December 29, 2019

বিদায় ২০১৯

বছর চলে যাচ্ছে সময়ের চেয়ে দ্রুত। এই ব্লগ শুরু করলাম মনে হয় এই সেদিন, দেখতে দেখতে ৯ বছর চলে গেল! উপলব্ধি হচ্ছে মানুষের কাজের সময় এই পৃথিবীতে আসলে খুব বেশী না, যাবার আগে তাই কিছু দাগ রেখে যাই। এ বছরে কিছু দাগাদাগি তুলি দি'

বলে নেওয়া ভাল এ বছর প্রায় গোটা সময়টা বিভিন্ন এন জি ও এবং আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের জন্যে দিয়েছি। একটা কারণ ছিল অনেকদিন পর পুরোনো নেটওয়ার্ক ঝালিয়ে নেওয়া আর মূল কারণ অবশ্যই অর্থনৈতিক ঃপ, যে সব মনে পড়ছে তার কয়েকটা সম্ভবত আগেও শেয়ার করেছি, দ্বিতীয়বারের মত দিয়ে থাকলে দুঃখিত-

১. রোহিঙ্গা শিশুদের পাঠ্যবই
এ বছরের সবচেয়ে বড় প্রজেক্ট করেছি রোহিঙ্গা শিশুদের পাঠ্যবইয়ের মূল অলংকরণ। ইউনিসেফ থেকে কক্সবাজার এডুকেশন নামে এই একাডেমিক প্রজেক্ট বেশ বিরাট আকারের ছিল। আক্ষরিক অর্থেই হাজার হাজার ড্রয়িং। আমাদের টিমে ছিল নাসরীন সুলতানা মিতু (আমাদের মধ্যে একমাত্র একাডেমিক মানুষ ও সেই সাথে কার্টুনিস্ট), ছিল রোমেল বড়ুয়া (পরিপাটি পেশাদার কার্টুনিস্ট), সব্যসাচী চাকমা ('জুম' আঁকিয়ে), কার্টুনিস্ট হাসিব কামাল, এ সময়ের কুংফু কার্টুনিস্ট আসিফুর রহমান (চার হাত পায়ে দুর্দান্ত এঁকে যাচ্ছে)। মানে সব মিলে দারুণ একটা টিম। আঁকার পরিমাণ বললে একটা ধারনা হতে পারে, আমি একা এঁকেছি ১৫ টা বই, গড়ে সেগুলিতে ১৫ পৃষ্ঠা অলংকরণ, এবং ডেডলাইন ছিল অবিশ্বাস্য কম। কারণ রোহিঙ্গা শিশুরা যেহেতু আন্তর্জাতিক রাজণৈতিক জটিলতায় চাইলেও আমাদের দেশের পাঠ্যবই পড়তে পারবে না সেহেতু তাদের মত করে তাদের ভাষা ও ইংরেজীতে নতুন বিশেষ পাঠ্যবই না করা পর্যন্ত তারা পড়াশোনা করতে পারছে না, তার মানে লক্ষ লক্ষ শরণার্থী বাচ্চাদের শিক্ষাজীবন অনেকটাই নির্ভর করছে আমরা কত তাড়াতাড়ি বইগুলি আঁকা ও ডিজাইন করে প্রিন্ট রেডি করে দিতে পারবো তার ওপর! এর চেয়ে বড় মোটিভেশন নেই, বেশ চাপ নিয়ে কাজ করেছি সবাই। কিন্তু সব শেষে অন্য একটা আফসোসও ছিল- বাংলাদেশের আমরা কিন্তু এত দারুণ বই পাই না। রোহিঙ্গা বাচ্চাদের জন্যে তার চেয়ে বহুগুণে মানসম্মত পাঠ্যবই করা হয়েছে ইউনিসেফের তত্ত্বাবধানে। আঁকার কথা বলছি না, পাঠ্যপুস্তকের মানও বেশ ভালো, গল্পের মত করে ছোট বাচ্চাদের দারুণ কিছু মেসেজ শেখানো। আমরা স্বপ্ন দেখি একদিন আমাদের দেশেও তা হবে, হতেই হবে।
দুঃখজনক হল এখনো পর্যন্ত সেই পরজেক্টের কোন ছবি আমরা কোথাও দেখাতে পারছি না চুক্তির কারণে, সময়মত কোন একদিন শেয়ার করা যাবে আশা করি।

২. দুর্যোগ মোকাবিলা কমিক্স
এর পর কয়েকটা কমিক করা হয়েছে, এবং এবারে একটা নতুন প্রসেসে কাজ করেছি, মূল স্টোরিবোর্ড ও গল্প লিখে ইংকিং আর কালারিং করতে দিয়েছি তরুণ কার্টুনিস্টদের, এবং তারা বেশ ভাল কাজ করেছে। যেওম একটা ছিল এডুকো প্রতিষ্ঠানের, বাচ্চাদের জন্যে দুর্যোগ মোকাবিলা প্রস্তুতি নিয়ে করা একটা কমিক্স, পিয়া ও দৈত্য, ক্যারেক্টার শিট আর অন্যান্য স্টাইল গল্প সহ ধরিয়ে দেয়া হল চট্টগ্রামের ডাক্তার ও কার্টুনিস্ট নাইমুর রহমান মাহিরকে। সে বেশ দ্রুত নামিয়ে দিল গোটা কমিক্স! দুই এক পেইজ দেয়া হল-





৩. বন্যা সতর্কতা কমিক্স 
এরপর করা হয়েছে মুসলিম এইডের কমিক্স ও ফ্লিপ কার্ড-


৪. RIC বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিক্স


৫. স্টোরিবোর্ড Friendship Hospital-








৬. পুষ্টি কমিক্স 
এবং শেষ মুহুর্তে আরেকটা বিরাট কমিক্স পরজেক্ট চলে এল, এবং কাজও ৯৫% শেষ সেটা হল BRAC এর ৬ টা কমিক্স যথারীতি আমি গল্প ও স্টোরিবোর্ড করে অন্যদের পাঠিয়ে দিলাম আর অতি দ্রুত তারা এঁকে শেষ করে দিল সব বই, আসলে এখন যারা কাজ করছে তারা অনেকেই বেশ প্রফেশনাল ও ভাল কাজ করছে। এই টিমে ছিল- আসিফুর রহমান (ওর গল্পটা ওরই লেখা), রোমেল বড়ুয়া, হাসিব কামাল, সব্যসাচী চাকমা পোলো, নাইমুর রহমান মাহির ও রাকিব রাজ্জাক। দারুন উপভোগ করেছি এই সিরিজটা, অনেক ক্যারেক্টার আর অনেক মজার মজার গল্প লেখার সুযোগ ছিল, আশা করি এটাও ভাল একটা কাজ হয়ে থেকে যাবে আমাদের পোর্টফোলিওতে।





আসিফ

রোমেল

সাব্যসাচী চাকমা

রাকিব রাজ্জাক

মাহির

হাসিব
তো মোটামুটিভাবে এই ছিল ২০১৯, এ ছাড়া ঢাকা কমিক্সের অন্যান্য ব্যবসাপাতি, হাবিজাবি, আর নিজের কমিক্স বইয়ের কথা বলা হলো না, সেগুলি অচিরেই আসছে ফেব্রুয়ারি বইমেলায় আমাদের ঢাকা কমিক্স স্টলের বরাতেই জানিয়ে দেয়া হবে। তার আগে পর্যন্ত এটুকুই থাকলো, সবাইকে অগ্রিম Happy New Year!

November 24, 2019

বাংলাদেশের এনিমেশন সেক্টর সমস্যা ও সম্ভাবনা

এনিমেশন আমার কাজের এলাকা না, কিন্তু দারুণ পছন্দ করি (কে না করে?)। এবং জানি যে আমাদের দেশে দারুণ দারুণ সব এনিমেটর আছেন অনেক আগে থেকেই। তারা বেশ ভাল ভাল কাজও করেন, তবে সেগুলি আমরা দেখতে পাই না কেন? আর কেনই বা আমাদের দেশের ছোটদের দেখতে হচ্ছে শুধুমাত্র বিদেশী কার্টুনের ডাবিং, বা সরাসরি বিদেশী কার্টুন? যদিও আমি বিশ্বাস করি দেশী বা বিদেশী বলে কিছু নেই, আছে ভাল আর ভাল না এই দুই ধরনের কাজ। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় যখন আপনি ন্যাশনালিজমে বিশ্বাস করেন, অর্থাৎ আপনার বুঝতে শেখা শিশুদের আপনি নিজের দেশের আবহে, নিজের মত করে বড়ো করতে চাচ্ছেন তখন। তখন বাংলা বাদ দিয়ে হঠাত বিদেশী কার্টুন চরিত্রের ভাষায় যখন কথা বলা শুরু করে, বা তাদের মত হবার চেষ্টা করে তখন আপনি আঁৎকে ওঠেন।

এখন কথা হল এত এত এনিমেটররা আছেন, তারপরেও আমাদের দেশী এনিমেশন নেই কেন? যেহেতু আমি নিজে এই সেক্টরের না তাই জানার জন্যে আমাদের ফেইসবুকের আঁকিয়ে গ্রুপ আঁকান্তিসে যেখানে অনেক পেশাদার এনিমেটররা আছেন সেখানে জানতে চেয়ে প্রশ্ন করেছিলাম  যে কেন আমাদের এনিমেশন নেই? এতে যে যে সমস্যাগুলির কথা এসেছে তা মোটামুটি এরকম-

১. টাকা নাই। (এনিমেশন অনেক খরচসাপেক্ষ ও সময়সাপেক্ষ মাধ্যম, আমাদের বাজার এখনো তা কেনার জন্যে তৈরী না।)
২. ভালো এনিমেটরের অভাব (সফটওয়ার জানা লোক আছে কিন্তু এনিমেটর খুব কম)
৩. ক্লায়েন্ট এ ব্যাপারে অজ্ঞ, তারা এর সম্ভাবনাও বোঝে না, যে কারণে এ খাতে বিনিয়োগ করতেও আগ্রহী হয় না।
৪. পেশাদারিত্ব নাই (ক্লায়েন্ট এর পক্ষ থেকে বিল দিতে দেরী করা, ফলে ছোট স্টুডিওগুলির টিকে থাকা মুশকিল)
৬. ভাল ইনকাম করা হাউজেও এনিমেটরদের বেতন কম।
৭. সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা বলতে গেলে নেই।
৮. এনিমেশন শেখার ভাল স্কুল নেই।

সরাসরি এই সেক্টরে বেশ অনেকদিন ধরে কাজ করছেন এমন একজন শিহাব ভাই Mohamma Shihab Uddin (D Crows এনিমেশন এর ফাউন্ডার মেম্বার ও C.E.O) একেবারে টাকা পয়সার হিসাবে একটা ধারনা দিয়েছেন মার্কেটের, সেটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ মনে হওয়াতে এখানে তুলে দিলাম-

এই দেশে এখন এনিমেশন নিয়ে কাজ করে একদম হাতে গোনা ৪/৫ জন। টিভিতে সিরিজ করতে গেলে মাসে নুন্যতম ৪টি পর্ব বানাতে হবে যা কিনা ২০ মিনিট করে মিনিমাম। মানে ৮০ মিনিট। আর ২০ মিনিটের একটা পর্ব করতে যে পরিমান রিসোর্স লাগে সেটা নেই। তারপর আছে এক পর্বের দাম। কমপক্ষে ৭০ হাজার দিবে একটা পর্বের জন্যে। যারা এনিমশন নিয়ে কাজ করে, সবচেয়ে লো কোয়ালিটির কাজও ৭০ হাজারে দেয়া সম্ভব না। তার উপর মাসে ৮০ মিনিট। ২ লাখ ৮০ হাজার দিয়ে ৮০ মিনিট। টিভির মালিকরাও বলে, বাচ্চাদের শোতে এ্যাড পাওয়া মুশকিল। এটা এমন এক গ্যাড়াকল যেখান থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব না যদি না উপর থেকে কেউ টেনে তুলে।

এ সময়ের আরেক দারুণ পেশাদার এনিমেটর সাজ্জাদ মজুমদার Pixelaa Studios  যা যোগ করেন তার ভাবার্থ এরকম-
অনেক পরিশ্রম করে নামমাত্র মূল্যে এনিমেশন ক্লায়েন্টদের দিচ্ছি ও প্রশংসা পাচ্ছি, কিন্তু তারা পেমেন্টে এত গাফিলতি করে যে এক একটা কাজের পারিশ্রমিক পেতে গড়ে মাস তিনেক লেগে যায়, তদ্দিন স্টুডিও হিসেবে টিকে থাকা মুশকিল, ফ্রিল্যান্সার হওয়া সম্ভব।
EndingScene  এর হৃদয় শিকদার একেবারে পয়েন্ট করে বলেন
1. Government help,
2. Current Animation market with client,
3. Animation school,
4. Minimum Animation studio,
5. Enough experience animators and artists,
6. Good story,
7. Team unity,

আরো অনেকেই সেই আলোচনায় দারুণ দারুণ সব মন্তব্য যোগ করেছেন। আসলে বাইরে থেকে অনেক কিছু ভেবে ভেবে মন্তব্য করা যায়, দোষ ধরা যায় কিন্তু যারা এখানে কাজ করছেন আমি তাঁদের মুখ থেকেই আসল সমস্যাটা শুনতে চাইছিলাম। এখন বেশ অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে ধারনাটা। এখন আসি পরের ধাপে, সমস্যা তো জানি, শুনলাম বুঝলাম। সমাধান কী?

একটা লেখা লিখে সেটা বের করে ফেলবো ব্যাপারটা এমন না, তবে  হৃদয় শিকদার ওখানে একটা জায়গায় লিখেছেন-
ভাই কমিক্স নিয়ে আপনারা কিভাবে কাজ করলেন? সেটারও তো ফিল্ড ছিলো না, সেই গল্পটা শুনতে চাই।
এই লেখার অবতারনা আসলে সেই কারণেই। আমি কমিক্স আর কার্টুন নিয়ে কাজ করি। আর সত্যি বলতে কার্টুন বা কমিক্সের সমস্যা কিন্তু ডিগ্রিতে কম হতে পারে কিন্তু ধরনে সম্পূর্ণ এক, সেখানে তো এনিমেশনের তুলনায় হাজার ভাগের এক ভাগ পেমেন্ট। ক্লায়েন্ট এখানেও টাকা নিয়ে ঘোরায়, সরকারের সাহায্য যে চাওয়া যেতে পারে এটাই আমরা জানি না, এনিমশন তো তাও কোথাও কোথাও পড়ানো হয় আমাদের কার্টুনের তো কোন স্কুলই নেই, বরং ফাইন আর্টস একাডেমিগুলিতে এটাকে নিরুৎসাহিত করা হয়। তাহলে আমরা কিভাবে কাজ করি? আর কমিক্সের কথা যদি বলি তাহলে এটা কিন্তু প্রিন্টিং এর দিক থেকে দেখলে সবচেয়ে খরচসাপেক্ষ প্রকাশনা, আর্টিস্ট পেমেন্ট ও চার রঙের প্রিন্ট নিয়ে যার ধারনা আছে তিনি বুঝবেন।
তাহলে আমাদের গল্পটা বলা যাক, সেখানেও সমস্যা একই ছিল প্রায়,


১. টাকা নাই। 

আমরা প্রথম কমিক্সগুলি প্রিন্ট করি টাকা ধার করে, ৬০ হাজার টাকা নিয়ে ঢাকা কমিক্সের যাত্রা শুরু, বাকিটা প্রেসে বাকি ছিল, বই বিক্রি করে আমরা সেই টাকা শোধ করি।

২. ভালো কমিক্স আর্টিস্টের অভাব (ড্রয়িং জানা অনেকেই আছেন কিন্তু প্যানেলে প্যানেলে একটা গল্প বলা লোক কম)

আমরা শুরু করি চারজন, পাঁচ বছর যাবার আগেই আমাদের সাথে ভিড়েছে অসংখ্য মেধাবী কমিক্স আঁকিয়ে, এখন আমাদের সংখ্যা ২০ জনেরও বেশী! তার মানে আসলে অনেক মেধা চারিদিকে আছে, তারাও ভাবছে লোক কম, এখন একজন শুরু করলেই কিন্তু সমমনা অনেকেই সেখানে ভীড়তে শুরু করে, আমাদের সেটাই অভিজ্ঞতা।

৩. ক্লায়েন্ট এ ব্যাপারে অজ্ঞ - আমাদের ক্লায়েন্ট বলতে ছিলো প্রথমত প্রকাশকরা, এবং প্রকাশকরা এর প্রিন্টিং কস্ট শুনে কেউই কমিক্স করতে রাজি হন নি, তাঁদের দাবী ছিল নিউজ প্রিন্ট, সাদাকালো আর 'হাসির' হলে তারা 'ভেবে' দেখবেন।

আমরা প্রথম কমিক্স গুলি ঝুঁকি নিয়ে বাজারে ছাড়ি, এরপর সেটার সাফল্য দেখার পর অনেক প্রকাশনাই কিভাবে কমিক্স করা যায় তা জানতে চেয়েছেন অ রিতিমত প্রকাশও করে যাচ্ছেন, দেশের কিশোর পত্রিকা গুলিতে আমাদের কমিক্স এখন অপরিহার্য হয়ে গেছে। এন জিও ক্লায়েন্টরাও এখন সেই গৎবাঁধা ফিল্ড বুকের বদলে কমিক্স করাতে চাচ্ছেন। তার মানে ক্লায়ন্টদের এ ব্যাপারে অজ্ঞতা কাজের মাধ্যমেই দূর হয়েছে।

৪. পেশাদারিত্ব নাই (ক্লায়েন্ট এর পক্ষ থেকে বিল দিতে দেরী করা, ফলে ছোট স্টুডিওগুলির টিকে থাকা মুশকিল)

এনিমেশনে ক্লায়েন্ট বিল দিতে দেরি করলেও আশা করি দেরী হলেও পাওয়া যায়? (বুঝে নিন :P)

আমরা যেটা করি কিছু পেপার ওয়ার্ক করে নেই, যেমন ৩০ এডভান্স না দিলে সেই ক্লায়েন্টের কাজ করবো না, এটা অবশ্য প্রথমেই হবে না, আগে ব্র্যান্ডিং দাঁড়াবে, এর পর সেটা দাবী করা যাবে। কাজ পাবার ক্লায়েন্ট যাচাই না করে সবার কাজ নিয়ে বসে ধরা খাবার চাইতে বিশ্বস্ত, মানে আগেও যারা ভাল ও সময়মত পেমেন্ট দিয়েছে তাদের কাজ করাই ভাল। আর একান্ত দুর্বল ক্লায়েন্টের কাজ করলে সেটা মেনে নিয়েই কাজটা নেই যে এর বিল ৪ মাস পর পাওয়া গেলেও যেতে পারে।

৬. ভাল ইনকাম করা হাউজেও এনিমেটরদের বেতন কম।
আমাদের বেতন বলে কিছু নাই-ই। আঁকলে টাকা পাওয়া যায়, তাও নগণ্য। এনিমেটররা আমাদের ইনকাম জানতে চেয়ে লজ্জ্বা দেবেন না।

৭. সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা বলতে গেলে নেই। 
সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা হলে ভালো হয়, কিন্তু এটা আমরা ভাবি নি, আর ব্যাপারটা যদি ফান্ড হয় তবে সেই সাহায্য নিলে আপনার 'টাকা' হবে ঠিকই, কাজ হবে না, আপনার তখন ইনভেস্ট তোলার কোন দায় থাকবে না, আদমজী জুট মিলে পরিণত হবেন।

৮. কমিক্স/ কার্টুন আঁকা শেখার ভাল স্কুল নেই। 
একাডেমি অবশ্যই অনেক জরুরী, আমাদেরও নেই, কিন্তু ইন্টারনেট আর শেখার ইচ্ছা যার আছে তার কাজ শুরু করতে আর কিছু লাগে কী? সবশেষে যারা এসব সমস্যা নিয়ে চিন্তিত তাদের জন্যে আমার খুব প্রিয় একজন এনিমেশন দিকপাল ওসামু তেজুকা'র বাণী তুলে দি'-

আমি যখন অন্যদের জিজ্ঞেস করি, এনিমেশন বানাও না কেন? তারা উত্তর দেয়ে- টাকা নাই, আমি অবাক হই বলি আমারও তো টাকা নাই, কখনো ছিলোও না, আমি যা করেছি তা হল কী করতে চাই সেটা ঠিক করে করে ফেলা, সবার সামনে সেটা করে একটা উদাহরণ তৈরী করা, আর শেষ করে বলা- আমরা পেরেছি! আর এর পর ভাবা শুরু করলাম এবারে এমন কিছু করি যা একেবারে পুরস্কার টুরস্কার জিতে যাবে!

ওসামু তেজুকা হচ্ছেন জাপানীজ কমিক্স (মাঙ্গা) ও এনিমশনের জনক। সবেশষে তাই আমার মনে হয়ে এনিমশেন সেক্টরে আরেকটা জিনিসের অভাব, এবং সেটাই অন্যতম প্রধান কারণ, সেটা হল একজন মেন্টর, যিনি তেজুকার মত বলবেন, আরে টাকা কোন বিষয় না, কে সাহায্য করল কি করল না, ক্লায়েন্ট কী বললো বা বল্লো না ব্যাওয়ার না, করা শুরু করে দাও। আমি মনে করি আমাদের কার্টুন সেক্টরে আমরা একজন তেজুকা পেয়েছি বলেই এখন এরকম লেখা লিখতে পারছি, কমিক্স করতে পারছি। তিনি হচ্ছেন -আহসান হাবীব। এনিমেশন সেক্টরের সমস্যা সমাধানে আমাদের এরকম একজন আহসান হাবীবকেও দরকার।





পরিশেষে বলা উচিত, কমিক্স ও এনিমেশন তূলনা করা যাবে না, কারণ একটা কমিক্স একা একজন বাসায় বসে এঁকে ফেলা যতটা সহজ, এনিমেশনের ব্যাপারটা তেমন না, এনিমেশন যথেষ্ট খরচ সাপেক্ষ ও অনেক সময় ও পরিশ্রম সাপেক্ষ, তার মানে এখানে ডেডিকেশনটা দরকার আরো অনেক অনেক বেশী, কিন্তু কোন কিছুই অসম্ভব না।


November 10, 2019

কালি তুলির ইংকটোবার: INKTOBER Dhaka

চলছে ইংকটোবার ঢাকা, চারুকলার দূর্ধর্ষ সব তরুণ আঁকিয়েদের শোডাউন। শুধু কালি কলম তুলিতে এত চমৎকার কাজ করা যায় তা না দেখলে মিস হবে। গত বছর চারুকলার আঁকিয়েদের এই ইংকটোবার প্রদর্শনীতে গিয়েছিলাম তাই এবারেরটা যাতে মিস না হয় তাই প্রথমেই চারুকলায় গিয়ে এক দফা খুঁটিয়ে দেখে এসেছি আর দীর্ঘশ্বাস ফেলেছি। একাডেমিক আঁকাআঁকি না শিখতে পারার দুঃখটা এরকম দু একটা সময়ে বেশ বেড়ে যায়। কি চমতকার সব কাজ। আর সেই সাথে মাসের ৩১ দিন ৩১ টা আলাদা ড্রয়িঙের থিম বের করা সেটাও যথেষ্ট মুন্সিয়ানার কাজ। যাই হোক। এবারে কিছু ক্লায়েন্ট জবে এতই ব্যস্ত ছিলাম যে ইংকটোবারের ড্রয়িং করা হয়নি, করা হয়েছে বেশ কিছু স্টাডি। আর দেখা হয়েছে অন্যদের কাজ।

এই কর্মযজ্ঞের মূল উদ্যোক্তা চারুকলার দুর্দান্ত আঁকিয়ে প্রসূন হালদার। এরকম একটা আয়োজন করা আর সেই সাথে নিজেও আঁকা আসলেই যথেষ্ট কমিটমেন্টের ব্যাপার। তাঁর বাংলা সিনেমার পুরুষ তারকাদের (মহিলাদের কেন আঁকা হয়নি জানি না) পোর্ট্রেইট সিরিজি দুর্দান্ত ভাল হয়েছে, তাঁকে অভিনন্দন, অভিনন্দন  আরো কিছু অসাধারন কাজ করা হীরক (যথারীতি অরিজিনাল অনবদ্য বাংলার ভূত সিরিজি), রিদম (অসাধারণ স্টার ওয়ার্স সিরিজ), ফাহিম ইন্তেসার, ফাইয়াজ (তার করা লাস্ট ট্যুইস্ট দেখলে মজা পাবেন সবাই), মিশকাত, অরণ্য আবীর (NOR নিয়ে সিরিজ চাই), রিমঝিম (এই মেয়েটার কাজ খুবই অন্যরকম), জুবায়ের বিন আজিম (ভাংচুর সাইকাডেলিক রিক্সা আর্টিস্ট), তানভীর মালেক (এই ছেলে অনেক দূর যাবে), ফারিন (অত্যন্তু নিট কাজ, খালি ম্যাটেরিয়ালে আরেকটু অভ্যস্ত হওয়া বাকি), অঙ্গনা আহসানা (নিজের বিড়াল নিয়ে মৌলিক সিরিজ বেশ উপভোগ্য), অনামিকা (খুবই ভাল কাজ, সম্প্রতি আঁকা মাছের ছবিটাও দারুণ), অম্লান দাশ- আসলে নাম বলে শেষ করা কঠিন। আরেকজনের নাম না বললেই না, সাইফুল আলম সজল। তার নিজেকে নিয়ে সিরজিটা বেশ ভাল লেগেছে।

যাই হোক, লেখা পড়ে কাজগুলি কেমন তার কিছুই বোঝা যাবে না, কাজের প্রদর্শনীটা চলছে ধানমন্ডি ২৭ এর মাইডাস সেন্টার লিফট এর ৯ এ, EMK সেন্টার এ, ইভেন্ট লিংক এখানে । গতকাল প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বস আহসান হাবীব! সাথে ছিলেন চারুকলার শিক্ষক বিশ্বজিৎ স্যার। আর ওরকম একটা সুন্দর জায়গায় এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে দিয়েছেন আশফাক ভাই। প্রদর্শনীটি চলবে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত।

যেই যেতে চান একটাই সাজেশন, পারলে ব্যগ ট্যাগ ছাড়া যাবেন নচেত এয়ারপোর্টের ব্যাগেজ চেকিং এর মত একটা চেকিং এ পড়ে যাবেন। 

অভিনন্দন সবাইকে।






November 06, 2019

কার্টুন ফ্যাক্টরির এক যুগ

এ বছরটা ইচ্ছেকৃতভাবে বিভিন্ন ক্লায়েন্টকে বিলিয়ে দিলাম, আর কোন বছর এই পরিমাণ অন্যের প্রজেক্ট করেছি বলে মনে পড়ে না, গায়ের রঙের জন্য চোখের নিচের কালি কেউ দেখতে পাচ্ছে না বলে বোঝা যাচ্ছে না, মিতুকে দেখিয়ে বোঝাতে হচ্ছে যে অবস্থা কত খারাপ, সে চোখ বন্ধ রাখলে মনে হয় সানগ্লাস পরে আছে। যাই হোক, কাজ কর্ম শেষের দিকে, সামনের বছর অন্তত ৬ মাস ঘুরে বেড়াবো সেই কারণে আমাদের এই আত্মাহুতি। এর মাঝে হঠাত নাঈমের ফোন, ক্যাজুয়াল চুলের সিরিয়াস আর্কিটেক্ট কাম আঁকিয়ে নাঈম কার্টুন নিয়ে-আরো অনেক কিছুর মতই- বেশ সিরিয়াস, সে পাশ করেছে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেকচার ডিসিপ্লিন থেকে, সে ছাত্র থাকা অবস্থায় শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্টুন প্রেমী দলটা সম্পর্কে জানতে পারি ওর মাধ্যমেই। দলটার নাম 'কার্টুন ফ্যাক্টরি', এখন কী ব্যাপার? ব্যাপার হল তাদের ১২ বছর পূর্তি! শুনে টের পেলাম বুড়ো হয়ে যাচ্ছি, এই সেদিন মনে হয় শুনলাম এরকম একটা দল আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কার্টুন দল আঁকাআঁকি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, তাদের কাজ কর্মও বেশ ভালো, আর এখন দেখতে দেখতে এক যুগ?? যাকগে, প্ল্যান কী? প্ল্যান হল প্লেনে করে আমি মিতু আর হালের ইলাস্ট্রেশন সেনসেশন ও আরেক আর্কিটেক্ট তীর্থ ভাই যাব সিলেটে। বলা যায় ঝটিকা সফরে। সকালে প্লেন, দুপুরে খাওয়া, বিকেলে প্রোগ্রাম রাতে শেষ করে ঘুম, পরদিন দুপুরে আবার রিটার্ন টু ধুলার শহর।

এর মধ্যে চলছে আমাদের আঁকান্তিসের কার্টুন কোর্স, আর অন্যান্য ক্লায়েন্ট কাজ জমা তো আছেই, তারপরেও ১২ বছর পূর্তি বলে কথা, তার ওপর কার্টুনের দল, না বলা কঠিন, সুতরাং হাবিজাবি সামলে ঠিকই অক্টোবরের ২৫, ২০১৯ সকালে আমাদের তিনজনকেই পাওয়া গেল বিমানবন্দরের ডমেস্টিক টার্মিনালে, এর পরের ইতিহাস দুঃখের ইতিহাস, ছোট করে বললে সকাল ১১ টার প্লেন ছাড়ে ১টার পরে, কারণ প্রথম যে বিমানে উঠেছিলাম সেটায় যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল, আবার অন্য বিমান না আসা পর্যন্ত সেখানেই শ' দুইয়েক যাত্রীকে বসে থাকতে হয়েছে, কারণ চাইলেই নাকি নেমে বিমান বন্দরের টার্মাকে হাঁটাহাঁটি করার উপায় নেই। সেটাও সমস্যা হত না, যদি বিমানে এসি ছাড়া থাকতো বা নিদেনপক্ষে জানালা খোলা যেত। ইঞ্জিন বন্ধ- তাই দুই ঘন্টা আমরা এতজন ঘামতে ঘামতে বিমানে ঠায় বসা। তাই বাসে বা ট্রেনে যাবার চাইতে কম কষ্টের হয়নি জার্নি।

সে যাক, বিমানবন্দরে নেমেই উষ্ণ অভ্যর্থনা কার্টুন ফ্যাক্টরি দলের, বিখ্যাত পাঁচ ভাই হোটেল দুপুরের জমজমাট খাওয়া দাওয়া, এর পর শাহজালালের গেস্ট হাউজে পাখির গোসলের মত স্কেলে পাখির বিশ্রাম সেরে সরাসরি অডিটোরিয়ামে। সেশন ভালোই হল, অবাক হলাম সবার ধৈর্য দেখে, আমি নিজে কার্টুন আঁকি কিন্তু এই তিন ঘন্টা টানা কার্টুন নিয়ে ভ্যাজর ভ্যাজর শোনার ধৈর্য্য আমার হবে না, এরা কার্টুন (অথবা আতিথেয়তা) নিয়ে খুবই সিরিয়াস , যাই হোক সেশনের আগে কার্টুন ফ্যাক্টরির কার্টুন প্রদর্শনী দেখে এসেছি আমরা, বাইরেই কাপড় ও চাটাই ঘেরা প্রদর্শনী, বেশ কিছু কাজ ভাল লাগল, কয়েকটায় বেশ পেশাদারী ছোঁয়া আছে। এভবে দশ বছর ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো যথেষ্ট কঠিন কাজ (নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানি), এতদিন এভাবে এতগুলি ব্যাচ ধরে এটা ধরে রাখাও কঠিন। একটা উত্তর পাওয়া গেল জেনে যে কার্টুন ফ্যাক্টরির প্রতিষ্ঠাত ও অন্যান্য সিনিয়র সদস্যদের মোট ৬ জনই এখন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক! সংগঠনের এতদিন চালু থাকার পেছনে এদের বিরাট অবদান আছে।

অভিনন্দন কার্টুন ফ্যাক্টরি! সামনের ১২ বছর আরো দারুণ কাটুক সেই কামনা রইলো।





গুরুগম্ভীর আলোচনা ১

লঘুগম্ভীর আলোচনা

প্রেম দৃষ্টি

ফ্যাক্টরির প্রদর্শনীর ভীড়



November 04, 2019

আঁকান্তিসের কার্টুন ড্রয়িং কোর্স

শুরু হচ্ছে আঁকান্তিসের কার্টুন ড্রয়িং কোর্স, এবারের কোর্সটি কার্টুন ফিগার ড্রয়িং নিয়ে, ফিগারের পর পর কার্টুন আঁকার অন্যান্য বিষয় যেমন ব্যাকগ্রাউন্ড, কার্টুন টাইপোগ্রাফি, ডায়ালগ বাবল ইত্যাদি সহ একটা কার্টুন কিভাবে ছাপার উপযোগী করা হয় সেটাও দেখানো হবে। আগ্রহীরা কমেন্টে দেয়া কোর্স কারিকুলাম দেখে নিন। আর যে কোন প্রশ্নে কল করুন 01859098777 নাম্বারে। আর সশরীরে এসে ভর্তি হতে পারেন আঁকান্তিসের পান্থপথ মোড়ের অফিসে

ক্লাস ২৯ নভেম্বার, ৬, ১৩, ২০ ডিসেম্বর (পর পর চার শুক্রবার)
ক্লাস টাইম সকাল ১১ টা থেকে বিকাল ৪ (১ টা থেকে ২ টা লাঞ্চ ব্রেক)
যোগাযোগ 01859098777


October 31, 2019

যেভাবে একজন বিরক্তিকর 'ফেইসবুক আর্টিস্ট' হবেন: ১ম ধাপ


১. যা-তা একটা কিছু এঁকে নিজের খোলা 'art of ...' পেইজে পোস্ট করুন, এর পর দেশে বিদেশে যত আর্ট গ্রুপ আছে সেখানে পেইজ থেকে শেয়ার দিন, সাথে লিখুন if you want to see more please like my page

২. স্ক্রল করুন আজ ফেইসবুকে কী ট্রেন্ড চলছে, সেটা নিয়ে কোনরকমে একটা কিছু দাঁড়া করান, ফটো ট্রেস করে আঁকলে আরো ভালো হয়, আর সাথে কিছু কান্না কান্না দেশপ্রেম বা উগ্র নীতিবাক্য লিখে দিন শেষে লিখুন- 'আমরা কি পারি না... ইত্যাদি ইত্যাদি'

৩. ড্রয়িং যেহেতু কোন বিষয় না সেহেতু সেটা বাদে আর সবই করুন, স্টাডির কোনই দরকার নেই, কোন একটা ড্রয়িং ট্রেন্ড ধরুন, ট্রেন্ড যাতে ছুটে না যায় সে জন্যে তাড়াতাড়ি নিজে যা পারুন তার চেয়ে ২০০% পঁচা করে একটা কিছু এঁকে পোস্ট দিন।

৪. এটেনশন পাবার জন্য-
  • বাথরুম নিয়ে ফান করুন।
  • নিজেকে স্মার্ট ও বিপ্লবী বোঝাতে যত গালি আছে সেগুলি ডায়ালগে রাখার চেষ্টা করুন।
  • রাজনীতি নিয়ে কোন রকম পড়াশোনা না থাকলেও সব রাজনৈতিক (ট্রেন্ডি) বিষয় নিয়ে একটা কিছু জোড়াতালি দিয়ে ছাড়ুন।
  • প্রচলিত জনপ্রিয় কৌতুক এঁকে নিজের নামে চালিয়ে দিন। যারা কৌতুকটা পড়ে নাই তারা ভাববে আপনি কি অসাধারণ আইডিয়াবাজ।
৫. আঁকুন ১০% প্রচার করুন ৯০%।



September 03, 2019

আঁকান্তিসের ক্যারেক্টার ডিজাইন কোর্স

শুরু হতে যাচ্ছে শুধুমাত্র ক্যারেক্টার ডিজাইন নিয়ে আঁকান্তিস স্কুলের কোর্স, খুবই টু দ্যা পয়েন্টে কারিকুলামটা তৈরী করার চেষ্টা করা হয়েছে, আশা করি এবারের কোর্সটা একটু অন্যরকম হবে, দেখা যাক কী হয়।

August 28, 2019

প্রাগৈতিহাসিক কমিক্স

এস এস সি পরীক্ষা দেবার পরপর একটা কমিক্সের ড্রাফট করে ফেলেছিলাম ৬০ পেইজের। এবং তারপরে সেটা আর করা হয় নি বিভিন্ন কারণে, একটা বড় কারণ ছিল 'আরো ভালো করে করব' সেই ভালো করে করার কথা ভাবতে ভাবতে সময় চলে গেছে, একসময় সেটা হারিয়েও ফেলেছি, আবার মাঝে মাঝে খুঁজে পেয়েছি, রেখে দিয়েছি 'আরো ভালো করে করব' ভেবে। সেই ভালো করে করা আর হয়নি, মাঝে পঁচা করে করা হয়েছে অনেক কাজ, চলে গেছে অনেক সময়। কিন্তু সেই নিজের মত করে একটা অ্যাডভেঞ্চার গল্প আর লেখা হয়নি। শেষমেশ যখন বুঝতে পারলাম আমি আসলে ভালো করে আঁকতে বা লিখতে পারি না, আর সেটা ভালো করে বলতে আমি যেই-পৃথিবীর সেরা একটা কিছু করে ফেলবো-বলে ভাবছি তাও হবে না তখন যা পারি তাই দিয়ে নামিয়ে দেবার জন্য রেডি হলাম। এবং সেই সাথে কাকতালে মিলে গেল কিশোর আলো ম্যাগাজিনের পাভেল ও দীপ্র কর্তৃক মাসপ্রতি ধারাবাহিক 'একটা কিছু' করার প্রস্তাব। সুতরাং সেই প্রায় প্রাগৈতিহাসিক কমিক্সটা সেই আমলের ফ্রেমিং ও কিঞ্চিত টিনটিন ঘেঁষা আকারে শুরু হয়ে গেল, আগামী কিআ সংখ্যা থেকে ধারাবাহিকভাবে চলবে। আগ্রহীরা জোগাড় করতে পারেন।



August 22, 2019

Free WACOM gift from AKANTISchool by WACOMBD


আঁকান্তিস স্কুলের ইউটিউব চ্যানেলে শুরু হল ARTS BY RATS http://bit.ly/2P8YH4Q এর ডিজিটাল কালারিং টিউটোরিয়াল সিরিজ, হাতে এঁকে সেটা কিভাবে পিসি তে নিয়ে রঙ করা যায় আর কিভাবেই বা লাইট অ্যান্ড শেড দেয়া হয় সেটার পরপর তিনটা টিউটোরিয়াল হবে, টিউটরিয়ালগুলো আপ করা হবে প্রতি শুক্রবার। আর তার শেষে থাকছে দারুণ একটা GIVEAWAY। কাদের জন্যে? টিউটোরিয়াল অনুযায়ী এসাইনমেন্ট করে আঁকান্তিসের ফেইসবুক গ্রুপে যারা পোস্ট করবে তাদের জন্য, তাদের থেকে সবচেয়ে ভালো কাজ যার হবে সে পাবে RED APPLE 'র http://bit.ly/2zd6ljR পক্ষ থেকে একটি ওয়াকম ডিভাইস! আগ্রহীরা সাবস্ক্রাইব করে নোটিফিকেশন ঘন্টায় ক্লিক করে রাখুন 

August 17, 2019

কিউটনেস আঁকিবুকি

সাপ্তাহিক আঁকান্তিসের টিউটরিয়াল চলছে :)

August 14, 2019

SketchBook tour Mehedi Haque 01

একটা স্কেচবুক ট্যুর বানিয়ে ফেললাম, খুবই লো কোয়ালিটি অডিও, হিস হিস টাইপ সাপের মত শব্দ হচ্ছে খালি। পরেরটায় আরো বেটার করবো আশা করি।

August 04, 2019

আঁকান্তিসের নতুন কোর্সঃ ক্যারেক্টার ডিজাইন

মাত্রই বেশ ভালোভাবে শেষ হল আঁকান্তিস স্কুলের প্রথম কার্টুন কোর্স, আর এবার শুরু হচ্ছে ক্যারেক্টার ডিজাইনের একটা কোর্স, এবারেরটা কিঞ্চিত সিরিয়াস, মানে প্রফেশনালি যাঁরা কাজ করছেন তাঁদের কথা ভেবেই ডিজাইন করা, বিভিন্ন এনিমেশন ফার্ম, বা বিজ্ঞাপন সংস্থায় কাজ করেন যেসব আর্টিস্ট অথবা ফ্রিল্যান্স আর্টিস্ট- যাদের মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন এন জি ও দের জন্যে 'স্বাস্থ্য-আপা' ধরনের ক্যারেক্টার ডিজাইন করতে হয়ত তখন বোঝা যায় যে এই টপিক টা একটা আলাদা গুরুত্ব ধরে, নিজে দু' বছর আগে একটা এরকম কোর্স করেছি CGMA তে, তাই বেশ চনমনে লাগছে যে এই সুবাদে যা শিখেছিলাম তা আবার ঝালিয়ে নেয়া যাবে।

যাই হোক, অন্য ডিটেইল হল এটা পর পর চার সপ্তাহের চার শুক্রবারে আমাদের আঁকান্তিসের ডেরায় (১৫২/২, গ্রিন রোড, পান্থপথ) সকাল ১০ টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৩ টায় শেষ প্রতিদিন। কিছুটা ক্র্যাশ ফরম্যাটের কারিকুলাম করেছি, ক্লাসেই আঁকার পার্ট থাকবে অনেক, আর শেষে হবে একটা প্রফেশনাল এসাইনমেন্ট জমা। তারপরে সার্টিফিকেট, চা -নাস্তা ইত্যাদি। 

কোর্সে রেজিস্ট্রেশন করুন এইখানে



July 21, 2019

ক্যারেক্টার ডিজাইন সহজ টিপস

কার্টুন আঁকতে পারি, কিন্তু নতুন নতুন ক্যারেক্টার আঁকা বেশ ভেজাল লাগে- এমন মনে হয় অনেকেই আছি আমরা। ব্যাপারটা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই, কারণ আসলেই বিষয়টা একটু কঠিন। তবে সেটা করার বেশ কিছু টোটকা উপায় আছে, তারই একটা আজ বাতলানো যাক।
প্রথমে যেটা করতে হবে সেটা হল মোটা কোন তুলিতে, বা সাইনপেন, বা মার্কার- সোজা কথা মোটা কালি বের হয় এমন কিছু দিয়ে যে ক্যারেক্টারটা আঁকতে চাচ্ছি তার একটা ছায়া শরীর দাঁড়া করানো, যাকে ইংরেজীতে বলে সিলহুয়েট (silhouette). মুখ চোখ কিছুই নেই, খালি কালোতে অবয়বটা। এটা একেবারে ছোট করে আঁকতে হবে। অনেকটা বুড়ো আঙুলের যেই সাইজ তার মধ্যে। ফলে ভুল টুল যা হবার কমের উপর দিয়েই হবে। এবং যেহেতু খালি কালিতে ছোট ছোট করে আঁকা তাই যত গুলি মাথায় আসে পাশাপাশি খুব কম সময়েই এঁকে ফেলা যাবে। ধরা যাক আমরা একটা কাল্পনিক সামুরাই যোদ্ধা বানাতে চাই, যেটা আবার দেখতে একটু তেলাপোকা ধরনের। ‘ককরোচ সামুরাই’ ধরনের একটা কিছু আরকি। নিচে সেটা কেমন হতে পারে তার কিছু সিলুয়েট এঁকে ফেললাম, একটা মোটা একটা চিকন লম্বা, একটা গরিলা টাইপ- ইত্যাদি।
এবারে কোনটা আমার ভাল লাগছে সেটা একান্তই আমার নিজের ব্যাপার। আর যেহেতু মাথায় যা এসেছে সবই পাশাপাশি এঁকে নিয়েছি তাই সব শেষে ‘অন্যটা হয়ত আরো ভাল হত’ এই আপসোসটা আর থাকবে না। যাই হোক এখানে আমার যেমন গরিলার মত, মানে দুই নাম্বারটা বেশ মজার লেগেছে, এবারে আমি যেটা করবো সেটা হল এটাকে বড় করে নেব। ডিজিটালি হলে ফটোশপে ট্রান্সফর্ম টুল দিয়ে এটা টেনে বড় করে ফেলা যায়, আর হাতে আঁকা হলে কোন একটা ফটোকপির দোকানে গিয়ে দ্বিগুণ সাইজে কপি করে দিতে বলা যায়। আর সেটাকে একটা লাইটের উলটো দিকে ধরে আরেকটা কাগজে অবয়বটা তুলে নিতেও খুব একটা কষ্ট হবে না, সায়েন্সে যারা পড়েছো বা পড়ছো তার অনেকেই জীববিজ্ঞানের প্র্যাকটিকাল খাতায় এই দুর্দান্ত টেকনিকটা ব্যবহার করেছো। আর ফটোশপে যারা আঁকবে তারা তো জানোই কিভাবে লেয়ারের ওপাসিটি কমিয়ে কাজটা করতে হবে। যাই হোক ধরে নিচ্ছি কার্টুনের চরিত্র আঁকতে যাদের ইচ্ছা, তাদেও এই জিনিসটা সমাধানে তারা ঠিকই একটা উপায় বের কওে ফেলবে। 
এবারে তাহলে পরের ধাপ।
ছোট করে যেটা এঁকেছিলাম এবারে বড় করে সেটার উপর আবার আরেকটু হাত চালানো। মনে রাখা জরুরী যে এখানে কখনই প্রথমে যা করা হয়েছিলো সেটাই শেষ পর্যন্ত থাকবে এমন না। প্রতি ধাপে একটু একটু করে ঠিক করে নেয়া যেতে পারে। কারণ পুরোটাইা আর্টিস্টের নিজের ইচ্ছা। আর এই ধাপে আরেকটা বুদ্ধি হল খুব বেশী জটিল করে না এঁকে একবারে সহজ জ্যামিতিক ফর্মে গোটা ক্যারেকটারটাকে রাফ করে নেয়া। যত সরল করে রাখা যায়।

এবারে যার যার আঁকার শক্তি দেখানোর পালা। ওই সহজ করে আঁকা ফর্মের মধ্যে যত ইচ্ছা ডিজাইন পুরে দেয়া। এখানে মাথায় ডিজাইন না এলে এই ধরনের রেফারেন্স জোগাড় করে নেয়া যেতে পারে। যেমন এখানে আমি কিছু সামুরাই যোদ্ধার আসল ছবি ইন্টারনেটে দেখে নিয়েছিলাম।


এবারে ফাইনাল করা, যে যেভাবে খুশি করে নার। কলমে আউটলাইন করে পরে রঙ করে নেয়া, বা সাদা-কালোতেই রাখা- সবই আঁকিয়ের মর্জি। মোদ্দা কথা একেবারে আন্দাজে না এঁকে এই পদ্ধতিতে এগোলে জিনিসটা একটু হাতে থাকে। কিন্তু ক্যারেক্টার কী হবে আর রঙ কেমন হবে তা সবই যে আঁকছে তার ওপর। তাহলে শুরু করে দার তোমার নিজের কার্টুন ক্যারেক্টার ডিজাইন?
আবার কথা হবে শিঘ্রী।





July 04, 2019

ক্যারিকেচার বেসিক

ক্যারিকেচার শেখানো যায় না, কিন্তু কী মেথডে চেষ্টা শুরু করা যায় সেটা বোঝা সম্ভব। আঁকান্তিসের চ্যানেল থেকে আরেকটা টিউটোরিয়াল।

July 03, 2019

আমি যখন বড় হব: রোহিঙ্গা শিশুদের আঁকা চিত্রপ্রদর্শনী


রাখাইনের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মায়ানমার আর্মির ভয়ানক নির্যাতনে বিশ্ব হতচকিত, এবং যথারীতি নিরব। অন্তত পৃথিবীর দুঃসময়ে এগিয়ে আসার জন্যে যেই প্রতিষ্ঠানটির অপর মানুষের ভরসা করার কথা সেই জাতিসংঘ নিজেদের একটা ভেড়া প্রমাণিত করে বসে বসে জাবর কাটছে, সম্প্রতি তো এটাও জানা গেল যে তাঁদের কাছে নাকি এই গণহত্যা ঘটতে পারে বলে আগে থেকেই রিপোর্ট ছিল, তারা নাকি আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সেটা সময় মত সঠিক বিভাগে পাঠাতে পারেনি (!)। পৃথিবীর সবথেকে অপরাধী আমি মনে করি যারা যুদ্ধ করে তারা না, যারা সেটা ঘটায় ও সেটা ঘটতে দেয় তারা।

যাই হোক, পৃথিবী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্যে নাকি কান্না কাঁদা ছাড়া আর কিছু করুক না করুন বাংলাদেশ সরকার কিন্তু অভূতপূর্ব একটি মানবিক উদ্যোগ দেখিয়ে তাদের প্রায় সবাইকেই নিজের দেশে আশ্রয় দিয়েছে। এর জন্যে তাঁদের ধন্যবাদ প্রাপ্য। পৃথিবীব্যাপি যখন আমাদের চোখে 'সভ্য' ও 'উন্নত' দেশগুলি শরণার্থীদের নিজের দেশে ঢুকতে না দিয়ে পানিতে ডুবতে দিয়ে বা না খেয়ে মরে যেতে দিচ্ছে সেখানে আমাদের মত জনবহুল ও তাঁদের তুলনায় দরিদ্র্য দেশের এটা অবশ্যই এক বিরাট উদারতা ও মানবিকতা বটে। 

এখন সব কিছুর শেষে বাস্তবতা দাঁড়িয়েছে দশ লাখের ওপর রোহিঙ্গা শরনার্থী গত ২০১৬ থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, তারা কবে ফেরত যাবে বা আদৌ যাবে কি না সেটা এখন একটা বিরাট খাঁড়ার মত প্রশ্ন হয়ে সবার মাথার ওপর ঝুলছে, এই মূহুর্তে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী বিষয়টা নিয়ে ঘটনার মুল মাফিয়া ডন চীনের সাথে কথা বলতে গেছেন। আমরা অতটা আশাবাদি নই, তারপরেও আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করা ছাড়া আর কী-ই বা করার আছে আমাদের? 

রোহিঙ্গারা যদি এখানে বেশ কিছুদিন থেকে যায় তবে সবথেকে বড় একটা সংকট হবে এদের পরের প্রজন্ম। মানে যারা এখন একেবার ছোট, বা এখানে জন্ম নিল। কার্যত তাদের কোন দেশ নেই, আইন নেই, প্রতিষ্ঠান নেই। এরা বড় হবে এক জিঘাংসা নিয়ে, এবং 'ভাল' মানুষ হয়ে বেড়ে ওঠার তাদের খুব একটা দায় থাকবে না। এরা অপরাধে জড়িয়ে গেলে তখন সেটা বাংলাদেশের জন্যে এক অসহনীয় সমস্যা হয়ে দেখা দেবে। তো এই ব্যাপারটা যাতে না ঘটে সেজন্যে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক এনজিও দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে সরকারের পাশাপাশি, যেমন তাদের একটা ভাল স্কুলভিত্তিক পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দেবার কাজ করছে ইউনিসেফ (বৃটিশ কাউন্সিলের সাথে মিলে আমরা সেইসব বইয়ের ডিজাইন ও আঁকাআঁকি করছি এই মূহুর্তে)। এদের একটা স্ট্যান্ডার্ড পড়াশোনার ব্যবস্থা করা গেলে ভবিষ্যৎ সমস্যার কিছুটা হলেও কমবে এই হল এখন একমাত্র আশা।

সম্প্রতি এরকমই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আহবানে (মুলত আমার নিউ এইজের এক্স কলিগ সাদ হাম্মাদি ভাইয়ের আমন্ত্রণে) আমরা ৭ জন কার্টুনিস্ট একটা দারুণ প্রজেক্টে ঘুরে এলাম রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। সেটা হল বাচ্চাদেরকে কার্টুন আঁকা শেখানো ও তারপরে তারা জীবনে কে কী হতে চায় সেটা আঁকতে বলা। বাচ্চারা দূর্দান্ত এঁকেছে। আমাদের চিন্তার বাইরে সুন্দর তাদের আঁকা। এবং আমরা মুখে, রোহিঙ্গা, মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান যে নামেই ডাকি না কেন, বাচ্চাদের একমাত্র পরিচয় হল তারা বাচ্চা। তারা সব এক, আলাদা করি আমরা বড়রা।

যাই হোক, দূর্ভাগ্যবশত; কক্সবাজার নেমেই আমি নিজে ভাইরাল জ্বরে কাবু হয়ে তিনদিন হোটেলেই পড়ে ছিলাম, অন্যরা সবাই ক্যাম্প ঘুর এসেছে, তাই ক্যাম্পের অভিজ্ঞতা আমি এখানে বলতে পারছি না। যাই হোক, আমরা বরং তাদের কিছু আঁকা দেখি। তাদের আঁকা প্রদর্শিত হয়েছিল ২০-২৫ জুন, ২০১৯ ঢাকার, EMK সেন্টারে। সব কাজ নিয়ে একটা বইও বের হচ্ছে আজ। যথাসময়ে সেটাও শেয়ার করার চেষ্টা করব।

শিক্ষক হয়ে ইংরেজী শিখাইতে চাই

ইনি সম্ভবত তাকেই কপি করেছে

EMK সেন্টারে প্রদর্শনী

EMK সেন্টারে প্রদর্শনীঃ মোট ১৫৬ টি ছবি ছিলো গ্যালারি জুড়ে
ক্যাম্পে আঁকছেন মামুন ভাই

মৌলবী হইতে ইচ্ছুক

কার্টুনিস্ট মাহাতাব ও রোহিঙ্গা শিশু
একজন হতে চেয়েছে মসজিদের ঈমাম


কারররটুনিস্ট টিম। বাম থেকে আবু হাসান, নাসরীন সুলতানা মিতু, সালমান সাকিব শাহরিয়ার (যদিও সে এবারে গিয়েছিলো ফোটোগ্রাফার হিসেবে), মামুন হোসাইন, আমার এক্স কলিগ অ্যামনেস্টির দক্ষিণ এশিয়ার Regional Campaigner  সাদ হাম্মাদি ভাই, চারুকলার তুখোড় আঁকিয়ে প্রসূন হালদার ও মাহাতাব রশীদ।

No face: Instagram version