দেখতে দেখতে সময় চলে যায়। সেদিনের এষা, মানে আহসান হাবীব দ্য বস, মানে আহসান ভাইয়ের মেয়ে এষা এখন রীতিমত সংসারী। তাঁর জীবনসঙ্গি শাদমান ও দারুণ ছেলে, দুইজনেই একাডেমিশিয়ান। আমেরিকায় পড়াশোনা করে দেশে এসেছে। হঠাৎ ফেইসবুক এ দেখি এষার জন্মদিন, তাই চট করে এঁকে ফেললাম, যথারীতি ভালো হয় নাই। হাহা।
January 13, 2026
May 25, 2025
কার্ফিউ এর দিনগুলিতে কার্টুন
হাতে ধরা কার্ফিউ পাসটার দিকে কিছুটা অবিশ্বাস নিয়ে তাকিয়ে আছি। নিজের দেশে এরকম একটা পরিস্থিতি জীবদ্দশায় দেখব তা ভাবিনি কখনো। গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে চোখে পড়লো যেন এক পরাবাস্তব ঢাকা। কোথাও কেউ নেই। ফার্মগেটের ব্যস্ত সড়ক, আনন্দ সিনেমা হল, হলিক্রস কলেজের মোড়, প্রবল ব্যস্ত কারওয়ান বাজার-সব যেন খাঁ খাঁ করছে। এর মাঝে আমাদের ডেইলি নিউ এইজের ‘প্রেস’ স্টিকার সাঁটানো গাড়িটা চলছে যেন ভুতুড়ে কোন সিনেমার দৃশ্যের মত, যেন বা মৃত নগরীতে একমাত্র প্রাণের চিহ্ন।
কেউ নেই বলাটা অবশ্য ঠিক হল না। আছে, পুলিশের আর্মার্ড কার, কিছু ইতস্তত বিক্ষিপ্ত লাঠিসোটা, ইট-সুরকি, আর ছেঁড়াখোরা কিছু ডিজিটাল ব্যানার, একটু খেয়াল করে তাকালে বোঝা যায় একটা ছোটখাটো ঝড় বয়ে গেছে এখানে। সব পেরিয়ে নিজের অফিসের গাড়ি বারান্দা পাড় করে উঠতে উঠতে মনে হল পলিটিকাল কার্টুন আঁকতে গিয়ে এমন জলজ্যান্ত পলিটিকাল মুভমেন্ট দেখে ফেলাটা খুব বেশি কার্টুনিস্টের ভাগ্যে হয়ত জোটে না। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ঠেকাতে সরকার সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে নেমেছে, তার অংশ হিসেবে ইন্টারনেট শাটডাউন চলছে। তাই, ঘরে বসে ‘হোম অফিস’ আর হচ্ছে না। ফলে এই দুর্দম কার্ফিউ এর মধ্যেও যেতে হচ্ছে যার যার অফিসে, বিশেষ করে মিডিয়া কর্মীদের। এরকম কাছাকাছি একটা ঘটনা ঘটেছিলো সেই ১৯৯০ এর দশকে, শৈশবের স্মৃতিতে সেটা খুব বেশি স্পষ্ট নয়, তবে স্বৈরশাসক শব্দটা বোধকরি সে সময়েই দেশের মানুষ খুব ভালোভাবে জানতে পারে। আর এই ২০২৪ এ এসে সেটা একেবারে তথ্য প্রমাণ সহ ভালভাবে সংজ্ঞায়িত হচ্ছে সবার চোখের সামনে।
মূল ঘটনার সূত্রপাত তো সেই অনেক আগে, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মত একটি ন্যায্য ও জনমানুষের দাবীকে যখন পুলিশ ও পেটোয়া বাহিনি দিয়ে নির্মমভাবে দমন করা হয়েছিলো, স্কুল পড়ুয়া কিশোরদের যখন রাষ্ট্র ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল পিটিয়ে ফেরত পাঠিয়েছিল তখনই রাজনীতি সচেতন ও বোদ্ধারা ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন এই ‘২৪ এর জুলাইয়ের মত কিছু একটা ঘটনার। যোগ বিয়োগ করে এটাও দেখানো সম্ভব যে সেই সড়ক আন্দোলনের কিশোর বয়সী ছেলেমেয়েরা বা ২০১৮ এর কোটা আন্দোলনের মুষ্টিবদ্ধ হাতই পরবর্তীতে পরিণত হয়ে যোগ দিয়েছে এই জুলাই বিদ্রোহে। তবে আরো অনেক কিছুর মতই এই অভ্যুত্থানে বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় তরুণদের হাতিয়ার হিসেবে পপুলার আর্ট ফর্মের ব্যবহার। যার মধ্যে ছিলো গ্রাফিতি (চটজলদি গেরিলা পদ্ধতিতে করা দেয়াল লিখন/+ ড্রয়িং), ছিল র্যাপ সঙ্গীত ও অবশ্যই- রাজনৈতিক কার্টুন। এ যেন চেপে রাখা কোন গ্যাস-কামরার হঠাৎ বিস্ফোরণ।
রাজনৈতিক কার্টুন শেষ হয়ে গেল কিনা এইরকম আলচনা যখন চলছিল, এবং ডেইলি নিউ এইজ সহ হাতে গোণা দুই একটা পত্রিকা ছাড়া যখন রাজনৈতিক কার্টুন নেই বললেই চলে তখন জুলাইয়ের এই অগ্নিঝরা সময় যেন চারিদিকে রাজনৈতিক কার্টুন, আর্ট ও গ্রাফিতির শত ফুলকি ছড়িয়ে উদয় হল। জুলাই অভ্যুত্থানের অব্যবহিত পরে জুলাই কার্টুনের সংকলনের কাজে থাকার সুবাদে বলতে পারি এই একমাসেরও কম সময়ে শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই তরুণেরা এঁকেছেন ৬০০’রও বেশি কার্টুন! তরুণেরা রাজনীতি সচেতন নন, বা তারা আদৌ দেশের কোন সংকটে ভ্রূক্ষেপ করবে না এমন তত্ত্বকথা তরুণেরা তাদের কাজের মাধ্যমে মাটিচাপা দিয়ে দিল আরেকবার। জুলাই অভ্যুত্থানের যেকোন কথাই তাই ঘুরে ফিরে শুধু তরুণদের জয়গানে গিয়ে শেষ হবে, কার্টুনও ব্যাতিক্রম নয়।
তবে এই লেখাটা কিঞ্চিত ব্যক্তিগত কাজের স্মৃতিচারণ বলা যায়, এই আন্দোলন সম্পর্কিত কাজগুলি নিয়ে স্মৃতিচারণ। আর সেটা শুধু লেখায় বোঝানোর চাইতে কবে কোন কাজটা কী পরিস্থিতিতে আঁকা সেটা কাজটা সহ লিখে দেয়াই শ্রেয়।
শুরু করতে হলে অবশ্যই ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনের ‘সমাপ্তি’ ঘোষণা করার ঠিক পর পর আঁকা এই কাজটার কথা বলতে হবে। ছয় বছর পর যা অনেকটা ভবিষ্যতবাণীর মত ফলে গেল।
জুলাই আন্দোলনে সোশ্যাল মিডিয়ার জন্যে আমার প্রথম আঁকা ছিল এই কাজটা।
ছাত্রদের বিক্ষোভ দমনে 'ছাত্রলীগ ই যথেষ্ট' বলে ওবায়দুল কাদেরের ঘোষণা ও ছাত্রলীগ+পুলিশ মিলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপরে হামলায় ১০ জনের ও বেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়। এই কার্টুনটি ঘটনার দিন (১৬ জুলাই, ২০২৪) এ ফেইসবুক এ আমার পেইজেই আপলোড করি। এবং এটা সম্ভবত আমার অন্যতম কাজ যা দশ হাজারের বেশি মানুষ শেয়ার করেছে ও কয়েক লক্ষ মানুষ দেখে রিয়্যাক্ট করেছে। মনে রাখা ভালো যে এই ধরনের কাজ আমি টানা এঁকে গেলেও শুধু ভয় থেকেই মানুষ শেয়ার ও করতেন না বহুদিন। আমাকে ব্যক্তিগতভাবে জানাতেন যে ভাল হয়েছে। ব্যস ওই পর্যন্তই। আর এই কাজটার এত ছড়ানো প্রমাণ করে কত মানুষ কি ভয়ানক ক্ষিপ্ত ছিল সরকারের সিদ্ধান্তে। তারা আর ডিজিটাল আইনের তোয়াক্কা করছিলো না।
আমার ক্যাম্পাসে রক্ত কেন- এই প্রশ্ন করায় আয়মান সাদিকের প্রতিষ্ঠান টেন মিনিটস স্কুলের ৫ কোটি টাকার অনুদান বাতিল করে দেয় আইসিটি মিনিস্ট্রি, যেটা আবার সাথে সাথে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলক নিজের ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফাইলে শেয়ার করেন। এবং তার পরপর সাংবাদিকদের তিনি জানান- দুর্জন বিদ্বান হইলেও পরিত্যাজ্য। এই নিয়েই ক্যুইক কার্টুন ছিল এটা। এই দিনেই রংপুর এ প্রকাশ্যে নিরস্ত্র আবু সাঈদকে উপর্যুপরি গুলি করে মারা হয়। এটা জানতে পারি রাতে, দু হাত ছড়িয়ে দাঁড়ানো এক যুবককে একের পর এক গুলি করে যাচ্ছে পুলিশ আর একসময় সে লুটিয়ে পড়লো মাটিতে। এই দৃশ্যটাই পুরো আন্দোলনে গণমানুষকে যুক্ত করে দেয়। আর মানুষ ও এর পর থেকে আর যেন গুলিকে ভয় পাচ্ছিলো না।
ছাত্রলীগ আনলিশড- নিউ এইজে এর পরদিন (১৭ জুলাই, ২০২৪) প্রকাশিত
২৫ জুলাই, অলরেডি কারফিউ জারি করেছে সরকার। ওবায়দুল কাদের বলেছে- 'শ্যুট এট সাইট' বলা আছে। এর মধ্যে ইন্টারনেট শাটডাউন করেছে আইসিটি মিনিস্ট্রি। যদিও জনগণকে বোকা বোঝাচ্ছেন তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ হোসেন পলক। ইন্টারনেট নাকি 'দুষ্কৃতিকারীদের' নাশকতার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। ( কথা সত্য, দুষ্কৃতকারী তো বটেই।)
এই কাজটা যেদিন করি সেদিন রাস্তায় আর্মি নেমে গেছে, ট্যাংক ঘুরছে আশেপাশে। অদ্ভুত একটা পরিস্থিতি। যেতে যেতেই মনে হল হত্যাকাণ্ডে আর দমনে এই সরকার এরশাদকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে, এবং ৯০ দশকের এরশাদ বিরোধী আন্দোলনকারীরা হয়ত বলতে বাধ্য হবে যে এরশাদ এর চেয়ে ভালো ছিল। সেই থেকেই এই কাজ। নিউ এইজ এ এই কাজ বের হওয়ার পরদিন সম্পাদক নুরুল কবীর ডেকে বললেন, এটার বিরাট রিঅ্যাকশন পেয়েছেন তিনি। এটা নাকি আমরা একটু বেশি বেশি করে ফেলেছি, এরশাদের সাথে তুলনা! তবে আজকে এসে বুঝতে পারছি বাড়াবাড়িটা আমরা করিনি।
৩০ জুলাই, এটাও ফেইসবুক এ আমার পেইজে দেয়া। তখন ভয়ানক গোলাগুলি চলমান। হেলিকপ্টার থেকে সাউন্ড গ্রেনেড ও মতান্তরে গুলি ছোঁড়া হচ্ছে, ততদিনে বেশি কিছু শিশু বাড়িতে থেকেও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে! নিজের দেশের সরকার যখন গণহত্যায় নামে তখন তার চেয়ে অসহায় আর কিছু হতে পারে না। মৃত্যুর সংখ্যা তখন কাগজে কলমে যতদূর মনে পরে অলরেডি ১০০ ছাড়িয়েছে।
আগস্ট ১ এ নিউ এইজের জন্যে আঁকা। রংপুরে পুলিশ প্রকাশ্যে গুলি করে মারে আন্দোলনকারী আবু সাঈদকে। তার ভিডিও ছড়িয়ে পরে গোটা বাংলাদেশে। এর পরেই এফআইআর- এজাহারে তারা লেখে আন্দোলনকারীদের ছোঁড়া ইটপাটকেল এ মারা গেছে সে। এমনকি তার হত্যাকারী হিসেবে এক কিশোর ছেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। কি যে অবিশ্বাস্য অত্যাচার ও অন্যায় সবার চোখের সামনে ঘটেছে তা এখনো ভাবলে শিউরে উঠতে হয়। এর মাঝে যাতে কেউ কিছু জানতে না পারে তার জন্যে মাঝে মাঝেই ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে, পুরোটা সময় ই প্রায় বন্ধ/ ডাউন করে দেয়া হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। আমাদের ন্যূনতম ইন্টারনেট এর মধ্যে যোগাযোগ বা তথ্য আদানপ্রদান করতে হয়েছে VPN সার্ভিস ব্যবহার করে। রীতিমত যুদ্ধ পরিস্থিতি।
আগস্ট ৩, এ সময়ে এসে আসলে সবার অবস্থা হয়ে গিয়েছিল যা হয় হোক। মরে গেলেও আমরা আন্দোলন থামাচ্ছি না। আর একত্রে যেই তরুণেরা কখনোই রাজনীতি নিয়ে তেমন একটা ভাবে নি, বা আঁকেনি তারাও সবেগে এঁকে যাচ্ছিলো। সেদিন এই কাজটি আপ করা।
আগস্ট ৫, ঐতিহাসিক দিন। সকাল থেকেই থমথমে সব। নিউজ চ্যানেলও একই খবর লুপে ফেলে রিপিট করছে। বাইরে কার্ফিউ, ছাত্রলীগ নেতারা রক্তের হোলি খেলার ঘোষণা দিয়েছে। শ্যুট এট সাইট বিদ্যমান। হঠাৎ আমার বন্ধুদের ফোন উত্তরা থেকে। তারা সবাই রাস্তায় নামছে কার্ফিউ অমান্য করে। এই আন্দোলনের মূল যে স্পিরিট সেটা এসেছে এরকম গণমানুষ থেকে। কারণ আমার বন্ধুরা কার্ফিউ অমান্য করে রাস্তায় নামার মানুষ না। কোনভাবেই যার আন্দোলনে নামার কথা না সে-ও এই ভয়ানক সিরিজ হত্যাকাণ্ড দেখে রাস্তায় নেমে গেছে। টিভিতে ওদিকে দেখা যাচ্ছে বেলা দুইটায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। তখনই বুঝে ফেললাম শেখ হাসিনা আর নেই। খুব সম্ভব এই মুহুর্তে তাঁর সেইফ এগজিটের ব্যবস্থা চলছে। তখন তখন ই এই কার্টুন টি আঁকি। এবং বিকেল নাগাদ সে কথাই সত্য হয় (যা অবিশ্বাস্য), শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন।
৬ আগস্ট, নিউ এইজের কার্টুন, য পলায়তি, স জীবতি। সব নেতা কর্মিদের ফেলে সপরিবারে পলায়ন। রাস্তায় রাস্তায় তখন আনন্দ মিছিল, শাহবাগ, বাংলা মটর, মিরপুর রোডে মানুষের ঢল, কিন্তু সেখানে শামিল না হয়ে আমি সরাসরি যোগ দিয়েছি আমার ডেস্কে, কারণ আমার সহকর্মীরাও তা-ই করছেন। মনে আছে যখন এই কাজটা করছি তখন ঠিক নিউ এইজ অফিসের নিচে চলছে মারামারি, পাশেই সময় টিভির অফিসে হামলা করেছে একটি দল। মাঝে মাঝেই শুনতে পাচ্ছি আমাদের অফিসেও আগুন এই লেগে গেল বলে, এর মাঝে তাড়াহুড়ো করা এই কাজ, যা পরবর্তীতে দেয়ালে দেয়ালে অনেকবার নতুন করে এঁকেছেন তরুণেরা। এমনকী জুলাই অভ্যুত্থানের কার্টুন নিয়ে ড. শহীদুল আলমের সম্পাদনার বইটির (July Uprising: Satire and Ridicule Cartoon that demolished a dictator) প্রচ্ছদ হিসেবেও এই কাজটি নির্বাচিত হয়েছে।
৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর পর নৈরাজ্যের চুড়ান্তে চলে যায় দেশ, ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয় যা এমনকি ১৯৭১ এও অক্ষত ছিল। সরকারী স্থাপনা ভাংচুর, আর সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার তো আছেই। সেদিন থেকেই এই সরকার ও এর সাথে জড়িত অন্যান্য গোষ্ঠীর সমালোচনায় আমাদের কাজ শুরু হয়ে আবার। আমি মনে করি আমাদের সাংবাদিকদের এবং অবশ্যই সেই সাথে বিশেষ করে রাজনৈতিক কার্টুনিস্টদের মাথায় রাখা উচিত ন্যায়ের লড়াইটা কখনো কোন নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে না, লড়াইটা অন্যায়ের বিরুদ্ধে, সেটা যে-ই করুক। এ ব্যাপারে আমি বাংলাদেশের রাজনৈতিক কার্টুনের দিকপাল, মাস্টার আর্টিস্ট শিশির ভট্টাচার্যের একটি বইয়ের থেকে কোট করে লেখাটা শেষ করছি,
“ন্যায় অন্যায় বিচারের শক্তিটাই একজন কার্টুনিস্টকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। রাজনীতিতে সরকার ও বিরোধী দল থাকে, একজন কার্টুনিস্ট তিনি কখনই কোন পক্ষের হয়ে কাজ করেন না- কোন দলের প্রতি তার ব্যক্তিগত পছন্দ, অপছন্দ, দুর্বলতা বা ঘৃণা কখনই প্রকট হয়ে প্রকাশিত হয়ে যাওয়া মনে করি একজন কার্টুনিস্টের দুর্বল দিক। তবে যে দলই সরকার গঠন করুক, কার্টুনিস্টের মূল টার্গেট কিন্তু সরকার, সরকারের সমালোচনা, ত্রুটি এসব ব্যাপারে কড়া নজর রাখা। তাই বলে বিরোধী দলের কখনই মনে করা ঠিক হবে না যে, কার্টুনিস্ট তাদের দলের। সেজন্য বিরোধীদেরো ছাড় দেবার অবকাশ নেই। নিরপেক্ষতা ব্যাপারটি অত্যন্ত জটিল ও স্পর্শকাতর। একটা শক্তিশালী এবং নির্ভেজাল শক্ত অবস্থান কার্টুনিস্টের অবশ্যই প্রয়োজন। যেখানে দাঁড়িয়ে সে সবকিছুর সমালোচনা করবে। এখনো পর্যন্ত আমার মতে সেই অবস্থানটা হচ্ছে দেশ, দেশের মানুষ, তার অবস্থান, গর্ব করার ইতিহাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সর্বোপরি দেশের সার্বভৌমত্ত্বের প্রশ্ন , এবং মানবতাবোধ।” - শিশিরের কার্টুন, একুশে পাবলিকেশন্স লিমিটেড, ফেব্রুয়ারি, ২০০২
লেখক মেহেদী হক, সিনিয়র কার্টুনিস্ট, দ্য ডেইলি নিউ এইজ
October 06, 2024
হ্যাংওভার কাটিয়ে
একটা সময় ছিল সব জায়গায় লেখা থাকতো (অবশ্যই এখনো আছে) 'রাজনৈতিক আলাপ নিষেধ'। এখন অবস্থা উলটো। এখন যেন রাজনীতি ছাড়া অন্য আলাপ জমেই না। বুঝুক না বুঝুক সবাইকে সব বিষয়েই মত দিতে হবে। এটা ততক্ষণ পর্যন্ত সমস্যা না যতক্ষণ একজন তাঁর মত আরেকজনের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে না। আমরা যেহেতু অন্যেরও মতামত থাকতে পারে এটাই নতুন জানতে পেরেছি, তাঁদের যে দুই পা আলাপ চলার পরেই হাতাহাতি শুরু হয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক।
যাই হোক, তথাকথিত 'নতুন বাংলাদেশ' এ দেখা যাচ্ছে সবাই সবার যা ইচ্ছা করার চেষ্টা করে ভজঘট করে ফেলেছেন। এবং পূর্বেই বুদ্ধিমান মানুষেরা যা যা বলেছেন তা ফলতে শুরু করেছে। ইসলামের ছদ্মবেশে জঙ্গিরা হুমকী দিয়ে বেড়াচ্ছে, গর্ত থেকে উঠে এসেছে এতদিনের লুকিয়ে থাকা ধর্মের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাজনৈতিক ব্যবসায়ী দলের সব লোকজন। তাঁদের বিভিন্ন আস্ফালনে বুদ্ধিমানেরা এটাও বুঝতে পারছেন যে কে আসলে মূল লাভের গুড় খাবেন তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারি আসন্ন।
যাই হোক, কার্টুনের ব্যাপারী হয়ে রাজনীতির জাহাজের খবর রাখার কথা ছিলো না, কিন্তু পেশায় ও নেশায় যেহেতু রাজনৈতিক কার্টুনিস্ট, সেহেতু 'বিপ্লব' পরবর্তী সময়েও কার্টুন এঁকে যাচ্ছি। গত কিছুদিনের কাজ এখানে তুলে দিলাম সবার জন্যে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৩ মাস। এর পর নির্বাচন না দিলে সংবিধানমতে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে এমনকি মৃত্যুদণ্ডের বিধান আছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের। যথাসময়ে তাই পলায়ন করলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার হাবিবুল আউয়াল। বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ধসিয়ে দিয়ে পরে নিজের প্রাণ বাঁচালেন। য পলায়তি, স জীবতি।
চলছে 'মব জাস্টিস' এর নামে গণপিটুনি, আর সংখ্যালঘু নির্যাতন, মন্দির ও প্রতিমা ভাংচুর। আর প্রধান উপদেষ্টা সেগুলির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবার বদলে ক'দিন পর পর জাতির উদ্দ্যেশ্যে ভাষণ দিচ্ছেন। বলছেন- আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। যেন বাংলা সিনেমার শেষে পুলিশ চলে এসেছে।
এই কাজটা অগাস্টের শুরুতেই করা। পরে আর প্রিন্ট হয়নি।
ছাত্রলীগের মধ্যে লুকিয়ে থাকা শিবির কর্মীদের একে একে আত্মপ্রকাশ। হেলমেটের দুইদিক। এই কাজ প্রকাশের পরে যে পরিমাণ নোংরা গালাগাল এর মুখোমুখি হয়েছি তাতে এ কথা স্পষ্ট যে জামাত-শিবির পন্থী বা সমর্থকেরা অত্যন্ত নোংরা। এটা কিন্তু একটা দারুণ সামাজিক গবেষণার উপাত্ত হতে পারে, গত সরকার এর সময় কার্টুনে কারা প্রতিক্রিয়া দেখাতো আর এখন কারা দেখাচ্ছে।
September 06, 2024
Life begins now
৪০ এ পড়লাম।
মনে আছে ৩০ বছর হবার আগে ভয়ানক মন খারাপ ছিল। বুড়ো হয়ে যাচ্ছি,- এই ভয়টা সম্ভবত ছোটদের। এদিকে এবারে ৪০ এ পড়েও মনে হচ্ছে জীবন মাত্র শুরু হল। কী দারুণ একটা শুরু এখন। বাবা হলাম ক'দিন আগে, একটা জেঁকে বসা স্বৈর শাসনের মাত্র অবসান হল অভূতপূর্ব এক গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে, সেখানে আমার রাজনৈতিক কার্টুনের একটা ভূমিকা ছিল। ওদিকে নিজের পড়াশোনা চলছে কমিক্স-কার্টুন নিয়ে সান ফ্রান্সিস্কোতে দারুণ একদল ফ্যাকাল্টির সাথে।
যদিও পকেট ভোঁ ভোঁ, একেবারেই যা-তা অবস্থা ফাইনান্সিয়ালি, কিন্তু মন টইটম্বুর। প্রতিদিন শরতের এক দলা মেঘ দেখি গজগামিনে যাচ্ছে, বাড়ি ফেরার পথে সন্ধ্যা মিলানোর আগে আগে হঠাত পান্থপথের রোড ডিভাইডারের বকুল গাছে ডেকে ওঠে শ'খানেক চড়ই, তল্লাবাগের গলিতে হেঁটে ফিরতে ফিরতে টের পাই গেরস্থালি ঘরবাড়ির একটা আদর মেশানো ঘ্রাণ। জড়াজড়ি করে কোটি মানুষের প্রাণ কল্লোল যেন এদিক ওদিকে প্রতিদ্ধনিত হচ্ছে।
ঘরে ঢোকার মুখে সবজি কিনতে কিনতে মনে হয়ে এইরকম গেলে খুব একটা খারাপ না তো জীবনটা।
| ৪০ বছর হল, দুই ছবির মাঝের গ্যাপ দুই মাস মাত্র। চুল যে সিলুয়েট আর ফর্ম এর অনুপাত কতটা ডান-বাম করে দেয় । |
August 30, 2024
36th July movement Cartoons
সাধারণত আমার ব্লগে আমি আমার রাজনৈতিক কার্টুন নিয়ে লিখি না। ব্যস্ততার কারণে ব্লগ লেখাও কমে গেছে। তবে এই ঘটনাটা নিয়ে বিশদ লিখতে গিয়ে ব্লগই বেছে নিচ্ছি আবার।
অবিশ্বাস্য এক ছাত্র-জনতা বিপ্লবের সাক্ষী হলাম গত ক'দিনে। সাধারণ এক চাকরির কোটা পদ্ধতি সংস্কার নিয়ে শুরু হওয়া একটা মুভমেন্ট ১৫ বছরের আওয়ামী শাসন কে সমূলে উৎপাটিত করে দিল এক মাসেরও কম সময়ে। সেটার কারণ, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব, আফটার ইফেক্টস এসব নিয়ে বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে আছে অচিরেই। আপাতত ওই সময়ে করা আমার কিছু পলিটিক্যাল কার্টুন আপ করে রাখছি এখানেই। ক্যাপশনে বর্ণনা।
প্রথমেই ২০১৮ র তিনটি কার্টুন এখানে রাখা উচিত বলে মনে করি। এগুলো সবই তখনকার কোটা সংস্কার নিয়ে করা কাজ।
| ২০১৮, তখনকার মতন কোটা আন্দোলন থামিয়ে দেয়া হল। এই কাজটি ৬ বছর পর এসে একটা ভিন্ন মাত্রা পেল। |
| ছাত্রলীগ আনলিশড- নিউ এইজে এর পরদিন (১৭ জুলাই, ২০২৪) প্রকাশিত |
![]() |
২৫ জুলাই, অলরেডি কারফিউ জারি করেছে সরকার। ওবায়দুল কাদের বলেছে- 'শ্যুট এট সাইট' বলা আছে। এর মধ্যে ইন্টারনেট শাটডাউন করেছে আইসিটি মিনিস্ট্রি। যদিও জনগণকে বোকা বোঝাচ্ছে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ হোসেন পলক যে ইন্টারনেট নাকি 'দুষ্কৃতিকারীদের' নাশকতার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। কথা সত্য, দুষ্কৃতকারী তো বটেই। এই কাজটা যেদিন করি সেদিন রাস্তায় আর্মি নেমে গেছে, ট্যাংক ঘুরছে আমাদের বাসার আশেপাশে। অদ্ভুত একটা পরিস্থিতি। যেতে যেতেই মনে হল হত্যাকাণ্ডে আর দমনে এই সরকার এরশাদকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে, এবং ৯০ দশকের এরশাদ বিরোধী আন্দোলনকারীরা হয়ত বলতে বাধ্য হবে যে এরশাদ এর চেয়ে ভালো ছিল। সেই থেকেই এই কাজ। নিউ এইজ এ এই কাজ বের হওয়ার পরদিন সম্পাদক নুরুল কবীর ডেকে বললেন, এটার বিরাট রিঅ্যাকশন পেয়েছেন তিনি সরকারদলীয় সাংবাদিকদের থেকে। এটা আমাদের বাড়াবাড়ি হচ্ছে বলে অনেকে সতর্ক করেছেন। তবে আজকে এসে বুঝতে পারছি বাড়াবাড়িটা আমরা করিনি। গতকাল জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী জুলাই গণহত্যায় নিহতের সংখ্যা ৬৫০! আর আমাদের গণমাধ্যমে সোর্স সহ তালিকাই এখনো ২৫০ এর কাছাকাছি। সুতরাং এই কার্টুন টা বরং কম ই হয়েছিলো। নিউ এইজ লিংক। |
![]() |
| এই কাজটি জুলাইয়ের মাঝামাঝি ড্রাফট করে রাখা ছিল নিউ এইজের জন্যে, তবে পরে আর পাবলিশড হয়নি। এর পরে ২ আগস্ট ফেইসবুক এ আমার পেইজ এ দিয়ে দেই। |
| ড. ইউনুসের প্রধান উপদেষ্টা পদ গ্রহণ। |
![]() |
| এই কাজটা এই পোস্ট এ না রাখলে অন্যায় হবে। গত দীর্ঘ পনের বছর আমি অপেক্ষা করছিলাম একটা ভিন্ন দিক থেকে কার্টুন আঁকার। নইলে নতুন প্রজন্মের কাছে আমি শুধুমাত্র আওয়ামী বিরোধী কার্টুনিস্টে পরিণত হচ্ছিলাম। প্রথম সুযোগেই তাই পুরো বিল্পবের পরে হঠাৎ টিভি থেকে তারেক জিয়া স্বয়ং এবারে দৃশ্যপটে বেরিয়ে আসছেন এমন আঁকি, এটা জাপানি হরর সিনেমা দ্যা রিং একটা বিখ্যাত হরর দৃশ্য। টিভিতে চলমান একটা ভিডিও থেকে একটা মেয়ে সত্যি সত্যি বের হয়ে আসে ঘরে। একটা লক্ষ্য ছিল এতদিন আমাকে নিজেদের লোক ভাবা বি এন পি গোষ্ঠীর একটা বড় অংশ যেন আমার সঙ্গ ত্যাগ করে, বা সোশ্যাল মিডিয়ার ভাষায় 'আনফলো' করে। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস। এই কার্টুন শেয়ার করে দেন তারেক জিয়া স্বয়ং। এবং তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী এই ধরনের কার্টুন যে আবার ফেরত আসছে এটাকে তিনি স্বাগত জানান, ও যাতে এরকম আরো আঁকা হয়। স্মার্ট মুভ!- এ ছাড়া আর কছুই বলার নেই। আমার পেইজ এ এখন হুহু করে বেড়ে গেল বিএনপি সমর্থক ও তাঁদের নেতাকর্মীতে। ব্যাপারটায় অস্বস্তি ও কৌতুক মিলে একটা মিশ্র অনুভূতি হয়েছে। এই নিয়ে হয়েছে অসংখ্য নিউজ, তার কিছু লিংক এখানে দিয়ে দেই- ইত্তেফাক গুগল করে দেখলাম যে পরিমাণ খবরের পোর্টালে এই খবর এসেছে তা সব এখানে পোস্ট করতে করতে বেলা পার হয়ে যাবে। সেই চেষ্টা বাদ দেই, এক কথায় এটা তার পরদিন অনেকটা টক অফ দ্য টাউন হয়ে গেছিলো। তরুণ জেনারেশনের মন বুঝে এই কাউন্টার প্রোমোশন আমাকে কিছুটা হতবুদ্ধি করে দিয়েছে সন্দেহ নেই, তবে এই ট্যুইস্ট মেবি কার্টুন আঁকলে হুট করে কেউ ধরে নিয়ে যেতে পারে এমনটা ভাবার চাইতে বেটার। কারণ সিরিয়াস স্যাটায়ার পলিটিকাল কার্টুন যারা করেন ও প্রাচার করেন আমার জানামতে তার মধ্যে একমাত্র আমি-ই বাংলাদেশে থাকি। অপরদিকের অকুতোভয় বিপ্লবী শিল্পীদের অধিকাংশই প্রবাসী। |
![]() |
| অন্য যে কাজটি দিয়ে আমি এই লেখাটা শেষ করতে চাই তা হল 'বিপ্লব' পরবর্তী সময়ের সুযোগে ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে দল হিসেবে গণহত্যার পক্ষে থাকা ও কোলাবোরেটর হিসেবে কাজ করা জামায়াতে ইসলামী নিয়ে 29.8.24 এ নিউ এইজ এ করা এই কাজটা। 'ছাত্র-জনতা' বিপ্লবের পর পর তুলনামূলকভাবে ১৯৭১ এর সাথে একেবারেই কম পরিচিত প্রজন্মের কাছে একটা সফেদ ইমেজ দাঁড়া করাতে তারা দৃশ্যপটে হঠাত আবির্ভূত হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে বা এমনিতে গত পনেরো (ইন ফ্যাক্ট ২২ ) বছরে কার্টুন এঁকে যতটা গালাগালী বা হুমকি না পেয়েছি, এই একটা কাজ এ তার থেকে তা বেশি পেয়েছি। নোংরা গালাগাল ও প্রকাশ্যে হুমকী। আমি বলবো এটা প্রমাণ করে কাজটা কতটা সফল। কারণ সফেদ বেশ ধরার চেষ্টারত দলের সমর্থকরা আসলে কী ভাষা ধারন করে এটা সামনে আসা জরুরী। এবং আমি মনে করি এ ক'দিন আওয়ামী লীগের কুক্ষিগত মুক্তিযুদ্ধের যে একপেশে ভাষ্য সেটার অন্যপাশ নিয়ে কাজ করার সময় এসেছে। এদ্দিন ১৯৭১ কে তারা যেভাবে দলীয়করণ করে রেখেছিল তাতে যে যা-ই বলতো তাকে একটা ট্যাগ স্থাপন করা হত। আমি মনে করি এখন সময় এসেছে মুক্তিযুদ্ধের না বলা অংশ নিয়ে কাজ করার। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তাজউদ্দীন উপেক্ষিত থেকে গেছেন। উপেক্ষিত থেকে গেছেন বাম রাজনীতির প্রেক্ষাপট থেকে আসা যোদ্ধারা, উপেক্ষিত থেকে গেছেন অনেক সাধারণ মানুষ। এসব নিয়ে কাজ শুরু করার দারুণ সময় এটা। |
June 19, 2024
Caricature: Esha and Shadman
দেখতে দেখতে সময় চলে যায়। সেদিনের এষা, মানে আহসান হাবীব দ্য বস, মানে আহসান ভাইয়ের মেয়ে এষা এখন রীতিমত সংসারী। তাঁর জীবনসঙ্গি শাদমান ও দারুণ ...


















.jpg)






