November 24, 2019

বাংলাদেশের এনিমেশন সেক্টর সমস্যা ও সম্ভাবনা

এনিমেশন আমার কাজের এলাকা না, কিন্তু দারুণ পছন্দ করি (কে না করে?)। এবং জানি যে আমাদের দেশে দারুণ দারুণ সব এনিমেটর আছেন অনেক আগে থেকেই। তারা বেশ ভাল ভাল কাজও করেন, তবে সেগুলি আমরা দেখতে পাই না কেন? আর কেনই বা আমাদের দেশের ছোটদের দেখতে হচ্ছে শুধুমাত্র বিদেশী কার্টুনের ডাবিং, বা সরাসরি বিদেশী কার্টুন? যদিও আমি বিশ্বাস করি দেশী বা বিদেশী বলে কিছু নেই, আছে ভাল আর ভাল না এই দুই ধরনের কাজ। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় যখন আপনি ন্যাশনালিজমে বিশ্বাস করেন, অর্থাৎ আপনার বুঝতে শেখা শিশুদের আপনি নিজের দেশের আবহে, নিজের মত করে বড়ো করতে চাচ্ছেন তখন। তখন বাংলা বাদ দিয়ে হঠাত বিদেশী কার্টুন চরিত্রের ভাষায় যখন কথা বলা শুরু করে, বা তাদের মত হবার চেষ্টা করে তখন আপনি আঁৎকে ওঠেন।

এখন কথা হল এত এত এনিমেটররা আছেন, তারপরেও আমাদের দেশী এনিমেশন নেই কেন? যেহেতু আমি নিজে এই সেক্টরের না তাই জানার জন্যে আমাদের ফেইসবুকের আঁকিয়ে গ্রুপ আঁকান্তিসে যেখানে অনেক পেশাদার এনিমেটররা আছেন সেখানে জানতে চেয়ে প্রশ্ন করেছিলাম  যে কেন আমাদের এনিমেশন নেই? এতে যে যে সমস্যাগুলির কথা এসেছে তা মোটামুটি এরকম-

১. টাকা নাই। (এনিমেশন অনেক খরচসাপেক্ষ ও সময়সাপেক্ষ মাধ্যম, আমাদের বাজার এখনো তা কেনার জন্যে তৈরী না।)
২. ভালো এনিমেটরের অভাব (সফটওয়ার জানা লোক আছে কিন্তু এনিমেটর খুব কম)
৩. ক্লায়েন্ট এ ব্যাপারে অজ্ঞ, তারা এর সম্ভাবনাও বোঝে না, যে কারণে এ খাতে বিনিয়োগ করতেও আগ্রহী হয় না।
৪. পেশাদারিত্ব নাই (ক্লায়েন্ট এর পক্ষ থেকে বিল দিতে দেরী করা, ফলে ছোট স্টুডিওগুলির টিকে থাকা মুশকিল)
৬. ভাল ইনকাম করা হাউজেও এনিমেটরদের বেতন কম।
৭. সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা বলতে গেলে নেই।
৮. এনিমেশন শেখার ভাল স্কুল নেই।

সরাসরি এই সেক্টরে বেশ অনেকদিন ধরে কাজ করছেন এমন একজন শিহাব ভাই Mohamma Shihab Uddin (D Crows এনিমেশন এর ফাউন্ডার মেম্বার ও C.E.O) একেবারে টাকা পয়সার হিসাবে একটা ধারনা দিয়েছেন মার্কেটের, সেটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ মনে হওয়াতে এখানে তুলে দিলাম-

এই দেশে এখন এনিমেশন নিয়ে কাজ করে একদম হাতে গোনা ৪/৫ জন। টিভিতে সিরিজ করতে গেলে মাসে নুন্যতম ৪টি পর্ব বানাতে হবে যা কিনা ২০ মিনিট করে মিনিমাম। মানে ৮০ মিনিট। আর ২০ মিনিটের একটা পর্ব করতে যে পরিমান রিসোর্স লাগে সেটা নেই। তারপর আছে এক পর্বের দাম। কমপক্ষে ৭০ হাজার দিবে একটা পর্বের জন্যে। যারা এনিমশন নিয়ে কাজ করে, সবচেয়ে লো কোয়ালিটির কাজও ৭০ হাজারে দেয়া সম্ভব না। তার উপর মাসে ৮০ মিনিট। ২ লাখ ৮০ হাজার দিয়ে ৮০ মিনিট। টিভির মালিকরাও বলে, বাচ্চাদের শোতে এ্যাড পাওয়া মুশকিল। এটা এমন এক গ্যাড়াকল যেখান থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব না যদি না উপর থেকে কেউ টেনে তুলে।

এ সময়ের আরেক দারুণ পেশাদার এনিমেটর সাজ্জাদ মজুমদার Pixelaa Studios  যা যোগ করেন তার ভাবার্থ এরকম-
অনেক পরিশ্রম করে নামমাত্র মূল্যে এনিমেশন ক্লায়েন্টদের দিচ্ছি ও প্রশংসা পাচ্ছি, কিন্তু তারা পেমেন্টে এত গাফিলতি করে যে এক একটা কাজের পারিশ্রমিক পেতে গড়ে মাস তিনেক লেগে যায়, তদ্দিন স্টুডিও হিসেবে টিকে থাকা মুশকিল, ফ্রিল্যান্সার হওয়া সম্ভব।
EndingScene  এর হৃদয় শিকদার একেবারে পয়েন্ট করে বলেন
1. Government help,
2. Current Animation market with client,
3. Animation school,
4. Minimum Animation studio,
5. Enough experience animators and artists,
6. Good story,
7. Team unity,

আরো অনেকেই সেই আলোচনায় দারুণ দারুণ সব মন্তব্য যোগ করেছেন। আসলে বাইরে থেকে অনেক কিছু ভেবে ভেবে মন্তব্য করা যায়, দোষ ধরা যায় কিন্তু যারা এখানে কাজ করছেন আমি তাঁদের মুখ থেকেই আসল সমস্যাটা শুনতে চাইছিলাম। এখন বেশ অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে ধারনাটা। এখন আসি পরের ধাপে, সমস্যা তো জানি, শুনলাম বুঝলাম। সমাধান কী?

একটা লেখা লিখে সেটা বের করে ফেলবো ব্যাপারটা এমন না, তবে  হৃদয় শিকদার ওখানে একটা জায়গায় লিখেছেন-
ভাই কমিক্স নিয়ে আপনারা কিভাবে কাজ করলেন? সেটারও তো ফিল্ড ছিলো না, সেই গল্পটা শুনতে চাই।
এই লেখার অবতারনা আসলে সেই কারণেই। আমি কমিক্স আর কার্টুন নিয়ে কাজ করি। আর সত্যি বলতে কার্টুন বা কমিক্সের সমস্যা কিন্তু ডিগ্রিতে কম হতে পারে কিন্তু ধরনে সম্পূর্ণ এক, সেখানে তো এনিমেশনের তুলনায় হাজার ভাগের এক ভাগ পেমেন্ট। ক্লায়েন্ট এখানেও টাকা নিয়ে ঘোরায়, সরকারের সাহায্য যে চাওয়া যেতে পারে এটাই আমরা জানি না, এনিমশন তো তাও কোথাও কোথাও পড়ানো হয় আমাদের কার্টুনের তো কোন স্কুলই নেই, বরং ফাইন আর্টস একাডেমিগুলিতে এটাকে নিরুৎসাহিত করা হয়। তাহলে আমরা কিভাবে কাজ করি? আর কমিক্সের কথা যদি বলি তাহলে এটা কিন্তু প্রিন্টিং এর দিক থেকে দেখলে সবচেয়ে খরচসাপেক্ষ প্রকাশনা, আর্টিস্ট পেমেন্ট ও চার রঙের প্রিন্ট নিয়ে যার ধারনা আছে তিনি বুঝবেন।
তাহলে আমাদের গল্পটা বলা যাক, সেখানেও সমস্যা একই ছিল প্রায়,


১. টাকা নাই। 

আমরা প্রথম কমিক্সগুলি প্রিন্ট করি টাকা ধার করে, ৬০ হাজার টাকা নিয়ে ঢাকা কমিক্সের যাত্রা শুরু, বাকিটা প্রেসে বাকি ছিল, বই বিক্রি করে আমরা সেই টাকা শোধ করি।

২. ভালো কমিক্স আর্টিস্টের অভাব (ড্রয়িং জানা অনেকেই আছেন কিন্তু প্যানেলে প্যানেলে একটা গল্প বলা লোক কম)

আমরা শুরু করি চারজন, পাঁচ বছর যাবার আগেই আমাদের সাথে ভিড়েছে অসংখ্য মেধাবী কমিক্স আঁকিয়ে, এখন আমাদের সংখ্যা ২০ জনেরও বেশী! তার মানে আসলে অনেক মেধা চারিদিকে আছে, তারাও ভাবছে লোক কম, এখন একজন শুরু করলেই কিন্তু সমমনা অনেকেই সেখানে ভীড়তে শুরু করে, আমাদের সেটাই অভিজ্ঞতা।

৩. ক্লায়েন্ট এ ব্যাপারে অজ্ঞ - আমাদের ক্লায়েন্ট বলতে ছিলো প্রথমত প্রকাশকরা, এবং প্রকাশকরা এর প্রিন্টিং কস্ট শুনে কেউই কমিক্স করতে রাজি হন নি, তাঁদের দাবী ছিল নিউজ প্রিন্ট, সাদাকালো আর 'হাসির' হলে তারা 'ভেবে' দেখবেন।

আমরা প্রথম কমিক্স গুলি ঝুঁকি নিয়ে বাজারে ছাড়ি, এরপর সেটার সাফল্য দেখার পর অনেক প্রকাশনাই কিভাবে কমিক্স করা যায় তা জানতে চেয়েছেন অ রিতিমত প্রকাশও করে যাচ্ছেন, দেশের কিশোর পত্রিকা গুলিতে আমাদের কমিক্স এখন অপরিহার্য হয়ে গেছে। এন জিও ক্লায়েন্টরাও এখন সেই গৎবাঁধা ফিল্ড বুকের বদলে কমিক্স করাতে চাচ্ছেন। তার মানে ক্লায়ন্টদের এ ব্যাপারে অজ্ঞতা কাজের মাধ্যমেই দূর হয়েছে।

৪. পেশাদারিত্ব নাই (ক্লায়েন্ট এর পক্ষ থেকে বিল দিতে দেরী করা, ফলে ছোট স্টুডিওগুলির টিকে থাকা মুশকিল)

এনিমেশনে ক্লায়েন্ট বিল দিতে দেরি করলেও আশা করি দেরী হলেও পাওয়া যায়? (বুঝে নিন :P)

আমরা যেটা করি কিছু পেপার ওয়ার্ক করে নেই, যেমন ৩০ এডভান্স না দিলে সেই ক্লায়েন্টের কাজ করবো না, এটা অবশ্য প্রথমেই হবে না, আগে ব্র্যান্ডিং দাঁড়াবে, এর পর সেটা দাবী করা যাবে। কাজ পাবার ক্লায়েন্ট যাচাই না করে সবার কাজ নিয়ে বসে ধরা খাবার চাইতে বিশ্বস্ত, মানে আগেও যারা ভাল ও সময়মত পেমেন্ট দিয়েছে তাদের কাজ করাই ভাল। আর একান্ত দুর্বল ক্লায়েন্টের কাজ করলে সেটা মেনে নিয়েই কাজটা নেই যে এর বিল ৪ মাস পর পাওয়া গেলেও যেতে পারে।

৬. ভাল ইনকাম করা হাউজেও এনিমেটরদের বেতন কম।
আমাদের বেতন বলে কিছু নাই-ই। আঁকলে টাকা পাওয়া যায়, তাও নগণ্য। এনিমেটররা আমাদের ইনকাম জানতে চেয়ে লজ্জ্বা দেবেন না।

৭. সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা বলতে গেলে নেই। 
সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা হলে ভালো হয়, কিন্তু এটা আমরা ভাবি নি, আর ব্যাপারটা যদি ফান্ড হয় তবে সেই সাহায্য নিলে আপনার 'টাকা' হবে ঠিকই, কাজ হবে না, আপনার তখন ইনভেস্ট তোলার কোন দায় থাকবে না, আদমজী জুট মিলে পরিণত হবেন।

৮. কমিক্স/ কার্টুন আঁকা শেখার ভাল স্কুল নেই। 
একাডেমি অবশ্যই অনেক জরুরী, আমাদেরও নেই, কিন্তু ইন্টারনেট আর শেখার ইচ্ছা যার আছে তার কাজ শুরু করতে আর কিছু লাগে কী? সবশেষে যারা এসব সমস্যা নিয়ে চিন্তিত তাদের জন্যে আমার খুব প্রিয় একজন এনিমেশন দিকপাল ওসামু তেজুকা'র বাণী তুলে দি'-

আমি যখন অন্যদের জিজ্ঞেস করি, এনিমেশন বানাও না কেন? তারা উত্তর দেয়ে- টাকা নাই, আমি অবাক হই বলি আমারও তো টাকা নাই, কখনো ছিলোও না, আমি যা করেছি তা হল কী করতে চাই সেটা ঠিক করে করে ফেলা, সবার সামনে সেটা করে একটা উদাহরণ তৈরী করা, আর শেষ করে বলা- আমরা পেরেছি! আর এর পর ভাবা শুরু করলাম এবারে এমন কিছু করি যা একেবারে পুরস্কার টুরস্কার জিতে যাবে!

ওসামু তেজুকা হচ্ছেন জাপানীজ কমিক্স (মাঙ্গা) ও এনিমশনের জনক। সবেশষে তাই আমার মনে হয়ে এনিমশেন সেক্টরে আরেকটা জিনিসের অভাব, এবং সেটাই অন্যতম প্রধান কারণ, সেটা হল একজন মেন্টর, যিনি তেজুকার মত বলবেন, আরে টাকা কোন বিষয় না, কে সাহায্য করল কি করল না, ক্লায়েন্ট কী বললো বা বল্লো না ব্যাওয়ার না, করা শুরু করে দাও। আমি মনে করি আমাদের কার্টুন সেক্টরে আমরা একজন তেজুকা পেয়েছি বলেই এখন এরকম লেখা লিখতে পারছি, কমিক্স করতে পারছি। তিনি হচ্ছেন -আহসান হাবীব। এনিমেশন সেক্টরের সমস্যা সমাধানে আমাদের এরকম একজন আহসান হাবীবকেও দরকার।





পরিশেষে বলা উচিত, কমিক্স ও এনিমেশন তূলনা করা যাবে না, কারণ একটা কমিক্স একা একজন বাসায় বসে এঁকে ফেলা যতটা সহজ, এনিমেশনের ব্যাপারটা তেমন না, এনিমেশন যথেষ্ট খরচ সাপেক্ষ ও অনেক সময় ও পরিশ্রম সাপেক্ষ, তার মানে এখানে ডেডিকেশনটা দরকার আরো অনেক অনেক বেশী, কিন্তু কোন কিছুই অসম্ভব না।


November 10, 2019

কালি তুলির ইংকটোবার: INKTOBER Dhaka

চলছে ইংকটোবার ঢাকা, চারুকলার দূর্ধর্ষ সব তরুণ আঁকিয়েদের শোডাউন। শুধু কালি কলম তুলিতে এত চমৎকার কাজ করা যায় তা না দেখলে মিস হবে। গত বছর চারুকলার আঁকিয়েদের এই ইংকটোবার প্রদর্শনীতে গিয়েছিলাম তাই এবারেরটা যাতে মিস না হয় তাই প্রথমেই চারুকলায় গিয়ে এক দফা খুঁটিয়ে দেখে এসেছি আর দীর্ঘশ্বাস ফেলেছি। একাডেমিক আঁকাআঁকি না শিখতে পারার দুঃখটা এরকম দু একটা সময়ে বেশ বেড়ে যায়। কি চমতকার সব কাজ। আর সেই সাথে মাসের ৩১ দিন ৩১ টা আলাদা ড্রয়িঙের থিম বের করা সেটাও যথেষ্ট মুন্সিয়ানার কাজ। যাই হোক। এবারে কিছু ক্লায়েন্ট জবে এতই ব্যস্ত ছিলাম যে ইংকটোবারের ড্রয়িং করা হয়নি, করা হয়েছে বেশ কিছু স্টাডি। আর দেখা হয়েছে অন্যদের কাজ।

এই কর্মযজ্ঞের মূল উদ্যোক্তা চারুকলার দুর্দান্ত আঁকিয়ে প্রসূন হালদার। এরকম একটা আয়োজন করা আর সেই সাথে নিজেও আঁকা আসলেই যথেষ্ট কমিটমেন্টের ব্যাপার। তাঁর বাংলা সিনেমার পুরুষ তারকাদের (মহিলাদের কেন আঁকা হয়নি জানি না) পোর্ট্রেইট সিরিজি দুর্দান্ত ভাল হয়েছে, তাঁকে অভিনন্দন, অভিনন্দন  আরো কিছু অসাধারন কাজ করা হীরক (যথারীতি অরিজিনাল অনবদ্য বাংলার ভূত সিরিজি), রিদম (অসাধারণ স্টার ওয়ার্স সিরিজ), ফাহিম ইন্তেসার, ফাইয়াজ (তার করা লাস্ট ট্যুইস্ট দেখলে মজা পাবেন সবাই), মিশকাত, অরণ্য আবীর (NOR নিয়ে সিরিজ চাই), রিমঝিম (এই মেয়েটার কাজ খুবই অন্যরকম), জুবায়ের বিন আজিম (ভাংচুর সাইকাডেলিক রিক্সা আর্টিস্ট), তানভীর মালেক (এই ছেলে অনেক দূর যাবে), ফারিন (অত্যন্তু নিট কাজ, খালি ম্যাটেরিয়ালে আরেকটু অভ্যস্ত হওয়া বাকি), অঙ্গনা আহসানা (নিজের বিড়াল নিয়ে মৌলিক সিরিজ বেশ উপভোগ্য), অনামিকা (খুবই ভাল কাজ, সম্প্রতি আঁকা মাছের ছবিটাও দারুণ), অম্লান দাশ- আসলে নাম বলে শেষ করা কঠিন। আরেকজনের নাম না বললেই না, সাইফুল আলম সজল। তার নিজেকে নিয়ে সিরজিটা বেশ ভাল লেগেছে।

যাই হোক, লেখা পড়ে কাজগুলি কেমন তার কিছুই বোঝা যাবে না, কাজের প্রদর্শনীটা চলছে ধানমন্ডি ২৭ এর মাইডাস সেন্টার লিফট এর ৯ এ, EMK সেন্টার এ, ইভেন্ট লিংক এখানে । গতকাল প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বস আহসান হাবীব! সাথে ছিলেন চারুকলার শিক্ষক বিশ্বজিৎ স্যার। আর ওরকম একটা সুন্দর জায়গায় এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে দিয়েছেন আশফাক ভাই। প্রদর্শনীটি চলবে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত।

যেই যেতে চান একটাই সাজেশন, পারলে ব্যগ ট্যাগ ছাড়া যাবেন নচেত এয়ারপোর্টের ব্যাগেজ চেকিং এর মত একটা চেকিং এ পড়ে যাবেন। 

অভিনন্দন সবাইকে।






November 06, 2019

কার্টুন ফ্যাক্টরির এক যুগ

এ বছরটা ইচ্ছেকৃতভাবে বিভিন্ন ক্লায়েন্টকে বিলিয়ে দিলাম, আর কোন বছর এই পরিমাণ অন্যের প্রজেক্ট করেছি বলে মনে পড়ে না, গায়ের রঙের জন্য চোখের নিচের কালি কেউ দেখতে পাচ্ছে না বলে বোঝা যাচ্ছে না, মিতুকে দেখিয়ে বোঝাতে হচ্ছে যে অবস্থা কত খারাপ, সে চোখ বন্ধ রাখলে মনে হয় সানগ্লাস পরে আছে। যাই হোক, কাজ কর্ম শেষের দিকে, সামনের বছর অন্তত ৬ মাস ঘুরে বেড়াবো সেই কারণে আমাদের এই আত্মাহুতি। এর মাঝে হঠাত নাঈমের ফোন, ক্যাজুয়াল চুলের সিরিয়াস আর্কিটেক্ট কাম আঁকিয়ে নাঈম কার্টুন নিয়ে-আরো অনেক কিছুর মতই- বেশ সিরিয়াস, সে পাশ করেছে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেকচার ডিসিপ্লিন থেকে, সে ছাত্র থাকা অবস্থায় শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্টুন প্রেমী দলটা সম্পর্কে জানতে পারি ওর মাধ্যমেই। দলটার নাম 'কার্টুন ফ্যাক্টরি', এখন কী ব্যাপার? ব্যাপার হল তাদের ১২ বছর পূর্তি! শুনে টের পেলাম বুড়ো হয়ে যাচ্ছি, এই সেদিন মনে হয় শুনলাম এরকম একটা দল আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কার্টুন দল আঁকাআঁকি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, তাদের কাজ কর্মও বেশ ভালো, আর এখন দেখতে দেখতে এক যুগ?? যাকগে, প্ল্যান কী? প্ল্যান হল প্লেনে করে আমি মিতু আর হালের ইলাস্ট্রেশন সেনসেশন ও আরেক আর্কিটেক্ট তীর্থ ভাই যাব সিলেটে। বলা যায় ঝটিকা সফরে। সকালে প্লেন, দুপুরে খাওয়া, বিকেলে প্রোগ্রাম রাতে শেষ করে ঘুম, পরদিন দুপুরে আবার রিটার্ন টু ধুলার শহর।

এর মধ্যে চলছে আমাদের আঁকান্তিসের কার্টুন কোর্স, আর অন্যান্য ক্লায়েন্ট কাজ জমা তো আছেই, তারপরেও ১২ বছর পূর্তি বলে কথা, তার ওপর কার্টুনের দল, না বলা কঠিন, সুতরাং হাবিজাবি সামলে ঠিকই অক্টোবরের ২৫, ২০১৯ সকালে আমাদের তিনজনকেই পাওয়া গেল বিমানবন্দরের ডমেস্টিক টার্মিনালে, এর পরের ইতিহাস দুঃখের ইতিহাস, ছোট করে বললে সকাল ১১ টার প্লেন ছাড়ে ১টার পরে, কারণ প্রথম যে বিমানে উঠেছিলাম সেটায় যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল, আবার অন্য বিমান না আসা পর্যন্ত সেখানেই শ' দুইয়েক যাত্রীকে বসে থাকতে হয়েছে, কারণ চাইলেই নাকি নেমে বিমান বন্দরের টার্মাকে হাঁটাহাঁটি করার উপায় নেই। সেটাও সমস্যা হত না, যদি বিমানে এসি ছাড়া থাকতো বা নিদেনপক্ষে জানালা খোলা যেত। ইঞ্জিন বন্ধ- তাই দুই ঘন্টা আমরা এতজন ঘামতে ঘামতে বিমানে ঠায় বসা। তাই বাসে বা ট্রেনে যাবার চাইতে কম কষ্টের হয়নি জার্নি।

সে যাক, বিমানবন্দরে নেমেই উষ্ণ অভ্যর্থনা কার্টুন ফ্যাক্টরি দলের, বিখ্যাত পাঁচ ভাই হোটেল দুপুরের জমজমাট খাওয়া দাওয়া, এর পর শাহজালালের গেস্ট হাউজে পাখির গোসলের মত স্কেলে পাখির বিশ্রাম সেরে সরাসরি অডিটোরিয়ামে। সেশন ভালোই হল, অবাক হলাম সবার ধৈর্য দেখে, আমি নিজে কার্টুন আঁকি কিন্তু এই তিন ঘন্টা টানা কার্টুন নিয়ে ভ্যাজর ভ্যাজর শোনার ধৈর্য্য আমার হবে না, এরা কার্টুন (অথবা আতিথেয়তা) নিয়ে খুবই সিরিয়াস , যাই হোক সেশনের আগে কার্টুন ফ্যাক্টরির কার্টুন প্রদর্শনী দেখে এসেছি আমরা, বাইরেই কাপড় ও চাটাই ঘেরা প্রদর্শনী, বেশ কিছু কাজ ভাল লাগল, কয়েকটায় বেশ পেশাদারী ছোঁয়া আছে। এভবে দশ বছর ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো যথেষ্ট কঠিন কাজ (নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানি), এতদিন এভাবে এতগুলি ব্যাচ ধরে এটা ধরে রাখাও কঠিন। একটা উত্তর পাওয়া গেল জেনে যে কার্টুন ফ্যাক্টরির প্রতিষ্ঠাত ও অন্যান্য সিনিয়র সদস্যদের মোট ৬ জনই এখন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক! সংগঠনের এতদিন চালু থাকার পেছনে এদের বিরাট অবদান আছে।

অভিনন্দন কার্টুন ফ্যাক্টরি! সামনের ১২ বছর আরো দারুণ কাটুক সেই কামনা রইলো।





গুরুগম্ভীর আলোচনা ১

লঘুগম্ভীর আলোচনা

প্রেম দৃষ্টি

ফ্যাক্টরির প্রদর্শনীর ভীড়



November 04, 2019

আঁকান্তিসের কার্টুন ড্রয়িং কোর্স

শুরু হচ্ছে আঁকান্তিসের কার্টুন ড্রয়িং কোর্স, এবারের কোর্সটি কার্টুন ফিগার ড্রয়িং নিয়ে, ফিগারের পর পর কার্টুন আঁকার অন্যান্য বিষয় যেমন ব্যাকগ্রাউন্ড, কার্টুন টাইপোগ্রাফি, ডায়ালগ বাবল ইত্যাদি সহ একটা কার্টুন কিভাবে ছাপার উপযোগী করা হয় সেটাও দেখানো হবে। আগ্রহীরা কমেন্টে দেয়া কোর্স কারিকুলাম দেখে নিন। আর যে কোন প্রশ্নে কল করুন 01859098777 নাম্বারে। আর সশরীরে এসে ভর্তি হতে পারেন আঁকান্তিসের পান্থপথ মোড়ের অফিসে

ক্লাস ২৯ নভেম্বার, ৬, ১৩, ২০ ডিসেম্বর (পর পর চার শুক্রবার)
ক্লাস টাইম সকাল ১১ টা থেকে বিকাল ৪ (১ টা থেকে ২ টা লাঞ্চ ব্রেক)
যোগাযোগ 01859098777


No face: Instagram version