August 29, 2015

জল রঙ এ আবার

জল রঙ পারি না। তার ওপর গত কয়েক বছর টানা ডিজিটালি আঁকতে আঁকতে আজকে জল রঙ্গের সেট বের করতে গিয়ে দেখি ধুলো পড়ে বাজে অবস্থা। রঙ টং শুকিয়ে নাই হয়ে আছে। গ্যাম্বোগ ইয়েলো তো খুঁজেই পেলাম না। কেমন একটু অপরাধী অপরাধী লাগলো। উন্মাদ এর কোরবানী ঈদ সংখ্যার কভার করার কথা, নতুন কার্টৃজ এর খাতা আর এক গাদা তুলি কালির সেট নিয়ে অনেকদিন পর আমার বার্মাটিক এর টেবিলটায় বসলাম। আঁকার আগে খালি মাথায় ভরে নিতে হল- এইখানে আনডু নাই। যা করলাম তার ধারাবাহিক ফটো তোলার ইচ্ছা ছিলো কিন্তু পরে আর হয় নি। বেশ কিছু ফেইজ টানা এঁকে গেছি মাঝে ছবি তোলা হয় নি।

বলপেন এ পেন্সিল ড্রাফট এর ওপর ইংকিং

আমার টেবিল, আসলে আমার দাদার। বার্মাটিক এর এই টেবিলের বয়স ১২০ বছর।
আমার বাবা এই টেবিলেই পড়াশোনা করেছেন, আমিও। আমার সব আঁকাআঁকির ৮০ ভাগ এই টেবিলেই করা।
(নস্টালজিক হয়ে গেছি একটু)

একটা ধাপ তুলতে ভুলে গেছি। প্রথমে লেমন ইয়েলো পানির সাথে মিশিয়ে একটা কোট দেয়া হয়েছে।
আসলে জল রঙেও আমি একটা মিডটোন টাইপ কিছু না দিলে কাজ করতে পারি না।
এখানে একটা ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে, যেটা স্পেকুলার হাইলাইট সেটা এখানেই
'লিভ দ্যা পেপার ব্ল্যাংক' এর প্রিন্সিপালে ছেড়ে ছেড়ে রঙ করতে হবে

এবারে বার্ন্ট সিয়েনার আস্তর (গ্রিনিশ করে করতে চেয়েছিলাম, রঙ খুঁজে পাইনি) প্রথম কোট টা শুকানোর পর
তুলনামূলক পানি কম মিশিয়ে পরের ধাপে যাই, ব্রাশ ও আস্তে আস্তে চিকনটা নেই

একটু ক্লোজ লুক, কলম আর চিকন তুলিতে কিছু টেক্সচার যোগ করা।

পুরো ফ্রেম, লক্ষণীয় যে ওপরের দিকে অনেকগুলি রঙের স্ট্রোক। আসলে মূল পেইন্টিং এ রঙ কেমন হবে
সেটা সরাসরি দিয়ে দেখার আগে ওপরের সেইফ জোন এ একবার করে মেখে দেখে নেই, বেশ কাজের

ক্লোজার লুক (এতদিন পরে টের পেলাম জলরং এ আগে একটা ফ্রেশনেস আনতে পারতাম
এখন কেমন যেন স্টিফ আর ওপেক ওপেক টাইপ ই হয়ে গেলো। আরো প্র্যাকটিস করতে হবে এখন থেকে)

কাজের মাঝে এক বিরক্তিকর আবির্ভাব ছিল। এর সম্পর্কে আর কিছু বলার নেই।
দিনে দিনে আমাদের পার্সোনালিটি আর ইগো ক্ল্যাশ চরমে যাচ্ছে।

August 09, 2015

আঁকান্তিসঃ আহসান মঞ্জিল

গত শুক্রবার আমাদের (প্রায়) নিয়মিত আঁকিবুকির সেশন আঁকান্তিসের স্কেচবুকিং হল আহসান মঞ্জিল এ। এই দালানটা ঢাকার জন্যে এবং অতি অবশ্যই বাংলাদেশের এই অঞ্চলের জন্যে অনেক কারণে ঐতিহাসিক। বেশ কিছু প্রিয় অপ্রিয় ঘটনার জন্ম এই বাড়িতে। নওয়াব খাজা আব্দুল গণি শোনা যায় কোন এক পর্তুগীজ ব্যবসায়ী সহদর কোজা জোহানেস ব্রাদার্স এর থেকে এই দালান কেনেন। কোজা থেকে পরে খাজা। খাজা বংশের লবণের কারবার ছিল বৃটিশদের সাথে। ভুল না করে থাকলে এই লবণ বৃটিশরা নিয়ে আসতো। এদিক থেকে বিপুল পরিমাণ কাপড় চোপড় এর কাঁচামাল জাহাজে করে নিয়ে যাওয়া হত ইংল্যান্ড এ আর সেখান থেকে খালি জাহাজ না এনে লবণ বোঝাই করে ভারতবর্ষে ফেরত আসতো তারা। সেই লবণ কিনতে বাধ্য হত ভারতবাসী। অনেকটা কইয়ের তেলে কই ভেজে তারপরে আবার কই মাছকেই খাওয়ানো। যাই হোক এই খাজা বংশের সাথে সেই লবণ কেলেংকারীর দায় পুরোটা চাপানো অনুচিত। তবে সিপাহী বিদ্রোহের পরে পরে যখন বৃটিশদের হাতে সিপাহীদের স্বাধীনতা আন্দোলন কঠোরভাবে দমন হল, বাহাদুর শা' পার্কে (এখনকার ভিক্টোরিয়া পার্ক, তৎকালীন আন্টাঘর বা আণ্ডাঘর ময়দান) দিনের পর দিন বিপ্লবী সিপাহীদের লাশ গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হল। শোনা যায় তখন আহসান মঞ্জিল এ এই উপলক্ষ্যে তৎকালীন নবাব ভোজ ও বলড্যান্স এর আয়োজন করেছিলেন। সত্য মিথ্যা ঘাঁটতে আবার কিছু পড়াশোনা জরুরী। যাই হোক। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার পরেই আমার ঢাকা নিয়ে পড়াশোনার একটা নেশা পেয়ে বসে। তখন বেশ কিছু দারুণ বই পড়েছি এই নবাব পরিবার নিয়ে। এতক্ষণ এত এত বাজে কথা তাদের নিয়ে বলা হল এবারে কিছু ভাল কথা বলা দরকার। ঢাকায় প্রথম নগর সুবিধা চালু করেন এই নবাব পরিবার, নামে কাগুজে নবাব হলেও তারা আসলেই নিজেদের নগরপিতা মনে করতেন। তখনকার আমলে লক্ষাধিক টাকা খরচ করে সবার জন্যে সুপেয় পানির পাইপ্লাইন বসান তাঁরা, প্রথম বৈদ্যুতিক লাইট এরও প্রচলন এদের হাত ধরেই। অন্যদিকে আপাতঃ আইরনিকভাবে হলেও এদিকের, মানে পরবর্তীতে যা পুর্ব পাকিস্তান তার ভিত ও এরাই গড়েন। বঙ্গভঙ্গ এর প্রবল সমর্থক নবাব আহসানউল্লাহর হাতেই বলা চলে পরবর্তী ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পত্তন, এখনকার বুয়েটের আহসানউল্লা হলটা আসলে সে সময়ের প্রথম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (নিশ্চিত হতে পারছি না, কেউ আসলটা জানলে জানাবেন)। কংগ্রেসের মধ্যে সাম্প্রদায়িক আধিপত্যের বিষ যখন অবধারিতভাবেই একটা মুসলিম দল তৈরীর প্রেক্ষাপট তৈরী করতে যাচ্ছে তখন এই আহসান মঞ্জিলেই গঠিত হয় মুসলিম লীগ। সেই কক্ষটার সামনে এখনো লেখা আছে সেই ইতিহাস।
সেই সময় টুকটাক পড়ার ফাঁকে নবাব আহসানউল্লাহর ডায়েরির একটা পাতা পড়েছিলাম লেখা ছিল (কোট করছি না) আমার সামনে ভোগের ও ত্যাগের দুটো রাস্তাই খোলা ছিল, আমি ত্যাগের রাস্তাই বেছে নিলাম।
নবাব পরিবারের ত্যাগ আসলে আমাদের চোখে কতটুকু ত্যাগ সেটা তর্ক সাপেক্ষ। আর ধর্মভিত্তিক একটা দল তৈরী এক সময় অসাধারণ আইডিয়া মনে হলেও বা সে সময় সেটা অপরিহার্য মনে হলেও পরের অভিজ্ঞতা কিন্তু আমাদের সুখকর হয়নি- বরং তার যের বয়ে বেড়াচ্ছি এখনো। যাই হোক েসব ইতিহাসফাঁস বাদ দিলেও শুধু সে সময়ের এই দারুণ ঘটনাবহুল বাড়িটা আমি যতবার দেখি ভাল লাগে। মনে হয় একটা টাইম র‍্যাপ এর মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। সেদিনকার কিছু কুইক স্কেচ (পরে ডিজিটালি টুকটাক রঙ চড়ানো হয়েছে) দিয়ে দিলাম।
কেউ ঢাকা নিয়ে পড়তে চাইলে আমি একটা বইয়ের নাম আগে বলব- কিংবদন্তীর ঢাকা- নাজির হোসেন এর লেখা। আমি বেশ কয়েকবার পড়েছি বইটা।

August 08, 2015

শিকারী লুলেংঃ আমার লেখা গল্প

আমার একটা গলপ ছাপা হয়েছে এবারের কিশোর আলো পত্রিকায়। আমি গল্পকার না, তাহলে এর রহসয় কী? রহসয় খুবই সরল। এর রহসয় আমার আলসেমী। আসলে এটা একটা বড় কমিক্স এর থিম আকারে লিখেছিলাম। সেটা আর আঁকাই হচ্ছিলো না। কোন কিছু এভাবে থেমে থাকলে আমি যেটা করি সেটা হল যেচে কোথাও পাঠিয়তে নিজেই একটা ডেডলাইন নিয়ে নেই। এবারেও তাই হল। পাঠিয়ে দিলাম সিমু ভাইকে। মজা হল থিমটাই ওনার বেশ পছন্দ হয়ে গেলো। আমারও মাথায় আসলো এত কষ্ট করে আমার সব আইডিয়াই কমিক্স না করে ইলাস্ট্রেটেড গল্প আকারে নামিয়ে দি'। তারই ফল এই শিকারী লুলেং। আগ্রহীরা কিশোর আলো থেকে গল্পটা পড়ে নিতে পারেন।


August 05, 2015

International Journal of Comic art এ উন্মাদ নিয়ে আর্টিকেল


একটা দারুণ ব্যপার হয়েছে, আমেরিকা থেকে সম্পাদিত IJOCA জার্নাল এ উন্মাদ নিয়ে  একটা আরটিকেল বের হয়েছে! এবং আরো মজার ব্যাপার সেটা লিখেছি আমি :D . ঘটনাটা বলা যাক। IJOCA র সম্পাদক জন এ লেন্ট একবার বাংলাদেশে এসেছিলেন। আমি তখনো উন্মাদ এ ঢুকিনি। তো উনি এসে আগ্রহ প্রকাশ করেন এসিয়ান কার্টুন নিয়ে একটা কিছু একাডেমিক রাইট আপ দাঁড়া করানোর। তার ধারাবাহিকতায় ক'দিন আগে Asian Comics নামে একটা বই বের হয়। আমি সেটা খুঁজে পেতে দেখি সেখানে বাংলাদেশ নেই। সাথে সাথে তাঁকে ইমেইল করি যে কেন এটা হল- উত্তএ জানা গেলো সেই একই স্টোরি। আমাদের দেশের (আমি চাইলে সেটা কে জেনে নিতে পারি কিন্তু ভদ্রতা বশতঃ করলাম না) কোন একজন এর দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশের কার্টুন নিয়ে তথ্য পাঠানোর সেটা করা হয় নি। তাঁর উত্তরটা তুল দি'-
যাই হোক, এটার পরে আর কথা না বাড়িয়ে যা করার তাই করলাম। একটা একাডেমিক আর্টিকেল তৈরী করে আহসান ভাই কে দেখিয়ে সেটা পাঠিয়ে দিলাম, এবং সেটা ছাপাও হল। আমার জানামতে কোন আন্তর্জাতিক জার্নালে বাংলাদেশের কার্টুনের ওপরে এটাই এখনো একমাত্র একাডেমিক আর্টিকেল। কারো অন্য কোন সূত্র জানা থাকলে জানাবেন।

আসলে এই ধরনের আন্তর্জাতিক একাডেমিক রাইটিং আমাদের আরও বাড়াতে হবে। যে ক'টা দেশে গিয়েছি তাদের কার্টুনিস্টদের সাথে কথা বলে দেখেছি বাংলাদেশের মত 'গরিব' দেশেও কার্টুন হয় এটা তাঁরা জানেনই না। মন খারাপ লাগলেও কথা সত্যি। আসলে জানানোটাও একটা বড় কাজ।