কাজ করে)। বল- সকেটের সংযোগটা অনেক ফ্রি ভাবে ঘোরানো যায়। এর উদাহরণ হল আমাদের কাঁধ থেকে বাহু যেখানে শুরু সেখানে অথবা কোমড়ের যেখান থেকে পা নামলো সেখানে। এই দুটো সংযোগ কিন্তু অনেক ভাবে অনেক দিকে ঘোরানো যায় এই সংযোগের কারণেই।
বল-সকেট সংযোগ

এদিক ঠিক তার পরের সংযোগটাই আবার কব্জার মত হয়ে থাকে। যেমন কনুই বা হাঁটু। খেয়াল করুন, এই সংযোগের হাড় মোটামুটি ১৮০ ডিগ্রি ঘোরানো যায়, তারপর আটকে যায়। যেন উল্টো দিক থেকে কিছু একটা দিয়ে হাড়গুলো বেঁধে দেয়া আছে।পরবর্তীতে আমরা মাসলের দুনিয়ায় যত যাই করি না কেন এই সংযোগ কোনটা কেমন তা মাথায় রেখেই তা করতে হবে। না হলে সেটা 'হবে না'।
কব্জা বা হিঞ্জ সংযোগ
মানুষের (ও আরো কিছু প্রাণীর) কনুইএর সংযোগটা একটু অদ্ভুত টাইপ, এখানে একই সাথে বল-সকেট আর কব্জা দুই-ই আছে। নীচের প্রথম ছবিটা দেখুন।কনুই থেকে কব্জা সংযোগে একটা হাড় নেমে গেছে সোজা কনিষ্ঠা আঙ্গুলের দিকে। ঠিক তারপরেই আরেকটা হাড় একটু বেঁকে নেমে এসে কব্জিতে পরিণত হল। এই দ্বিতীয় হাড়টার সংযোগ বল-সকেট। এর কারণেই আমরা আমাদের কবজি ঘোরাতে পারি। ঘোরে মূলতঃ এই দ্বিতীয় হাড়টাই (এটার নাম রেডিয়াস, আগেরটা এলনা)। থাবা ওয়ালা পশুদেরও (বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক) এই হাড়টা থাকে। খুরওয়ালাদের (ঘোড়া, গরু, ছাগল)  ক্ষেত্রে এ দুটো মিশে যায়, তারা হাত ঘোরাতে পারে না।

October 07, 2012

বল সিলিন্ডার

এবারে আমরা আরেক ধাপ সামনে যাই। যেই কাঠি মানুষটা এদ্দিন এঁকে এলাম সেটায় কিছু 'পদার্থ' যোগ করি। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ পথ হল কাঠিটা মাঝে রেখে চারিদিকে পাইপ বা সিলিন্ডার আকৃতি যোগ করা। আরো ভালো ভাবে বলতে গেলে একটা পাইপ তারপর একটা সিলিন্ডার, তারপর আবার পাইপ ইত্যাদি করে করে আগানো। মজার ব্যাপার হল সেভাবে হিউম্যান ফিগার ব্যাখ্যা করা আসলে অনেক সহজ। তবে ত্রিমাত্রিকভাবে পাইপ আঁকাটাই একটা সমস্যা। এর জন্যে শুধু সিলিন্ডারটা বিভিন্নভাবে আঁকার প্র্যাকটিস করাটা অনেক জরুরী। বাসায় কোন পাইপ ধরনের কিছু থাকলে (অথবা পানি খাবার গ্লাস) সেটা সামনে নিয়ে বিভিন্ন ভাবে স্টাডি করা যেতে পারে। সবচেয়ে ভালো হয় দুইটা সিলিন্ডার আকৃতির কিছু একটার সাথে আরেকটা বিভিন্ন ভাবে রেখে আঁকলে (নিচের ছবি দ্রষ্টব্য)। এভাবে শুধু বল আর সিলিন্ডার দিয়ে মানুষের ফিগার আঁকার প্র্যাক্টিস অনেক কাজে দেয়। এই পর্যায়টা যত ভালয়াভবে বোঝা যাবে পরে গিয়ে কাজ তত সহজ হবে। অনেক এডভান্সড লেভেলের আর্টিস্ট দেরো দেখা যায় বল-সিলিন্ডারে ঘাপলা থেকে যায়। তাই এই স্টেজটা অনেক জরুরী।
এবারে আরেকটু ব্যাখ্যা করলে দেক্ষা যাবে সিলিন্ডারগুলি নিচের দিকে ধীরে ধীরে সরু হয়ে যায়- মানে হাত ও পায়ের ক্ষেত্রে। আর আমরা যদি মিনিমাম 'মাসল' এর একটা ধারনা দিতে চাই তাহলে সেটা সেই আগের ফর্মুলাতেই দেয়া যায়। বল-সিলিন্ডার।
আমাদের একেবারে প্রথমে দেখা সেই বুকের খাঁচা আর কোমড় এর মাঝে আরেকতা ব্যপার পুরে দেয়া যাক। সেটা হল-পেট। পেট টা আসলে এই দুইয়ের ফাঁকে ঝুলে থাকে। অর্থাৎ সেটা শুরু হবে বুকের খাঁচা যেখানে শেষ সেখান থেকে আর শেষ হবে কোমড় যেখানে শুরু সেখানে।

মানুষের ফিগারে আসলে এ ধরনের দুটো ধরন পাওয়া যায়। একটা শক্ত আরেকটা নরম। এবং সাধারণত একটা শক্ত পার্টের পরেরটাই নরম হয় (সেটা না হলে শক্তি অংশগুলি নড়তে পারতো না) সহজে বোঝা যায় এভাবে- মনে করুন একটা চটের বস্তার দু' পাশে দূটো ইট পোরা। এবারে যদি ইট গুলি যথেচ্চ ভাবে নড়াচড়া করে তাহলে চটের থলেটার যে অবস্থা হবে। মাঝের অংশে বারবার ভাঁজ পড়তে থাকবে। আমরা পরে গিয়ে এই ব্যাপারে আরেকটু ভালভাবে বুঝবো।


ওপরের গুলি প্র্যাকটিস করার পর, এবারে সব মিলিয়ে আমরা স্টিক ফিগারের এই আপগ্রেড ভার্সনটায় হাত দিতে পারি। এদ্দুর আসতে পারলে আসলে আর চিন্তা নাই। এর পরের কাজ শুধু এর ওপর পলেস্তারা বসানো। সেটা আমরা পারবো।

শেষে জন বুশে'মার আঁকা একটা স্পাইডারম্যান দেয়া হল। আমরা কিন্তু ইতিমধ্যে এই ড্রয়িং এর দ্বিতীয় ধাপে চলে এসেছি। পরের ধাপ পরের পোস্টে- ততক্ষণ আমাদের সঙ্গেই থাকুন।

October 06, 2012

হাড্ডিগুড্ডি- ৩

এই পর্যায়ে এসে কিছু রেফারেন্স দেখে নেয়া ভাল। আমি যে সব বই ঘেঁটেছি তার মধ্যে এন্ড্রু লুমিস কে আমার সবচেয়ে সহজবোধ্য মনে হয়েছে। তাঁর Figure Drawing for all it's worth থেকে আমাদের হাড্ডিগুড্ডি শেখার এই ধাপের সাথে সম্পর্কিত কয়েক পৃষ্ঠা তুলে দিলাম। আগ্রহীগণ বইটা নামিয়ে নিয়ে পড়তে পারেন। আর কোনভাবে ধৈর্য ধরে সেটা পড়ে ফেললে এই ... টাইপ পোস্ট আর না পড়লেও চলবে।




October 05, 2012

হাড্ডিগুড্ডি-২

এবারে আগের পোস্টে কঙ্কাল মানুষটাকে নাড়াচাড়া করানো। তার আগে একটা ব্যপার ভালো মত বোঝা দরকার, সেটা হল বুকের খাঁচা বা কোমর দুটাই আসলে ত্রিমাত্রিক। মানে সেটার একটা আয়তন আছে। এই দুটা ফর্ম তাই আলাদা করে বিভিন্ন ভাবে ত্রিমাত্রিক ভাবে আঁকার প্র্যাক্টিস করা দরকার। সেই সাথে যদি মাথার পার্ট কিছুটা (শুধু খুলি, চোয়াল না) আঁকা যায় তবে মজা আরো জমে। প্রথম ছবিতে শুধু রিব কেইজ বা বুকের খাঁচা বার বার বিভিন্নভাবে আঁকা হল, আর পরেরটায় কোমর।



খেয়াল করুন, কোমর মোটামুটি সুপারম্যন প্যান্টের ওপর যেটা পরে সেটার মতই। সেটার দুই পাশে দুই ছিদ্র বরাবর পা নামে। এবং পায়ের হাড় একেবারে সোজাসুজি না নেমে ভেতরের দিকে বেঁকে থাকে। এই নিয়ে মাস্কুলেচার পর্বে আমরা আরো ডিটেইলে এই দারুণ জিনিসটা দেখব। আপাতত ছবির মত করে পায়ের হাড় এভাবে একটু ভেতরের দিকে নামান।

গোটাটা এবারে একসাথে আঁকা- যতভাবে সম্ভব।

এভাবে আঁকতে থাকুন। পরের পোস্টে আরো মজা আসছে।

October 04, 2012

হাড্ডিগুড্ডি-১

মানুষের ফিগার 'ঠিকভাবে' যারা আঁকতে চান এবং সেই উদ্দেশ্যে যারা কোন না কোন এনাটমির সফট বা হার্ড ভার্সনের  বই খুলে বসেছিলেন এই ভেবে যে- এইবার যাবি কই- তারা নিশ্চিত দু এক পাতা উল্টানোর পরেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে সেই চেষ্টা বাদ দিয়েছেন? কারণ সেই বই অসম্ভব দূর্বোধ্য ও জটিল সব মাসকুলেচারে একাকার। দেখতে ভাল লাগে কিন্তু ওই বই কপি করতে হলে রবার্ট ব্রুসের ধৈর্য দরকার (সেটা থাকলে আর আঁকতে আসছি কেন?)। যাই হোক, অন্যদের কথা জানি না কিন্তু আমি এই ধরনের একটা বিতিকিচ্ছিরি অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছি। ইন্টারনেট যুগের আগে তো চাইলেও তেমন কোন বইয়ের খোঁজ পাওয়া সম্ভব ছিলো না। সে সময় আমি চারুকলার লাইব্রেরি থেকে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে প্রাচীন এক কম্পলিট ব্রিজম্যান জোগাড় করে নীলক্ষেতে থেকে ফটোকপি করে নিয়েছিলাম, সেই জিনিস আমার মাথার ওপর দিয়ে গেছে অনেকটাই (ব্রিজম্যান যথেষ্ট এডভান্সড লেভেলের বই, চারুকলায় প্রথমেই এনাটমির জন্যে কেন এইটা দেয় সেটা ভেবে পরে অবাক হয়েছি)। পরে ইন্টারনেটের কল্যাণে অসংখ্য এনাটমির ওপরে লেখা বই পরার সৌভাগ্য হয়েছে। সেগুলো পড়ে যেটা বুঝেছি তা হল, বইয়ের সব কিছু অত জরুরী না আসলে, পাতা ভরার জন্যেও অনেকে হাবিজাবি লিখে দেয়। অনেক অকারণে জটিল করে. এ সব কিছু ঘেঁটেঘুঁটে অনেক কষ্টে টুক টাক শিখলেও কেন যেন মনমত করে বুঝতে পারছিলাম না। অবশেষে সেই জিনিস মিলল এসে ২০১১ তে। সব্যসাচী মিস্ত্রী হাতে ধরে ধরে দেখালেন ব্যাপারটা কত সিম্পল। আসলে তাঁর মত কয়েকজন গুরু থাকলে আমাদের আঁকিবুকির দুনিয়া অনেক এগিয়ে যেত। যাই হোক, এবারে এনাটমি আমি আমার মত করে যা বুঝি আর কিছু কমন ভুল নিয়ে এই বারের সিরিজ টা। বলে নেয়া ভালো এই সিরিজের জন্যে দায়ী আমার কৈশোরকালীন মেন্টর, তানভীর ভাই দ্যা গ্রেইট! ভাল থাকুন তানভীর ভাই, আমার ভেতর কমিক্সের পোকা ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন সেই ১৬ বছর বয়সে, তার জন্যে থ্যাংক্স।
খুব সহজ দেখলে  মানুষের ফিগারের মূল দুটি অংশ হল তার বুকের খাঁচা, আর কোমর। ফিগার আঁকার একটা সিক্রেট হল মাথা থেকে না এঁকে আগে বডিটা- মানে এই খাঁচা আর কোমড় ঠিকমত আঁকা, তার পর সেটা থেকে মাথা হাত পা ইত্যাদি বের করা। ওপরের ড্রয়িং এ একটা মানুষের ফিগার আঁকায় সবচেয়ে কমন যেই ভুলটা হয় সেটা ঠিক করে আঁকা হয়ছে। সেটা হল পাশ থেকে দেখলে খাঁচা আর কোমর দুটো দুদিকে বেঁকে থাকে। আর সে দুটো মেরুদন্ডের সাথে একপাশে আটকে থাকে। এবং সেই মেরুদন্ড মোটেও সোজা না। মানে আপ্ন শিঁড়দাড়া সোজা করে যতি দাঁড়ান না কেন সেটা আসলে এভাবেই বেঁকে থাকে। কোন ফিগারের ড্রয়িং যতই ভাল হোক, এই ভিতরের ব্যাপারটা যদি ঠিক না থাকে তবে সেটা বাজে ড্রয়িং মনে হয়।




এবারে বাকি অংশ।খেয়াল করুন হাতটা কিন্তু একেবারে গলার থেকে নামে না, যেটা অনেকেই ভুল করেন। এটা নামে খাঁচার ওপর থেকে মাঝ বরাবর। একইভাবে পা টাও কোমরের মাঝামাঝি থেকে নামে। শরীরের প্রোপোর্শন নীয়ে এই লেভেলে কথা না বলাই ভাল। কারণ এনাটমি যিনি শিখতে চাচ্ছেন তাকে ন্যুনতম ওইটুক বুঝবার বোধ মাথায় নিয়ে আসতে হবে। এখানে মাত্র দুটো ছবি হলেও আসলে আমার মতে এই ছবি ক'টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অন্তত আমার জন্যে সেটা তাই। এইটুকু বুঝে যদি বারবার এভাবে ফিগার এঁকে যেতে থাকেন তবে আমরা পরের পোস্টে পরের ধাপে যতে পারব।
প্রথমবারে এইটুকুই।

September 25, 2012

কমিক্সঃ ডিনয়েডঃ32

কমিক্স এর কাজ চলছে, আমি আর আরাফাত করিম মিলে চব্বিশ পৃষ্ঠার একটা কমিক্স করছি, এই মেলাতেই আসছে- পরে বিস্তারিত


September 06, 2012

ফটো থেকে ফটোশপে

রঙের দুনিয়া খালি চোখে দেখে সেটা হুবহু এঁকে ফেলাটা সহজ না। যেই রঙ চোখে দেখে সবুজ মনে হয় সেটা আসলে হয়ত নীলের একটা শেড, লালটা আসলে ভায়োলেট। এই ব্যপারগুলি স্টাডি করার ডিজিটাল একটা পদ্ধতি আছে।সেটা হল আই ড্রপার টুল!


 ফটোশপ সহ অন্যেন্য পেন্টিং/ড্রয়িং সফটওয়্যার এ এই টুলটা দেয়া আছে। আই ড্রপার নিয়ে কোন রঙ এর ওপর ক্লিক করলে সেটা কালার চার্টে একেবারে আসল রঙ্গটা দেখিয়ে দেয়। এভাবে কিছু রিয়েল ফটো নিয়ে গুঁতাগুঁতি করে রঙের ভোকাবুলারি বাড়িয়ে নেয়া যায়। এখানে সে রকম একটা কাজ করে দেখানোর চেষ্টা করা হল।
প্রথমে একটা ছবি খোলা হল, এবারে মনে মনে ছবিটাকে কয়েক লেয়ারে ভাগ করে ফেলা যাক- মানে একেবারে পেছনে ব্যাকগ্রাউন্ড, মাঝে মূল অব্জেক্ট-মিডগ্রাউন্ড (এখানে বিল্ডিং) সামনে হয়ত আরো কিছু অবজেক্ট -ফোরগ্রাউন্ড। এবারে ব্যাকগ্রাউন্ডের সবচেয়ে ডার্ক রংটা আই ড্রপার দিয়ে (I) নিয়ে নতুন একটা ফাইল খুলে সেটা ফিল করুন (Alt+backspace)

এবারে সেই ব্যাক থেকেই সব চেয়ে হাল্কা রঙ্গটা নিয়ে গ্রেডিয়েন্ট টুল নিয়ে টানাটানি- মানে মূল ছবিতে যেদিক থেকে হাল্কা সেদিক থেকে টানুন। মাঝে সবচেয়ে লাইট বেশী জায়গাটায় Radial gradient টা দেয়া হয়েছে। কোথায় কোন গ্রেডিয়েন্ট বসবে সেটা বুঝবার কমন সেন্সটা থাকলে কাজ অনেক ভাল হয়।- আমাদের ব্যাকগ্রাউন্ড শেষ।


এবারে ল্যাসো টুল দিয়ে বিল্ডিং আর খাম্বা আঁকা। ব্ল্যাক ফিল মারুন পুরোটায়। এখানেও আই ড্রপার দিয়ে মূল বিল্ডিং থেকে রঙ্গটা নেয়া বেটার

টুকটাক কাটিং এডিং ইত্যাদি।
এই প্র্যাক্টিসটার দুইটা ভাল দিক
১। রঙ বোঝা- মানে কোন রঙের সাথে নেচারে কোন রঙ মিলে কি অনুভূতির জন্ম দেয় সেটা
২। রিয়েলিস্টিক ফিলের ছবি বানানো


 এবারে একটা সহজ টাইপ ছবি নিন আর শুরু করুন।

TIP: প্রতিটা অব্জেক্ট (ব্যাকগ্রাউন্ড, বিল্ডিং) আলাদা লেয়ারে রাখা ভাল।

August 15, 2012

একটি কমিক্স এর পেইজ

কমিক বুকের কাজ চলছে। আমরা ক'জন মিলে কমিক্স ডেভেলপ করে যাচ্ছি। কাজ করার শুরুতে নিজেরা কাজের মেথড ঠিক করে নেবার জন্যে কিছু টেস্ট পেইজ করছি। তার থেকে একটা।
প্রথমে একেবারে মিনিমাম কয়েক দাগে পৃষ্ঠার আইডিয়াটার কম্পোজিশন। সাই-ফাই দাদু তার নাতিকে নিয়ে নতুন একটা দ্বীপ আবিষ্কারে যাচ্ছে।

এবারে আরেকটু গাঢ় দাগে আরেট্টু ডিফাইন্ড আঁকা, নাক মুখ চোখ কোনটা কোথায় বসবে সেটা

কলমে আউটলাইন- আরো ডিফাইন করা

ইংকিং এর পরের ধাপ, সলিড কালো কোথায় কোথায় ফেলা যায় সেটা

ফটোশপে (অথবা জল রঙ অথবা যেটা খুশী) যার যার একেবারে একেবারে বেসিক ফ্ল্যাট রংটা দেয়া

ইচ্ছেমত রঙ্গারোপ, মাঝে কিছু টেক্সচার যোগ করা

July 22, 2012

ব্লগর ব্লগরঃ কেন আঁকি?

কেন আঁকি?-
এটা অনেকটা দার্শনিক প্রশ্নের মতন। অনেকটা 'কেন এ জীবন'- ধরনের। চাণক্যের শ্লোক মতে যে কোন কাজের আগে প্রথম যে প্রশ্নটি নিজেকে করতে হবে সেটি হল- 'কেন?' সত্যি বলতে নিজের ক্ষেত্রে এই প্রশ্নের উত্তর দেয়াটা আমার কাছে সবসময় একটা দুরূহ ব্যপার বলে মনে হয়েছে। অনার্স থার্ড ইয়ারে থাকতে কোন এক ফান সাপ্লিমেন্টে (নাম ভুলে গেছি) আমাদের কার্টুন আঁকিয়েদের একটা প্রশ্নপত্র জরিপ টাইপ অণু সাক্ষাৎকার ছাপানো হয়েছিলো। সেখানে একটা প্রশ্ন ছিল- কেন আঁকেন। আমি অনেক ভেবে লিখেছিলাম- 'আর কিছু পারি না তাই'। কিন্তু পরে মনে হল কথাটা তো ঠিক না। ছাপা হবার পর দেখি ব্জমজ বন্ধু মানিক-রতন আসল উত্তরটা ঠিকি লিখেছে। তারা লিখছে- ভাল্লাগে তাই আঁকি। আসলে উত্তরটা এতটাই সহজ। ভাল্লাগাটা আসলে সবার আগে। ক'দিন আগে আমেরিকান কিংবদন্তীতূল্য ক্যারিকেচারিস্ট যেসন সেইলার এর একটা ভিডিও পডকাস্ট দেখলাম। সব কিছুর শেষে উনি বললেন- 
Drawing is Fun, and it should be fun. 
কি দারুণ একটা কথা। এমনকী জীবনটাকেও কি আসলে এভাবে ভাবা যায় না? ধরে নেয়া যায় না 
Life is fun, and it should be fun? 

আমার এই ছোট্ট আঁকাআঁকির জীবনে আমি একটা অদ্ভুত উপলব্ধির মধ্যে দিয়ে গেছি। আমার মনে হয় হয় যে কোন আঁকিয়ের সাথে এটা ভাগাভাগি করে নেয়া উচিৎ। আমি প্রথম যখন পত্রিকায় আঁকতে শুরু করি যখন আমি ক্লাস এইটে পড়ি। তখন আমার বয়স ১৩। দৈনিক সমাচার নামের একটি পত্রিকায় আমার বাবা নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে কাজ করতেন। সেখানে একটা রাজনৈতিক কলামে আমি একটা কার্টুন আঁকি। সেটার বিষয়বস্তু বলার লোভ সামলাতে পারছি না, কার্টুনটা আঁকার আগের দিন আমার গৃহ শিক্ষক কামরুল স্যার রবীন্দ্রনাথের একটা কবিতার চার লাইন শুনিয়েছিলেন ''রথ ভাবে আমি দেব পথ ভাবে আমি, সূর্য ভাবে আমি দেব- হাসে অন্তর্যামী।" আমার সেটা এতই ভাল্লাগে যে আমি সেখানে রথ, পথ আর সূর্যে দেশের মূল ধারার তিন প্রধানকে বসিয়ে শেষে অন্তর্যামীর লাইনটাও জুড়ে দেই। ক্লাস এইটের এক পিচচির জন্যে সেটা বাড়াবাড়ি রকমের প্রগলভতা। তবে বাসার সবাই দারুণ উত্তেজিত ছিল। আমার বাবা আমাকে পারিশ্রমিক হিসেবে গোটা একটা ৫০ টাকার নোট ধরিয়ে দিলেন! এবারে উত্তেজনা আমাকেও সংক্রমিত করল। আমি আঁকা শুরু করলাম। সত্যি বলতে তখন আমার কাছে উত্তেজনার কারণটা ছিল আমি আমার বাসার টেবিলে একটা কিছু আঁকছি আর সেটাই ঠিক সেভাবে রীতিমত পত্রিকায় ছাপা হয়ে যাচ্ছে! ছাপা হওয়া কপি ঘন্টার পর ঘন্টা আমি চোখের সামনে ধরে রাখতাম। কেমন অদ্ভুত একটা ভালো লাগা বোধ হত। ক্লাস নাইন এ ওঠার পর আমি ভোরের কাগজে রঙ্গব্যাংক পাতায় কার্টুন করতে শুরু করি। ততদিনে বিক্রম সুগন্ধা নতুনপত্র ইত্যাদি সাপ্তাহিকী তে ফিলার আঁকিয়ে হিসেবে সমানে এঁকে যাচ্ছি। রঙ্গব্যাংক এ আঁকার পরেই আমার এক অদ্ভুত ব্যাপার ঘটল। ব্যাপারটা আর কিছুই না, তদ্দিনে আমি বুঝে গেছি যে আমার এইসব অকারণ আঁকিবুকির জন্যে রীতিমত পকেট খরচও পাওয়া যায়। পত্রিকার লোকজন আঁকার জন্যে টাকাও দেয়! তাই আমার তখন ইচ্ছে হত অনেক আঁকব তাহলে অনেক টাকা হবে। টাকাকে তখন কন্ট্রিবিউটরদের ভাষায় বলতাম 'বিল'। তো ভোরের কাগজে আঁকবার পর সেই বিল পাওয়াটা হঠাৎ করেই অতি দুঃসাধ্য হয়ে গেল। টাকা তুলতে গেলে ভোরের কাগজের একাউন্টসের  দুই একাউন্টেন্ট দাঁতকেলিয়ে বলে - 'টাকা তো নাই। মঙ্গলবার আসেন।' মঙ্গলবার আবার যাই তারা পরের মঙ্গলবার আসতে বলে। আক্ষরিক অর্থেই তখন জুতার শুখতলা ক্ষয়ে যাবার দশা। তখন থেকে ধীরে ধীরে আমি খেয়াল করলাম আমার আঁকতে আর ভাল্লাগছে না। মেজাজ খিঁচড়ে যাচ্ছে। এবং আঁকার মান দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কি করব কিছুই বুঝতে পারছি না। ভয়ানক মন খারাপ করে বাংলামটরের রাস্তা পার হই আর ঐ দুই একাউন্টেন্টকে গালাগাল করি। এমনি সময়ে একদিন বাসায় বসে পুরোনো বইয়ের শেলফ গোছাচ্ছিলাম, হঠাৎ চোখে পড়ল আলেক্সান্দার বেলায়েভের উভচর মানুষ বইটা, সেই প্রথম রাদুগা সংস্করণ। এই বইটা অনেকেরই প্রিয়, কিন্তু আমার আরো বেশী প্রিয় এর অলংকরণের জন্যে। সাদা কালোতে আঁকা এই অসামান্য আঁকিয়ের কাজ আমি মুগ্ধ হয়ে বারবার দেখি। সেদিন এটা দেখেই আমার আঁকতে ইচ্ছে করল। নাগাড়ে কয়েকটা ছবি পর পর এঁকে ফেললাম। এবারে সেগুলো দেখতে দেখতে আমি খেয়াল করি গত একটা বছর আমি এভাবে 'নিজের জন্যে' কিছুই আঁকিনি। মানে যাই এঁকেছি তা আসলে কোথাও না কোথাও ছাপা হয়েছে। কিন্তু এই ছবি ক'টা কপি করে আমি খুবই আনন্দ পেয়েছি। আমার একটা হারানো অনুভূতি যেন ফিরে পেয়েছি। আমি ঠান্ডা মাথায় ব্যাপারটা ভাবলাম। এবং বুঝলাম এখানে টাকা পাবার কোন সম্ভাবনাই ছিলো না, আমি আসলে নিজের জন্যে মজা নিয়ে এঁকেছি, আর সে জন্যেই এটা এত ভালো লেগেছে। আর ওদিকে যেসব আমি টাকার জন্যে আঁকছি সেসবের জন্যে না পাচ্ছি টাকা না পাচ্ছি আনন্দ। তাহলে অন্তত আনন্দটা নেয়া যাক। ধরে নেই টাকা আসলে পাবো না। মানে টাকার জন্যে আসলে আঁকছি না। নিজের জন্যে আনন্দ নিয়ে আঁকছি। তাহলে সেটায় সর্বোচচ মনোযোগটাও দেয়া যাবে। একেবারে গল্পের মত যে ভাবা সেই কাজ। এবং ফলাফল হাতে নাতে, আমি আমার আনন্দ খুঁজে পেলাম। যাই আঁকি ভালো লাগে, আরো মনোযোগ দিয়ে সব স্টাডি করি। স্কেচ খাতা ভরতে থাকে। সেরা আঁকিয়েদের আঁকা কপি করি। যেই আঁকতে বলে রাজী হয়ে যাই। এবং নিজের মত করে আঁকি। এতে আরেকটা যেটা মজার ব্যাপার হল যেহেতু টাকাটা মূখ্য না তাই কোন কাজ ভালো না লাগলে সরাসরি 'না' বলে দেয়াটা এখন অনেক সহজ হয়ে গেল। অর্থাৎ আমার কাছে এখন Drawing is fun.
আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া সেই ড্রয়িং গুলির একটি, ক্লাস টেনে আঁকা। আমার পুরোনো একটা ফাইলে খুঁজে পেলাম
এর ঠিক পরপরই ঘটল সবচেয়ে দারুণ আর অদ্ভুত ঘটনা। আমি বিল পেতে শুরু করলাম! তার মানে কি এদ্দিন আমার আঁকায় গাফিলতি ছিল বলে বিল পাই নি? নাকি আসলে এই সময় পর্যন্ত আমাকে এমনিতেও অপেক্ষা করতে হত? আমি জানি না। জানার আসলে দরকারও নেই। কারণ তদ্দিনে আমি আঁকার মজাটা আবার ফিরে পেয়েছি। আর ফিরে পেয়েছি নিজের মুড। অর্থাৎ যা করব তা নিজের মত করেই করব।

এই এখনো আমি সেই একই নিয়মে কাজ করি। এবং আমার মনে হয় আঁকিবুকি করাটা Should be fun। সেটা চলে গেলে সবই আস্তে আস্তে চলে যায়। বিরাট এক হেঁয়ালির মতন, আমার উপলব্ধি হল ক্রিয়েটিভ সেক্টরে আপনি টাকার আশা করলে সেটা আসবে না, আসবে তার আশা ছেড়ে কাজ করে গেলে। সত্যি বলতে খালি টাকা না, খ্যাতি, নাম ডাক ইত্যাদিও আসলে তাই। আপনি যদি এগুলোর পেছনে ছোটেন তবে নিজের দুঃখই খালি বাড়ে। তার চেয়ে আনন্দ নিয়ে নিজের কাজটা ১০০ ভাগ করে গেলে বাকিগুলি তার বাই প্রডাক্ট হিসেবেই আসে। বিশ্বাস না হলে শুরু করে দেখেন।

July 18, 2012

তোমার জন্য ভালোবাসা



ধ্রুবদা'র বাসায় বসে আছি, সামনে বইমেলা। নাকেমুখে প্রকাশক লেখক সবাই কাজ করে যাচ্ছে।  আমরা তিনজন বিধান ভাই, রুমী ভাই আর আমি সাত সকালে এসে আমাদের ছোটদের বার্ষিকী 'ঘুড্ডি' নিয়ে ওনার সাথে বসেছি। এর গ্রাফিক্স কি হবে, ফন্ট কোন সাইজ হলে ভাল, পুস্তানী দেয়া হবে কি না। কথায় কথায় এর ভূমিকা কে লিখবে সেটা তোলা হল। ধ্রুবদা' ওনার নিজের বানানো মেরুন রঙ চা য়ে চুমুক দিতে ওনার সানুনাসিক স্বরে বললেন-
'হুমায়ূন আহমেদকে বললে উনি লিখে দেবেন, আর উনি লিখলে সেটাই একটা সাহিত্য হয়ে যায়। সত্যি কথা আর কোন লেখকের শুধু দুই লাইন ভূমিকা পড়লে কী তোমার কখনো বুকের মধ্যে টনটন করবে বল? এই একটা লোক সেটা পারে' 
কথাটা আমরা একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছিলাম। এবং ঠিকই স্যারের বাসায় গিয়ে আমাদের বার্ষিকীর জন্যে একটা ভূমিকা জোগাড় করেছিলাম। উনি খুশী মনে সেটা লিখে দিয়েছিলেন।

ধ্রুবদা'র সেই একটা কথাতেই কি এই অসাধারণ মানুষটাকে বোঝা হয়ে যায় না? ছোট একলাইনের ভূমিকা ধরনের লেখাতেও কি অনায়াসে এই একজন পরাবাস্তব একটা জগতে মানুষকে টেনে নিয়ে যেতে পারেন। এমন অনায়াস আটপৌড়ে ঢঙ্গে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত অন্দরমহলের ভাবনাটা কি আর কেউ বলে যেতে পেরেছেন? কোনরকম দেখনদারি সাহিত্যের মারপ্যাঁচের ধাঁধাঁয় পাঠককে নাকানী চোবানী খায়িয়ে বাহবা কূড়োনোর লোভ সামলিয়ে ক'জন সৎভাবে নিজের মত করে লিখে যেতে পেরেছেন? ক'জন লেখক অকপটে বলে ফেলতে পেরেছেন- আমি বাজারে লেখক? বাজারের সবার জন্যে লিখি, ড্রয়িংরুমে সাজানোর জন্যে না? তার মত করে পুরো একটা জাতির মননে মানসে এমন সুদুরপ্রসারী ছাপ ফেলার সৌভাগ্য বোধ করি তাঁর চেয়ে প্রতিভাবান সাহিত্যিকদেরও ঘটেনি। গল্প, উপন্যাস, সিনেমা, নাটক- এমনকী গণমাধ্যমের বিরাট অঙ্গন জুড়ে তাঁর যে বিপুল অবস্থান তা বাংলাদেশের আনাচা কানাচে এভাবে আর কোন সাহিত্যিকের ভাগ্যে জোটেনি, জুটবে তেমন আর বলাও যাচ্ছে না। তাঁর সাহিত্যবোধ  নিয়ে কিছু অকালপক্ক 'পাঁঠক' সমালচনা করে গণতান্ত্রিক অধিকার ফলান। অনেক পোস্ট-কলোনিয়াল সমাজের বাই-প্রডাক্ট তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সাথে সাহিত্য গুলিয়ে ফেলেন। এসবে তাঁর থোড়াই পরোয়া,স্বভাবসুলভ সেন্স অব হিউমারে এসব তিনি উড়িয়ে দেন। মোটামুটি বোধ সম্পন্ন পাঠকমাত্রই জানেন তাঁর সমগ্র সাহিত্যের প্রচ্ছন্ন পরাবাস্তবতার কথা। এক অদেখা জগৎ নিয়ে তাঁর বারবার জানানো আকুতির কথা। একটা নিবিড় গাঢ় অভিমান যেন মেখে থাকে সব কিছুতে। এমনকী প্রবল ভাঁড়ামি বলে নাক সিঁটকোতে ইচ্ছে করে যে লেখায় সেখানেও যেন এক সারকাস্টিক-স্টোয়িক অদ্ভূত মানসিক টানাপোড়েন খুঁজে পাওয়া সম্ভব। একইসাথে কি ভয়ানক জীবনবোধ আর রসবোধ। বাংলাদেশের 'সাহিত্যিকেরা' তাই ওনাকে সাহিত্যিক বলুক বা না বলুক উনি তাঁর আসল জায়গা ঠিকই করে নিয়েছেন- পাঠকের হৃৎপিন্ডের কাছাকাছিতে। সেই হুমায়ূন আহমেদ আজ ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে আমেরিকার এক হাসপাতালে কোমায় পড়ে আছেন। জানি আমাদের এই এখানে বসে কিছুই করার নেই। শুধুমাত্র তাঁর জন্যে বরাদ্দ জায়গাটুকু থেকে উৎসারিত শুভকামনা জানানো ছাড়া। ভালোবাসা ছাড়া।

হুমায়ূন আহমেদ, সুস্থ হয়ে উঠুন! আমাদের জন্যে। আমাদের আর কেউ নেই। আপনাকে ফিরে আসতেই হবে। তোমার জন্যে আমাদের দেবার আর কিছুই নেই, শুধু ভালোবাসা ছাড়া।

তোমার জন্যে ভালোবাসা
----------------

July 16, 2012

জলরং

একটা দারুণ বই পেলাম ক'দিন আগে The Art of Urban Sketching. আইডিয়াটা হল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বড় বড় শহরের আঁকিয়েরা (যারা নিজেদের বলেন Urban Sketchers) যে যার শহর এর দৃশ্য আঁকেন ও সেগুলো একসাথে করে একটা বই করেন। বইটা এক কথায় অসাধারণ! সেখানে নতুন যেই মজার ব্যপারটা দেখলাম সেটা হল সবাই লাইভ আঁকবার মাঝেই রঙ টং ও চাপিয়ে নিচ্ছেন আর তাতে করে গোটা জিনিসটা জমে যাচ্ছে। জলরং টাই দেখালাম সবচেয়ে জনপ্রিয় মিডিয়া। তাদের দেখাদেখি ক'দিন ধরে লাইভ সেশনে জল রঙ আর পানির ডিব্বা নিয়ে ঘুরছি। আজ আমি আর আর্টিস্ট রাজীব ভাই মিলে গিয়েছিলাম তেজগাঁ'র নতুন ব্রিজ এ। সেখান থেকে রামপুরারা পেছনের প্যানারমিকটা আসলে অসাধারণ।


 

June 20, 2012

কেন সুপার হিরো কনসেপ্ট আমাদের সাথে 'যায় না'


কমিকবুকের কাজ চলছে, আর সেটা করতে গিয়ে কিছু অদ্ভূত সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে আমাদের। যেমন- আমাদের 'সুপারহিরো' কেমন হবে?ল্যাঙ্গট পড়া কাঁধে লাল পর্দা উড়ানী কোন বাঙ্গাল সাঁই সুঁই করে 'সেভ দ্যা ওয়ার্ল্ড' করে বেড়াচ্ছে- এমন একটা দৃশ্য কেন যেন হাসির উদ্রেক করে। সত্যি, এমন কিছু দাঁড়া করাবার চেষ্টা কিন্তু কম করা হয়নি। কিন্তু সেটা ক্লাউনি ইমেজ থেকে বের হতে পারেনি আজো। সেটা কেন হয়নি বা কেন হচ্ছে না তা ভাবতে গিয়ে আমরা কিছু চমকপ্রদ উপলব্ধির মধ্য দিয়ে গেছি। আমরা প্রথমেই আমাদের বৃহত ভারতবর্ষের 'সুপারহিরো' দের নাম মনে করার চেষ্টা করি,


সিদ্ধার্থ গৌতম (বুদ্ধ)
লালন ফকির
বড়ু চন্ডীদাস
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
মহাত্মা গান্ধী
অতীশ দীপংকর
শাহজালাল রঃ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কাজী নজরুল ইসলাম

(নাগাড়ে যেসব নাম মন এল তা-ই লেখা হয়েছে, পাঠকেরা যে যার মনের মত আরো যোগ করে নিতে পারেন)
খেয়াল করুন এঁরা কেউই 'একশন হিরো' না। ইউরোপ আমেরিকার সাথে আমাদের এখানে একটা বড় পার্থক্য আছে। ওঁদের সভ্যতা গড়ে উঠেছে পেশীর জোরে, সেই সাথে প্রযুক্তির কর্কশ শব্দে। আর আমাদের এইদিকে ব্যাপারটায় সবসময় একটা আধ্যাত্মিক, যাদুকরী, মায়াবী শক্তির ব্যাপার ছিল। এখানের সুপারহিরোরা তাঁদের 'আইডিয়া'র জোরে অতিমানব। গায়ের জোরে নন। অপরদিকে যে সব বৃটিশ আমেরিকান সুপারহিরো আমরা দেখি তার বেশীরভাগই ভয়ানক শারীরিক শক্তি কেন্দ্রিক পেশীবহুল আর গেজেট নির্ভর। একটা বড় অংশের জন্ম কোন এক 'বৈজ্ঞানিক' দূর্ঘটনায়। অথবা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্র বাহিনীর সেভিয়র হিসবে। এমনকী অনেকাংশেই সেটা পলিটিক্যাল কারণে সৃষ্টি! তাই ইউরোপ আমেরিকানদের লোহা ইস্পাত আর মিগ বিমানের পাশে এখন আয়রন ম্যান উড়ে যাওয়াটা যেমন স্বাভাবিক লাগে আমাদের খালবিলের বাংলাদেশে সেটা বরং হাস্যকরই লাগবে। ভাবুনতো ঢাকার রাস্তায় প্যান্টের ওপর লাল ল্যাঙ্গট পড়ে এক সুপারহিরো হেঁটে যাচ্ছে। 


এবার প্রশ্ন হল আমাদের এখনকার হিরো (সুপার হবার দরকার নাই) তাহলে কেমন হবে? আমরা পড়াশোনা করে দেখতে পাই ওপরে আমাদের হিরো হিসেবে যাদের নাম যাদের নাম লেখা হল তাদের অনেকেই কিন্তু গায়ে গতরে মারামারিও করেছেন। শাহজালাল (রঃ), আর লালন ফকির এই দু'জনেই 'সাধারণ' মানুষের হয়ে লাঠি হাতে নিয়েছেন। তবে এঁদের মূল হাতিয়ার ছিল জীবনদর্শন, মানবদর্শন। তার মানে এখানে হিরো হতে হলে আপনাকে দার্শনিক হতে হবে- অন্ততঃ আপনার কাজের পেছনে একটা পরিপূর্ণ দর্শন থাকতে হবে। খেয়াল করে দেখবেন পশ্চিমা সুপারহিরোদের খুব কমই এমন দর্শন আছে। সেখানে সবসময় এক উন্মাদ ধরনের ভিলেন হাজির হয়, যার উদ্দেশ্য আমেরিকা  (মানে কিনা পৃথিবী, আমেরিকানদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রকেই পৃথিবীর সমার্থক বোঝানো হয়) দখল। মানে RULE THE WORLD, পাওয়ার পাফ গার্লস সিরিজের মোজোজোজোর গানের মত- Everybody Wants to rule the world. আর তখন 'হিরু'এসে একটা Save the world করে থাকে। এই প্লটটার পেছনে কাজ করছে সেই  আড়াই হাজার বছর আগে লেখা এরিস্টটলের সাম্রাজ্য টিকানোর একটা কৌশল- একটা কৃত্রিম শত্রু বানিয়ে জনগনকে বোঝাও যে ওই ভয়ানক শত্রুকে ঠেকানোর শক্তি একমাত্র তোমার মত অত্যাচারী শাসকেরই আছে!
যাই হোক, ভিন্ন আলোচনায় চলে যাচ্ছি, লেখার উদ্দেশ্য ছিল আমাদের সুপারহিরো কেন নাই, বা কেন এখানে 'ওভাবে' ভাবা যায় না। আমার ব্যক্তিগত মতটাই এখানে বলে যাচ্ছি। বর্তমানে একাধিক কমিকবুকের কাজ করে যাচ্ছি বলে এই সমস্যাটা আবার সামনে আসায় এই ভাবনা। আমার মতে এখানে কমিকবুক হিরোরা যা হতে পারে তা এই রকম


১। যাদুকরী, ঐন্দ্রজালিক ক্ষমতা- ম্যান্ড্রেক অনেকটা যেমন

২। পেশী শক্তিতেই সে চলে কিন্তু সেটা একটা দারুণ দর্শন মনে নিয়ে- অরণ্যদেব- আমার মতে সেরা কমিকবুক ডিজাইন

৩। আধিভৌতিক, অতিপ্রাকৃত জগতের জ্ঞান আছে এমন- হেলবয় (মুগ্ধ হয়ে মাইক মিগ্নোলার একগাদা হেল্বয় পড়লাম)

৪। কুসংস্কার ভেঙ্গে দেয় টাইপ কেউ- মিসির আলী?

আমরা এই কয়েকটা টাইপের ওপর আমাদের হিরোগুলিকে দাঁড়া করাতে চাইছি। আর সেই সাথে বিরাট ইন্সপিরেশনাল জায়গা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে জাপানিজ মাঙ্গা ইন্ডাস্ট্রি। ওসামু তেযুকা, মিয়াযাকি থেকে হালের কেইজি নাকাযাওয়া এদখিয়ে দিচ্ছেন কিভাবে গল্প বলতে হয়। আমার মতে জাপান থেকে বরং আমাদের বেশী শিখবার আছে। মাথা ধরানি, হাড় জ্বালানি মার্ভেল ডিসির টাইট কম্পোজিশনে পেশীর দলা সহ একদল মারকুটে গোলায়াথের লাফালাফির চেয়ে আমার কাছে তেজুকা অনেক আরামপ্রদ।

যাই হোক, অনেকেই বাংলাদেশের সুপারহিরো বানাতে গিয়ে ধরা খেয়েছেন (কার্টুনিস্ট শাহরিয়ার শরীফ ছাড়া) । সেই ধরা খাবার কারণটা মনে হয় কিছুটা বলতে পেরেছি। তবে এর সবই ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি আমরা এর উল্টোদকে গিয়ে কিছু করে দেখাতে না পারি। 
দেখা যাক কি হয়



আনাড়ী এনিমেশন

কালো টাকা হচ্ছে সাদা, করছে কে তা? কে আর? দাদা

এইয়া নিয়ে একটা ক্যারেক্টার নামাতে চাচ্ছি, কমের মধ্যে।