May 26, 2019

নিহিলিন ক্লাব: হরর গল্প

২০১৭ সালের অক্টোবর, প্রায় ৮ মাস টানা টেক্সট বুকের কাজ করে হাঁফিয়ে উঠেছি মিতু আর আমি দু'জনেই, কাজ করতে করতে মাঝে মাঝেই দু'জনে বই যে ছুটি মিললেই নেপাল যাব। অবশেষে সময় মিললো, আর এবারে নেপাল ঘুরতে গিয়ে হল দারুণ একটা অভিজ্ঞতা
সময়টা ছিল দাশাইন- মানে ওদের দূর্গা পূজা। আর আমরা প্রায় পুরোটা সময়েই ছিলাম পোখারায়, সবাই উৎসবের আগের সময়ে বেশ ব্যস্ত। পথে পথে মৌসুমী খুচরা বিক্রেতা। তার মধ্যে ফেরার আগে কাঠমাণ্ডুর পথে হাঁটছি এমন সময় এক প্রৌঢ় লোক দেখলাম বাঁশী বিক্রি করছে। দরদাম করতে বুঝলাম ব্যাটা যাচ্ছেতাই একটা দামে বাঁশী গছাতে চাইছে,  চলে আসবো কিন্তু মিতু ততক্ষণে দেখি কিনে ফেলেছে। ব্যাটা হাসিমুখে দাঁত কেলিয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। কাছে যেতেই বলল- আরে দাশাইনের আগে একটু বেশী-ই না হয় দিলা। আমরা হই ওদিকে পাহাড়ে থাকি। আজ রওনা হয়ে যাব, কাল পৌঁছাবো। এর মাঝে আর এদিক আসবো না। কিনে নাও কিনে নাও। ঠিক তখনই চট করে একটা গল্প মাথায় চলে এল। আগেরদিন পোখারায় এক ক্যাফেতে আরেক ছেলের সাথে পরচিয় হল, সে নেপালের মুস্ট্যাং এলাকার লোক। সেও বলছিলো দাশাইনের পর পর বাড়ি যাবে। মনে হল বিদেশী ট্যুরিস্টদের জন্যে এই কৃত্রিম শহরে থাকা অনেক মানুষই আসলে সেই হাজার বছর আগের আদিম একটা আবহে থেকে অভ্যস্ত এখনো। সময় পেলেই সে সেখানে চলে যায়। আর জায়গাগুলো এমন দুর্গম পাথুরে যে মানুষ চট করে সেটা আমূল পালটে দিতে পারেনি এখনো। এমন কি হতে পারে না যে সেই দূর্গম কোন এক পাহাড়ি গ্রামের এক যাদুকর ঠিক দাশাইনের সময় নেমে আসে শহরে? সাথে তার যাদুবিদ্যার প্রাচীন পুঁথি, হয়ত একটা বাঁশী। অথবা কোন এক মুখোশ? যেটা কিনা তাদের গোপন গোত্রের প্রাণসংহারী দেবতা আজেলের?

মাস তিনেক আগে কিশোর আলোর পাভেল একটা কমিক্স চাইতেই মনে হল তাই তো সেই গল্পটাই তো বলা যায়- যদিও সেটা আর শেষে সেরকম হুবহু কিছু থাকেনি। আগ্রহীরা পড়ে দেখতে পারেন, এবারের কিশোর আলো সংখ্যায় বেরিয়েছে তার শেষ পর্ব।



সাথে সেই ট্যুরের কিছু ছবি দিয়ে দিলাম 







No comments:

Post a Comment

বিদায় ব্লগস্পট

গুণে গুণে ১২ বছর এখানে কাটালাম, এবং হঠাৎ সেদিন হঠাৎ আবিষ্কার কুরলাম আমি ছাড়া আর কেউই নেই আশেপাশে। খোঁজ নিয়ে দেখতে পাচ্ছি এখন আর্টিস্টরা সবাই...