April 21, 2017
April 11, 2017
April 06, 2017
Finished not Perfect: সাম্প্রতিক আঁকিয়ে ডাইলেমা
সম্প্রতি বিখ্যাত কমিক বুক আর্টিস্ট কাম ক্যারেক্টার ডিজাইনার Jake Perker তাঁর একটা ভিডিওতে জানিয়েছেন শিল্পীদের কাজ Perfect করার চাইতে Finish করা বেশী জরুরী। ভিডিওটি রীতিমতন ভাইরাল হয়ে গেছে, অসংখ্য আঁকিয়ে হঠাত যেন জেগে উঠে বুঝে ফেললেন কেন তাদের
কাজ এদ্দিন হচ্ছিলো না। আমিও দারুণ উত্তেজিত, কারণ আমার খুব ভাল করে আঁকবো ভেবে অসমাপ্ত প্রজেক্ট অসংখ্য। তাই কোমড় বেঁধে সেগুলি একে একে শেষ করব ভেবে পুরোনো স্কেচ বইয়ের ধূলো ঝাড়া শুরু করলাম। এর মাঝে হঠাত একদিন এক জুনিয়র আঁকিয়ে মুখ গোমড়া করে জানালো সে এক অদ্ভূত সমস্যায় পড়েছে। সে Jake Perker এর কথা শুনে কাজ করা শুরু করেছিল সেটা দেখে আরেক সিনিয়র আঁকিয়ে বলেছে বাজে কাজ করার চেয়ে কিছু না করা ভাল। ব্যস। সে আটকে গেছে। দুইটাই সমান যুক্তির মনে হচ্ছে তার এখন সে কিছু না করে হ্যাং মেরে আছে। শুনে আমার মনে হল তাই তো, কারণ Jake এর কথা কিন্তু অনেক তরুণ আঁকিয়ের জন্যে সমস্যাও করবে। সে হয়ত কিছু শেখেইনি, কিন্তু প্রজেক্ট ফিনিশ করার জন্যে যা-তা কাজ শুরু করে যদি ভাবে আমি অন্তত শেষ করেছি? আবার অন্যদিকে যেই আঁকিয়ে বলেছে ভাল না হলে করার দরকারই নাই সেটার কী হবে? এই দু ধরনের কথা আমরা আলাদা করে আগে ভেবে দেখি-
Jake বলেছে,
কাজ শেষ কর, একেবারে পার্ফেক্ট করার চেয়ে সেটা জরুরী।
এখন আমার মতে Jake এটা আসলে যাদের জন্যে বলেছে তারা পেশাদার আঁকিয়ে, এবং তারা যতই তাড়াতাড়ি করে কাজ করুক না কেন , খুব বেশী খারাপ করার তাদের পক্ষে সম্ভবই না। সে আসলে এমেচারদের জন্যে বলে নাই কথাটা। তার মানে একেবারে নতুন শিখছে যারা তারা যদি এখন কাজ ফিনিশ করার প্রাধান্য বেশী দেয় তাহলে আসলেও কিছু আবর্জনা বের হবার সম্ভাবনা আছে। তার আসল কাজ শেখা।
আর অন্য কথাটা হল,
ভাল না হলে কাজ করার মানে নাই।
এটা চরমপন্থী বোকা বোকা কথা। কারণ ভালোর কোন শেষ নেই। সবসময়েই আমার কাজের চেয়ে কারো না কারো কাজ ভাল হবেই। তার মানে কি সারাজীবন আমি কাজ করবো না? ভাল করতেই থাকব? এই দুই ধরনের কথার থেকে মাঝামাঝি একটা জায়গা আমার মনে হয় বলা যেতে পারে সেটা হল-
প্রজেক্টের ডেডলাইন বুঝে আমার এই সময়ের সর্বোচ্চ কোয়ালিটিতে আমি কাজ শেষ করব।
যে কোন একটা মেনে চলতে গেলে ধরা খাবার চান্স আছে। হয় কমপ্লিট কিছু প্রজেক্ট হবে যা আসলে খুবই বাজে। অথবা কিছু হবেই না, মধ্যপন্থায় তাই দুইটাই করা ভাল। আর আমি যেই কাজটা করি সেটা হল যেটা আমি এখনো শিখছি মানে ভাল পারি না কিন্তু চাই করতে সেটা আমি স্কেচ খাতাতে প্র্যাকটিস করে যাই। কিন্তু প্রিন্টের জন্যে মানে ফাইনাল কাজ হিসেবে দেই যেটা আসলে আমি মোটামুটি করে ফেলতে পারি সেটা। তার মানে আমার সবসময়ের কাজের চাইতে আমার স্কেচ খাতা এগিয়ে থাকে।
তো চলুক সবকিছুই একসাথে সমান তালে।
April 05, 2017
March 31, 2017
আমার পড়া ভাল বই: সুখ
আইডিয়া পাওয়া বা ক্রিয়েটিভ কাজ ইত্যাদিকে এখনো আমাদের সমাজে একটা অলৌকিক প্রতিভা হিসেবে ভাবা হয়। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাপারটা সত্যও বটে। তবে আমি মনে করি মহা ট্যালেন্টেড হয়েও লাভ নেই যদি আপনি নিজে না পড়েন, বা না দেখেন। ধরা যাক আপনি দারুণ শক্তিশালী একটা কম্পিউটার এর মত। দুর্দান্ত প্রসেসর, টেরা টেরা স্টোরেজ, র্যাম এর তো কথাই নাই, গ্রাফিক্স ও সেই রকম। আমি বলতে পারি আপনি দারুণ ট্যালেন্টেড একটা কম্পিউটার- বা মানুষ। কিন্তু সেই কম্পিউটার এ যদি কোন সফটওয়ার ই না ইন্সটল করি? যদি কোন ডেটাই না থাকে? তবে আপনি কী প্রসেস করবেন? কাজই বা কী করবেন? তার মানে আপনার কাজ করার জন্যে দরকার উপাদান। সফটওয়ার লাগবে, লাগবে ডেটা। সেই ডেটা প্রসেস করে ভাল গ্রাফিক্স এর পর সেটা আপনি পুর্নাঙ্গ একটা কাজ আকারে শেষ করবেন। মানুষের ক্ষেত্রে সমস্যাটা হল সে কোন কম্পিউটার না যে কয়েকটা সিডি বা পেন ড্রাইভ থেকে কিছু জিনিস কপি পেস্ট করে ভরে দিলাম, আর সে সব বুঝে গেল। তার বুঝতে হয় নিজের চারিদিক থেকে দেখে দেখে, শুনে শুনে। তবে কেউ যদি সারাজীবন তার আশপাশ থেকে সব দেখে ফেলে বা শুনে ফেলে তারপরেও কিন্তু বিশাল যেই মানব সভ্যতার ইতিহাস তার কিছুই তার জানা হবে না। এই সমস্যার একটা দারুণ সমাধান হল বই। যে বই চাইলেই হাজার বছর আগের একটা মানুষ বা একদল মানুষ কী ভাবতো তা জানিয়ে দিতে পারে।
বই এর এখনো কোন বিকল্প মানুষ তৈরী করতে পারে নি। যতই ভিডিও দেখি, গান শুনি, আলোচনা করি, বইয়ের একটা আলাদা জায়গা থেকেই যাচ্ছে। যেখানে লেখকের আর পাঠকের মধ্যে আর কারো আনাগোনা নেই। তাই আমাকে যখনই কেউ জিজ্ঞেস করে- এমনকি কার্টুনের ক্ষেত্রেও, যে কিভাবে আইডিয়া পাব, আমার একমাত্র উত্তর হয়- বই পড়া। এর পরেই যেই প্রশ্নটা আসে সেটা হল কী বই পড়ব? আসলে এটা বলা কঠিন। যে যেই জিননিসটা সম্পর্কে জানতে বা বুঝতে চায় তাকে সেই ধরনের বই পড়তে হবে। আর শুধুমাত্র আনন্দের জন্যে পড়াও অনেক জরুরী। তারপরেও আমার পড়া বেশ কিছু দারুণ বই ধীরে ধীরে ছোটোখাট রিভিউ ধরনের করে তুলে দিতে চাচ্ছি। তার ফলে পরিচিত অপরিচিত কেউ হয়ত উপকার পেতেও পারেন।
আজকের বই -
সুখের সন্ধানে
মূল বইটি পৃথিবী বিখ্যাত বৃটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের লেখা The Conquest of Happiness। মোতাহের হোসেন চৌধুরীর সার্থক অনুবাদে সেটা বাংলায় নাম পেয়েছে 'সুখ'। রবীন্দ্রনাথ থ্রিবেদী এটার আরেক অনুবাদ করেছেন 'সুখের সন্ধানে' নামে। সেটা আরো সার্থক নামকরণ আমার মতে। যাই হোক, এই বইটি আমি বেশ কয়েকবার পড়েছি। খুবই ছোট একটা বই, কিন্তু অনায়াসে তা কথা বলেছে মানুষের দুঃখের কারণ আর কিভাবে তার সমাধান করা যায় তা নিয়ে। কেন জীবনে ভাল কিছু বন্ধু থাকা অনেক জরুরী, এবং সেই বন্ধুর সাথে দেখা করতে প্রয়োজনে কয়েক যোজন পাড়ি দিয়ে যাওয়াও যে স্বাস্থ্যকর, কেন প্রতিযোগিতা এড়ানো দরকার। কেন নির্লিপ্ততার সাথে সাথে আবার অনেক কাজ করে যাওয়াও জরুরী। প্রবল আঁতলামী দিয়েই যে জীবন ভরে ফেলা ঠিক না, একেবারে সহজ স্বাধারণ সবকিছুকেই উপভোগ করার যে দরকার আছে, এবং সেই সাথে কেন অন্যের দোষারোপ না করে সুস্থ জীবন বেশী কাম্য- ইত্যাদি।
গৌতম বুদ্ধ কত হাজার বছর আগে মানুষের দুঃখের কারণ ও তার বিনাশের কথা অনেক সহজে বলে গেছেন, সুখের সন্ধানে পড়ে আমার মনে হয়েছে পাশ্চাত্যের এই বিখ্যাত দার্শনিক প্রাচ্যের সেই পুরোনো দর্শন নতুন করে সহজভাবে আবার বলেছেন।
বইটি একেবারেই ছোট, এক বসাতেই পড়া শেষ হয়ে যাবে, তবে বার বার পড়তে ইচ্ছে হবে। মাথায় অনেকদিন। এবং পড়ার পর একটা ফুরফুরে মেজাজ চলে আসা উচিত। বইটি পাওয়াও বেশ সহজ। পপুলার রিড বলে প্রায় সব বড় লাইব্রেরিতেই পাওয়া উচিত।
March 28, 2017
আঁকাআঁকি নিয়ে কথা
আঁকাআঁকি নিয়ে কিছু কথা ভাগাভাগি করে নেয়া যাক। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে যা যা মাঝে মাঝে মনে হয় তা বললে যদি অন্য কারো কিছুটা হলেও কাজে লাগে বা চিন্তার খোরাক জোগায় তাহলে খারাপ কী? প্রথমে কিছু ঝামেলার কথা বলা যাক। আঁকতে গিয়ে আঁকিয়েরা বেশ কিছু অদ্ভূত সমস্যায় পড়েন। (এখানে আঁকিয়ে বলতে আমি মূলতঃ যারা মূলধারায় কিছুটা হলেও পেশাদারী আঁকা আকতে চাচ্ছেন তাদের কথাই বলছি শখের বশে দাগাদাগি যারা করেন তাদের কথা না।) সমস্যাগুলি অনেকটা এইরকম-
আমি নিজে এই সমস্ত সমস্যার মধ্যে দিয়ে গেছি, ভাবতে ভাবতে আমার নিজের মত করে কিছু উত্তর বের করেছি এ সবের। সেগুলি বলা যাক।
১. আঁকা ভালো হয় না


১. আঁকা ভালো হয় না
২. টাকা পাই না
৩. আমার বয়সী অন্যরা তো কতকিছু করে ফেলল, আমি কবে করব?
৪. ড্রিম প্রজেক্ট কবে হবে?
আমি নিজে এই সমস্ত সমস্যার মধ্যে দিয়ে গেছি, ভাবতে ভাবতে আমার নিজের মত করে কিছু উত্তর বের করেছি এ সবের। সেগুলি বলা যাক।
১. আঁকা ভালো হয় না

যে কোন আঁকাআঁকির ব্লগ , আর্টিকেল, বই বা সব বড়ো শিল্পীরা এক বাক্যে বলবেন - প্র্যাক্টিস কর। এটা আসলে আমার কাছে একটা দায়সারা উত্তর লাগে। প্র্যাকটিস তো অবশ্যই করব। এবং শর্টকাট বলে কিছু নাই তাও তো জানি। কিন্তু কথা হল কী প্র্যাকটিস করব? কিভাবে করব? প্র্যাকটিস করলেই হবে? যদি সারাজীবন ভুল জিনিস প্র্যাকটিস করি? আমি মনে করি এর উত্তর দেবার আগে নিজের কাছে অন্য দুটো প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।
- আপনি কী করতে চান / হতে চান?
- আপনার সামর্থ্য কট্টুকু?
মানে আপনি আঁকাআঁকির কোন শাখায় কাজ করতে চান? ইলাসট্রেশন, গ্রাফিক ডিজাইনার, এনিমেটর, ক্যারিকেচারিস্ট, ক্যারেক্টার ডিজাইনার, কমিক্স আর্টিস্ট, লোগো ডিজাইনার, পেইন্টিং, ক্রাফট মেকিং, স্কাল্পটিং - আসলে অসংখ্য মাধ্যম আছে চারদিকে, এবং সেই সবের মধ্যে আবার আছে ছোটখাটো শাখা প্রশাখা। তারা একে অন্যের সাথে সম্পর্কিত হলেও সবাই আবার নিজেরা নিজেরা আলাদা। সুতরাং আপনি আসলে কী হতে চান সেটা ভেবে বের করা খুবই জরুরী। এক বসাতেই এটা ভেবে বের করে ফেলা হয় না, প্রসেসটা একটু সময়সাপেক্ষ। এটা বের করার উপায় হল বিভিন্ন ধরনের কাজ করে যাওয়া একটু একটু করে। আপনি নিজে যেটায় বেশী মজা পাবেন সেটাই করুন। ব্যাপারটা আসলে আনন্দ পাওয়া না পাওয়ায়, কত ভালো হল বা কোনটা সবাই করছে তাতে কিছু যায় আসে না। এই জিনিসটা জানতে পারা জরুরী। প্রথম থেকে ফোকাস না হলে দেখা যাবে আপনি খুবই অস্থির হয়ে একবার থৃডি, একবার ফ্ল্যাশ এর এনিমেশন একবার ক্যারিকেচার ইত্যাদি করে মাখিয়ে ফেলেছেন শেষে টাকা ধার করে বানাচ্ছেন ফিল্ম বা ডকুমেন্টারি। তার মানে প্রথম কাজ হল আপনি কী করবেন সেটা ঠিক করা এবং তার পরের প্রতিটা কাজ বা প্রাকটিসের উদ্দেশ্য হবে সেই কাজকে এগিয়ে নেয়া। ধরা যাক আপনি পলিটিক্যাল কার্টুনিস্ট হবন। তার মানে আপনি এখন যাই করেন নে কেন তার প্রথম উদ্দেশ্য হবে পলিটিকাল কার্টুন বোঝা ও দেখা। পলিটিক্স বোঝা-খুব একটা সহজ কাজ না- এই কাজকে ভালো করতে হয়ত চলে আসবে প্রচুর পড়াশোনা করা, ক্যারিকেচার করা। চলে আসবে প্রিন্টিং সম্পর্কে জ্ঞান, মানে কোন কাগজে কি ধরনের কাজের প্রিন্ট কেমন আসে সেটা। অর্থাৎ আপনার পলিটিক্যাল কার্টুন আরো ভালো করতে দিন দিন আরো নতুন জিনিস শিখে যাচ্ছেন। তবে উদ্দেশ্য সেই কার্টুনটাকে আরো ভালো করা। দেখা যাবে শেষমেশ আপনি এভাবে আরো অনেক কিছুই শিখে গেছেন কিন্তু সেটা একেবারেই প্যানিকড না হয়ে। তার মানে কী হতে চান বা করতে চান সেটাই প্রথম কাজ। এখন কথা হল মাল্টিটাস্কড আর্টিস্ট কি তবে হবে না? মানে যে ক্যারিকেচার করে সে কি কমিক্স করবে না? অবশ্যই করবে কিন্তু যে কোন একটা তার মূল আইডেন্টিটি থাকলে মাল্টিটাস্কিং করতেও সুবিধা হয়। নিজে যদি বুঝে যান এনাটমি আপনার কাজ না, আপনি এটা পারছেন না, আপনার আরো সহজে অন্য কিছু করার আছে, আপনার ভালো লাগে একেবারেই চাইল্ডিশ ড্র্যইং করতে- তবে সেটাই করুন। প্রত্যেকটা মানুষ তার নিজস্ব স্টাইল নিয়ে জন্মায় অন্যদের দেখে দেখে সে সেটা হারিয়ে ফেলে। সেটা আবার যে খুঁজে বের করে সবাইকে দেখাতে পারে সেই শিল্পী। আমি তাই মনে করি। আপনার একেবারে যা-তা ধরনের ড্রয়িংও একেবারেই আপনার নিজের মত ব্যাপার আছে সেটাকে হাইয়েস্ট লেভেলে নিয়ে যান- পৃথিবীতে আপনি ইউনিক হয়ে থাকবেন।
আর সামর্থ্য বোঝা মানে হল চাণক্যের সেই কথাটা- একটা কাজ শুরু করার আগে সেটা করার সামর্থ্য আপনার আছে কি না সেটা বুঝে নেয়া। কথার কথা আপনার ইচ্ছা আপনি ডিজনির এনিমেটেড মুভির মত মুভি বানাবেন। কিন্তু সেটা এই মুহূর্তে একা শুরু করাটা স্রেফ বোকামী ছাড়া আর কিছুই না। নিজের সামর্থ্য যট্টুকু সেটার আলোকেই ভাবা দরকার। ব্যাপারটা এমন না যে ওইরকম মুভি বানানোর স্বপ্ন আপনি দেখবেন না, ব্যাপারটা হল এই মুহূর্তে যেটা অসম্ভব সেটার পিছনে সময় না দিয়ে সেটা ড্রিম হিসেবে তুলে রেখে সে লক্ষ্যে এগোতে থাকা।
২. টাকা পাই না
এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। বিশ্বাস না হলে পৃথিবী বিখ্যাত আর্টিস্ট ক্যারেক্টার ডিজাইনার বা কমিকস শিল্পীদের সাক্ষাতকার পড়েন। আসলে এটা একটা চোর পুলিশ খেলা। আপনি চাইবেন সর্বচ্চ মূল্যে আপনার কাজ বিক্রি করতে আর ক্লায়েন্ট চাইবে সর্বনিম্ন দামে সেটা কিনতে। আর আমাদের দেশের একটা সমস্যা হল পেশাদারিত্ব কোনদিকেই তেমনভাবে গড়ে ওঠেনি। আর্টিস্ট ও কেলাস, আর ক্লায়েন্ট পারলে কাজ নিয়ে পলানোর তালে থাকে। দুই দিকেই সমস্যা আছে। এটা এড়ানোর কোন ধ্বনন্তরি এখনো জানা যায়নি তবে প্রচলিত একটা পদ্ধতি হল কাগজে কলমে বোঝাপড়া করে নেয়া। মানে কয়টা কাজ, কী রেটে করতে রাজী হচ্ছি দুই পক্ষই সেটা আগে ঠিক করে নেয়া।
আমি যা করি সেটা আর কিছুই না, ক্লায়েন্টের কাজ আগে বুঝে নেই। তারপর একটা স্যাম্পল তাকে দেখানো হয় যে কাজটা এমন হবে। তারপরে সেটার মজুরি কেমন হবে সেটা বলি। ক্লায়েন্ট রাজী হলেই কেবল ফাইনাল কাজে হাত দেই। ব্যাপারটা আরো বিশদ বলতে আমার ইচ্ছে আছে আরেকটা আলাদা পোস্ট লেখা। আপাতত টাকা সমস্যার সমাধান এভাবে করা যেতে পারে,
- প্রথমত: নিজের কাজ অনেক ভাল করা। তাতে মার্কেটে একটা ডিমান্ড তৈরী হবে। এ ক্ষেত্রে অনেক টাকা নেই কিন্তু প্রচার হবে এমন কাজ বেসী বেশী করা যেতে পারে আগে। ভাল কাজ যদি মোটামুটি রকমের প্রচার ও পায় তবে সেটা অনেক কাজের।
- ব্র্যান্ডিং তৈরী করা, নিজের একটা ব্র্যান্ডিং তৈরী করতে বিশেষ কিছু কাজ বেশী বেশী করা ভাল।/ যেমন ক্যারিকেচার হয়ত আমি ভাল পারি। তবে আমার মূল ব্র্যান্ডিং সেটাই হওয়া উচিত। অনেকেই আজকাল যেটাতে টাকা বেশী সেটা করছে, ফলে শেষমেশ তার তেমন কোন ব্র্যান্ড দাঁড়াচ্ছে না। এটা শেষমেশ কিন্তু একটা বিপদই হয়ে দাঁড়ায়। যে কোন একটা মূল আইডেন্টিটি জরুরি বলে মনে করি আমি। সেটা হলে নির্দিষ্ট সময় ধরে ভাল কাজ করে গেলে টাকা না পাবার কিছু নেই। তবে হ্যাঁ, নিজের ভালরকম পেশাদার হতে হবে, আলসেমী করে জোড়াতালির কাজ করে ক্লায়েন্টের উলটা দোষ ধরা কাজের কথা না।
৩. আমার বয়সী অন্যরা তো কতকিছু করে ফেলল, আমি কবে করব?
আপনার বয়সী আরো অনেক আবার একেবারেই কিছু করেও নি। তারমানে সবসময়েই আপনি আপনার চেয়ে ভাল ও খারাপ দুই দলকেই তুলনা করার জন্যে পাচ্ছেন, ভাল বুদ্ধি হল- এইগুলি নিয়ে একেবারেই না ভাবা। অনেক দারুণ আঁকিয়েকে আমি জানি যারা নিজে দারুণ আঁকেন কিন্তু 'বাইরের ওরা' তো আমার চেয়ে ভাল আঁকে এটা ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন আর তাদের কাজ স্ক্রল করে করে দিন কাটান। অন্যের কাজ অবশ্যই দেখতে হবে, তাদের থেকে শিখতেও হবে; কিন্তু তুলনা করতে গেলেই আপনি শেষ। আমার কাজ অন্যের চেয়ে খারাপ- তাহলে ভাল করা যাক, এরকম ভাবলে ঠিক আছে। কিন্তু, আমার বয়সী ওই আর্টিস্ট তো অলরেডি মাস্টার লেভেলে চলে গেছে আমার আর এঁকে কী হবে, এই ভাবনাটা খারাপ। এবং এইরকম ভাবার মানেও নেই। কারণ প্রত্যেকটা আর্টিস্ট আলাদা। অবশ্যই আঁকার মূল ব্যকরণ যত ভাল রপ্ত হবে তত ভাল আঁকা হবে, কিন্তু শিল্পীরা কিন্তু খালি আঁকেন না, তারা আসলে আঁকার মধ্য দিয়ে তাদের একটা বক্তব্য তুলে ধরেন। সেটা যত সুন্দর ও নাটকীয় করে করা যায় ততই সেটা ভাল শিল্প। আর সেটা করতে গেলেই ব্যকরণ জানার প্রসংগ আসে। কিন্তু দুইজন শিল্পী একই জিনিস দেখে একেবারে একই শিল্প তৈরী করবে না। তাদের বক্তব্য আলাদা হবেই। সেটাই আসল জায়গা। অন্যের আঁকা আমার চেয়ে আলোকবর্ষ দূরের ভাল হতে পারে, কিন্তু আমার সাথে তার পার্থক্য হল সে কখনই আমার বক্তব্যটা দেবে না, সেটা পৃথিবীতে দিতে পারি আমি একাই। আর কাজ ভাল করার প্রতিযোগিতাটা নিজের সাথে নিজের। অন্যের সাথে ক্রিয়েটিভ কাজ কখনই তূলনা করার মানে নেই।
৪. ড্রিম প্রজেক্ট কবে হবে?

চাইলেই হবে। তবে তার জন্যে বাস্তব প্ল্যান করতে হবে। আমি আজকে মাত্র আঁকতে বসলাম আর ভাবলাম এক বছরের মধ্যে পিকজার এর মত এনিমেশন কার্টুন ফিল্ম বানাবো তাহলে সেটা হবে অনেকটা সাঁতার শেখার বই পড়তে বসে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেবার প্ল্যান করার মত। অবশ্যই এনিমেশন ফিল্ম বানাতে হবে। তবে তার আগে আঁকা শিখতে হবে, জানতে হবে এনিমেশন কিভাবে করে। আর অবশ্যই অর্থনৈতিক বাজেট টা করে নিতে হবে। এটা শুনতে অবাক লাগলেও আমার প্রজেক্ট করতে কত টাকা লাগতে পারে তার একটা ধারনা থাকা ভাল। বা উল্টোও করা যেতে পারে যে আমার সামর্থ্য কত আছে সেই অনুযায়ী প্রডাকশন ডিজাইন করে নেয়া যায়। যেমন একটা ক্লাসিক্যাল সেল এনিমেশন (দ্বিমাত্রিক) বানাতে সেকেন্ড প্রতি আন্তর্জাতিক রেট বলা যায় সাত হাজার টাকা। এটা বাংলাদেশের বর্তমান বাজারের প্রেক্ষাপটে প্রায় অসম্ভব একটা সংখ্যা। এখন যদি আমরা ঠিক করি আমাদের বাজার সেকেন্ড প্রতি ২ হাজার টাকা দিতে পারবে, তবে সেভাবে প্ল্যান করা যেতে পারে। হতেই পারে সেটা হাতে আঁকা এনিমেশন না হয়ে পাপেট আর স্টপ মোশন মিলানো একটা নতুন আইডিয়া। এবং সেটা আমার আয়ত্ত্বের মধ্যে আমার দুই বন্ধুকে নিয়ে ঘরে বসে একটা সেট বানিয়ে কর ফেলা সম্ভব। এভাবে ছোট করে একটা প্রামাণ্য কিছু বানালে সুযোগ আসতেই পারে যে কোন ভাল ব্যবসায়ী সেটা দেখে আমার ড্রিম প্রজেক্টে লগ্নি করল। সেই সাথে অবশ্যই নিজের সর্বস্ব ঢেলে কাজ করতে হবে। আবার বাস্তব সম্মতভাবে যা করতে যাচ্ছি সেটার অর্থনৈতিক আর কারিগরি দিক আমার আয়ত্ত্বে আছে কিনা সেটাও দেখতে হবে। আমার নিজের ড্রিম প্রজেক্ট ছিল বাংলা কমিক্স করা। সেটার জন্যে আমাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৭ বছর, আমি নিশ্চিত এ সময়ের কাউকে এতটা সময় অপেক্ষা করতে হবে না। কিন্তু তারপরেও সেতা হুট করে হয়ে যাবে এমন ভাবলে কাজটা আদৌ আর হবেই না।
এই ধরনের পোস্ট আদৌ অন্যের অকটুটুকু কাজে আসবে জানি না, তবে এগুলি মূলত: নিজেকেই বারবার শোনানো, বারবার মনে করিয়ে দেয়া। ততটুকু হলেও চলবে। আঁকাআঁকি সম্পর্কিতি যে কোন কিছু আর কেউ জানতে চাইলে আমাকে এখানেই কমেন্টে জানাতে পারেন, যথাসাধ্য চেষ্টা করব সেটা নিয়ে আমার ভাবনা জানাতে।
Subscribe to:
Posts (Atom)
জাপান টাউনে
মিতু আর অনু ছাড়া আজ ১১ দিন। ইন ফ্যাক্ট একেবারে একা বিদেশে পড়ে আছি সেটাও এই প্রথমবার। কমিকস এর মাস্টার্স প্রায় শেষ পর্যায়ে। ক্যালিফোর্নিয়া ক...
-
দীর্ঘ দশ মাস পর ২০১৮ সালের বিজ্ঞান বিভাগের নবম-দশম শ্রেণির ৫ টা (গণিত, উচ্চতর গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান) ও আর্টস ও কমার্স বি...
-
কমিকবুকের কাজ চলছে, আর সেটা করতে গিয়ে কিছু অদ্ভূত সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে আমাদের। যেমন- আমাদের 'সুপারহিরো' কেমন হবে?ল্যাঙ্গট পড়...
-
ইদানীং নিজের পাতা ফাঁদে নিজেই বারবার ধরা খাচ্ছি, আঁকান্তিস নামে যে গ্রুপটা খুলেছিলাম সেখানে সপ্তাহান্তে একটা কিছু কন্টেস্ট ডাকি (নিজেই)।...










