August 05, 2014

ক্যারিকেচারের কথা

উন্মাদ এ ধারাবাহিক ভাবে ক্যারিকেচার নিয়ে একটা লেখা শুরু করেছি। তার প্রথম কিস্তি এখানে তুলে দি'


Caricature is rough truth. 

George Meredith
প্যালিওলিথিক যুগের গুহাচিত্র। 
মানুষ ও পশুদের ক্যারিকেচার্ড ফর্ম লক্ষণীয়
ক্যারিকেচার এর বাংলা প্রতিশব্দ নেই। প্রতিশব্দ হিসেবে যেটা ব্যবহার করা হয় তা হল ‘ব্যংগচিত্র’। সমস্যা হল কার্টুনের বাংলা হিসেবেও একই শব্দ ব্যবহার করা হয়। কোন কিছুর প্রতিশব্দ কোন ভাষায় না পাওয়া গেলে বুঝে নিতে হবে সেই জিনিষ ওই ভাষাভাষীদের মধ্যে প্রচলিত না। ক্যারিকেচারের ক্ষেত্রে কথাটা হয়ত পুরোপুরি ঠিক না। উল্লেখযোগ্য না হলেও বাংলাদেশে ক্যারিকেচার হয়নি বলাটা ভুল হবে। আমরা এই লেখার শেষের দিকে  সে প্রসঙ্গে যাব। তার আগে একটা কাজ চলবার মত ‘ক্যারিকেচারের ইতিহাস’ ভিত্তিক খটোমটো কয়েক লাইন লিখে ফেলা যাক। এবং যেহেতু এই লেখাটি একটি সিরিয়াস টাইপ লেখা তাই অতি অবশ্যই আমরা এর ভিতরে কিছু ভারি ভারি ব্যপার ঢোকানোর চেষ্টা করব, যেমন কোন ল্যাটিন শব্দের কোন অংশ থেকে ক্যরিকেচার নামটি এসেছে,  এবং ষোড়শ বা সতেরো শতকের কোন শহরের কার হাতে এর উদ্ভব-ইত্যাদি। তবে এ সবকিছুর আগে ক্যারিকেচার কী বস্তু তা নিজেদের মত করে একটু বুঝে নেয়া যাক।  আমাদের এই সময়ে ক্যারিকেচার বলতে সাধারণতঃ কোন মানুষের অতিরঞ্জিত (Exaggerated) পোর্ট্রেইটকেই বোঝায়। যদিও ব্যপক অর্থে ধরলে আমরা বলতে পারি সেটা যে কোন কিছুর অতিরঞ্জনই হতে পারে, এমন কি জড় বস্তুকে নিয়েও ক্যারিকেচার করা সম্ভব। সোজা ভাষায় কেরিকেচার আসলে ফর্ম (আকার) এর অতিরঞ্জন। আর এ ক্ষেত্রে মাস্টার ক্যারিকেচারিস্টরা বারবারই আমাদের সাবধান করে দিচ্ছেন যে সেটা অতিরঞ্জনই, বিকৃত (Distortion) করা না। অর্থাৎ কোন কিছুকে এমন ভাবে টানাটানি করে একটা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যাতে  সেটা একেবারে রিয়েলিস্টিক কিছুও না থাকে আবার তাকে যেন সেই অবস্থাতে চেনাও যায়। চেনা যাওয়াটা এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এমন ভাবে কোন কিছুকে উল্টেপাল্টে দেয়া হল যে মূল ব্যপারটাই বোঝা গেল না তাহলে সেটা আর যাই হোক ক্যারিকেচার না। এবার কথা হল মানুষ কবে থেকে এই জিনিসটা শুরু করল? এবং সেটা কেন? এর দরকারটাই বা কী?

আসলে আমরা যদি ক্যারিকেচারের ওপরের সংজ্ঞাটা মেনে নেই তাহলে বলতে হবে ক্যারিকেচারের ইতিহাস প্রায় মানুষের ইতিহাসের সমান বয়সী! কারণ গুহাচিত্রে আমরা যা দেখি তা আর যাই হোক কোনভাবেই রিয়েলিস্টিক ফটোফিনিশড ছবি না। মানুষ তাদের শিকার করার ঘটনাগুলিকে অতিরঞ্জিত করে আঁকত। মানুষ আর পশুগুলির ফিগারের ফর্ম আসল ফিগারের অতিরঞ্জন। অর্থাৎ ক্যারিকেচার। মানে কি না এই ছবিগুলিতে মানুষের অবয়ব হুবহু না এঁকে তার ‘ভাব’ (Essence) টা ধরার চেষ্টা করেছে। মজার ব্যপার হল বর্তমানের আধুনিক চিত্রকলাও কিন্তু সেই একই দিকে যাচ্ছে। আধুনিক চিত্রকলায় ফর্মের সরলীকরণ (Simplification) আর ভাবের অতিরঞ্জন (Exaggeration) এই দুইদিকে জোর দিয়েই নিত্যনতুন গবেষণা চলছে। সেইদিক থেকে দেখতে গেলে আমরা কার্টুন-ক্যারিচারকে আদিম আর আধুনিকের একটা দারুণ ককটেল বলে চালিয়ে দিতে পারি। কারণ কার্টুন-ক্যারিচার এই দুইটা ব্যপারের ওপরেই দাঁড়িয়ে আছে। এখানে সবচেয়ে জটিল ফর্মটাকে সবচেয়ে সহজে এঁকে ভেতরের ভাবটায় রঙ চড়িয়ে প্রকাশ করাটাই আসল মুন্সীয়ানা। (এবারে ইতিহাসফাঁস অংশে প্রবেশ করা যাক)


বারোক যুগ ও আনিবেল কারাচচি

চিত্রকলার ইতিহাসে ষোড়শ শতকের দিকে মধ্য ইউরোপে একটি নতুন ধারা দেখা যায়। ধারাটির নাম ‘বারোক’ (Baroque). বারোক পেইন্টারদের মূল বৈশিষ্ট্য ছিলো তারা  রোমান্টিক ঘরানা থেকে সরে এসে প্রকৃতির রূঢ় বাস্তবের কথা বলতে শুরু করেন। যেমন কোন একটা অসাধারণ নৈসর্গিক পেইন্টিং এর কোণা দিয়ে একটা মড়ার খুলি এঁকে দিলেন, মানে হল এই জীবন সুন্দর তা মানি, কিন্তু ভুলে যেও  না  একদিন মরতেও হবে। কিঞ্চিত ধর্মীয় ভাব ঘেঁশা বারোক যুগের পেইন্টাররা তাঁদের পেইন্টিংগুলি যাতে মানুষ দেখেই তার মেসেজটা চট করে বুঝে ফেলে সেভাবে আঁকতেন, আর তাঁরা পেইন্টিং এর মূল ভাবটাকে ‘অতিরঞ্জিত’ (exaggerated) করে আঁকতেন। এই বারোক যুগ নিয়ে এত কিছু বলার কারণ হল আমাদের ক্যারিকেচার বস্তুটার প্রাতিষ্ঠানিক জন্ম হয় একজন বারোক পেইন্টারের হাতে, তাঁর নাম আনিবেল কারাচচি (Annibale Caracci)। এই ইতালিয়ান পেইন্টার সর্বপ্রথম ক্যারিকেচার করা শুরু 

আনিবেল কারাচচির আঁকা ক্যারিকেচার।

আরেক বারোক যুগের শিল্পী এড্রিয়ান আট্রেখট এর আঁকা পুষ্প ও করোটি
Still Life with Bouquet and Skull– (Adriaen van Utrecht)
করেন বলে ধরা হয়। ক্যরিকেচারের ইতিহাসে কারাচচির সাথে চিত্রকলার ইতিহাসের আরো দুইজনের নাম উল্লেখ করা হয় একজন স্বয়ং কারাচচির ভাই আগস্তিনো কারাচচি(Agostino carracci), আরেকজন মহা প্রতিভাধর বার্নিনি (Gianlorenzo Bernini)। বার্নিনি তিন চার টানে মানুষের  ক্যারিকেচার করে ফেলতে পারতেন। পাপাসির যুগে এই কারণে তাঁর বেশ কদরও ছিল। প্রথমদিকে ক্যারিকেচার এই ইটালি আর  ফ্রান্সের একটা নির্দিষ্ট মহলের শিল্পবোদ্ধাদের
বার্নিনির আঁকা নিজের ক্যারিকেচার


আগস্তিনো কারাচচির ক্যারিকেচার
মধ্যে আটকা থাকলেও অচিরেই গোটা ইউরোপে তা ছড়িয়ে পড়ে। দেখা যায় এই নতুন অদ্ভুত আর মজাদার মাধ্যমটির জনপ্রিয় হতে বেশী সময় লাগছে না। মজার ব্যপার হল কারাচচি ভ্রাতৃদ্বয় বা বার্নিনির অনেক আগেই মোনালিসার আর্টিস্ট লিওনার্দো দ্যা ভিনচি ক্যারিকেচার শুরু করেছিলেন (এই লোক আসলে কিছুই ছাড়েননি)! মানুষের চেহারার আসল ‘ভাব’



লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির করা ক্যারিকেচার স্টাডি
 কিভাবে অতিরঞ্জিত করে আঁকা যায় তা নিয়ে বেশ কিছু স্টাডি তিনি করে গেছেন।  এমনকি মানুষের হাসি কিভাবে আঁকা যায় (সে সময় কথায় কথায় স্মাইলি এঁকে ফেলাটা সহজ ছিলো না) সেটা দেখতে তিনি মাঝে মাঝে বন্ধুবান্ধবদের দাওয়াত দিয়ে তাদের কৌতুক শোনাতেন- উদ্দেশ্য, হাসি স্টাডি। আবার ইটালির পম্পেই নগরীতে তারো আগের কিছু গ্রাফিতি (দেয়ালচিত্র) ক্যারিকেচার পাওয়া যায়। অর্থাৎ কারাচচি পর্বের আরো আগে থেকেই ক্যারিকেচারের চল ছিল। সে যাই হোক, কারাচচি পর্বের পর পর যাঁর নাম না বললেই না তিনি বৃটিশ দিকপাল আঁকিয়ে উইলিয়াম হোগার্থ । উইলিয়াম 


দ্যা বেঞ্চ, উইলিয়াম হোগার্থ।
প্লাম্বপুডিং, জেমস গিলারি
হোগার্থ কে একই সাথে পশ্চিমা সিকোয়েনশিয়াল আর্ট- বা কমিক্স এর জনক বলেও ধরা হয়। উইলিয়াম হোগার্থের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল তিনি এই ধরনের ড্রয়িং অর্থাৎ কার্টুন ক্যারিকেচার বা কমিক বুক ঘরানার ড্রয়িং কে সামাজিক রাজনৈতিক স্যটায়ার হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করেন। এর আগেও যে সেটা হত সেটা আমরা জানি। কিন্তু এ বিষয়ে হোগার্থ ছিলেন সবিশেষ। হোগার্থের পর পরই যার নাম বলতে হয় তিনি জর্জ ক্র্যুকশ্যাংক (George Cruikshank)এই বৃটিশ ক্যারিকেচারিস্টকে মডার্ন যুগের হোগার্থ বলেও ডাকা হত। ক্রুকশ্যাংক তাঁর ক্যারিকেচারগুলি 
জর্জ ক্র্যুকশ্যাংক এর আঁকা রাজা চতুর্থ জর্জ

আম্ব্রেলা, জর্জ ক্র্যুকশ্যাংক

শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একেবারে নির্দয়ভাবে ব্যবহার করতেন। আঠারো শতকে এসে বৃটেনে মারি ড্যারিল আর জেমস গিলারি’র হাত ধরে ক্যারিকেচার আরো প্রসারিত হয়। আর সে সময় ফরাসী শিল্পী অনহ্র্যে ডোমিয়ে’ (Honoré Daumier) এসে ক্যারিকেচারের সংজ্ঞাই যেন পালটে দেন। ফর্মের এমন ভাংচুর তিনি করে দেখালেন যা এর আগে ক্যারিকেচারিস্টরা ভাবতেও সাহস করেননি। ক্যারিকেচারের ইতিহাস লিখতে গেলে ফ্রান্স এর এই দোমিয়েরদের


অনহ্র্যে ডোমিয়ে’র আঁকা ক্যরিকেচার
 যুগটাকেই প্রধান বলে মানতে অবে আর ক্যারিকেচারের এই ‘ফরাসী বিপ্লবের’ পুরোধা হিসেবে যাঁর নাম বলা হয় তিনি ফরাসী আঁকিয়ে কাম ক্যারিকেচারিস্ট শ্যার্ল ফিলিপঁ (Charles Philipon) তিনি লা কারিকাতুরা (La Caricature) নামে একটি রাজনৈতিক স্যাটায়ারিকাল ম্যাগাজিনই বের করেন। এবং সে সময়ের অনেক নাম করা ক্যারিকেচারিস্ট (একটু আগে বলা দোমিয়ের সহ) এই ম্যাগাজিনে কাজ করতেন। রাজতন্ত্রের ওই যুগে তিনি রাজা প্রথম লুই ফিলিপ (Louis Philippe I ) এর ক্যারিকেচার করেন। যাতে দেখা যায় রাজার মুখটা আস্তে আস্তে একটা নাশপাতি হয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্স এ 


শার্ল ফিলিপঁ এর আঁকা নাশপাতি রাজা।
এর মানে হল মাথামোটা। ব্যস সাথে সাথে আদালতের সমন এসে হাজির, তৎক্ষণাত গ্রেফতার হন এই ক্যারিকেচারিস্ট। ক্যারিকেচারের ইতিহাসের সাথে এই ফ্রান্সের রাজতন্ত্রের একটা বিরাট যোগাযোগ আছে বলে ধরা হয়। এ সময় প্রচুর প্রতিভাবান শিল্পী রাজতন্ত্রের খামখেয়ালীপনায় পড়ে বেকার হয়ে যান। সেই ক্ষোভ একে একে রাজনৈতিক ক্যারিকেচারকে আশ্রয় করে ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে থাকে। অর্থাৎ এ সময় পর্যন্ত  ক্যারিকেচারের মূল বক্তব্য ছিল শুধুমাত্র রাজনৈতিক। সবকিছু পালটে গেল এসে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও ক্যারিকেচার
ঊনিশ শতকে এসে খবরের কাগজে ক্যারিকেচার প্রকাশের হিড়িক পড়লো। আর এবারে সেটা শুধু রাজনৈতিক স্যাটায়ার নিয়েই বসে থাকলো না তার সাথে প্রকাশ পেতে থাকলো বিভিন্ন সেলিব্রেটিদের মজাদার সব ক্যারিকেচার-ও। যদিও তার মধ্যে রাজনৈতিক সেলিব্রটিরাই প্রাধান্য পেতেন। আর বলাই বাহুল্য যে সেইসব সেলিব্রেটিরা সেসব দেখে সবাই মজা পেতেন না। তাই ঝামেলা এড়াতে ক্যারিকেচারিস্টরা বেশিরভাগ সময়েই ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পর ক্যারিকেচার যেন পৃন্ট মিডিয়ার অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠলো। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে  তখন এমনকি ফটোগ্রাফের চাইতেও ক্যারিকেচারের চাহিদা অনেক বেড়ে গেল। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রীতিমত ক্যারিকেচার বিপ্লব ঘটে গেল। সে সময়টাকে ক্যারিকেচারের রেনেসাঁ যুগ বললেও ভুল বলা হবে না। সে সময়ে আল হির্শফিল্ড, মিগুয়েল কোভারুবিয়াস এর মত ক্যারিকেচার শিল্পীরা দেখালেন ক্যারিকেচার মানেই শুধু কারো চেহারা 


আল হির্শফিল্ডের আঁকা হিচককের ক্যরিকেচার
মিগুয়েল কোভারুবিয়াস আঁকা ক্যরিকেচার
ভয়ানক করে আঁকা না, ক্যারিকেচার এমন রঙ্গীন ও কুশলীভাবে করা যায় যাতে যার ক্যারিকেচার করা হল তিনি নিজেও  ব্যাপারটা উপভোগ করতে পারেন।  অর্থাৎ ক্যারিকেচার তখন তার নির্দিষ্ট গন্ডির বাইরেও ছড়িয়ে গেল। বিভিন্ন ফ্যাশন ম্যগাজিন, দৈনিক পত্রিকা, সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ইত্যাদিতে একজন ক্যারিকেচারিস্ট তখন লাগবেই। একটা ব্যাপার লক্ষণীয় যে সে সময় ফাইন আর্টস থেকে পাশ করেননি এমন ক্যারিকেচারিস্ট ছিলো না বললেই চলে।  মানে রীতিমতন আর্ট কলেজ থেকে পাশ করা আঁকিবুকির ব্যকরণ জানেওয়ালারাই তখন এই কাজটা করতেন। কারণ
নিজের ক্যরিকেচার, থমাস নাস্ট
স্যার ম্যাক্স বিরবঅম


একজন ক্যারিকেচারিস্ট কে অবশ্যই প্রথমে একজন ভালো পোর্ট্রেইট আর্টিস্ট হতে হবে, আগে জানা তারপর সেটা ভাঙ্গা। সে যাই হোক হির্শফিল্ড, কোভারুবিয়াস ছাড়াও সেই সময়ের এমন দিকপাল কজন আঁকিয়ের মধ্যে আরো ছিলেন জন্মসূত্র জার্মান-আমেরিকান কার্টুনিস্ট থমাস নাস্ট (Thomas Nast) স্যার ম্যাক্স বিরবঅম (Sir Max Birbohm) ইত্যাদি। ক্যারিকেচারের আধুনিক যুগ শুরুর আগে পর্যন্ত এই হল এর ছোটখাট ইতিহাস।

3 comments:

  1. দারুন লাগলো ভাইয়া... আরো চাই... মজার ব্যাপার হচ্ছে, মিগুয়েল কোভারুবিয়াস আঁকা ক্যরিকেচারটার সাথে আপনার চেহারার একটুআধটু মিল আছে :D

    ReplyDelete