July 04, 2019

ক্যারিকেচার বেসিক

ক্যারিকেচার শেখানো যায় না, কিন্তু কী মেথডে চেষ্টা শুরু করা যায় সেটা বোঝা সম্ভব। আঁকান্তিসের চ্যানেল থেকে আরেকটা টিউটোরিয়াল।

July 03, 2019

আমি যখন বড় হব: রোহিঙ্গা শিশুদের আঁকা চিত্রপ্রদর্শনী


রাখাইনের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মায়ানমার আর্মির ভয়ানক নির্যাতনে বিশ্ব হতচকিত, এবং যথারীতি নিরব। অন্তত পৃথিবীর দুঃসময়ে এগিয়ে আসার জন্যে যেই প্রতিষ্ঠানটির অপর মানুষের ভরসা করার কথা সেই জাতিসংঘ নিজেদের একটা ভেড়া প্রমাণিত করে বসে বসে জাবর কাটছে, সম্প্রতি তো এটাও জানা গেল যে তাঁদের কাছে নাকি এই গণহত্যা ঘটতে পারে বলে আগে থেকেই রিপোর্ট ছিল, তারা নাকি আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সেটা সময় মত সঠিক বিভাগে পাঠাতে পারেনি (!)। পৃথিবীর সবথেকে অপরাধী আমি মনে করি যারা যুদ্ধ করে তারা না, যারা সেটা ঘটায় ও সেটা ঘটতে দেয় তারা।

যাই হোক, পৃথিবী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্যে নাকি কান্না কাঁদা ছাড়া আর কিছু করুক না করুন বাংলাদেশ সরকার কিন্তু অভূতপূর্ব একটি মানবিক উদ্যোগ দেখিয়ে তাদের প্রায় সবাইকেই নিজের দেশে আশ্রয় দিয়েছে। এর জন্যে তাঁদের ধন্যবাদ প্রাপ্য। পৃথিবীব্যাপি যখন আমাদের চোখে 'সভ্য' ও 'উন্নত' দেশগুলি শরণার্থীদের নিজের দেশে ঢুকতে না দিয়ে পানিতে ডুবতে দিয়ে বা না খেয়ে মরে যেতে দিচ্ছে সেখানে আমাদের মত জনবহুল ও তাঁদের তুলনায় দরিদ্র্য দেশের এটা অবশ্যই এক বিরাট উদারতা ও মানবিকতা বটে। 

এখন সব কিছুর শেষে বাস্তবতা দাঁড়িয়েছে দশ লাখের ওপর রোহিঙ্গা শরনার্থী গত ২০১৬ থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, তারা কবে ফেরত যাবে বা আদৌ যাবে কি না সেটা এখন একটা বিরাট খাঁড়ার মত প্রশ্ন হয়ে সবার মাথার ওপর ঝুলছে, এই মূহুর্তে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী বিষয়টা নিয়ে ঘটনার মুল মাফিয়া ডন চীনের সাথে কথা বলতে গেছেন। আমরা অতটা আশাবাদি নই, তারপরেও আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করা ছাড়া আর কী-ই বা করার আছে আমাদের? 

রোহিঙ্গারা যদি এখানে বেশ কিছুদিন থেকে যায় তবে সবথেকে বড় একটা সংকট হবে এদের পরের প্রজন্ম। মানে যারা এখন একেবার ছোট, বা এখানে জন্ম নিল। কার্যত তাদের কোন দেশ নেই, আইন নেই, প্রতিষ্ঠান নেই। এরা বড় হবে এক জিঘাংসা নিয়ে, এবং 'ভাল' মানুষ হয়ে বেড়ে ওঠার তাদের খুব একটা দায় থাকবে না। এরা অপরাধে জড়িয়ে গেলে তখন সেটা বাংলাদেশের জন্যে এক অসহনীয় সমস্যা হয়ে দেখা দেবে। তো এই ব্যাপারটা যাতে না ঘটে সেজন্যে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক এনজিও দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে সরকারের পাশাপাশি, যেমন তাদের একটা ভাল স্কুলভিত্তিক পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দেবার কাজ করছে ইউনিসেফ (বৃটিশ কাউন্সিলের সাথে মিলে আমরা সেইসব বইয়ের ডিজাইন ও আঁকাআঁকি করছি এই মূহুর্তে)। এদের একটা স্ট্যান্ডার্ড পড়াশোনার ব্যবস্থা করা গেলে ভবিষ্যৎ সমস্যার কিছুটা হলেও কমবে এই হল এখন একমাত্র আশা।

সম্প্রতি এরকমই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আহবানে (মুলত আমার নিউ এইজের এক্স কলিগ সাদ হাম্মাদি ভাইয়ের আমন্ত্রণে) আমরা ৭ জন কার্টুনিস্ট একটা দারুণ প্রজেক্টে ঘুরে এলাম রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। সেটা হল বাচ্চাদেরকে কার্টুন আঁকা শেখানো ও তারপরে তারা জীবনে কে কী হতে চায় সেটা আঁকতে বলা। বাচ্চারা দূর্দান্ত এঁকেছে। আমাদের চিন্তার বাইরে সুন্দর তাদের আঁকা। এবং আমরা মুখে, রোহিঙ্গা, মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান যে নামেই ডাকি না কেন, বাচ্চাদের একমাত্র পরিচয় হল তারা বাচ্চা। তারা সব এক, আলাদা করি আমরা বড়রা।

যাই হোক, দূর্ভাগ্যবশত; কক্সবাজার নেমেই আমি নিজে ভাইরাল জ্বরে কাবু হয়ে তিনদিন হোটেলেই পড়ে ছিলাম, অন্যরা সবাই ক্যাম্প ঘুর এসেছে, তাই ক্যাম্পের অভিজ্ঞতা আমি এখানে বলতে পারছি না। যাই হোক, আমরা বরং তাদের কিছু আঁকা দেখি। তাদের আঁকা প্রদর্শিত হয়েছিল ২০-২৫ জুন, ২০১৯ ঢাকার, EMK সেন্টারে। সব কাজ নিয়ে একটা বইও বের হচ্ছে আজ। যথাসময়ে সেটাও শেয়ার করার চেষ্টা করব।

শিক্ষক হয়ে ইংরেজী শিখাইতে চাই

ইনি সম্ভবত তাকেই কপি করেছে

EMK সেন্টারে প্রদর্শনী

EMK সেন্টারে প্রদর্শনীঃ মোট ১৫৬ টি ছবি ছিলো গ্যালারি জুড়ে
ক্যাম্পে আঁকছেন মামুন ভাই

মৌলবী হইতে ইচ্ছুক

কার্টুনিস্ট মাহাতাব ও রোহিঙ্গা শিশু
একজন হতে চেয়েছে মসজিদের ঈমাম


কারররটুনিস্ট টিম। বাম থেকে আবু হাসান, নাসরীন সুলতানা মিতু, সালমান সাকিব শাহরিয়ার (যদিও সে এবারে গিয়েছিলো ফোটোগ্রাফার হিসেবে), মামুন হোসাইন, আমার এক্স কলিগ অ্যামনেস্টির দক্ষিণ এশিয়ার Regional Campaigner  সাদ হাম্মাদি ভাই, চারুকলার তুখোড় আঁকিয়ে প্রসূন হালদার ও মাহাতাব রশীদ।

June 29, 2019

আঁকান্তিস টিউটোরিয়াল: ঠোঁট

আঁকান্তিসের এ সপ্তাহের টিউটোরিয়াল, এবারের বিষয় ঠোঁট।

 

June 24, 2019

আঁকান্তিস টিউটোরিয়াল: চলছে

প্রতি শুক্রবারের টিউটোরিয়াল চলছে, টানা তিন মাস নিয়মিত টিউটোরিয়াল বানালাম, আশা করি এখন থেকে নিয়মিতই পারা যাবে। গত শুক্রবারেরটা ছিলো নতুন কেনা ক্যমেরা স্ট্যান্ড টা ব্যবহার করে হাতে কলমে আঁকার ভিডিও। লাইট আরো ভালো করতে হবে, আর ভিডিও কোয়ালিটিও সম্ভবত অত জাতের হচ্ছে না। দেখা যাক সামনে কী হয়।

May 29, 2019

জুন যন্ত্রনা!

প্রায় প্রতি বছরই ঠিক জুন মাসের আগে আগে চারদিক থেকে ফোন আসা শুরু হয়। কী ব্যাপার? ব্যাপার কিছু না, ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করে যে সব প্রতিষ্ঠান তাদের অর্থ-বছর শেষ হচ্ছে। তার মানে আগের বছর করা হয়নি এমন সব জুনের মধ্যে শেষ করতেই হবে! এবং ডেভেলপমেন্ট এর একটা বড় কাজ হল সহজবোধ্য কার্টুন/ ইলাস্ট্রেশন দিয়ে আম-জনতা বুঝবে এমন কিছু করে প্রিন্ট ম্যাটেরিয়াল তৈরী করা। বেশ ভাল কথা। এ ধরনের কাজ করতে আমরা পছন্দই করি, প্রধান কারণ এতে পকেটে দু' চার টাকা আসে।

ক্যারিয়ারের প্রথম থেকেই আমি এসব কাজ করার ব্যাপারে বেশ বাছাই করার চেষ্টা করতাম। কাজের স্কেল, কে করাচ্ছে, আর উদ্দেশ্য - ইত্যাদী পছন্দ হলে কাজটা করতাম, এভাবে GIZ, UNICEF, Action Aid, BRAC, FIVDB এমন আরো অনেক এন জি ও এবং জি ও (সরকারী) কাজ করা হয়েছে। তবে ইদানীং এসব কাজ করা বাদ দিচ্ছি, তার কারণ বুঝতে হলে বাকীটা পড়তে হবে।  যেমন-

সম্ভাব্য ক্লায়েন্টের সাথে আমার কথোপোকথন

-হেলো মেহেদী ভাই ভালো আছেন?

-জ্বী ভালো, কে বলছেন?

-চিনলেন না? ওই যে বছর পাঁচেক আগে একবার একটা কাজ করলাম আমরা। (অর্থাৎ পাঁচ বছর পর আমি শুনেই চিনে ফেলব তাকে)

-স্যরি ভাই নাম মনে পড়ছে না।

-আরে আমি----(ওমুক)

-জ্বী ভাই বলেন।

-ভাই, একটা কাজ করতে হবে যে, বেশী না মাত্র ৪০ টা ড্রয়িং, ফুল কালার, পরশু দিন লাগবে একটু করে পাঠায়ে দেন।আমি ইমেইল আইডি দিচ্ছি, আর ভাই একটু ডিটেইল হবে আর কি কাজ-হেহে।

-ভাই, ইমেইল আইডি পরে পাঠান, আমি আদৌ কাজটা করবো কি না, ফ্রি আছি কিনা সেটা আগে জানতে হবে তো।

-ও হ্যাঁ হ্যাঁ, মানে ভাই পারবেন না?

-পারবো, কিন্তু ড্র্যয়িং প্রতি আমাকে একদিন সময় দিতে হবে। আর কাজের আগে ৩০% এডভান্স আমার একাউন্ট এ দিতে হবে।

-মানে? ৪০ টা ড্রয়িং সময় লাগবে ৪০ দিন?

-হ্যাঁ।

- কিন্তু কিন্তু আমাদের সময় তো ভাই মাত্র ৭ দিন।

- কিন্তু আমার তো তা না, আমার সময় অনেক। ডেডলাইনটা আপনার, আমার না। আপনার ডেডলাইনের যন্ত্রনা আমি কেন নেব? আমি হ্যাপি লাইফ কাটাই, ঘুরি ফিরি ছবি আঁকি, টেনশন নিয়ে কাজ করি না।

-ও কিন্তু ভাই এটার কিন্তু বেশ ভাল পেমেন্ট ছিল।

- কিছু যায় আসে না ভাই। আল্লা হাফেজ।

এসব আলোচনার শেষ পর্বে এসে হাসিও পায়, বিরক্তও লাগে। এইটুকু পেশাদার এখনো আমরা হচ্ছি না কেন কে জানে। যাই হোক সবাই এরকম না, সংখ্যায় অল্প হলেও বেশ কিছু ভালো ক্লায়েন্ট আছেন, তাঁরা ভদ্র ও পেশাদার। আমার দিক থেকে আমিও সময়মতই সব কাজ যা দরকার তার চেয়ে বেশী ই করে দেই, তাই সেসব প্রজেক্টে সমস্যা হয় না। বেশ কিছু অনুরোধের ঢেঁকি প্রজেক্টও থাকে মাঝে মাঝেই। (এ বছরও আছে)। আর সাথে চলছে পুরোদমে জুনের অর্থ-বছর শেষের আগের রেলগাড়ি প্রজেক্ট। একের পর এক কাজ নামিয়ে যাচ্ছি।
জয় জুন!

কিছু স্ক্রিন শট তুলে দি' গত কিছু দিনের কাজের-

১৩ পৃষ্ঠার কমিক্স, চরাঞ্চলের বন্যা পূর্ববর্তী প্রস্তুতিমূলক সতর্কতা- ইত্যাদী।


হাত ধুই- ভাল থাকি এই ধরনের ক্যাম্পেইন। 

আবর্জনা ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ, এই দুইটা মূলত বিলবোর্ড হচ্ছে, প্রিন্ট শেষ।



বেশ আগে শুরু করা কাজ, এখনো চলছে। সকাজের মাঝামাঝি স্ক্রিপ্ট পালটে যাওয়াতে আবার করতে হচ্ছে। এটা এনিমেশন প্রজেক্ট

ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের প্রমো এনিমেশনের স্টোরিবোর্ড

হাত ধোয়া নিয়ে আরেক প্রস্থ।


যাই হোক, এই জুন এন্ডিং অর্থ বছরের প্রকোপে মে মাসের অনেকটাই আমার কাটে আঁকার টেবিলে। আর বছরের বাকী সময়টা কাটাই আঁকার টেবিলে।

May 26, 2019

নিহিলিন ক্লাব: হরর গল্প

২০১৭ সালের অক্টোবর, প্রায় ৮ মাস টানা টেক্সট বুকের কাজ করে হাঁফিয়ে উঠেছি মিতু আর আমি দু'জনেই, কাজ করতে করতে মাঝে মাঝেই দু'জনে বই যে ছুটি মিললেই নেপাল যাব। অবশেষে সময় মিললো, আর এবারে নেপাল ঘুরতে গিয়ে হল দারুণ একটা অভিজ্ঞতা
সময়টা ছিল দাশাইন- মানে ওদের দূর্গা পূজা। আর আমরা প্রায় পুরোটা সময়েই ছিলাম পোখারায়, সবাই উৎসবের আগের সময়ে বেশ ব্যস্ত। পথে পথে মৌসুমী খুচরা বিক্রেতা। তার মধ্যে ফেরার আগে কাঠমাণ্ডুর পথে হাঁটছি এমন সময় এক প্রৌঢ় লোক দেখলাম বাঁশী বিক্রি করছে। দরদাম করতে বুঝলাম ব্যাটা যাচ্ছেতাই একটা দামে বাঁশী গছাতে চাইছে,  চলে আসবো কিন্তু মিতু ততক্ষণে দেখি কিনে ফেলেছে। ব্যাটা হাসিমুখে দাঁত কেলিয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। কাছে যেতেই বলল- আরে দাশাইনের আগে একটু বেশী-ই না হয় দিলা। আমরা হই ওদিকে পাহাড়ে থাকি। আজ রওনা হয়ে যাব, কাল পৌঁছাবো। এর মাঝে আর এদিক আসবো না। কিনে নাও কিনে নাও। ঠিক তখনই চট করে একটা গল্প মাথায় চলে এল। আগেরদিন পোখারায় এক ক্যাফেতে আরেক ছেলের সাথে পরচিয় হল, সে নেপালের মুস্ট্যাং এলাকার লোক। সেও বলছিলো দাশাইনের পর পর বাড়ি যাবে। মনে হল বিদেশী ট্যুরিস্টদের জন্যে এই কৃত্রিম শহরে থাকা অনেক মানুষই আসলে সেই হাজার বছর আগের আদিম একটা আবহে থেকে অভ্যস্ত এখনো। সময় পেলেই সে সেখানে চলে যায়। আর জায়গাগুলো এমন দুর্গম পাথুরে যে মানুষ চট করে সেটা আমূল পালটে দিতে পারেনি এখনো। এমন কি হতে পারে না যে সেই দূর্গম কোন এক পাহাড়ি গ্রামের এক যাদুকর ঠিক দাশাইনের সময় নেমে আসে শহরে? সাথে তার যাদুবিদ্যার প্রাচীন পুঁথি, হয়ত একটা বাঁশী। অথবা কোন এক মুখোশ? যেটা কিনা তাদের গোপন গোত্রের প্রাণসংহারী দেবতা আজেলের?

মাস তিনেক আগে কিশোর আলোর পাভেল একটা কমিক্স চাইতেই মনে হল তাই তো সেই গল্পটাই তো বলা যায়- যদিও সেটা আর শেষে সেরকম হুবহু কিছু থাকেনি। আগ্রহীরা পড়ে দেখতে পারেন, এবারের কিশোর আলো সংখ্যায় বেরিয়েছে তার শেষ পর্ব।



সাথে সেই ট্যুরের কিছু ছবি দিয়ে দিলাম 







March 25, 2019

ডিজিটালি আঁকতে গেলে লাইন যেভাবে 'সুন্দর' করা যায়

আঁকান্তিস স্কুল চালু হচ্ছে এই বছরেই, তার কিছু ওয়ার্ম আপ ভিডিও বানাচ্ছি। ব্লগেও দিয়ে রাখি।

জাপান টাউনে

 মিতু আর অনু ছাড়া আজ ১১ দিন। ইন ফ্যাক্ট একেবারে একা বিদেশে পড়ে আছি সেটাও এই প্রথমবার। কমিকস এর মাস্টার্স প্রায় শেষ পর্যায়ে। ক্যালিফোর্নিয়া ক...