April 27, 2026

ঝড়ের দিন

বিরাট ঝড়ে পড়েছিলাম গতকাল। ঢাকা কমিক্স স্টুডিও থেকে কাল মেঘ দেখেই প্রমাণ সাইজের যে ছাতাটা (যার নিচে অনায়াসে হাত এঁটে যাবে) ফুটপাত থেকে কিনেছিলাম সেটা কোমড়দাবা (বগলে আঁটে না) করে বের হতে না হতেই কড়কড়াত শব্দে কান ঝালাপালা বজ্রাঘাত। এবং ছাতা উলটে 'পপাত চ মমার চ'। যত বড় ছাতা তত বড় উল্টানি। আর ঠিক তখনই মাথার ওপরে কোথাও কিছু একটা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হল। মনেমনে হাসি পেল। এই মুহুর্তে বজ্রাঘাতটাই বাকি আছে আমার। ওপরে ট্রান্সফরমার জওলে গেছে। ওপর থেকে আমাকে নিশানা করে ফেললেও অড সাইজ ছাতাটা নিশানায় ব্যঘাত ঘটিয়ে থাকবে। ভিজে একশা হয়ে ফিরলাম বাসায়। কাজের গুল্লি।
রাতে আবার সব সুনসান হলে ঘুরতে গেলাম উত্তরায় আমার সাপ্তাহিক বন্ধুদের সাথে আড্ডায়। 

যাই হোক। এদিকে পেইজ উদ্ধারে এখন কাম্প্রূপ কামাক্ষ্যা থেকে আসা মগা মহারানী অং শিং নাং এর মোবাইলে কল করা বাকি। আপাতত ডিবি পুলিশ দেখছেন, আর এদিকে শুভানুধ্যায়ীরা যে যার চ্যানেলে চেষ্টা করছেন। পাবার সম্ভাবন ক্ষীণ, তবে জিরো নয়।

এদিকে কাজ চলছে অনুকে লালন পালনের মাঝেই, চলছে একটা এনিমেশন প্রজেক্ট। মূল ক্রেডিট স্টুডিও কমিক্স আর্টিস্ট সাবিত ও পোলোর। আমার গাইড ও আছে কিছু। এনিমেশন যেহেতু আমার ফিল্ড না তাই ওদের অপরেই ছেড়ে দিয়েছি। স্যাম্পল ক্লিপ-


আর এর বাইরে টুকটাক এডিট শেষে কালকের ড্রাফট করা প্রচ্ছদ টা দিলাম। পরের কাজ আউটলাইন ছাড়া করার প্ল্যান। প্র্যাকটিস করতে হবে। 









April 25, 2026

Mehedi Haque.org new website

 ইন্টারনেট বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এর সাথে আমার কোন একটা বিরাট কুফা কাহিনি আছে। যা-ই করি। একটা না একটা সমস্যা হবেই। আমার একটা সবেধন নীলমণি যে ওয়েবসাইট ছিল তা হঠাত একদিন খুলে দেখি সেখানে টি শার্ট বিক্রি করছে কোন এক চাইনিজ ভাই। ঘটনা না বুঝে ইমেই সার্চ করে দেখি ডোমেইন রিনিউ এর ইমেইল টা spam ফোল্ডারে পড়ে আছে। দেখা হয় নাই। কী আর করা। আর এখন অনেক চেষ্টা করেই সেই ডট কম আর পাচ্ছি না। ফলে বাধ্য হয়ে নিজেই নিজেকে প্রতিষ্ঠান ঘোষণা দিয়ে ডট অর্গ এর শরণাপন্ন হলাম। এখনো অনেক কাজ বাকি, তবে মোটামুটি কাঠা দাঁড়িয়ে গেছে। পুরোটাই সাহায্য করেছে হাফপ্যান্ট কালের বন্ধু ইথিকাল হ্যাকার (নীতিবান চোর?) সজীব। 

এই হল সাইট লিংক আর নিচে একটা ল্যান্ডিং ফটোর স্ক্রিনশট দিলাম। এই জিনিস সাজাতে ভালই সময় দিতে হবে। 

এ ক'দিন সমানে কাজ করছি। একটা বড় সময় যায় অনুর পেছনে। তবে সে ঘুমালে কিছু সময় বের করা যায়। সমস্যা হল ততক্ষণে আবার দেখতে দেখতে নিউ এইজে যাবার সময় এসে যায়। যাইহোক, এভাবেই জোড়াতালি দিয়ে এগোচ্ছি। পলিটিকাল কার্টুন চলছে। যেহেতু ফেইসবুক পেইজ গন, সেহেতু শুধু লিংকড ইন এ দিচ্ছি এখন। সাথে এখানেও দিয়ে রাখা যাক।


কুমিল্লা ক্যান্টমেন্ট এলাকায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার সেই এক দশক আগের তনু মার্ডার কেসের কিছু ফলো আপ হঠাত শুরু হল। অবশেষে একজন সন্দেহভাজন সেনাসদস্য গ্রেফতার হয়েছে। এবং তার ডিএনএ নমুনা ক্রস ম্যাচের জন্যে নেয়া হয়েছে। কী ভয়ানক অনাচার! সেনা সদস্য- তাই দশ বছর কোন বিচারের প্রক্রিয়াই এগোয়েনি। আর আমার চোখে আরেকটা যেটা ধরা পড়লো, সে গ্রেফতারের পরেও এখনো শুধু তনুর ই ছবিসহ নিউজ আসছে। সম্ভাব্য রেপিস্ট ও খুনি সেই লোকের কোন ছবি নেই! নুরুল কবীর ভাইকে বললাম, তিনিও নোটিস করে ছবি খুঁজতে লোক লাগালেন। কিন্তু দুইদিন পর্যন্ত পাওয়া গেলো না। আজ সর্বপ্রথম তার ছবি মিডিয়াতে এলো। এই একটা কেসে আমি অনেকদিন ধরে কার্টুন এঁকে যাচ্ছি, ও এর শেষ দেখার জন্যে অপেক্ষা করছি। এ ছাড়া আরেকটা যেই কেস আমাকে অনেক নাড়া দিয়েছিলো সেটা ছিল লিমন। এক র‍্যাব সদস্য অকারণে গুলি করায় যাকে একটা পা হারাতে হয়েছিলো। শেষমেশ সে বিচার পেয়েছে। তৃতীয় আরেকটা কেস, যা আমি আশাবাদী এই নতুন সরকারের আমলে আলো দেখতে পাবে সেটা হল নারায়ণগঞ্জের ত্বকী হত্যা মামলা। সাগর-রুনি হত্যা মামলা নিয়ে আমি অবশ্য অতটা আশাবাদী নই।


জুলাই 'যুদ্ধ'র অন্যতম গুড়ের মাছি হাসনাত আব্দুল্লাহ্‌, বর্তমানে যার দল জামাতের একাধিক লেজের মধ্যে একটি লেজ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, সে জানিয়েছে গাড়ি ছাড়া তার খুব কষ্ট হচ্ছে, এম্পিদের টা না হোক, সরকারী ইউএনও দের মত একটা গাড়ি চাই, সাথে তার এলাকায় একটা অফিস। যদিও এমপি হবার আগে গাড়ি দূরে থাক, এমপি-মন্ত্রীদের যেকোন সুবিধা নেবার যে কালচার তা তারা পালটে দেবে, এবং অন্যদের জান খারাপ করে ছাড়বে এমন একটা আভাস সে দিয়েছিলো। আর এদিকে সে গাড়ি চাইতেই জুলাই এর জাতির জনক জামায়াতের আমীর ড. শফিকুর রহমান বলেছেন- ছোটদের আবদার ফেলতে নেই। তাই নিয়ে চটজলদি কার্টুন।

জুলাই এর ভাগ বাঁটোয়ারা আর গুপ্ত রাজনীতি সাথে আমার বিশ্লেষণ নিয়ে এখানেই একটা লেখা পোস্ট করে রাখবো শিগগির ই।

এ ছাড়া চলছে একাধিক ইলাস্ট্রেশন এর কাজ।
 


এটা মাত্র নামালাম, একটা বইয়ের কাভার। ব্র্যাক এর একটা প্রজেক্ট, প্রকাশ করছে UPL।
আর সেই সাথে চলছে ডাইনো-টুটি সিরিজের পরের বইএর কাজ। পেন্সিল ও গল্প আমার, সেটার ওপর ইংক আর রং করছে সব্যসাচী চাকমা- পোলো।
 
 
 




এই সিরিজ নিয়ে আমি বেশ আশাবাদী, কারণ লিখে ও এঁকে মজা পাচ্ছি বেশ।







April 23, 2026

Facebook Gone! (আলহামদুলিল্লাহ)

 আমার ফেইসবুক পেইজ mehedihaquecartoons হ্যাক্ড‌! পারসোনাল আইডিও নেই। অনেকদিন ধরেই ফেইসবুক ছাড়ার উপায় খুঁজছিলাম, সেটা এত সহজে ঘটে যাবে বুঝিনি। ভালই লাগছে। এদিকে জিডি ডান। রীতিমত খবরও ছাপা হয়ে গেছে, প্রথম আলো আর NEW AGE এ। আর সাইবার ক্রাইম কে দেয়া হচ্ছে ব্যাপারটার তদন্ত করতে। 

যাই হোক। সবেথেকে ভালো যেটা সেটা হল অনেক সময় বেড়েছে এখন কাজের। আর অনেকদিন পরে আবার ব্লগে ফেরতও আসা গেল এই সুবাদে। এখানে কেউ আর পড়ছে বলে আর মনে হয় না। তাই লিখতেও কোন চাপ নেই। সেই যে আগে নিজের ডায়রি লেখার একটা চল ছিল। অনেকদিন পরে সেটা যেন আবার ফিরে এল। 

ক্যুইক কিছু আপডেট দেই এই ফাঁকে 

অনুর বয়স এখন ২! সে এখন আমার রুমে ঢোকার আগে উঁকি দিয়ে বলে- আসতে পারি?

হাহা, ওকে নিয়ে একটা বড় ভলিউম বই লিখে ফেলা যাবে। বইয়ের পোকা হয়েছে। আমাদের পড়তে পড়তে জান শেষ। আর এখন মিতু যেহেতু সারাদিন অফিস, আমি সেহেতু ফুল টাইম বাবা। সারাদিন ও আমার কাছেই। সন্ধ্যায় ওর মা আসার আগে আগে ওকে ঘুম পাড়িয়ে ন্যানির কাছে রেখে পরে বের হতে পারি। দারুণ ভাগ্যবান বলতে হবে নিজেকে। যদিও সব কাজকর্মের বারোটা। কাজ ক্যারিয়ার শিকেতে। তবে একটা সময় জানি এই সময়ের জন্যে নিজেকে আবারো ভাগ্যবান মনে হবে। আমার চেনাজানা কোন বাবা বাচ্চাকে এত সময় দেয় না বা দিতে পারে না।

এ ছাড়া চলছে রুটিন সব কাজ, নিউ এইজের কার্টুন, উন্মাদের ফিচার। আঁকান্তিসের ছোটদের কোর্স ঢাকা কমিকস এর ব্যবসা ও বই।




New Age cartoon on Amir Hamza arrest warrent

এ ছাড়া বেশ কিছু ইলাস্ট্রেশন এর কাজ। এর মধ্যে একটা খুব আবেগের কাজ হল গায়ক সাহেদ ভাইয়ের জি সিরিজ থেকে বের হতে যাওয়া তাঁর সমগ্র এলবাম মালেকা X রোকযানা এবং সাহেদ এলবামের পরীক্ষামূলক আঁকা। গানের এলবামের সাথে একটা এক্সপেরিমেন্টাল কমিকস বই ও বের হবে। বেশ





এলবামের কিছু অসমাপ্ত ড্রাফট

G series এ ১৯ এপ্রিল, ২০২৬। সাহেদ ভাইয়ের সাথে। সাহেদ ভাই বেশ অসুস্থ এখন।

এবং পেয়ার, সিঙ্গারা ও আপেল সমভিব্যাহারে BLACK এর জাহান ভাইয়ের সেলফি।

চ্যালেঞ্জিং ছিল আমার জন্যে, তবে নামিয়ে দিয়েছি প্রথম ড্রাফট। ঢাকা কমিক্স স্টুডিওর আর্টিস্ট সাবিত সাহায্য করেছে। বাট বেচারার খুব বেশি কাজ শেষমেশ রাখা যাবে বলে মনে হচ্ছে না। (আমাদের স্টুডিও টিমটা দারুণ। এটা নিয়ে একদিন লিখবো।)

ইউপিএল পাবলিকেশনের একটা বইয়ের কিছু (এটাও আমার জন্য কম্ফোর্ট জোনের বাইরের কাজ) ইলাস্ট্রেশন করলাম। এটা বেশ সময় লাগলো। মূল কারণ, কমিউনিকেশন গ্যাপ। যাই হোক। ফাইনালি এনজয় করেছি, সেটাই বড় কথা।

 


UPL ইলাস্ট্রেশন




বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার স্যাটায়ারের জন্য করা কিছু ক্যুইক ক্যারিকেচার।

আরেকটা আপডেট হল আমার আমেরিকার পড়াশোনা- কমিক্স এ মাস্টার্স- প্রায় শেষের দিকে। আর তিন মাস পড়েই আমি কমিক্স এ মাস্টার্স। সম্ভবত বাঙালি কারো মধ্যে আমি-ই প্রথম কমিক্স এ মাস্টার্স করছি। হাহা। যাই হোক। বাকি জীবন নিজের আঁকা আর শিক্ষকতায় কাটাতে চাই। জানি না কী হবে।


My thesis draft cover and a sample inner page

নিউ এইজের আরও কিছু আপডেট আছে। আর আছে একটা এনিমেশন প্রজেক্ট এর আপডেট। পরের পোস্ট এ জানানো যাবে।

আপাতত বিদায়।


April 01, 2026

কিছু ক্যারেক্টার ডিজাইন

 ঢাকা কমিক্স তাদের নিয়মিত প্রকাশনার পাশাপাশি কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশের জনসাধারণের জন্যে কার্টুন ও কমিক্স ভিত্তিক কমিউনিকেশন ম্যাটেরিয়াল নিয়ে। অসংখ্য সরকারী ও বেসরকারী এমন প্রজেক্ট এ কাজ করে আমাদের চোখে পড়েছে বিভিন্ন অরগানাইজেশন তিনটা বড় ভুল করে থাকে তাদের কমিউনিকেশন এর কাজে,

১. সাধারণত কাজ দেখতে সুন্দর হওয়াটাই মূল টার্গেট থাকে, টার্গেট গ্রুপ অনুযায়ী স্টোরিটেলিং অত গুরুত্ব পায় না।

২. অ্যান্ড ইউজার বা টার্গেট গ্রুপ আদৌ ম্যাটেরিয়ালটা কাজে লাগাতে পারবে কিনা, বা আদৌ তার সেটা দরকার কিনা এই স্টাডিটা মিসিং থাকে বেশিরভাগ প্রজেক্টেই।

৩. সংলাপ বা অন্যান্য টেক্সট এ স্থানীয় ডায়ালেক্ট কে গুরুত্ব দেয়া হয় না। যা পরে একটা মিসকমিউনিকেশন এর ঝুঁকিতে পরে।





ঢাকা কমিক্স এর ওয়ান স্টপ কার্টুন স্টুডিও কার্টুন কিচেন এর কাজের মূল জোরটা থাকে গল্পটা যাদের জন্যে বলা হচ্ছে তারা বুঝতে পারবে কিনা তার ওপর। প্রয়োজনে সাইট ভিজিট ও এফজিডি করে ক্যারেক্টার গুলো তাদের মত করে হচ্ছে কিনা তা বুঝে নেয়া। কন্টেক্সট ঠিক আছে কিনা। বা গল্পের ধরন কি টার্গেট গ্রুপ বুঝতে পারছে কিনা ইত্যাদি-ই আমাদের মূল কাজের জায়গা।

এমনি একটি বড় কমিকস প্রজেক্টের জন্যে সম্প্রতি করা আমাদের ঢাকা কমিক্স এর কার্টুন স্টুডিও কার্টুন কিচেন এর করা কিছু ক্যারেক্টার ডিজাইন।

January 13, 2026

Caricature: Esha and Shadman

 দেখতে দেখতে সময় চলে যায়। সেদিনের এষা, মানে আহসান হাবীব দ্য বস, মানে আহসান ভাইয়ের মেয়ে এষা এখন রীতিমত সংসারী। তাঁর জীবনসঙ্গি শাদমান ও দারুণ ছেলে, দুইজনেই একাডেমিশিয়ান। আমেরিকায় পড়াশোনা করে দেশে এসেছে। হঠাৎ ফেইসবুক এ দেখি এষার জন্মদিন, তাই চট করে এঁকে ফেললাম, যথারীতি ভালো হয় নাই। হাহা।



May 25, 2025

কার্ফিউ এর দিনগুলিতে কার্টুন

হাতে ধরা কার্ফিউ পাসটার দিকে কিছুটা অবিশ্বাস নিয়ে তাকিয়ে আছি। নিজের দেশে এরকম একটা পরিস্থিতি জীবদ্দশায় দেখব তা ভাবিনি কখনো। গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে চোখে পড়লো যেন এক পরাবাস্তব ঢাকা। কোথাও কেউ নেই। ফার্মগেটের ব্যস্ত সড়ক, আনন্দ সিনেমা হল, হলিক্রস কলেজের মোড়, প্রবল ব্যস্ত কারওয়ান বাজার-সব যেন খাঁ খাঁ করছে। এর মাঝে আমাদের ডেইলি নিউ এইজের ‘প্রেস’ স্টিকার সাঁটানো গাড়িটা চলছে যেন ভুতুড়ে কোন সিনেমার দৃশ্যের মত, যেন বা মৃত নগরীতে একমাত্র প্রাণের চিহ্ন।

কেউ নেই বলাটা অবশ্য ঠিক হল না। আছে, পুলিশের আর্মার্ড কার, কিছু ইতস্তত বিক্ষিপ্ত লাঠিসোটা, ইট-সুরকি, আর ছেঁড়াখোরা কিছু ডিজিটাল ব্যানার, একটু খেয়াল করে তাকালে বোঝা যায় একটা ছোটখাটো ঝড় বয়ে গেছে এখানে। সব পেরিয়ে নিজের অফিসের গাড়ি বারান্দা পাড় করে উঠতে উঠতে মনে হল পলিটিকাল কার্টুন আঁকতে গিয়ে এমন জলজ্যান্ত পলিটিকাল মুভমেন্ট দেখে ফেলাটা খুব বেশি কার্টুনিস্টের ভাগ্যে হয়ত জোটে না। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ঠেকাতে সরকার সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে নেমেছে, তার অংশ হিসেবে ইন্টারনেট শাটডাউন চলছে। তাই, ঘরে বসে ‘হোম অফিস’ আর হচ্ছে না। ফলে এই দুর্দম কার্ফিউ এর মধ্যেও যেতে হচ্ছে যার যার অফিসে, বিশেষ করে মিডিয়া কর্মীদের। এরকম কাছাকাছি একটা ঘটনা ঘটেছিলো সেই ১৯৯০ এর দশকে, শৈশবের স্মৃতিতে সেটা খুব বেশি স্পষ্ট নয়, তবে স্বৈরশাসক শব্দটা বোধকরি সে সময়েই দেশের মানুষ খুব ভালোভাবে জানতে পারে। আর এই ২০২৪ এ এসে সেটা একেবারে তথ্য প্রমাণ সহ ভালভাবে সংজ্ঞায়িত হচ্ছে সবার চোখের সামনে। 

মূল ঘটনার সূত্রপাত তো সেই অনেক আগে, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মত একটি ন্যায্য ও জনমানুষের দাবীকে যখন পুলিশ ও পেটোয়া বাহিনি দিয়ে নির্মমভাবে দমন করা হয়েছিলো, স্কুল পড়ুয়া কিশোরদের যখন রাষ্ট্র ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল পিটিয়ে ফেরত পাঠিয়েছিল তখনই রাজনীতি সচেতন ও বোদ্ধারা ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন এই ‘২৪ এর জুলাইয়ের মত কিছু একটা ঘটনার। যোগ বিয়োগ করে এটাও দেখানো সম্ভব যে সেই সড়ক আন্দোলনের কিশোর বয়সী ছেলেমেয়েরা বা ২০১৮ এর কোটা আন্দোলনের মুষ্টিবদ্ধ হাতই পরবর্তীতে পরিণত হয়ে যোগ দিয়েছে এই জুলাই বিদ্রোহে। তবে আরো অনেক কিছুর মতই এই অভ্যুত্থানে বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় তরুণদের হাতিয়ার হিসেবে পপুলার আর্ট ফর্মের ব্যবহার। যার মধ্যে ছিলো গ্রাফিতি (চটজলদি গেরিলা পদ্ধতিতে করা দেয়াল লিখন/+ ড্রয়িং), ছিল র‍্যাপ সঙ্গীত ও অবশ্যই- রাজনৈতিক কার্টুন। এ যেন চেপে রাখা কোন গ্যাস-কামরার হঠাৎ বিস্ফোরণ। 

রাজনৈতিক কার্টুন শেষ হয়ে গেল কিনা এইরকম আলচনা যখন চলছিল, এবং ডেইলি নিউ এইজ সহ হাতে গোণা দুই একটা পত্রিকা ছাড়া যখন রাজনৈতিক কার্টুন নেই বললেই চলে তখন জুলাইয়ের এই অগ্নিঝরা সময় যেন চারিদিকে রাজনৈতিক কার্টুন, আর্ট ও গ্রাফিতির শত ফুলকি ছড়িয়ে উদয় হল। জুলাই অভ্যুত্থানের অব্যবহিত পরে জুলাই কার্টুনের সংকলনের কাজে থাকার সুবাদে বলতে পারি এই একমাসেরও কম সময়ে শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই তরুণেরা এঁকেছেন ৬০০’রও বেশি কার্টুন! তরুণেরা রাজনীতি সচেতন নন, বা তারা আদৌ দেশের কোন সংকটে ভ্রূক্ষেপ করবে না এমন তত্ত্বকথা তরুণেরা তাদের কাজের মাধ্যমে মাটিচাপা দিয়ে দিল আরেকবার। জুলাই অভ্যুত্থানের যেকোন কথাই তাই ঘুরে ফিরে শুধু তরুণদের জয়গানে গিয়ে শেষ হবে, কার্টুনও ব্যাতিক্রম নয়।

তবে এই লেখাটা কিঞ্চিত ব্যক্তিগত কাজের স্মৃতিচারণ বলা যায়, এই আন্দোলন সম্পর্কিত কাজগুলি নিয়ে স্মৃতিচারণ। আর সেটা শুধু লেখায় বোঝানোর চাইতে কবে কোন কাজটা কী পরিস্থিতিতে আঁকা সেটা কাজটা সহ লিখে দেয়াই শ্রেয়।

শুরু করতে হলে অবশ্যই ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনের ‘সমাপ্তি’ ঘোষণা করার ঠিক পর পর আঁকা এই কাজটার কথা বলতে হবে। ছয় বছর পর যা অনেকটা ভবিষ্যতবাণীর মত ফলে গেল।

জুলাই আন্দোলনে সোশ্যাল মিডিয়ার জন্যে আমার প্রথম আঁকা ছিল এই কাজটা।


ছাত্রদের বিক্ষোভ দমনে 'ছাত্রলীগ ই যথেষ্ট' বলে ওবায়দুল কাদেরের ঘোষণা ও ছাত্রলীগ+পুলিশ মিলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপরে হামলায়  ১০ জনের ও বেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়। এই কার্টুনটি ঘটনার দিন (১৬ জুলাই, ২০২৪) এ ফেইসবুক এ আমার পেইজেই আপলোড করি। এবং এটা সম্ভবত আমার অন্যতম কাজ যা দশ হাজারের বেশি মানুষ শেয়ার করেছে ও কয়েক লক্ষ মানুষ দেখে রিয়্যাক্ট করেছে। মনে রাখা ভালো যে এই ধরনের কাজ আমি টানা এঁকে গেলেও শুধু ভয় থেকেই মানুষ শেয়ার ও করতেন না বহুদিন। আমাকে ব্যক্তিগতভাবে জানাতেন যে ভাল হয়েছে। ব্যস ওই পর্যন্তই। আর এই কাজটার এত ছড়ানো প্রমাণ করে কত মানুষ কি ভয়ানক ক্ষিপ্ত ছিল সরকারের সিদ্ধান্তে। তারা আর ডিজিটাল আইনের তোয়াক্কা করছিলো না।

আমার ক্যাম্পাসে রক্ত কেন- এই প্রশ্ন করায় আয়মান সাদিকের প্রতিষ্ঠান টেন মিনিটস স্কুলের ৫ কোটি টাকার অনুদান বাতিল করে দেয় আইসিটি মিনিস্ট্রি, যেটা আবার সাথে সাথে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলক নিজের ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফাইলে শেয়ার করেন। এবং তার পরপর সাংবাদিকদের তিনি জানান- দুর্জন বিদ্বান হইলেও পরিত্যাজ্য। এই নিয়েই ক্যুইক কার্টুন ছিল এটা। এই দিনেই রংপুর এ প্রকাশ্যে নিরস্ত্র আবু সাঈদকে উপর্যুপরি গুলি করে মারা হয়। এটা জানতে পারি রাতে, দু হাত ছড়িয়ে দাঁড়ানো এক যুবককে একের পর এক গুলি করে যাচ্ছে পুলিশ আর একসময় সে লুটিয়ে পড়লো মাটিতে। এই দৃশ্যটাই পুরো আন্দোলনে গণমানুষকে যুক্ত করে দেয়। আর মানুষ ও এর পর থেকে আর যেন গুলিকে ভয় পাচ্ছিলো না।


ছাত্রলীগ আনলিশড- নিউ এইজে এর পরদিন (১৭ জুলাই, ২০২৪) প্রকাশিত

২৫ জুলাই, অলরেডি কারফিউ জারি করেছে সরকার। ওবায়দুল কাদের বলেছে- 'শ্যুট এট সাইট' বলা আছে। এর মধ্যে ইন্টারনেট শাটডাউন করেছে আইসিটি মিনিস্ট্রি। যদিও জনগণকে বোকা বোঝাচ্ছেন তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ হোসেন পলক। ইন্টারনেট নাকি 'দুষ্কৃতিকারীদের' নাশকতার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। ( কথা সত্য, দুষ্কৃতকারী তো বটেই।) 

এই কাজটা যেদিন করি সেদিন রাস্তায় আর্মি নেমে গেছে, ট্যাংক ঘুরছে  আশেপাশে। অদ্ভুত একটা পরিস্থিতি। যেতে যেতেই মনে হল হত্যাকাণ্ডে আর দমনে এই সরকার এরশাদকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে, এবং ৯০ দশকের এরশাদ বিরোধী আন্দোলনকারীরা হয়ত বলতে বাধ্য হবে যে এরশাদ এর চেয়ে ভালো ছিল। সেই থেকেই এই কাজ। নিউ এইজ এ এই কাজ বের হওয়ার পরদিন সম্পাদক নুরুল কবীর ডেকে বললেন, এটার বিরাট রিঅ্যাকশন পেয়েছেন তিনি। এটা নাকি আমরা একটু বেশি বেশি করে ফেলেছি, এরশাদের সাথে তুলনা! তবে আজকে এসে বুঝতে পারছি বাড়াবাড়িটা আমরা করিনি। 

৩০ জুলাই, এটাও ফেইসবুক এ আমার পেইজে দেয়া। তখন ভয়ানক গোলাগুলি চলমান। হেলিকপ্টার থেকে সাউন্ড গ্রেনেড ও মতান্তরে গুলি ছোঁড়া হচ্ছে, ততদিনে বেশি কিছু শিশু বাড়িতে থেকেও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে! নিজের দেশের সরকার যখন গণহত্যায় নামে তখন তার চেয়ে অসহায় আর কিছু হতে পারে না। মৃত্যুর সংখ্যা তখন কাগজে কলমে যতদূর মনে পরে অলরেডি ১০০ ছাড়িয়েছে। 

আগস্ট ১ এ নিউ এইজের জন্যে আঁকা। রংপুরে পুলিশ প্রকাশ্যে গুলি করে মারে আন্দোলনকারী আবু সাঈদকে। তার ভিডিও ছড়িয়ে পরে গোটা বাংলাদেশে। এর পরেই এফআইআর- এজাহারে তারা লেখে আন্দোলনকারীদের ছোঁড়া ইটপাটকেল এ মারা গেছে সে। এমনকি তার হত্যাকারী হিসেবে এক কিশোর ছেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। কি যে অবিশ্বাস্য অত্যাচার ও অন্যায় সবার চোখের সামনে ঘটেছে তা এখনো ভাবলে শিউরে উঠতে হয়। এর মাঝে যাতে কেউ কিছু জানতে না পারে তার জন্যে মাঝে মাঝেই ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে, পুরোটা সময় ই প্রায় বন্ধ/ ডাউন করে দেয়া হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। আমাদের ন্যূনতম ইন্টারনেট এর মধ্যে যোগাযোগ বা তথ্য আদানপ্রদান করতে হয়েছে VPN সার্ভিস ব্যবহার করে। রীতিমত যুদ্ধ পরিস্থিতি।

আগস্ট ৩, এ সময়ে এসে আসলে সবার অবস্থা হয়ে গিয়েছিল যা হয় হোক। মরে গেলেও আমরা আন্দোলন থামাচ্ছি না। আর একত্রে যেই তরুণেরা কখনোই রাজনীতি নিয়ে তেমন একটা ভাবে নি, বা আঁকেনি তারাও সবেগে এঁকে যাচ্ছিলো। সেদিন এই কাজটি আপ করা।

আগস্ট ৫, ঐতিহাসিক দিন। সকাল থেকেই থমথমে সব। নিউজ চ্যানেলও একই খবর লুপে ফেলে রিপিট করছে। বাইরে কার্ফিউ, ছাত্রলীগ নেতারা রক্তের হোলি খেলার ঘোষণা দিয়েছে। শ্যুট এট সাইট বিদ্যমান। হঠাৎ আমার বন্ধুদের ফোন উত্তরা থেকে। তারা সবাই রাস্তায় নামছে কার্ফিউ অমান্য করে। এই আন্দোলনের মূল যে স্পিরিট সেটা এসেছে এরকম গণমানুষ থেকে। কারণ আমার বন্ধুরা কার্ফিউ অমান্য করে রাস্তায় নামার মানুষ না। কোনভাবেই যার আন্দোলনে নামার কথা না সে-ও এই ভয়ানক সিরিজ হত্যাকাণ্ড দেখে রাস্তায় নেমে গেছে। টিভিতে ওদিকে দেখা যাচ্ছে বেলা দুইটায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। তখনই বুঝে ফেললাম শেখ হাসিনা আর নেই। খুব সম্ভব এই মুহুর্তে তাঁর সেইফ এগজিটের ব্যবস্থা চলছে। তখন তখন ই এই কার্টুন টি আঁকি। এবং বিকেল নাগাদ সে কথাই সত্য হয় (যা অবিশ্বাস্য), শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন। 

৬ আগস্ট, নিউ এইজের কার্টুন, য পলায়তি, স জীবতি। সব নেতা কর্মিদের ফেলে সপরিবারে পলায়ন। রাস্তায় রাস্তায় তখন আনন্দ মিছিল, শাহবাগ, বাংলা মটর, মিরপুর রোডে মানুষের ঢল, কিন্তু সেখানে শামিল না হয়ে আমি সরাসরি যোগ দিয়েছি আমার ডেস্কে, কারণ আমার সহকর্মীরাও তা-ই করছেন। মনে আছে যখন এই কাজটা করছি তখন ঠিক নিউ এইজ অফিসের নিচে চলছে মারামারি, পাশেই সময় টিভির অফিসে হামলা করেছে একটি দল। মাঝে মাঝেই শুনতে পাচ্ছি আমাদের অফিসেও আগুন এই লেগে গেল বলে, এর মাঝে তাড়াহুড়ো করা এই কাজ, যা পরবর্তীতে দেয়ালে দেয়ালে অনেকবার নতুন করে এঁকেছেন তরুণেরা। এমনকী জুলাই অভ্যুত্থানের কার্টুন নিয়ে ড. শহীদুল আলমের সম্পাদনার বইটির (July Uprising: Satire and Ridicule Cartoon that demolished a dictator) প্রচ্ছদ হিসেবেও এই কাজটি নির্বাচিত হয়েছে। 

৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর পর নৈরাজ্যের চুড়ান্তে চলে যায় দেশ, ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয় যা এমনকি ১৯৭১ এও অক্ষত ছিল। সরকারী স্থাপনা ভাংচুর, আর সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার তো আছেই। সেদিন থেকেই এই সরকার ও এর সাথে জড়িত অন্যান্য গোষ্ঠীর সমালোচনায় আমাদের কাজ শুরু হয়ে আবার। আমি মনে করি আমাদের সাংবাদিকদের এবং অবশ্যই সেই সাথে বিশেষ করে রাজনৈতিক কার্টুনিস্টদের মাথায় রাখা উচিত ন্যায়ের লড়াইটা কখনো কোন নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে না, লড়াইটা অন্যায়ের বিরুদ্ধে, সেটা যে-ই করুক। এ ব্যাপারে আমি বাংলাদেশের রাজনৈতিক কার্টুনের দিকপাল, মাস্টার আর্টিস্ট শিশির ভট্টাচার্যের একটি বইয়ের থেকে কোট করে লেখাটা শেষ করছি, 

“ন্যায় অন্যায় বিচারের শক্তিটাই একজন কার্টুনিস্টকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। রাজনীতিতে সরকার ও বিরোধী দল থাকে, একজন কার্টুনিস্ট তিনি কখনই কোন পক্ষের হয়ে কাজ করেন না- কোন দলের প্রতি তার ব্যক্তিগত পছন্দ, অপছন্দ,  দুর্বলতা বা ঘৃণা কখনই প্রকট হয়ে প্রকাশিত হয়ে যাওয়া মনে করি একজন কার্টুনিস্টের দুর্বল দিক। তবে যে দলই সরকার গঠন করুক, কার্টুনিস্টের মূল টার্গেট কিন্তু সরকার, সরকারের সমালোচনা, ত্রুটি এসব ব্যাপারে কড়া নজর রাখা। তাই বলে বিরোধী দলের কখনই মনে করা ঠিক হবে না যে, কার্টুনিস্ট তাদের দলের। সেজন্য বিরোধীদেরো ছাড় দেবার অবকাশ নেই। নিরপেক্ষতা ব্যাপারটি অত্যন্ত জটিল ও স্পর্শকাতর। একটা শক্তিশালী এবং নির্ভেজাল শক্ত অবস্থান কার্টুনিস্টের অবশ্যই প্রয়োজন। যেখানে দাঁড়িয়ে সে সবকিছুর সমালোচনা করবে। এখনো পর্যন্ত আমার মতে সেই অবস্থানটা হচ্ছে দেশ, দেশের মানুষ, তার অবস্থান, গর্ব করার ইতিহাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সর্বোপরি দেশের সার্বভৌমত্ত্বের প্রশ্ন , এবং মানবতাবোধ।” - শিশিরের কার্টুন, একুশে পাবলিকেশন্স লিমিটেড, ফেব্রুয়ারি, ২০০২

লেখক মেহেদী হক, সিনিয়র কার্টুনিস্ট, দ্য ডেইলি নিউ এইজ


October 06, 2024

হ্যাংওভার কাটিয়ে

একটা সময় ছিল সব জায়গায় লেখা থাকতো (অবশ্যই এখনো আছে) 'রাজনৈতিক আলাপ নিষেধ'। এখন অবস্থা উলটো। এখন যেন রাজনীতি ছাড়া অন্য আলাপ জমেই না। বুঝুক না বুঝুক সবাইকে সব বিষয়েই মত দিতে হবে। এটা ততক্ষণ পর্যন্ত সমস্যা না যতক্ষণ একজন তাঁর মত আরেকজনের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে না। আমরা যেহেতু অন্যেরও মতামত থাকতে পারে এটাই নতুন জানতে পেরেছি, তাঁদের যে দুই পা আলাপ চলার পরেই হাতাহাতি শুরু হয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। 

যাই হোক, তথাকথিত 'নতুন বাংলাদেশ' এ দেখা যাচ্ছে সবাই সবার যা ইচ্ছা করার চেষ্টা করে ভজঘট করে ফেলেছেন। এবং পূর্বেই বুদ্ধিমান মানুষেরা যা যা বলেছেন তা ফলতে শুরু করেছে। ইসলামের ছদ্মবেশে জঙ্গিরা হুমকী দিয়ে বেড়াচ্ছে, গর্ত থেকে উঠে এসেছে এতদিনের লুকিয়ে থাকা ধর্মের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাজনৈতিক ব্যবসায়ী দলের সব লোকজন। তাঁদের বিভিন্ন আস্ফালনে বুদ্ধিমানেরা এটাও বুঝতে পারছেন যে কে আসলে মূল লাভের গুড় খাবেন তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারি আসন্ন। 

যাই হোক, কার্টুনের ব্যাপারী হয়ে রাজনীতির জাহাজের খবর রাখার কথা ছিলো না, কিন্তু পেশায় ও নেশায় যেহেতু রাজনৈতিক কার্টুনিস্ট, সেহেতু 'বিপ্লব' পরবর্তী সময়েও কার্টুন এঁকে যাচ্ছি। গত কিছুদিনের কাজ এখানে তুলে দিলাম সবার জন্যে।

 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৩ মাস। এর পর নির্বাচন না দিলে সংবিধানমতে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে এমনকি মৃত্যুদণ্ডের  বিধান আছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের। যথাসময়ে তাই পলায়ন করলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার হাবিবুল আউয়াল। বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ধসিয়ে দিয়ে পরে নিজের প্রাণ বাঁচালেন। য পলায়তি, স জীবতি।

চলছে 'মব জাস্টিস' এর নামে গণপিটুনি, আর সংখ্যালঘু নির্যাতন, মন্দির ও প্রতিমা ভাংচুর। আর প্রধান উপদেষ্টা সেগুলির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবার বদলে ক'দিন পর পর জাতির উদ্দ্যেশ্যে ভাষণ দিচ্ছেন। বলছেন- আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। যেন বাংলা সিনেমার শেষে পুলিশ চলে এসেছে।


এই কাজটা অগাস্টের শুরুতেই করা। পরে আর প্রিন্ট হয়নি। 

ছাত্রলীগের মধ্যে লুকিয়ে থাকা শিবির কর্মীদের একে একে আত্মপ্রকাশ। হেলমেটের দুইদিক। এই কাজ প্রকাশের পরে যে পরিমাণ নোংরা গালাগাল এর মুখোমুখি হয়েছি তাতে এ কথা স্পষ্ট যে জামাত-শিবির পন্থী বা সমর্থকেরা অত্যন্ত নোংরা। এটা কিন্তু একটা দারুণ সামাজিক গবেষণার উপাত্ত হতে পারে, গত সরকার এর সময় কার্টুনে কারা প্রতিক্রিয়া দেখাতো আর এখন কারা দেখাচ্ছে।


জুলাইয়ের গণ আন্দোলনের স্পিরিট কে নস্যাৎ করার জন্যে বিভিন্ন বিভেদ ও ঘৃণা ছড়ানো শুরু করেছে ইসলামের ছদ্মবেশে থাকা রাজনৈতিক ব্যবসায়ীরা। এর প্রতিক্রিয়া ছিল আরো ভয়াবহ, তার মানে এই কার্টুনও সার্থক!

পাহাড়ে আগুন, 'ছাত্র-জনতা' নির্বিকার।



জুলাই শহীদদের নিজের দলে টানাটানি শুরু।







আর সাম্প্রতিক তর্ক বিতর্ক নিয়ে সেই অনেক আগের একটা কাজ আবার প্রসাঙ্গিক মনে হওয়াতে আবার পোস্ট করেছিলাম। 


প্রতিমা ভাংচুর নিয়ে করা সেই আগের কাজ... আবারো শেয়ার দিতে হচ্ছে।









ঝড়ের দিন

বিরাট ঝড়ে পড়েছিলাম গতকাল। ঢাকা কমিক্স স্টুডিও থেকে কাল মেঘ দেখেই প্রমাণ সাইজের যে ছাতাটা (যার নিচে অনায়াসে হাত এঁটে যাবে) ফুটপাত থেকে কিনেছি...