July 03, 2019

আমি যখন বড় হব: রোহিঙ্গা শিশুদের আঁকা চিত্রপ্রদর্শনী


রাখাইনের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মায়ানমার আর্মির ভয়ানক নির্যাতনে বিশ্ব হতচকিত, এবং যথারীতি নিরব। অন্তত পৃথিবীর দুঃসময়ে এগিয়ে আসার জন্যে যেই প্রতিষ্ঠানটির অপর মানুষের ভরসা করার কথা সেই জাতিসংঘ নিজেদের একটা ভেড়া প্রমাণিত করে বসে বসে জাবর কাটছে, সম্প্রতি তো এটাও জানা গেল যে তাঁদের কাছে নাকি এই গণহত্যা ঘটতে পারে বলে আগে থেকেই রিপোর্ট ছিল, তারা নাকি আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সেটা সময় মত সঠিক বিভাগে পাঠাতে পারেনি (!)। পৃথিবীর সবথেকে অপরাধী আমি মনে করি যারা যুদ্ধ করে তারা না, যারা সেটা ঘটায় ও সেটা ঘটতে দেয় তারা।

যাই হোক, পৃথিবী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্যে নাকি কান্না কাঁদা ছাড়া আর কিছু করুক না করুন বাংলাদেশ সরকার কিন্তু অভূতপূর্ব একটি মানবিক উদ্যোগ দেখিয়ে তাদের প্রায় সবাইকেই নিজের দেশে আশ্রয় দিয়েছে। এর জন্যে তাঁদের ধন্যবাদ প্রাপ্য। পৃথিবীব্যাপি যখন আমাদের চোখে 'সভ্য' ও 'উন্নত' দেশগুলি শরণার্থীদের নিজের দেশে ঢুকতে না দিয়ে পানিতে ডুবতে দিয়ে বা না খেয়ে মরে যেতে দিচ্ছে সেখানে আমাদের মত জনবহুল ও তাঁদের তুলনায় দরিদ্র্য দেশের এটা অবশ্যই এক বিরাট উদারতা ও মানবিকতা বটে। 

এখন সব কিছুর শেষে বাস্তবতা দাঁড়িয়েছে দশ লাখের ওপর রোহিঙ্গা শরনার্থী গত ২০১৬ থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, তারা কবে ফেরত যাবে বা আদৌ যাবে কি না সেটা এখন একটা বিরাট খাঁড়ার মত প্রশ্ন হয়ে সবার মাথার ওপর ঝুলছে, এই মূহুর্তে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী বিষয়টা নিয়ে ঘটনার মুল মাফিয়া ডন চীনের সাথে কথা বলতে গেছেন। আমরা অতটা আশাবাদি নই, তারপরেও আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করা ছাড়া আর কী-ই বা করার আছে আমাদের? 

রোহিঙ্গারা যদি এখানে বেশ কিছুদিন থেকে যায় তবে সবথেকে বড় একটা সংকট হবে এদের পরের প্রজন্ম। মানে যারা এখন একেবার ছোট, বা এখানে জন্ম নিল। কার্যত তাদের কোন দেশ নেই, আইন নেই, প্রতিষ্ঠান নেই। এরা বড় হবে এক জিঘাংসা নিয়ে, এবং 'ভাল' মানুষ হয়ে বেড়ে ওঠার তাদের খুব একটা দায় থাকবে না। এরা অপরাধে জড়িয়ে গেলে তখন সেটা বাংলাদেশের জন্যে এক অসহনীয় সমস্যা হয়ে দেখা দেবে। তো এই ব্যাপারটা যাতে না ঘটে সেজন্যে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক এনজিও দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে সরকারের পাশাপাশি, যেমন তাদের একটা ভাল স্কুলভিত্তিক পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দেবার কাজ করছে ইউনিসেফ (বৃটিশ কাউন্সিলের সাথে মিলে আমরা সেইসব বইয়ের ডিজাইন ও আঁকাআঁকি করছি এই মূহুর্তে)। এদের একটা স্ট্যান্ডার্ড পড়াশোনার ব্যবস্থা করা গেলে ভবিষ্যৎ সমস্যার কিছুটা হলেও কমবে এই হল এখন একমাত্র আশা।

সম্প্রতি এরকমই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আহবানে (মুলত আমার নিউ এইজের এক্স কলিগ সাদ হাম্মাদি ভাইয়ের আমন্ত্রণে) আমরা ৭ জন কার্টুনিস্ট একটা দারুণ প্রজেক্টে ঘুরে এলাম রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। সেটা হল বাচ্চাদেরকে কার্টুন আঁকা শেখানো ও তারপরে তারা জীবনে কে কী হতে চায় সেটা আঁকতে বলা। বাচ্চারা দূর্দান্ত এঁকেছে। আমাদের চিন্তার বাইরে সুন্দর তাদের আঁকা। এবং আমরা মুখে, রোহিঙ্গা, মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান যে নামেই ডাকি না কেন, বাচ্চাদের একমাত্র পরিচয় হল তারা বাচ্চা। তারা সব এক, আলাদা করি আমরা বড়রা।

যাই হোক, দূর্ভাগ্যবশত; কক্সবাজার নেমেই আমি নিজে ভাইরাল জ্বরে কাবু হয়ে তিনদিন হোটেলেই পড়ে ছিলাম, অন্যরা সবাই ক্যাম্প ঘুর এসেছে, তাই ক্যাম্পের অভিজ্ঞতা আমি এখানে বলতে পারছি না। যাই হোক, আমরা বরং তাদের কিছু আঁকা দেখি। তাদের আঁকা প্রদর্শিত হয়েছিল ২০-২৫ জুন, ২০১৯ ঢাকার, EMK সেন্টারে। সব কাজ নিয়ে একটা বইও বের হচ্ছে আজ। যথাসময়ে সেটাও শেয়ার করার চেষ্টা করব।

শিক্ষক হয়ে ইংরেজী শিখাইতে চাই

ইনি সম্ভবত তাকেই কপি করেছে

EMK সেন্টারে প্রদর্শনী

EMK সেন্টারে প্রদর্শনীঃ মোট ১৫৬ টি ছবি ছিলো গ্যালারি জুড়ে
ক্যাম্পে আঁকছেন মামুন ভাই

মৌলবী হইতে ইচ্ছুক

কার্টুনিস্ট মাহাতাব ও রোহিঙ্গা শিশু
একজন হতে চেয়েছে মসজিদের ঈমাম


কারররটুনিস্ট টিম। বাম থেকে আবু হাসান, নাসরীন সুলতানা মিতু, সালমান সাকিব শাহরিয়ার (যদিও সে এবারে গিয়েছিলো ফোটোগ্রাফার হিসেবে), মামুন হোসাইন, আমার এক্স কলিগ অ্যামনেস্টির দক্ষিণ এশিয়ার Regional Campaigner  সাদ হাম্মাদি ভাই, চারুকলার তুখোড় আঁকিয়ে প্রসূন হালদার ও মাহাতাব রশীদ।

No comments:

Post a Comment

বিদায় ব্লগস্পট

গুণে গুণে ১২ বছর এখানে কাটালাম, এবং হঠাৎ সেদিন হঠাৎ আবিষ্কার কুরলাম আমি ছাড়া আর কেউই নেই আশেপাশে। খোঁজ নিয়ে দেখতে পাচ্ছি এখন আর্টিস্টরা সবাই...