March 19, 2017

সবচেয়ে বেশী যে সব সমস্যা আঁকিয়ে/ শিল্পীদের হয়

একটা দারুণ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। চারিদিকে অনেক নবীন কার্টুনিস্ট আর আঁকিয়ে কাজ করে চলেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যানে সেগুলি দেখাও যাচ্ছে। তবে খেয়াল করছি অনেকেই যে পরিমাণ আগ্রহ নিয়ে শুরু করেছিলো এখন যেন তা অনেকটা কমে গেছে, অনেকে ছেড়ে দিচ্ছে সবকিছু। এই ঘটনা যদিও সবসময়ই ছিলো। সবাই টানা লেগে থাকে না, টানা একই রকম উৎসাহে সবসময় থাকে না। কিন্তু এখনকার সময়টা একটু আলাদা। এখন কেউ মহা (মাঝে মাঝে অতি) উৎসাহে শুরু করছে একটা কিছু আবার মুহূর্তেই সেটা আবার মিইয়ে যেতেও সময় লাগছে না। আমি কয়েকটা কেস স্টাডি দেখে শুনে মনে হল কিছু ব্লগিয় কাউন্সেলিং করা যেতে পারে। হঠাত ক্রিয়েটিভ কাজে আগ্রহ চলে যাবার হাজারটা কারণ থাকতে পারে, তবে আমার মতে সবচেয়ে বেশী যেসব দেখা যায় সেগুলি মাথায় রাখলে ঝামেলাটার মুখোমুখি হওয়া সহ্য হয়, যেটা যেটা না করলে আপনি আরেকটু ভালমত নিজের পছন্দের ক্রিয়েটিভ কাজ করতে পারবেন তা আমার মতে এইরকম-



১. তুলনা না করা
মানে নিজের কাজ অন্যের কাজের সাথে তুলনা করা বন্ধ করা। এই বিষাক্ত সংস্কৃতিটা আমাদের সমাজে খুব বেশী আসন গেড়ে বসেছে। ছোটবেলা থেকেই অন্যের চেয়ে আপনার কাজ কতটা কম ভাল সেটাই বারবার সবাই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাচ্ছে। একটা প্রতিযোগিতা সবসময়। প্রতিযোগিতা অবশ্যই থাকবে তবে তা হবে নিজের সাথে নিজের। আজকের আমি যেটা করলাম সেটা আসলে গতকালকের আমার কাজের চেয়ে কতটা ভাল সেটা দেখতে হবে। অন্যের সাথে প্রতিযোগিতার দুইটা সমস্যা,

১. সেটাতে হারবো, তার মানে আর কাজ করে লাভ কী? ওর চেয়ে ভাল তো আমি হবো না, কখনো 
পারবোও না।

২. সেটাতে জিতবো, তার মানে আর কাজ করে লাভ কী? জিতেই তো গেছি। এখন আর কেন কাজ করব?

সুতরাং তুলনাটা অন্যের সাথে করার কোন মানেই নেই। অন্যের থেকে শিখবেন। বুঝবেন। প্রশংসা করবেন, তুলনা করবেন নিজের কাজের সাথে নিজের।

টিপসঃ ফেইসবুকের যুগে অন্যের কাজ না দেখে থাকা বা তুলনা না করা প্রায় অসম্ভব, নিজের কাজ ফিরে পেতে একেবারে নিয়ম করে কয়েকদিন অন্যের কাজ না দেখে নিজের কাজ স্টাডি করে দেখা যেতে পারে, শেখার জন্যে অন্যের কাজ দেখা যেতে পারে, তুলনা করার জন্যে কখনই না।

২. লাইকা সমস্যা



এটাও ঘুরেফিরে প্রথম সমস্যার মতই। কাজ করে সেটা সাথে সাথে সোশ্যাল মিডিয়াতে দিয়ে অপেক্ষা করা যে লাইক পড়ছে কিনা। যদি না পড়ে বা কম পড়ে তবে আমি ভালো না। তবে আর এঁকে কী হচ্ছে। এভাবেও অনেকে থেমে যাচ্ছে। তাই নিজের শিল্পী জীবন বাঁচাতে লাইকের জন্যে না এঁকে নিজের আনন্দের জন্যে আঁকুন। অবশ্যই অন্যের আনন্দের জন্যে আঁকাও জরুরী। তবে অন্যে আনন্দ না পেলে সেটা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।

টিপসঃ ইন্টারনেট বা সোশায়ল মিডিয়াতে দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ে ছাড়া ঢুকবেন না। ভাল উপায় হল মোবাইলে ইন্টারনেট ডেটা কানেকশন অফ রাখা, একান্ত না লাগলে অন না করা।

৩. অতি উতসাহ ও শর্টকাট

এটাও একটা বিরাট সমস্যা। ক্রিয়েটিভ কাজে অতি উৎসাহ স্বাভাবিক, কিন্তু এটা বেশীদিন থাকা অস্বাস্থ্যকর। হঠাৎ করে কোন একটা মিডিয়া নিয়ে কাজ করেই রাতারাতি কেন সেটা চারিদিকে সাড়া ফেলছে না সেটা নিয়ে টেনশন করতে করতে শেষে 'দুচ্ছাই' বলে আরেকদিকে চলে যাওয়া কোন কাজের কথা না। অনেকেই গান, পেইন্টিং, ফটোগ্রাফি ইত্যাদি সবকছু শিখে ফেলেছি ভেবে সেগুলি নিয়ে কী করবে বুঝে উঠতে না পেরে শেষে সিনেমা বানাতে নেমে পড়ে আবার টের পায় এটা ঠিক জমছে না। শেষে তার যে কিছুটা সম্ভাবনা ছিলো সেটাও শেষ করে একেবারে গতবাঁধা যা সে করতে চায়নি সেটা করা শুরু করে। ব্যাপারটা এভাবে ভাবুন, দুইজন মানুষ একটা সিঁড়ির সামনে দাঁড়ানো, একজন বার বার এক লাফে সেটার ওপরে উঠতে চাইছে, আর আছাড় খাচ্ছে। আরেকজন একটা একটা করে সিঁড়ি ভেঙ্গে সেই একই সময়ে সিঁড়ির ওপরে চলে গেল। আছাড় খাওয়া মানুষটা হতোদ্যম হয়ে ফিরে গেল আর ভাবলো নিশ্চই ওই যে উঠে গেল ওর কোন লবিং ছিলো বা কোন শর্টকাট ছিলো যেটা আমি পাইনি। তাই বহুবার শোনা কথাটা আবার মনে রাখতে হবে যে শর্টকাট বলে কিছু নেই- হ্যাঁ আপনি অতি প্রতিভাবান বা প্রসেসর হাই ডেফিনিশনের হলে এক লাফে যে দুইটা করে সিঁড়ি ভাঙ্গাটা অসম্ভব তা বলছি না।

টিপসঃ প্রতি মাসের শুরুতে সময়রেখা (টাইমলাইন) বানান, মানে এই মাসে কখন আমি কী  শিখব সেটা লিখে রাখা। তাহলে অযথা যা ওই মাসে করার কথা না সেটা কেন হচ্ছে না ভেবে মেজাজ খারাপ হবে না।

আমার মতে এই তিনটা জিনিস একজন 'হতে পারতো দারুণ শিল্পী'র জন্যে বিধ্বংসী। এইগুলি এড়িয়ে/ ভেবে চললে কিছুটা ভাল থাকা সম্ভব।




16 comments: