July 12, 2026

চায়না টাউনে

 মিতু আর অনু ছাড়া আজ ১১ দিন। ইন ফ্যাক্ট একেবারে একা বিদেশে পড়ে আছি সেটাও এই প্রথমবার। কমিকস এর মাস্টার্স প্রায় শেষ পর্যায়ে। ক্যালিফোর্নিয়া কলেজ অফ আর্টস এর ফাউন্ডার্স হলে গাট্টি বোচকা নিয়ে উঠেছি এবারে। পুরো হল ভোঁ ভোঁ। সামারে হাতে গোণা কিছু সিনিয়র স্টুডেন্ট ছাড়া সব রুম ই খালি। সবচেয়ে সস্তা ডাবল স্টুডিও শেয়ারিং রুম নিলাম, ঢুকে দেখি আমি একাই। মানে হাঁফ দামে পুরোটা পেয়ে গেলাম, খাওয়ার ব্যবস্থাও খারাপ না। একটা মিল প্ল্যানেই লাঞ্চ আর ডিনার। প্যাঁচ হয় উইকেন্ডে। শনি আর রবি সেই ক্যাফেটাও বন্ধ থাকে। আজ যেমন প্রথম শনিবার সকাল উঠেই তাই হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলাম ফোরটিন্থ স্ট্রিট ধরে সোজা পিট'স কফি তে। এখানে দারুণ একটা চিকেন বুরিতো পাওয়া যায় কমের মধ্যে, আর এদের কফিও দুর্দান্ত। এরপর কী মনে করে বইয়ের দোকান কী কী আছে ঘাঁটতে গিয়ে পেলাম ফরেস্ট বুকস, আর কমিকস এর জন্যে জাপানিজ চেইন কিনোকুনিয়া, যেটা অতি সম্প্রতি ঢাকায় খুলেছে। যাই ভাবা সেই কাজ, বের হয়ে এদের মিউনি সার্ভিসের পাবলিক বাসে চেপে সোজা প্রথমে কিনোকুনিয়া।

 ঢুকে যাকে বলে আক্কেলগুড়ুম। এত এত মাঙ্গা, কমিকস আর কালেক্টিবলস  আইটেম যে বুঝতে পারলাম বেশিক্ষণ থাকলে এবারে ক্রেডিট কার্ডের একটা বড় অংশ এখানেই পুড়িয়ে আসবো। অনেকটা ছুটে বের হয়ে এলাম কিছু না কিনেই। মিতু আর অনু আসলে ওদের নিয়ে আবার আসা হবে, তখন দেখা যাবে।


বের হয়ে এবারে আশে পাশে হেঁটে দেখি দারুণ ব্যাপার। না বুঝেই সান ফ্রান্সিসকোর দারুণ একটা জায়গা জাপান টাউন এসেছি। ফরেস্ট বুকস টা জাপান টাউনেই। তবে ঢোকার আগেই পেটপূজোর দায়ে আশেপাশে তাকালাম। যা দেখতে পাচ্ছি ভালই খরুচে। কী আর করা, খেতে তো হবেই। মনে মনে হিসাব কষে দেখলাম গতকাল আমার একটা ডলার ও খরচ হয়নি। ব্রেকফাস্ট করেছি আগের কিনে রাখা স্ন্যাকস দিয়ে, দুপুরে সবাইকে পিজ্জা ট্রিট দিয়েছে আমাদের শিক্ষক জিবি ট্র্যান। আর রাতে ছিলো কমিকস লেকচার। সেখানে লেকচার শেষে বাইরে রাখা ছিল বুফে নাস্তা। তাই আজ একটু ভালো খাওয়াই যায়। চোখে পড়লো ইয়ামাদা রামেন। রামেন ই সই। 

ঢুকেই বুঝলাম কী ভালো একটা সিদ্ধান্ত ছিল। এটা যথেষ্ট নামকরা রামেন শপ জাপান টাউনের। আর রামেনের স্বাদ ও দুর্দান্ত। এই রামেন খাবার সময়েই ইউটিউব দেখে শেখা চপ্সটিক ধরাটা কাজে লাগে আমার মাঝে মাঝে। 

এক নিঃশ্বাসে সবটুকু খেয়ে এদের সার্ভার লোকটাকে স্কেচবুকে এঁকে ফেললাম। খুব ইন্টারেস্টিং ক্যারেক্টার।  বিল দিয়ে বের হবার আগে মনে হল ব্যাটাকে দিয়ে যাই। ডেকে যেই হাতে ধরিয়ে দিলাম, পুরো রেস্তোরাঁর সব স্টাফ এসে হাসিতে ভেঙে পড়লো। এই একটা জিনিস আমার বেশ ভালো লাগে। একটা গম্ভীর মানুষ ও যখন তার কার্টুন দেখে হেসে ফেলে।

আমার চোখে মানুষ দুই ধরনের, একদল নিজের ক্যারিকেচার দেখে হাসে, আরেকদল হাসে না। যারা হাসে না তাদের থেকে সাবধান থাকাই ভালো। যাই হোক, জাপানিজ-আমেরিকানএর নাম আর্নল্ড (ন্যাচারালি)। সে সাথে সাথে আমার ইন্সটা একাউন্ট খুঁজে বের করে ফলো দিয়ে দিলো। বলে আসলাম, আবার দেখা হচ্ছে শিগগরই।








জাপান-টাউন, সান ফ্রান্সিসকো




কিনোকুনিয়ার সামনে






আর্নল্ড আর আমি, পেট পুরে রামেন সাঁটার পরে।


 
প্রথম দিন, মিতুর ঢাকা ভার্সিটির জুনিয়র হ্যাভেন, যে না থাকলে সান-ফ্রান্সিসকোতে সার্ভাইভ করাই কঠিন হত। খুব ই উপকারী ছেলে।

রুমের ইলেকট্রনিক চাবি নিয়ে আমার প্রথম ও সম্ভবত শেষ হল এর রুমের সামনে।


ফাউন্ডার্স হল।


এবারে ভুলকরে আমার আইডিটাই ফেলে এসেছি, এসে আবার প্রিন্ট নিলাম। লাভের লাভ হল, ছবিটা আপডেট করা গেছে।


এডোবির সামনে, এইটা ঠিক আমাদের পাশের বিল্ডিংটাই!

সাওর চেরি কমিকস শপে একটা কমিকস গ্যাদারিং ছিল শুরুতেই। সেখানে আমার চাইনিজ-আমেরিকান ক্লাসমেট সিউংহো। সে বেশ নাটুকে, নিজের কমিকস এর নাম ফোবিয়া। যেখানে যার যা ফোবিয়া, মৃত্যুর পরে সে পুনর্জন্ম নিয়ে তা-ই হয়ে ফেরে। সে নিজে সেরকম একটা পোকা ক্যারেক্টারের হাতে বানানো মুখোশ পরে কমিকস নিয়ে বসেছে বিক্রির জন্যে।



ল্যাবে আমার কর্নার। এপলের কমান্ড কী আর মাউসের উলটা স্ক্রলিং গ্রিপে
আসতে আসতেই সপ্তা পার হয়ে যায়।


May 02, 2026

দৈনন্দিন

 সারাদিন থেমে থেমে বৃষ্টি। মেঘমেদুর আকাশের মাঝে হঠাৎ ঝকমকে রোদ আসে আবার চলে যায়। দিন এখন যায় আমার মেয়ের সাথেই। অনু বেশ মজার হয়েছে। তার মূল এন্টারটেইনমেন্ট এখনো শুধুই বই। ফলে পড়তে পড়তে জান পহেচান আমাদের। আর মিতু ফুল টাইম চাকরিতে ঢোকার পরে এখন বিশেষ করে আমার।

শ' দেড়েক বই তার পড়া শেষ এই দুই বছর এক মাস বয়সে! তার মধ্যে এখন সে পড়ছে (বা পড়ে শোনাচ্ছি) টিনটিনের সব বই। এবং শুধু পড়লে হচ্ছে না। যেটাই পড়ছি সেটাই বার বার মুখেও বলতে হচ্ছে। তার ঘুমের আগে এখন সে কাঁধ থেকে মাথা তুলে বলে। বাবা 'লোবিতো (লোহিত) সাগরের হাঙ্গর টা বলো' আর কোন নতুন চরিত্র (পাঁচশো বারের বেশি শোনার পরে আর কি) এলেই তার সিরিয়াস প্রশ্ন- 'ও কি বালো (ভালো)?' জীবনের সুন্দরতম সময় কাটাচ্ছি। কিন্তু একই সাথে কাজকর্ম শিকেয় ওঠায় পাশাপাশি খুব ফ্রাস্টেটেড ও লাগে। আবার ওর দিকে তাকালে মনে হয়- একদম ঠিক আছে। ওর জন্যে এটা করাই যায়। আমি আসলে কতটা লাকি মাঝে মাঝে ফুটপাতের প্রবল ভীড়ের মধ্যে ধাক্কধাক্কি করে হাঁটার মাঝেও মনে করি। যা চেয়েছি তা পাইনি এমন কিছু জীবনে খুব কম ই আছে। ভয়ানক সব কষ্ট মানুষের থাকবেই, তারপরেও পাবার পাল্লায় শুধু যদি এরকম দারুণ একটা মেয়ে সন্তান থাকে তাহলে আর কিছু দরকার নেই।

একটাই সমস্যা, ছোটদের কোন দুসংবাদ এখন আর নিতে পারি না। অধুনা বিলুপ্ত ড.ইউনুস চালিত অস্থায়ী ও অন্তর্বতীকালীন সরকারের আমলে দেশে হামের টিকা কেনা হয় না। ফলস্বরূপ, হাজার হাজার বাচ্চা আক্রান্ত হচ্ছে হাম এ। মারা গেছে ২৫০ এর ও বেশি বাচ্চা। এই সব মৃত্যু গত সরকারের গাফিলতিতে। তারপরেও এই দেশে তাদের কেশাগ্র কেউ ধরবে না। কী যে হতভাগা আমরা।

আর বাচ্চাদের এইসব মৃত্যু দেখলে আমার মাথায় চলে আসে ওদের বাবা-মা এর অবস্থা। আর কত না কষ্ট পেয়ে বাচ্চাগুলো মারা গেছে- আহারে, আহারে!



এই দুইদিন কাজ করা হয়নি তেমন। সময় ই পাইনি টেবিলে বসার। এর মাঝে শুধু মে দিবসের একটা কার্টুন এঁকে কার্টুনমুভমেন্ট এ দিলাম। অনেকদিন পরে আবার আন্তর্জাতিক অডিয়েন্স এর কথা মাথায় রেখে আঁকা শুরু করলাম। 

April 30, 2026

Bonolota cinema outing

 আজ অনেকদিন পরে আমি আর মিতু আউটিং এ বের হলাম। পিচ্চি বাদে মেবি গত দুই বছরে এটা আমাদের দ্বিতীয় আউটিং। আউটিং বলতে বাড়ির কাছেই দুই পা হেঁটে সিনেমা দেখতে যাওয়া। বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমাটা বেশ জোড়েসোরে চলছে এখন। তানিম নূর এর পরিচালনায় হুমায়ূন আহমেদের গল্প অবলম্বনে সিনেমা। বেশ 'ফিল গুড' সিনেমা। মাঝে বেশ ক্যামিও ট্যামিওও ছিল হুমায়ূন ইউনিভার্স থেকে। আর ছোটখাট ভূমিকাতেও বেশ ভাল অভিনেতাদের নেয়ায় সব মিলে জমে গেছে। কিছু জায়গায় জোর করে হাসানোর চেষ্টা চোখে পড়লেও পরে সামলে নিয়েছে পরিচালক। সিনেমা ছিল দোহাই, ঘুরে আসাটাই আসল। বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্স এ টিকেট মিলছে না দেখে অবাক হলাম। মারদাঙ্গা বা আইটেম নৃত্য ছাড়া একটা সিনেমার মাসখানেক পরেও টিকেট মিলছে না এটাই তো দারুণ ব্যাপার।  পরে অদ্ভূত একটা জায়গায় টিকেট মিললো।  সামরিক যাদুঘরের ভেতরে নাকি সিনেপ্লেক্সের  আরেকটা শাখা আছে। কোন ধারনাই ছিলো না আজকের আগে। গিয়ে দেখি বেশ  ফাঁকা, ঘরোয়া একটা পরিবেশ। খুবই ভালো লাগলো। সিনেমায় ঢোকার মুখে শিবুদা'র সাথে দেখা। মেঘদলের ভোকাল, আমার একসময়ের নিউ এইজ কলিগ শিবুদা' যিনি কথা বললেই ঘরের তাপমাত্রা দুই ডিগ্রি নেমে যায় এমন ভরাট গলা। শিবুদা' বিরাট চুল রেখেছেন দেখলাম। তিনি শুনে টুনে বললেন, তাও তো এক পিস বলে রেখে আসা গেছে। আমার তো দুইটা। 

শুনে দুইজনেই সিদ্ধান্ত নিলাম চুল মাথায় থাকতেও বেলতলা পুনর্বার যাত্রা নাস্তি।

সামরিক যাদুঘরের সামনে দিয়ে যেতে যেতে হঠাৎ দেখি স্পাইরাল আলু চিপস। জিনিসটা খুব ই অস্বাস্থ্যকর। একটা আলু সাপিয়ারালি কীভাবে যেন কাটে স্পেশাল একটা কাটার দিয়ে। এর পর সেটা (কে জানে কে কবের) তেলে ডুবিয়ে কড়কড়ে করে ভেজে আরেকটা লোকালি মেইড সস এ ডুবিয়ে দেয়। ২০ টকায় সেটা কিনে খেতে খেতে যাচ্ছে তখন একটা মজার ব্যাপার হল। হঠাত এক বিশওবিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে এসে বল- আপনার সাথে ছবি তুলতে পারি? এটা আমার বেশ মজাই লাগে। কার্টুন এঁকে একেবারে পথেঘাটে ফ্যন জুটে যাবে এটা কখনো ভাবিনি। মাঝে মাঝে এমন হলে তাই আমোদ বোধ হয়। সবচেয়ে মজা হয়েছিলো মহেশখালিতে গিয়ে। একেবারে কাকপক্ষী নেই এমন একটা জায়গা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। সামনে একটা টিলার ওপর মন্দির, তখন মনে হলে একটা ছেলে ফলো করছে। বুঝতে পারলাম না, পরে সে সামনে এসে বললো- আমি আপনাকে ইন্সটাগ্রামে ফলো করি। তখন মনে হলে ডিজিটালি ফলো ক্রাটা নরমাল হলেও রিয়েল লাইফে ফলো করাটা একটু ক্রিপি টাইপ। তবে মহেশখালীতে গিয়েও এমন কাউকে পাব চিন্তাতেও আসেনি। ছেলেটার নাম বিজয়সিংহ। নামটা মনে রাখাটা কর্তব্য বটে। 

কোনভাবেই সেলফি ও পিছের পোস্টার একত্রে ম্যানেজ
করতে না পেরে কোনমতে ব্যাকাত্যাড়া ছবি।


April 27, 2026

ঝড়ের দিন

বিরাট ঝড়ে পড়েছিলাম গতকাল। ঢাকা কমিক্স স্টুডিও থেকে কাল মেঘ দেখেই প্রমাণ সাইজের যে ছাতাটা (যার নিচে অনায়াসে হাত এঁটে যাবে) ফুটপাত থেকে কিনেছিলাম সেটা কোমড়দাবা (বগলে আঁটে না) করে বের হতে না হতেই কড়কড়াত শব্দে কান ঝালাপালা বজ্রাঘাত। এবং ছাতা উলটে 'পপাত চ মমার চ'। যত বড় ছাতা তত বড় উল্টানি। আর ঠিক তখনই মাথার ওপরে কোথাও কিছু একটা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হল। মনেমনে হাসি পেল। এই মুহুর্তে বজ্রাঘাতটাই বাকি আছে আমার। ওপরে ট্রান্সফরমার জওলে গেছে। ওপর থেকে আমাকে নিশানা করে ফেললেও অড সাইজ ছাতাটা নিশানায় ব্যঘাত ঘটিয়ে থাকবে। ভিজে একশা হয়ে ফিরলাম বাসায়। কাজের গুল্লি।
রাতে আবার সব সুনসান হলে ঘুরতে গেলাম উত্তরায় আমার সাপ্তাহিক বন্ধুদের সাথে আড্ডায়। 

যাই হোক। এদিকে পেইজ উদ্ধারে এখন কাম্প্রূপ কামাক্ষ্যা থেকে আসা মগা মহারানী অং শিং নাং এর মোবাইলে কল করা বাকি। আপাতত ডিবি পুলিশ দেখছেন, আর এদিকে শুভানুধ্যায়ীরা যে যার চ্যানেলে চেষ্টা করছেন। পাবার সম্ভাবন ক্ষীণ, তবে জিরো নয়।

এদিকে কাজ চলছে অনুকে লালন পালনের মাঝেই, চলছে একটা এনিমেশন প্রজেক্ট। মূল ক্রেডিট স্টুডিও কমিক্স আর্টিস্ট সাবিত ও পোলোর। আমার গাইড ও আছে কিছু। এনিমেশন যেহেতু আমার ফিল্ড না তাই ওদের অপরেই ছেড়ে দিয়েছি। স্যাম্পল ক্লিপ-


আর এর বাইরে টুকটাক এডিট শেষে কালকের ড্রাফট করা প্রচ্ছদ টা দিলাম। পরের কাজ আউটলাইন ছাড়া করার প্ল্যান। প্র্যাকটিস করতে হবে। 









April 25, 2026

Mehedi Haque.org new website

 ইন্টারনেট বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এর সাথে আমার কোন একটা বিরাট কুফা কাহিনি আছে। যা-ই করি। একটা না একটা সমস্যা হবেই। আমার একটা সবেধন নীলমণি যে ওয়েবসাইট ছিল তা হঠাত একদিন খুলে দেখি সেখানে টি শার্ট বিক্রি করছে কোন এক চাইনিজ ভাই। ঘটনা না বুঝে ইমেই সার্চ করে দেখি ডোমেইন রিনিউ এর ইমেইল টা spam ফোল্ডারে পড়ে আছে। দেখা হয় নাই। কী আর করা। আর এখন অনেক চেষ্টা করেই সেই ডট কম আর পাচ্ছি না। ফলে বাধ্য হয়ে নিজেই নিজেকে প্রতিষ্ঠান ঘোষণা দিয়ে ডট অর্গ এর শরণাপন্ন হলাম। এখনো অনেক কাজ বাকি, তবে মোটামুটি কাঠা দাঁড়িয়ে গেছে। পুরোটাই সাহায্য করেছে হাফপ্যান্ট কালের বন্ধু ইথিকাল হ্যাকার (নীতিবান চোর?) সজীব। 

এই হল সাইট লিংক আর নিচে একটা ল্যান্ডিং ফটোর স্ক্রিনশট দিলাম। এই জিনিস সাজাতে ভালই সময় দিতে হবে। 

এ ক'দিন সমানে কাজ করছি। একটা বড় সময় যায় অনুর পেছনে। তবে সে ঘুমালে কিছু সময় বের করা যায়। সমস্যা হল ততক্ষণে আবার দেখতে দেখতে নিউ এইজে যাবার সময় এসে যায়। যাইহোক, এভাবেই জোড়াতালি দিয়ে এগোচ্ছি। পলিটিকাল কার্টুন চলছে। যেহেতু ফেইসবুক পেইজ গন, সেহেতু শুধু লিংকড ইন এ দিচ্ছি এখন। সাথে এখানেও দিয়ে রাখা যাক।


কুমিল্লা ক্যান্টমেন্ট এলাকায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার সেই এক দশক আগের তনু মার্ডার কেসের কিছু ফলো আপ হঠাত শুরু হল। অবশেষে একজন সন্দেহভাজন সেনাসদস্য গ্রেফতার হয়েছে। এবং তার ডিএনএ নমুনা ক্রস ম্যাচের জন্যে নেয়া হয়েছে। কী ভয়ানক অনাচার! সেনা সদস্য- তাই দশ বছর কোন বিচারের প্রক্রিয়াই এগোয়েনি। আর আমার চোখে আরেকটা যেটা ধরা পড়লো, সে গ্রেফতারের পরেও এখনো শুধু তনুর ই ছবিসহ নিউজ আসছে। সম্ভাব্য রেপিস্ট ও খুনি সেই লোকের কোন ছবি নেই! নুরুল কবীর ভাইকে বললাম, তিনিও নোটিস করে ছবি খুঁজতে লোক লাগালেন। কিন্তু দুইদিন পর্যন্ত পাওয়া গেলো না। আজ সর্বপ্রথম তার ছবি মিডিয়াতে এলো। এই একটা কেসে আমি অনেকদিন ধরে কার্টুন এঁকে যাচ্ছি, ও এর শেষ দেখার জন্যে অপেক্ষা করছি। এ ছাড়া আরেকটা যেই কেস আমাকে অনেক নাড়া দিয়েছিলো সেটা ছিল লিমন। এক র‍্যাব সদস্য অকারণে গুলি করায় যাকে একটা পা হারাতে হয়েছিলো। শেষমেশ সে বিচার পেয়েছে। তৃতীয় আরেকটা কেস, যা আমি আশাবাদী এই নতুন সরকারের আমলে আলো দেখতে পাবে সেটা হল নারায়ণগঞ্জের ত্বকী হত্যা মামলা। সাগর-রুনি হত্যা মামলা নিয়ে আমি অবশ্য অতটা আশাবাদী নই।


জুলাই 'যুদ্ধ'র অন্যতম গুড়ের মাছি হাসনাত আব্দুল্লাহ্‌, বর্তমানে যার দল জামাতের একাধিক লেজের মধ্যে একটি লেজ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, সে জানিয়েছে গাড়ি ছাড়া তার খুব কষ্ট হচ্ছে, এম্পিদের টা না হোক, সরকারী ইউএনও দের মত একটা গাড়ি চাই, সাথে তার এলাকায় একটা অফিস। যদিও এমপি হবার আগে গাড়ি দূরে থাক, এমপি-মন্ত্রীদের যেকোন সুবিধা নেবার যে কালচার তা তারা পালটে দেবে, এবং অন্যদের জান খারাপ করে ছাড়বে এমন একটা আভাস সে দিয়েছিলো। আর এদিকে সে গাড়ি চাইতেই জুলাই এর জাতির জনক জামায়াতের আমীর ড. শফিকুর রহমান বলেছেন- ছোটদের আবদার ফেলতে নেই। তাই নিয়ে চটজলদি কার্টুন।

জুলাই এর ভাগ বাঁটোয়ারা আর গুপ্ত রাজনীতি সাথে আমার বিশ্লেষণ নিয়ে এখানেই একটা লেখা পোস্ট করে রাখবো শিগগির ই।

এ ছাড়া চলছে একাধিক ইলাস্ট্রেশন এর কাজ।
 


এটা মাত্র নামালাম, একটা বইয়ের কাভার। ব্র্যাক এর একটা প্রজেক্ট, প্রকাশ করছে UPL।
আর সেই সাথে চলছে ডাইনো-টুটি সিরিজের পরের বইএর কাজ। পেন্সিল ও গল্প আমার, সেটার ওপর ইংক আর রং করছে সব্যসাচী চাকমা- পোলো।
 
 
 




এই সিরিজ নিয়ে আমি বেশ আশাবাদী, কারণ লিখে ও এঁকে মজা পাচ্ছি বেশ।







April 23, 2026

Facebook Gone! (আলহামদুলিল্লাহ)

 আমার ফেইসবুক পেইজ mehedihaquecartoons হ্যাক্ড‌! পারসোনাল আইডিও নেই। অনেকদিন ধরেই ফেইসবুক ছাড়ার উপায় খুঁজছিলাম, সেটা এত সহজে ঘটে যাবে বুঝিনি। ভালই লাগছে। এদিকে জিডি ডান। রীতিমত খবরও ছাপা হয়ে গেছে, প্রথম আলো আর NEW AGE এ। আর সাইবার ক্রাইম কে দেয়া হচ্ছে ব্যাপারটার তদন্ত করতে। 

যাই হোক। সবেথেকে ভালো যেটা সেটা হল অনেক সময় বেড়েছে এখন কাজের। আর অনেকদিন পরে আবার ব্লগে ফেরতও আসা গেল এই সুবাদে। এখানে কেউ আর পড়ছে বলে আর মনে হয় না। তাই লিখতেও কোন চাপ নেই। সেই যে আগে নিজের ডায়রি লেখার একটা চল ছিল। অনেকদিন পরে সেটা যেন আবার ফিরে এল। 

ক্যুইক কিছু আপডেট দেই এই ফাঁকে 

অনুর বয়স এখন ২! সে এখন আমার রুমে ঢোকার আগে উঁকি দিয়ে বলে- আসতে পারি?

হাহা, ওকে নিয়ে একটা বড় ভলিউম বই লিখে ফেলা যাবে। বইয়ের পোকা হয়েছে। আমাদের পড়তে পড়তে জান শেষ। আর এখন মিতু যেহেতু সারাদিন অফিস, আমি সেহেতু ফুল টাইম বাবা। সারাদিন ও আমার কাছেই। সন্ধ্যায় ওর মা আসার আগে আগে ওকে ঘুম পাড়িয়ে ন্যানির কাছে রেখে পরে বের হতে পারি। দারুণ ভাগ্যবান বলতে হবে নিজেকে। যদিও সব কাজকর্মের বারোটা। কাজ ক্যারিয়ার শিকেতে। তবে একটা সময় জানি এই সময়ের জন্যে নিজেকে আবারো ভাগ্যবান মনে হবে। আমার চেনাজানা কোন বাবা বাচ্চাকে এত সময় দেয় না বা দিতে পারে না।

এ ছাড়া চলছে রুটিন সব কাজ, নিউ এইজের কার্টুন, উন্মাদের ফিচার। আঁকান্তিসের ছোটদের কোর্স ঢাকা কমিকস এর ব্যবসা ও বই।




New Age cartoon on Amir Hamza arrest warrent

এ ছাড়া বেশ কিছু ইলাস্ট্রেশন এর কাজ। এর মধ্যে একটা খুব আবেগের কাজ হল গায়ক সাহেদ ভাইয়ের জি সিরিজ থেকে বের হতে যাওয়া তাঁর সমগ্র এলবাম মালেকা X রোকযানা এবং সাহেদ এলবামের পরীক্ষামূলক আঁকা। গানের এলবামের সাথে একটা এক্সপেরিমেন্টাল কমিকস বই ও বের হবে। বেশ





এলবামের কিছু অসমাপ্ত ড্রাফট

G series এ ১৯ এপ্রিল, ২০২৬। সাহেদ ভাইয়ের সাথে। সাহেদ ভাই বেশ অসুস্থ এখন।

এবং পেয়ার, সিঙ্গারা ও আপেল সমভিব্যাহারে BLACK এর জাহান ভাইয়ের সেলফি।

চ্যালেঞ্জিং ছিল আমার জন্যে, তবে নামিয়ে দিয়েছি প্রথম ড্রাফট। ঢাকা কমিক্স স্টুডিওর আর্টিস্ট সাবিত সাহায্য করেছে। বাট বেচারার খুব বেশি কাজ শেষমেশ রাখা যাবে বলে মনে হচ্ছে না। (আমাদের স্টুডিও টিমটা দারুণ। এটা নিয়ে একদিন লিখবো।)

ইউপিএল পাবলিকেশনের একটা বইয়ের কিছু (এটাও আমার জন্য কম্ফোর্ট জোনের বাইরের কাজ) ইলাস্ট্রেশন করলাম। এটা বেশ সময় লাগলো। মূল কারণ, কমিউনিকেশন গ্যাপ। যাই হোক। ফাইনালি এনজয় করেছি, সেটাই বড় কথা।

 


UPL ইলাস্ট্রেশন




বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার স্যাটায়ারের জন্য করা কিছু ক্যুইক ক্যারিকেচার।

আরেকটা আপডেট হল আমার আমেরিকার পড়াশোনা- কমিক্স এ মাস্টার্স- প্রায় শেষের দিকে। আর তিন মাস পড়েই আমি কমিক্স এ মাস্টার্স। সম্ভবত বাঙালি কারো মধ্যে আমি-ই প্রথম কমিক্স এ মাস্টার্স করছি। হাহা। যাই হোক। বাকি জীবন নিজের আঁকা আর শিক্ষকতায় কাটাতে চাই। জানি না কী হবে।


My thesis draft cover and a sample inner page

নিউ এইজের আরও কিছু আপডেট আছে। আর আছে একটা এনিমেশন প্রজেক্ট এর আপডেট। পরের পোস্ট এ জানানো যাবে।

আপাতত বিদায়।


April 01, 2026

কিছু ক্যারেক্টার ডিজাইন

 ঢাকা কমিক্স তাদের নিয়মিত প্রকাশনার পাশাপাশি কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশের জনসাধারণের জন্যে কার্টুন ও কমিক্স ভিত্তিক কমিউনিকেশন ম্যাটেরিয়াল নিয়ে। অসংখ্য সরকারী ও বেসরকারী এমন প্রজেক্ট এ কাজ করে আমাদের চোখে পড়েছে বিভিন্ন অরগানাইজেশন তিনটা বড় ভুল করে থাকে তাদের কমিউনিকেশন এর কাজে,

১. সাধারণত কাজ দেখতে সুন্দর হওয়াটাই মূল টার্গেট থাকে, টার্গেট গ্রুপ অনুযায়ী স্টোরিটেলিং অত গুরুত্ব পায় না।

২. অ্যান্ড ইউজার বা টার্গেট গ্রুপ আদৌ ম্যাটেরিয়ালটা কাজে লাগাতে পারবে কিনা, বা আদৌ তার সেটা দরকার কিনা এই স্টাডিটা মিসিং থাকে বেশিরভাগ প্রজেক্টেই।

৩. সংলাপ বা অন্যান্য টেক্সট এ স্থানীয় ডায়ালেক্ট কে গুরুত্ব দেয়া হয় না। যা পরে একটা মিসকমিউনিকেশন এর ঝুঁকিতে পরে।





ঢাকা কমিক্স এর ওয়ান স্টপ কার্টুন স্টুডিও কার্টুন কিচেন এর কাজের মূল জোরটা থাকে গল্পটা যাদের জন্যে বলা হচ্ছে তারা বুঝতে পারবে কিনা তার ওপর। প্রয়োজনে সাইট ভিজিট ও এফজিডি করে ক্যারেক্টার গুলো তাদের মত করে হচ্ছে কিনা তা বুঝে নেয়া। কন্টেক্সট ঠিক আছে কিনা। বা গল্পের ধরন কি টার্গেট গ্রুপ বুঝতে পারছে কিনা ইত্যাদি-ই আমাদের মূল কাজের জায়গা।

এমনি একটি বড় কমিকস প্রজেক্টের জন্যে সম্প্রতি করা আমাদের ঢাকা কমিক্স এর কার্টুন স্টুডিও কার্টুন কিচেন এর করা কিছু ক্যারেক্টার ডিজাইন।

চায়না টাউনে

 মিতু আর অনু ছাড়া আজ ১১ দিন। ইন ফ্যাক্ট একেবারে একা বিদেশে পড়ে আছি সেটাও এই প্রথমবার। কমিকস এর মাস্টার্স প্রায় শেষ পর্যায়ে। ক্যালিফোর্নিয়া ক...