April 30, 2012

তামিম

ক্যারিকেচার চ্যালেঞ্জ বেশ জমে উঠেছে, আর এই ফাঁকে আঁকিবুকিটা নতুন করে ঝালিয়ে নেয়া হচ্ছে :)



April 25, 2012

আফজাল হোসেন

আমাদের উন্মাদের ক্যারিকেচার দিকপাল 'জাভেদ ভাই' ইজ ব্যাক! উনি এসেই আঁকান্তিসে হুড়োহুড়ি ফেলে দিয়েছেন. এই প্রথম বারের মত আমরা একটা ক্যারিকেচার প্রতিযোগিতা শুরু করে ফেলেছি! প্রথমবারের চ্যালেঞ্জ হলেন আফজাল হোসেন অথবা কুমার বিশ্বজিৎ, অথবা দুইজনেই। চারদিনের ট্রাই করে টের পেলাম আমি আসলে আঁকতে পারি না...
যেটা নামালাম সেটা অনেকটা এমন আগের রঙ পেন্সিলের ট্রাইগুলি বেশীরভাগই মেজাজ খারাপ করে ছিঁড়ে ফেলেছি। তার একটা
এখন কুমার কে আঁকি

April 13, 2012

আমার বন্ধু অনিক (কে।এইচ।এ।এন।)


(লেখাটা পড়তে বসে মনে হতে পারে অনিক আর আমাদের মাঝে নেই- ধরনের কিছু। ব্যাপারটা অনেকটা তা-ই। অনিক বিয়ে করতে যাচ্ছে। বিবাহিত স্বজনেরা ব্যাপারটাকে সমার্থক বলে স্বীকার করছেন।)


আমি আর অনিক বন্ধু – এ কথা আমাদের শত্রুও সন্দেহ করবে না। কিন্তু সত্য হল আমরা এক যুগেরও বেশী সময় ধরে একসাথে কাজ করে যাচ্ছি। লেখাঃ অনিক আঁকাঃ মেহেদী হক- এমন শ’ খানেকের ওপরে উন্মাদীয় আর্টিকেল পাওয়া যাবে বলে আমার বিশ্বাস। মানছি এক যুগের জন্যে শ’ খানেক আর্টিকেল খুব বেশী না তাও শুধু সংখ্যাটা দেখলে সেটা যথেষ্ট বড়।
অনিকের সাথে আমার প্রথম দেখা হয় ১৯৯৮ সালে, ধানমন্ডি ১৯ নাম্বার রোডের তখনকার উন্মাদ অফিসে। [সেই অফিসেই প্রথম আমি, অনিক খান, মানিক-রতন, তানভীর ইবনে কামাল ইত্যাকার সদ্য গোঁফ ওঠা (তানভীর ভাই আমাদের কিছুটা সিনিয়র, ওনার হাল্কা দাঁড়িও উঠেছিলো তখন) ইঁচড়ে পাকাদের দেখা হয়। তখন আমি মতিঝিল মডেল হাইস্কুলের ক্লাস টেনে (টেনেটুনে) পড়ি। প্রতি বৃহস্পতিবার বাসে ম্যাক্সিতে দুর্গম গিরিকান্তার মরু পাড় হয়ে ধানমন্ডি ১৯ এর স্টার কাবাবের সামনে নামতাম] অনিককে প্রথমদিন দেখি সে জুল জুল চোখে আহসান ভাই রোমেন ভাই আর আজিজ ভাই (আহসান হাবীব, রোমেন রায়হান, আজিজুল আবেদীন) এর কথা গিলছেতার ঠিক পাশে বিরক্ত মুখে এক মুশকো জোয়ান বসে আছে (তার লোকাল গার্জিয়ান-ড্রাইভার সাহেব)সেই ফিনিফিনে মংগোলিয়ান গোঁফের অনিককে দেখে তখন কল্পনাও করিনি এই ছেলে একদিন দেশের লাখখানেক তরুন তরুনীর নমস্য হবে। সেই প্রথম দিকে একটা মজার ব্যাপার হয়েছিলো- কিভাবে কিভাবে যেন সে ধরে নিয়েছিলো আমি তার চেয়ে সিনিয়র (যে সময়ের অথা বলছি তখন সিনিয়র জুনিয়রগিরি নিয়ে হরদম পাড়াতো ঠ্যাঙ্গাঠেঙ্গি চলত) এবং আমার পঁচিশতম জন্মদিনে সে আবিষ্কার করে সে আমার চেয়ে দুই বছরের বড়! সে এদ্দিন আপনি আপনি করেছে। এটা বুঝে সে বিনীতভাবে জানতে চায় এই ঘটনার প্রায়শ্চিত্ত করতে সে এখন থেকে আমাকে ‘তুই’ করে ডাকতে পারে কি না। আমি ততোধিক বিনীতভাবে সেই আবদার প্রত্যাখ্যান করি। অনিককে নিয়ে লিখতে বসে আসলে কোন একটা বিশেষ কিছু মাথায় আসছে না। যদিও দাবী করছি আমরা বন্ধু কিন্তু আমি মনে করি আমাদের বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই জায়গায় বিরাট বৈষম্য আছে। আমাদের দুইজনকে যদি দুইটা কম্পিউটার হিসেবে ভাবি তবে বলা যায় আমার ‘র‌্যাম’ ও ‘প্রসেসর’ অনিকের চেয়ে অনেক কম সে ভাবে ঝড়ের বেগে, কথা বলে টর্নেডোর গতিতে (তবে কাজ করে মৃদুমন্দ বাতাসের বেগে- আমার সাথে এখানে মিলে যায়) তার মেমোরি কার্ড প্রায় ৫০০ টেরাবাইট ও প্রসেসর পুরো কোর টু ডু ও আর হ্যাঁ সবকিছু ছাপিয়ে এরকম আইডিয়াবাজ আর একই সাথে উইটি কোন সহকর্মী আমি আর পাই নি। এবং সে যতই বাইরে একটা প্রফেশনাল ভাব ধরবার চেষ্টা করে (মানে কর্পোরেট ...) সে আসলে পুরোই টঙ্গদোকানীয় দিশী জিনিষ। সব কিছু ফুঁড়ে সেটা বের হয়ে আসেই। আমি আগেও খেয়াল করেচি এটা শুধু অনিকের বেলায় না, উন্মাদের কোর গ্রুপ (উন্মাদে দুইটা গ্রুপ থাকে সবসময়, একটা গ্রুপ নিজেদের কাজে আসে, আরেকটা গ্রুপ উন্মাদের কাজের জন্যে আসে- আমি উন্মাদের কাজে যারা আসে তাদেরকেই উন্মাদের কোর গ্রুপ বলছি) এর সব সদস্য যে যেখানেই থাকুক তাদের আসল চেহারাটা তারা বেশীদিন লুকিয়ে রাখতে পারে না। আমাদের ‘কি আছে দুনিয়ায়’  দর্শন আমাদের সবসময় বাঁচিয়ে রাখে যাই হোক অনিকের দুই একটা প্রত্যুতপন্নমতিত্বের উদাহরণ দেয়া যাক, সাধারণ প্রসেসর সম্পন্নরা যেখানে কিংকর্তব্যবিমূঢ় সেখানেই ওর বিশেষত্বটা টের পাওয়া যায়
বছর ছয়েক আগের কথা। হঠা উন্মাদে এ এক বিদগ্ধ তরুনের আগমন। সে এসে কথায় কথায় ক্ষোভ প্রকাশ করল কেন জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে আমরা এ সব আব্জাব করে চলেছি? কেন আমরা আরো ‘মিনিংফুল’ কিছু করছি না? বলতে বলতে সে তার নিজের কিছু ‘মিনিংফুল’ লেখা তার ব্যাগ থেকে বের করলো। আমাদের গুরু আহসান হাবীব (ওনাকে নিয়ে আমার গোটা একটা বই লেখার ইচ্ছা তাই এখানে বেশী না বাড়াই) এই ধরনের তরুন তাঁর ইহজন্মে নিদেনপক্ষে কয়েকশ’ সামলেছেন। তাই এই ক্ষেত্রে সুবিধাজনক যে কাজ সেটাই করলেন। বললেন- হ্যাঁ হ্যাঁ অবশ্যই রেখে যাও (বোধকরি গৌতম বুদ্ধের পর এই আরেকজন মানুষ যিনি সর্বজীবে দয়া করেন) বলা বাহুল্য সে আঁতেল চলে যাবার পর সেই লেখা জায়গামত (ওয়েস্ট পেপার বিন) চলে গেল। সপ্তাখানেক পরের কথা। সেই বিদগ্ধ তরুন আবার এলেন। কথা বলতে বলতে হঠা তার চোখ গেল ওয়েস্ট পেপার বিন এ! আহসান ভাই অস্বস্তিতে নড়েচড়ে বসলেন, পাশে অনিকসেই তরুন হাহাকারের সুরে বললেন-আমার লেখা!! আহসান ভাই সাথে সাথে তাকিয়ে বললেন ও হ্যাঁ আপনার লেখা সিলেক্টেড আসলে আমরা সিলেক্টেড লেখাগুলি ওখানেই রাখি, আর রিজেক্টেডগুলি টেবিলে’
বলতে না বলতেই অনিক সটান দাঁড়িয়ে বিন থেকে কাছিয়ে সব কিছু তুলে ফেলে আহসান ভাইয়ের দিকে সিরিয়াস মুখে তাকিয়ে বল- বস তাইলে কম্পোজে দিয়া দেই?
এই হল অনিক

(সেই তরুন আর আমাদের অফিসে আসেননি- No wonder)


অনিকের সেন্স অফ হিউমার, উইট ইত্যাদি ছাপিয়ে যেটা আমার সামনে সবার আগে আসে তা হল সে লায়ন হার্টেড একটা ছেলেএবং সে নিজে যতই বাস্তববাদী ভাব ধরুক না কেন সে আসলে আবেগে চলে। মনপ্রাণ সব তার কবিতায় বানানো। ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ুয়া একটা ছেলে বাংলা কবিতার ভক্ত এটাই তো এক বিস্ময়। একই সাথে সে অত্যন্ত রাজনীতি সচেতনআর, আর দশজন ক্রিয়েটিভের চেয়েও সে অস্থিরচিত্ত। বাপ্পী (ওয়াহিদ ইবনে রেজা বাপ্পী ভাই)ভাই একদিন আমাকে বলেছিলেন- এই ছেলেটাকে দেখে রাখো একদিন মনে পড়বেকথা মিথ্যে বলেননি। মাঝেমাঝে মনে হয় আমার এই ছোট্ট জীবনের অর্জন আসলে কী? কেউ জিজ্ঞেস করলে আসলে বলতে হবে- কিছু ভালো বন্ধু, যার মধ্যে অনিক একজন  

পুনশ্চ ১: ভালো কথা, অনিক ভাল ছড়াও লেখে)

পুনশ্চ ২: ওর নামে ভাল ভাল এতগুলি কথা লিখতে আমার প্রায় ৪ দিন লাগলো

আপেক্ষিকতার 'রঙিন ' তত্ত্ব্বঃ (রঙ সিরিজ-৫)

রঙ আপেক্ষিক।
মানে কোন রঙ কতটা রঙিন সেটা নির্ভরে করে তার আশেপাশে কী রঙ আছে তার ওপর!

নিচের ছবিটা দেখুন
হলুদ, কিন্তু কেমন মরা মরা এবং চোখে কড়কড় করা হলুদ,




এবার এই হলুদটাই যদি এভাবে দেয়া যায়?- খেয়াল করুন একই হলুদ রঙটা শুধু মাত্র একটা নীল রঙের ওপরে বসানোতে সেটা আরো 'ফুটে' উঠলো। এর আগে সাদার ওপরে সেই একই হলুদটা একেবারে বোঝা যাচ্ছিলো না। রঙের আপেক্ষিকতা আসলে এটাই। কোন রঙ কতটা উজ্জ্বল তা নির্ভর করে পাশের রঙ কতটা হালকা তার ওপর। নীচে আরো কিছু উদাহরণ দেয়া গেল- 

একই লাল রঙ বিভিন্ন রঙের সাপেক্ষে বিভিন্ন রকম লাগছে
 
মাঝখানের দুইটা বক্স কিন্তু একই রঙের
 
বিশ্বাস না হলে দেখুন- বাক্স দুইটা টেনে মিলানো হল
 

একইভাবে BURNT AMBER রঙটা


আসলে এই ব্যপারটা মুখস্থ করবার কিছু নেই। শুধু জেনে রাখা আর তারপর যতভাবে সম্ভব  ঘাঁটাঘাঁটি করা। ব্যপারটা ট্রায়াল এন্ড এরোর পদ্ধতিতে করাই ভাল। রঙ অনেকটাই চোখের ধাঁধাঁ (Optical illusion). চোখে দেখে যেটা সবুজ মনে হয় সেটা আসলে হয়ত হ্লদ বা নীল! শুধু পাশের রঙের কারণে সেটা অন্যরকম লাগছে। আমরা আগের পোস্টে ওয়ার্ম আর কুল রঙের যে ব্যপারটা দেখলাম সেটাও আপেক্ষিক! যেমন একই রঙের গ্রে টোনটা আসলে অনেক কুল মনে হয়।
একটা হলুদ টাইপ রঙ নেয়া হল

কিছু একটা আঁকা হল


এবার সেই রঙের সাথে হালকা গ্রে মিশিয়ে নেয়া হল


সেটা রীতিমত নীলচে লাগছে!




এখানে কিন্তু সব গোলক গুলি একই রঙের! একেবারে সামনেরটার সাথে ধূসর মেলাতে মেলাতে সেটা পেছনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আর সেটা মনে হচ্ছে সামনেরটা থেকে 'কুল'

এক রঙ্গে আঁকা- পেছনেরটা অনেক 'মরা' রঙ মানে ধূসর মেলানো -তাই সেটা অনেক 'কুল'। আর সামনে  সাদার দিকে নিয়ে রঙ টাকে অনেক 'ওয়ার্ম ' করা হয়েছে।


মানে চাইলে একই রঙের মধ্যে আপনি ওয়ার্ম আর কুলের টোন বের করে ফেলতে পারবেন।
এই রঙ্গের আপেক্ষিকতা বিষয়ে অসংখ্য অনলাইন ভিডিও পাবেন যাতে খুব গুছিয়ে ব্যপারটা বলা আছে

April 05, 2012

কুইক রিভিউ


রং নিয়ে সব কিছু গুলিয়ে যাবার আগেই আমরা একবার গোটা ব্যাপারটায় আবার চোখ বুলাই

আমরা যা যা নিয়ে কথা বলেছি তা ছিল-
১। Color wheel   [রঙ চাক্কি (Color Wheel)-১]
২। Color Harmony  [কালার হারমোনি (রঙ সিরিজ-২,৩)]
৩। Color Temperature & Value [আগুন রঙ বরফ রঙ: (রঙ সিরিজ-৪)]

১। Color wheel 
তিনটা মৌলিক রঙ লাল(আসলে ম্যাজেন্টা) নীল (আসলে সায়ান) আর হলুদ একটার সাথে আরেকটা মিলিয়ে গেলে পরের যৌগিক রঙ গুলি পাওয়া যেতে থাকে। এভাবে ধীরে ধীরে একটা গোল রংধণু বানিয়ে ফেলা যায় আর সেটার নামই কালার হুইল। এই কালার হুইলের রঙ গুলি একেবারে খাঁটি রঙ। অর্থাৎ এর সাথে সাদা বা কালো মেশানো হয়নি, মানে কি না অনেকটা আমরা রঙের টিউবে যেভাবে একটা রঙ পেয়ে থাকি। এবারে এটার সাথে সাদা মেলালে সেটা TINT এর দিকে যাবে, কালো মেলালে যাবে SHADE এর দিকে যাবে আর ধুসর মেলালে পাওয়া যাবে ওই রঙের TONE।


এই তিনটা কোথায় কাজে লাগে সেটা আবার একটু বুঝে নে
প্রথমটা একেবারে খাঁটি রঙ বা HUE তারপর তার সাথে মেশানো হল কালো তাতে পর পর পাওয়া গেল TONE আর SHADE । আসলে ধুসর মেশালে TONE টা পাওয়া যায়, আর সেই ধুসর বলতে তো কালো রঙের ৫০% ই বোঝায়। তাই আলাদা করে ধুসর মেশানোর কথাটা বলবার দরকার নেই। আর সবার শেষে খাঁটি রঙের সাথে মেশানো হল সাদা, আর তাতে পাওয়া গেল রংটার TINT.


যদিও আমরা এখানে আলো-ছায়া নিয়ে কথা বলতে বসিনি, তাও বোঝার সুবিধার্থে একটা লাল রঙের বল যদি আলোতে রাখা হয়, তাহলে তার উল্টোদিকে ছায়া পরার সাথে সাথে লাল রংটার TINT SHADE TONE বোঝাটা অনেক সহজ হয়। তারা মানে রঙ করার ক্ষেত্রে আমরা লাল জামা বা সবুজ শাড়ী আঁকতে গিয়ে এই TINT SHADE TONE এর ব্যাপারটা মাথায় রাখলে সেটা দেখতে আরো ভাল লাগবে।

২। Color Harmony
কালার হারমোনি মানে হল রঙের কয়েকরকম বিন্যাস। মানে কোন রঙের সাথে কোন রঙ ব্যবহার করা যায়। মানে কয়েক ধরনের রঙের সেট । কালার হুইল যদি আমরা বুঝে থাকি তবে হারমোনি বোঝাটা সহজ হবে। কাজ চালানোর জন্যে মূল দুই ধরনের হারমোনি বুঝলেই চলে 

১. এনালোগাস (কালার হুইলের পাশাপাশি কয়েকটা রঙ নিয়ে যদি রঙ করেন)




২. কমপ্লিমেন্টারি (কালার হুইলের মুখোমুখি-একটার উলটো দিক থেকে আরেকটা নিয়ে নিয়ে যদি রঙ করেন)

৩। Color Temperature & Value

কালার হুইলকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। একদিকে থাকে নীলাভ রঙ, আরেকদিকে লালচে রঙ। বলা হয় নীলাভ রঙ গুলি 'ঠান্ডা'। আর লালচে রঙ গুলি 'গরম' একটা পেইন্টিং এ এই দুইটা ধরনের রঙের ভারসাম্য রাখলে সেটা দেখতে ভাল লাগে। একটার পাশে আরেকটা (আগুনের সাথে বরফ) 'ফোটে'