March 24, 2020

করোনা টাইমে আর্টলাইফ বাকেট লিস্ট

করোনা সংক্রমণের সময়ে প্রায় সবাই বাসায় আটকা। একমাত্র ক্রিয়েটিভ একটা ছোট গ্রুপ ছাড়া বাকি সবাই কি করবেন খুঁজে পাচ্ছেন না, আমি মনে করি হাবিজাবি ফেইক, ক্লিকবেইট বিভিন্ন সব খবর স্ক্রল করে পড়ে পড়ে আর আতঙ্কিত হবার চাইতে বরং এইবেলা কি কী করা যায় এই সময়ে সেটা লিস্টি করে একে একে করে ফেলা বরং কাজের। প্রথমেই করোনার এই সময়ে একমাত্র মাথা ঠণ্ডা রাখার গ্রাফটা কি হবে তা তুলে দি' 

একটা বিপদ (এখন যেমন করোনা এটাক) ঘটেছে> এখানে কি আপনার কিছু করার আছে? 
হ্যাঁ> তাহলে সেটা করুন, ও অন্যদের করতে উৎসাহিত করুন। আমাদের আর্টিস্টদের যেমন প্রচুর সতর্কতামুলক কার্টুন, ড্রয়িং, পোস্টার করার আছে। তবে এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য দেয়াটা খুবই জরুরী। পৃথিবীর সকলের কাছে স্বীকৃত সর্স ব্যবহার করুন এ ক্ষেত্রে।
আরেকট টিপস: অন্য কেউ কেন আমার মত করছে না এটা নিয়ে বিচার করতে বসবেন না, এতে কারোরই কোন লাভ নেই।

না> তাহলে সেটা মাথায় না নিয়ে নিজের কাজ করুন, অযথা সেই নেগেটিভ সংবাদটি ছড়িয়ে দিয়ে আর অসংখ্য মানুষ যাদের আপনার 
মতই এখানে কিছু করার নাই তাদের আরো আতঙ্কিত করবেন না।



আমি ধরে নিচ্ছি আমাদের যা করার আছে তা আমরা করছি, আমরা ঘরে বসে থাকছি, বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থারকথামত নিয়ম মেনে চলছি। কিন্তু তারপর? তারপর আমার হাতে অফুরন্ত সময়। তাহলে এখন কী  করার আছে? আমি আঁকান্তিস গ্রুপে আজ একটা প্রশ্ন পস্ট করেছি, কার জীবনের আর্ট গোল কী? তিনটি পয়েন্টে তিনটি আর্ট গোল বলেছেন অনেকেই। দারুণ দারুন সব পয়েন্ট। বেশ কিছু তার মধ্যে বেশ কমন। তবে অনেকেই গোল বলতে একটু ওপেন আইডিয়া বলেছেন। যেমন- অনেক ভাল আঁকতে চাই। এটা আসলে গোল না, কারণ এটার শেষ নেই। গোল হবে একটা নির্দিষ্ট কিছু, একটা মাইল ফলক।
যেমন, আমি একটা এনিমশন সিনেমা বানাবো। আমি আফ্রিকা ভ্রমণ করে এসে একটা বই লিখব।
মানে দিন শেষে একটা প্রডাক্ট হতে হবে। এখন যাঁরা এমন প্রডাক্ট করবেন বলেছেন তাঁরা কিন্তু এই গোলটা অনেক দিন থেকেই বুকে পুষে আছেন, তাহলে প্রশ্ন হল কেন করা হচ্ছে না?

আমি নিজে সব জেনে বসে আছি আর আমার সব গোল পুরণ হয়ে গেছে এমন না, তবে এ পর্যন্ত আমি বেশ কিছু প্ল্যান নিয়েছি, এবং এ পর্যন্ত তার সব ক'টাই করেছি। সুতরাং আমি আমার প্রসেসটা শেয়ার করি। যে তিনটা মূল কারণে আপনার বাকেট লিস্ট শুরু করা হচ্ছে না তা এইরকম-

১. এখন তো পারিনা। পরে আরো ভাল করে করবো।
এটা অনেকটা- আমি যেহেতু সাঁতার পারি না, তাই পানিতে নামা ঠিক হবেনা, এই ধরনের বোকামো। এখন পারিনা, এটা বোঝা জরুরী। কিন্তু পরে নিজে নিজে সেটা পেরে যাবেন না। মনে করুন এনাটমি শিখবেন, তাহলে আজকে শুরু করুন! একটা খাতা নিন, যে কোন পছন্দের একটা সোর্স (ভিডিও বা প্রিন্ট বই) থেকে শিখুন। বিভিন্ন সোর্স থেকে একেকবার একেক রকম করে না শিখে একটা ফ্লো ফলো করুন। এক মাস এভাবে করুন, আপনার উন্নতি হবেই। এভাবে এগোতে থাকুন।

২. একবারেই সব করে ফাটায়ে ফেলতে হবে! সবাই চিনবে আমাকে!
এটা খুবই খুবই খুবই কমন একটা হাস্যকর পয়েন্ট। আমি একজন বেশ ভাল স্কিল্ড আঁকিয়েকে চিনি যিনি গত বছর পনের খালি আরো ভালো করে করবো ভেবে ভেবে তার কমিক্স আঁকেই নাই। এমনকি আমি যখন প্রথম আমার কমিক্স আঁকা শুরু করি সেটা দেখে সে খুবই বিরক্ত ছিলো যে এত কম স্কিল নিয়ে এরকম 'ট্র্যাশ' বের করার মানে নেই, একটা বিপ্লব ঘটাতে হবে, একটা চেইঞ্জ আনতে হবে। আজ ৭ বছর পর আমাদের ঢাকা কমিক্সের কমিক্স হয়েছে প্রায় ৮০ টা। এবং তার হাত ধরে ধরে বাংলাদেশে একটা কমিক্স কালচার শুরু হয়ে গেছে । কিন্তু সেই আঁকিয়ে এখনও 'ফাটিয়ে' ফেলার স্বপ্নেই আছে। এ ধরনের মানুষেরা শেষ বয়সে হয়ে যায় খ্যাটখ্যাটা বুড়ো। সবার ওপর বিরক্ত একটা মানুষ। এই দেশে কিছু হবে না, সবাই খারাপ-এরকম বুলি তাদের মুখের ডগায় থাকে সবসময়। নিজেকে এই করুণ জায়গায় না দেখতে চাইলে এই মূহুর্তে যা জানেন তার সর্বোচ্চ- আই রিপিট, এই মূহুর্তে যা জানেন তার সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ শুরু করে দিন। প্রতিদিন আগের থেকে ভাল করুন। ফাটিয়ে ফেলার চিন্তা সরান। ট্রেন্ডি কাজ না করে নিজের সবচেয়ে আনন্দের কাজটা করুন। কারো পছন্দ হলে আপনি বিখ্যাত হবেন, কারো পছন্দ না হলে বিখ্যাত হবেন না কিন্তু নিজের আনন্দটা থাকবে। সবার আমাকে চিনতে হবে এটা যদি আপনার গোল হয় তবে আসলে সবাই একসময় চিনবে ঠিকই কিন্তু কেন চিনবে সেটা যারা চেনে তারাও বুঝবে না। এবং এই খ্যাতি উদ্বায়ী। কাজ থাকতে হবে বাজারে। 

৩. অন্যরা তো করে ফেললো
অন্যরা করে ফেলছে অন্যদের কাজ, আপনি করবেন আপনার কাজ। একটু পর পর আর কে কী করল সেটা দেখে দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলা। বেস্ট সাজেশন হবে অন্যদের কাজ যদি আপনাকে হতাশ করে তবে না দেখা! আর যদি কার কাজ আমাকে উৎসাহিত করে যে ওরকম ভালো করবো তবে দেখতে পারেন। অনেকেই আছে যারা এত বেশী অন্যের কাজ দেখে যে নিজে শেখার সময়ই বের করতে পারে না। মনে রাখবেন অন্য সবাই সব কাজ করে ফেলতে পারে কিন্তু পুরো পৃথিবীর কাছে একটা জিনিস নেই যেটা আপনার মধ্যে আছে, সেটা হলেন আপনি নিজে!

আপনি আঁকবেন আপনার মত। আপনি বলবেন আপনার মত। এ ক্ষেত্রে একটা সাজেশন হল নিজেকে আপনি যেখানে দেখতে চান, মনে করুন দশ বছর পরে আমি এমন একজন হব। আর গোছানো, আরো নিয়ম মানা, আরো হেলদি, আর সোশ্যাল, পোশাকে আশাকে সচেতন- আমি বিশ্বাস করি সবারই  মনের মধ্যে এরকম একতা কিছু আছে নিজেকে নিয়ে, তাহলে মনে করুন ওই দশ বছর পরের ক্যারেক্টারটার একটা স্ক্রিপ্ট লিখে আপনার হাতে ধরিয়ে দিলাম আজ, বললাম আপনি ওই চরিত্রে এবারে অভিনয় করুন! দেখন দিন বিশেক এভাবে চলে। আপনি নিজের ভবিষ্যত পার্সোনালিটির ভুমিকায় এখন থেকে অভিনয় করা শুরু করে দিন। এটা খুবই দ্রুত আপনাকে একটা অন্য মাত্রায় নিয়ে যাবে, বিশ্বাস না করলে শুরু করে দেখুন। 

যাই হোক, করোনা সময়ে একটা কাজ চালু করতে চাই, যে যার নিজের একটা আর্ট গোল নিয়ে কাজ শুরু করুন। শর্ত হল
১. টানা ২৪ দিন করতে  হবে
২. প্রতিদিন আগের দিনের চাইতে একটু ভাল করতে হবে/ একটু বেশী শিখতে হবে
৩. পোস্ট করুন আঁকান্তিসে #Myartgoal লিখে। 
তাহলে শুরু হোক!


March 22, 2020

করোনা সতর্কতা কার্টুন: Behind the scene


সারা পৃথিবী এখন একটা শব্দতে আটকে আছে, 'করোনা'।
এই নামের ভাইরাসটি ইতিমধ্যে দশ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটিয়েছে, আর অবিশ্বাস্য দ্রুত গতিতে সেটা ছড়িয়ে পড়ছে পুরো পৃথিবীতে। এর থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাবার একমাত্র উপায় হল একজনের সাথে আরেকজনের ছোঁয়া এড়িয়ে চলা। সেটা করতে গিয়ে সবথেকে নিরাপদ হল নিজেদের বাসায় আটকে ফেলা। যে মানুষটা সহসা বাসায় সময় দিতে পারেনি, কাজের জন্যে পরিবারের অনেকের সাথে দেখাও হত না, সেও এখন বাসায় আটকা। এ ছাড়া আর খুব বেশি কিছু মানুষের করার নেই, কারণ এই লেখাটা লেখা পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোন কার্যকর ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয় নি। 

আমার এমনিতেই বেশ ক'দিন ধরে সিজনাল ফ্লু চলছিলো, এমন সময় এই ভাইরাস ভাইরাল হওয়াতে বাসায় নিজেকে আটকে ফেললাম বাসায়, যদিও দুটো বড় প্রজেক্ট চলছে সমান্তরালে, তারপরেও যেহেতু সারাদিনই বাসায় আছি তাই কিছু এক্সট্রা সময় বের করাই যায়। ক'দিন টানা কিছু করোনা সতর্কতামূলক কার্টুন এঁকে ফেললাম। প্রথম আলোতে তা ছাপাও হল। সেই ড্রয়িংগুলি কিভাবে করা হল তা ছবি তুলে রেখেছিলাম, এবারে এখানে তুলে দিচ্ছি।

যে কোন ক্যারেক্টার ড্রাফট আমি এখনো খাতায় করি। এটা আমার বেশ প্রিয় সাশ্রয়ী নিউজপ্রিন্ট খাতা,
আর সাথে আছে পাইলট কম্পানির 6B Croquis লিড পেন্সিল, তবে যে কোন পেন্সিলেই আঁকা যায়।

রাফ ক্যারেক্টার আইডিয়া। করোনা সতর্কতা মেসেজগুলি ছোটদের মাঝে কিছু বাচ্চা সুপারহিরোদের দিয়ে বলানোর আইডিয়া।
সব নাম ও ক্যারেক্টার ও নাম শেষ পর্যন্ত যদিও এরকম ছিলো না।

মোটামুটি আইডিয়া নিশ্চিত হবার পরে সেই হাতে আঁকা ড্রাফট পৃষ্ঠাতা স্ক্যান করা চলছে। রেজোলিউশন ৩০০ তে রাখলেই চলছে।

আমার সবচেয়ে কম ব্যবহৃত ড্রয়িং ডিভাইস সিনটিক। এটায় কিছুক্ষণ আঁকলেই আমার কাঁধের ব্যাথাটা বাড়ে তাই কম আঁকা হয়। এমনিতে ভাল জিনিস।

ফাঁকতালে কাজের জায়গাটা দেখাই। মূল কাজের টেবিল দূরে দেখা যাচ্ছে।

স্ক্যান করা পেন্সিল রাফ সরাসরি এবারে ক্লিপ স্টুডিওতে খুলে নিলাম।

একটা ক্যারেক্টার আলাদা করে লেয়ারে নিয়ে সেটার ওপাসিটি কমিয়ে নিলাম।

এবারে সরাসরি ইংক না করে আমি আরেকটা লেয়ারে কিছু ঠিকঠাক করে একটা ক্লিন পেন্সিল করে নেই। নইলে পরে প্যাঁচ লাগে।

পছন্দের পেনে ইংক।

ব্যস, এবারে ইচ্ছামত কালার।

সব ক্যারেক্টার।

প্রথম আলোর গোল্লাছুট পাতায় মাহফুজ রহমানের দারুণ ছড়ার সাথে মিলে যেভাবে ছাপা হল পরে।

ক্যারেক্টার ডিজাইনগুলি ইচ্ছে করেই খুব সিম্পল করে করার কারণ হল সদ্য শেখা এনিমশনের কিছু জ্ঞান ফলানোর ইচ্ছে।
MOHO নামের সফটওয়ারে নিয়ে একটা ক্যারেক্টার এবারে ট্রেস করছি ভেক্টর লেয়ারে। চাইলে র‍্যাস্টারেও করা যায় যদিও।

BONE RIGGING

টুকটাক ভয়েস ও এনিমশন যোগ করার পর এক্সপোর্টিং।

বেড়াছেড়া ভাবে যা দাঁড়াল তা এই।


কাজ যেমনই হোক করে বেশ আনন্দ পেয়েছি, আর তার চেয়েও বেশি ভাল লেগেছে যে এই সব ম্যাটেরিয়াল আপ করার পর বেশ কিছু সংগঠন নিজ যোগাযোগ করেছে মূল ফাইলগুলির জন্যে। সেগুলি প্রিন্ট করে বিলানোর জন্যে। এরকম আরো কেউ থেকে থাকলে তাঁদের জন্যে মূল ফাইলগুলি এখানে তুলে দিলাম- 


সবাই সাবধানে থাকুন, সতর্ক থাকুন, ভাল থাকুন।

No face: Instagram version