সারাদিন থেমে থেমে বৃষ্টি। মেঘমেদুর আকাশের মাঝে হঠাৎ ঝকমকে রোদ আসে আবার চলে যায়। দিন এখন যায় আমার মেয়ের সাথেই। অনু বেশ মজার হয়েছে। তার মূল এন্টারটেইনমেন্ট এখনো শুধুই বই। ফলে পড়তে পড়তে জান পহেচান আমাদের। আর মিতু ফুল টাইম চাকরিতে ঢোকার পরে এখন বিশেষ করে আমার।
শ' দেড়েক বই তার পড়া শেষ এই দুই বছর এক মাস বয়সে! তার মধ্যে এখন সে পড়ছে (বা পড়ে শোনাচ্ছি) টিনটিনের সব বই। এবং শুধু পড়লে হচ্ছে না। যেটাই পড়ছি সেটাই বার বার মুখেও বলতে হচ্ছে। তার ঘুমের আগে এখন সে কাঁধ থেকে মাথা তুলে বলে। বাবা 'লোবিতো (লোহিত) সাগরের হাঙ্গর টা বলো' আর কোন নতুন চরিত্র (পাঁচশো বারের বেশি শোনার পরে আর কি) এলেই তার সিরিয়াস প্রশ্ন- 'ও কি বালো (ভালো)?' জীবনের সুন্দরতম সময় কাটাচ্ছি। কিন্তু একই সাথে কাজকর্ম শিকেয় ওঠায় পাশাপাশি খুব ফ্রাস্টেটেড ও লাগে। আবার ওর দিকে তাকালে মনে হয়- একদম ঠিক আছে। ওর জন্যে এটা করাই যায়। আমি আসলে কতটা লাকি মাঝে মাঝে ফুটপাতের প্রবল ভীড়ের মধ্যে ধাক্কধাক্কি করে হাঁটার মাঝেও মনে করি। যা চেয়েছি তা পাইনি এমন কিছু জীবনে খুব কম ই আছে। ভয়ানক সব কষ্ট মানুষের থাকবেই, তারপরেও পাবার পাল্লায় শুধু যদি এরকম দারুণ একটা মেয়ে সন্তান থাকে তাহলে আর কিছু দরকার নেই।
একটাই সমস্যা, ছোটদের কোন দুসংবাদ এখন আর নিতে পারি না। অধুনা বিলুপ্ত ড.ইউনুস চালিত অস্থায়ী ও অন্তর্বতীকালীন সরকারের আমলে দেশে হামের টিকা কেনা হয় না। ফলস্বরূপ, হাজার হাজার বাচ্চা আক্রান্ত হচ্ছে হাম এ। মারা গেছে ২৫০ এর ও বেশি বাচ্চা। এই সব মৃত্যু গত সরকারের গাফিলতিতে। তারপরেও এই দেশে তাদের কেশাগ্র কেউ ধরবে না। কী যে হতভাগা আমরা।
আর বাচ্চাদের এইসব মৃত্যু দেখলে আমার মাথায় চলে আসে ওদের বাবা-মা এর অবস্থা। আর কত না কষ্ট পেয়ে বাচ্চাগুলো মারা গেছে- আহারে, আহারে!
এই দুইদিন কাজ করা হয়নি তেমন। সময় ই পাইনি টেবিলে বসার। এর মাঝে শুধু মে দিবসের একটা কার্টুন এঁকে কার্টুনমুভমেন্ট এ দিলাম। অনেকদিন পরে আবার আন্তর্জাতিক অডিয়েন্স এর কথা মাথায় রেখে আঁকা শুরু করলাম।






















