October 27, 2012

হাড়ের জোড়া

এনাটমির মাসল টাসল বোঝার আগে আমাদের আগে ভেতরের হাড়্গুলির সংযোগ বুঝে নেয়াটা জরুরী। কারণ তার ওপরেই নির্ভর করবে যে মাসলগুলি কিভাবে নড়াচড়া করবে। মোটা দাগে দেখলে দুই ধরনের হাড়ের সংযোগ দেখা যায়। একটা হল বল-সকেট (একটা বল যদি একটা তার চেয়ে একটু বড় গর্তের মধ্যে ঘুরতে থাকে) আরেকটা হল হিঞ্জ বা কব্জা (দরজা জানালার কব্জা যেভাবে কাজ করে)। বল- সকেটের সংযোগটা অনেক ফ্রি ভাবে ঘোরানো যায়। এর উদাহরণ হল আমাদের কাঁধ থেকে বাহু যেখানে শুরু সেখানে অথবা কোমড়ের যেখান থেকে পা নামলো সেখানে। এই দুটো সংযোগ কিন্তু অনেক ভাবে অনেক দিকে ঘোরানো যায় এই সংযোগের কারণেই।
বল-সকেট সংযোগ

এদিক ঠিক তার পরের সংযোগটাই আবার কব্জার মত হয়ে থাকে। যেমন কনুই বা হাঁটু। খেয়াল করুন, এই সংযোগের হাড় মোটামুটি ১৮০ ডিগ্রি ঘোরানো যায়, তারপর আটকে যায়। যেন উল্টো দিক থেকে কিছু একটা দিয়ে হাড়গুলো বেঁধে দেয়া আছে।পরবর্তীতে আমরা মাসলের দুনিয়ায় যত যাই করি না কেন এই সংযোগ কোনটা কেমন তা মাথায় রেখেই তা করতে হবে। না হলে সেটা 'হবে না'।
কব্জা বা হিঞ্জ সংযোগ
মানুষের (ও আরো কিছু প্রাণীর) কনুইএর সংযোগটা একটু অদ্ভুত টাইপ, এখানে একই সাথে বল-সকেট আর কব্জা দুই-ই আছে। নীচের প্রথম ছবিটা দেখুন।কনুই থেকে কব্জা সংযোগে একটা হাড় নেমে গেছে সোজা কনিষ্ঠা আঙ্গুলের দিকে। ঠিক তারপরেই আরেকটা হাড় একটু বেঁকে নেমে এসে কব্জিতে পরিণত হল। এই দ্বিতীয় হাড়টার সংযোগ বল-সকেট। এর কারণেই আমরা আমাদের কবজি ঘোরাতে পারি। ঘোরে মূলতঃ এই দ্বিতীয় হাড়টাই (এটার নাম রেডিয়াস, আগেরটা এলনা)। থাবা ওয়ালা পশুদেরও (বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক) এই হাড়টা থাকে। খুরওয়ালাদের (ঘোড়া, গরু, ছাগল)  ক্ষেত্রে এ দুটো মিশে যায়, তারা হাত ঘোরাতে পারে না।

1 comment:

  1. মেহেদি ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করতে চাই।
    ০১৬৭৫০৮৩২১৬
    https://www.facebook.com/alienmirza

    ReplyDelete