May 02, 2020

স্টাডি: সজনিগার ভাই

রেফারেন্স ছিলেন সজনিগার ভাই।
এনাটমি স্টাডি করছি আবার, বেশ কিছু জায়গায় গোঁজামিল দিতাম সেগুলি ধরে ধরে করার চেষ্টা করছি। সদ্য প্রয়াত কার্টুন মাস্টার মর্ট ড্রেকার বলেছেন
- কিছু একটা নিয়ে ভেজাল লাগলে সেটা এড়িয়ো না। যেমন হাত আঁকতে সমস্যা তার মানে হাতকে পকেটে ঢুকিয়ে বা গায়ের পেছনে পাঠিয়ে দিয়ে কাজ সেরো না। ভেজালের জায়গাটা খুঁজে বের করো, এর পর সরাসরি আক্রমণ করো আঁকতে আঁকতে, স্টাডি করতে করতে সেটা শেষ করে ফেলো!
স্টাডি করছি, কিন্তু কেন জানি মনে হচ্ছে আরো প্যাঁচ লাগিয়ে ফেলছি। আরো জটিল হয়ে যাচ্ছে। তবে গুরুর কথা ফেলবো না, আক্রমণ চলবে। 

May 01, 2020

Ransomware Attack and MUKU Comics: মুকু কমিক্স

করোনার টাইম আউট পিরিয়ডে কাজ চলছে যাকে বলে- ধুমায়ে। তপবে মাঝে হঠাত এক আজব ব্যাপার ঘটে গেল, পিসির সব ড্রাইভের সব ফোলডারে দেখি একোটা এক্সটেনশন তৈরী হয়েছে .mpaj নামে, এবং কোন ফাইল বা ফোল্ডারই খুলছে না। ঘাঁটাঘাঁটি করে জানা গেল এর নাম র‍্যানসমওয়ার! মানে কিনা ভাইরাস দিয়ে অন্যের পিসির সব ডেটা লক করে টাকা চাওয়া ভাইরাস। এবং সব ফোল্ডারে রীতিমতন একটা মুক্তিপণের চিঠি। ভাষা এরকম-

হে পিসির মালিক, ভয় পাইও না, টেকা দিলেই তোমার সব কিছু ফিরায়ে দেয়া হইবে।


এইরকম আজব সমস্যায় আগে পড়ি নি। আমার বন্ধু বান্ধব যারা এইসব এথিক্যাল হ্যাকিং বা কম্পিউটার সিকিউরিটি নিয়ে কাজ করে তাদের জিজ্ঞেস করায় একজন (সজীব) বলল- আল্লা আল্লা কর। আরেকজন (আফতাব) বলল মুক্তিপণ দাবীকারীদের কে একটা পায়ে ধরা টাইপের ইমেইল দিতে, যে I poor cartoonist from Bangladesh, please give back my data, এরকম ছ্যাঁচড়া টাইপ। এতে নাকি অনেক সময় কাজ হয়। যা বুঝলাম, কিছু করার নাই আর। তবে আমার জরুরী ফাইল সব গুগল ড্রাইভ আর ড্রপবক্সে থাকে বলে রক্ষা। মুক্তিপণ চাহিয়া র‍্যানসমওয়ালাদের চিঠির কোন জবাব দিলাম না, (তারা আবার টাকা চায় বিটকয়েনে, সে আরেক রহস্যময় ব্যাপার।)। যাই হোক, এতে করে আমার কমিক্স মুকু, আর একটা এনিমেশন প্রজেক্টের প্রায় এক সপ্তাহের কাজ খালি নেই হয়ে গেছে, মানে আবার করতে হবে। তবে আমার এগুলিতে অভ্যাস আছে। এক কমিক্সের বই তিনবার করার পর সেটা হারিয়ে ফেলার অভিজ্ঞতাও আছে তাই কিছুই ভয় পাই না।  যা আছে কপালে ভেবে আবার শুরু করলাম, এবং দেখলাম আজব কিছু  পজিটিভ জিনিস ঘটেছে  যেগুলি আগে খেয়ালই করিনি-

১. কম্পিউটারের গিগা গিগা যেসব তথ্য খুব গুরুত্বপুর্ন ভাবতাম (আসলে ফোল্ডারগুলি না খুললে সেগুলি যে আছে তাই মনে পড়ে না এমনিতে) সেগুলি অত গুরুত্বপুর্ণ না। বরং সেগুলো ঘাঁটতে গেলে সময় নষ্ট হত অযথাই।

২. পিসি উদ্ধারে উইন্ডোজ নতুন করে দিতে গিয়ে কিভাবে পেন ড্রাইভ বুট করে তা শেখা হয়ে গেছে।

৩. পিসি গত চার বছরে অনেক স্লো হয়ে গিয়েছিলো এখন একেবারে দুর্দান্ত ফাস্ট ও নতুন সব আপডেটেড সফটওয়ার ইন্সটল করা হয়েছে।

৪। এবং ফাইনালি- যেসব কাজ দ্বিতীয়বার করছি তা আগের চেয়ে অনেক ভালো হচ্ছে, মুকুর গল্পের একোটা রাম গিট্টু অনায়াসেই ছুটে গেছে।

ভাবছি র‍্যানসমওয়ারের লোকগুলোকে মেইল পাঠাবো- thank you for locking my data- big help.

নতুন করে আঁকা মুকুর ৩৫ নম্বর পেইজ

পেইজ ৩৬

April 30, 2020

Money Heist Berlin Caricature

AKANTIS এর ইউটিউব চ্যানেলে টানা এক বছর প্রতি সপ্তাহে ড্রয়িং টিউটরিয়াল আপ করেছি। ব্যাপারটা খুব একোটা সহজ না। কমিটমেন্ট অন্যের কাছে করলে সেটা হয় নিজের কাছে করলে সেটা রাখা কঠিন। তারপরেও দেখতে দেখতে জমে উঠেছে চ্যানেলটা। আর যত না শিখাচ্ছি, শেখা হচ্ছে তার চেয়ে বেশি।

সেদিন একোটা গিভ এওয়ে মানে কিনা স্বত্ত্ব ত্যাগ করে দান করা হবে এই মর্মে একটা কালারিং কন্টেস্ট ছাড়া হয়েছিল এখানে। দূর্দান্ত কিছু কাজ জমা পোরেছে যার বেশিরভাগই আমার চেয়ে ভাল কাজ! তাই ফিডব্যাক দূরে থাক জলদি বসে গিভ এওয়ে ক্যারিকেচার করা হল। সবচেয়ে ভাল এন্ট্রি ছিলো সালেহিন নাহীন নামের একজন যাঁর খুব পছন্দের চরিত্র মানি হেইস্ট সিরিজের বার্লিন ক্যারেক্টারটি। সেটার একটা ক্যারিকেচার চাই। সমস্যা হল আরো অনেক পপুলার সিরিজের মতি এটাও আমি দেখি নাই। তাই গুগল টুগল করে একটা জোড়াতালি আইডিয়া করে করে দিলাম এটা। 

April 29, 2020

Study


Sean Galloway নামের আঁকিয়ের কাজ স্টাডি করছি। কী অনায়াসে সহজ করে এনাটমিকে গ্রুপ করে আঁকেন। খেয়াল করলাম মিগনোলা বা ইনি আরো অনেকের মতই ওপরের পেশীবহুল অংশটা আরো ওজনদার বানাতে নিচের অংশ অনেকোটাই সরু করে ফেলেন, আসলে পুরোটাই ফর্মের কন্ট্রাস্ট সবসময়।
তাঁর কাজ দেখতে পারেন এখানে https://www.deviantart.com/cheeks-74
এখানে https://www.instagram.com/seangallowayart/?hl=en
আর এখানে http://mastersofanatomy.com/sean-cheeks-galloway

April 25, 2020

মানুষ নামের ভাইরাস


মানুষ নামের ভাইরাসটিকে প্রকৃতি সম্প্রতি তার ছোট্ট একটা টোটকা দাওয়াই দিয়ে ঘরে বসিয়ে রেখেছে। চারিদিকে আড়মোড়া ভাঙছে অন্যেরা। নিজেদের মহাবিশ্বের কেন্দ্র মনে করা মানুষেরা হঠাৎ টের পাচ্ছি আমাদের ছাড়া কারো কোন সমস্যা তো হচ্ছেই না বরং তারা যেন হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে। বাতাস পরিষ্কার হয়ে যাছে। পশুপাখিরা আগের চাইতে নির্ভয়ে এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করছে। সেদিন দেখলাম দক্ষিণ আফ্রিকার পিচ ঢালা রাস্তায় এক দল সিংহ তাদের বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে আরামে ছায়ার মধ্যে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে।

করোনা ভাইরাসের এই সময়টাকে আমি মনে করি মানুষের জন্যে তার আত্মার আয়নায় তাকানোর সময়। হঠাত করে আমরা টের পাচ্ছি যে আমরা নিজেরা বেশ কিছু কাল্পনিক নিয়ম টিয়ম বানিয়ে বসে আছি। কাজ করতে হবে, ছুটতে হবে, প্রডাকশন প্রফিট, শেয়ার বাজার, ভোগ লালসা, সম্পত্তি, আরো চাই, আরো চাই, দিল মাঙ্গে মোর- ইত্যাদি। বন্ধু বান্ধব পরিবার পরিজন ইত্যাদি ছাপিয়ে আমাদের মূল সময় আমরা দেই এমন কিছু কাজে যা- হঠাৎ করে টের পাচ্ছি- অত জরুরী না। অনেক কিছু ছাড়াও এখন আমাদের চলে যাচ্ছে। চলে যায়।

আসলে করোনা ভাইরাসের এই সময়টা আমরা যারা পেয়েছি তারা যথেষ্ট ভাগ্যবান, কারণ যারা মারা যাব তারা তো যাচ্ছি, কিন্তু যারা বেঁচে থাকবো বা আছি তারা কিন্তু দূর্লভ একটা সময় পেয়েছি। সাধারণত মৃত্যু কাছাকাছি এলে শেষ বয়সে মানুষের এই সময়টা আসে যখন আসলে সময় বলে আর কিছু থাকে না, কাছের মানুষ অনেকেই গত হয়ে যায়, কাজের শক্তি থাকে না। কী কী ভুল করেছি তা মাথায় আসে বটে কিন্তু কিছু করার থাকে না। এখন কিন্তু তা না। আমরা অনেকেই (বিশেষ করে তরুণরা)  একটা বড় সময় পাছি এসব নিয়ে ভাবার। মানুষের আসলে ঠিক কতটুকু কী প্রয়োজন তা বোঝার সময় এটা।

এই একটা সময়ে আমরা এটাও টের পেলাম যে পৃথিবীর মানুষ সব আসলে একই ধরনের। যাদের আমরা 'উন্নত'  মনে করি তারাও আসলে অত উন্নত না। তারাও গুজবে বিশ্বাস করে, তারাও আমাদের মতই দায়িত্বহীন। সেখানেও অথর্ব সরকার আর সমন্বয়হীনতা আছে। তাই আমাদের স্বপ্নরাজ্য দেশগুলি থেকে আমরা যতটা দূরে বলে আমাদের ভাবি বাস্তবতা তা না। সবার নিজের মত করে নিজস্ব অনেক সমস্যা আছে। বরং বাংলাদেশের মানুষ এখনো অনেকটাই মানবিক, ঘরোয়া ধরনের। আর এ সময়ে আমাদের সরকারের আন্তরিকতা মানুষকে যথেষ্টই ছুঁয়ে দিচ্ছে। সময় সুযোগ মিললে তাই নিজের দেশটার ভালোর জন্যে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার এটা একটা দারুণ অনুপ্রেরণা হতে পারে।

ব্যক্তিগতভাবে আমার নিজের রুটিন খুব একটা পালটায় নি। সন্ধ্যায় পত্রিকা অফিসে যাওয়া বাদে বাকি সময়টা আমি এমনিতেও বাসাতেই থাকি। অনেকেই (বিশেষ করে 'ছেলে' দের) দেখলাম ঘরের কাজ করতে করতে নাকে চোখে পানিতে একাকার। এটাও একটা শিক্ষা যে ঘরের কাজ করা উচিত সবারই। এবং সেটা অন্যকে 'সাহায্য' করার জন্যে না। নিজের ঘরের কাজ নিজে করলে সেটাকে সাহায্য বলে না। সেটাকে বলে কাজ। 

মাঝে মাঝেই ফোনে (এখন তো আবার ভিডিও কলের যুগ) কথা হয় আত্মীয় স্বজন, বন্ধুদের সাথে, যাকে দুই চোখে দেখতে পারিনা তাকেও মিস করি, মনে হয় আহা এর সাথে যদি আর দেখা না হয়!  

ফোন দেই আমার জীবনের গুরু আহসান ভাইকে (কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব), উন্মাদ এই চান্সে ডিজিটাল করা যায় কি না তা নিয়ে চারশ ছত্রিশতমবার আলোচনা চলে, মিরপুরের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ এলাকার একটা হলেও মানুষজন সেখানে পিকনিকের আমেজে ঘোরাঘুরি করছে বলেন বস।

সেদিন হঠাৎ ফোন করলেন ধ্রুবদা' (ধ্রুব এষ)। পল্টনের ফ্ল্যাটে একেবারে একা আটকা পড়ে আছেন, সারাদিন জানালার পাশে বসে থাকেন। এই মানুষটা খুবই অন্য রকম, আমার কাছে মনে হয় একটা উড়ে যেতে থাকা আত্মা হঠাৎ মাটিতে থাকা একটা দেহে আশ্রয় নিয়েছে। তার আসলে এখানে এই পৃথিবীতে থাকারই কথা না। মহামারীর এই সময়ে চারিদিকে মানুষের ভাবলেশহীন ঘোরাঘুরি দেখে মাঝে মাঝে আঁতকে ওঠেন, খবর টবর দেখে আবার ঢুকে যান নিজের জগতে।

খবর যেখানে পণ্য সেখানে হয়েছে আরেক বিপদ। না চাইলেও খবর আর তার লেজ ধরে 'টবর' (ফেইক নিউজ), এবং তার সাথে ফোঁড়া হিসেবে অকালপক্ক গাঁড়লদের 'কমেন্ট' মানে কে কী বলল না বললো ইত্যাদি নিয়ে অকারণ মাথা গরম করে ঘুরছে সবাই। সত্যি বলতে এইসব যা নিয়ে আমরা মাথা গরম করছি তার নিরানব্বই ভাগেরই আমার জীবনে কোন ভূমিকা নেই, আমারও সেসব নিয়ে কিছু করার নেই। সবকিছুকেই একটা ভয়ানক সংকট হিসেবে উপস্থাপন করে মানুষকে বিপন্ন বোধ করিয়ে পণ্য বিক্রির মত এই খবর বিক্রি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে নষ্ট করছে। এত তথ্য আমার জানতে হবে কেন? যেটা প্রয়োজন নেই সেটাও আমি জানছি আর মাথা গরম করছি। এরকম কালবৈশাখী ঝড়ে উড়ে আসা পশলা বৃষ্টির মত তথ্যের বৃষ্টি মাথা নষ্ট করে দেবার জন্যে যথেষ্ট। যাচাই করার মত কোন ছাতা নেই মাথার ওপর। বয়স্কদের জন্যে এই ব্যাপারটা আরো ভয়ানক। হালে তাঁদের হাতেও চলে এসেছে 'স্মার্ট' ফোন আর সেই সাথে ফেইসবুক। সেখানে কোনটা আসলেই ঘটেছে আর কোনটা মিথ্যা সেটা যাচাই করা তাদের জন্যে আরো কঠিন। ফলে শেষ বয়সে তাঁদের একটা অকারণ উদ্বেগ বেড়ে যাচ্ছে। এর হাত থেকে রেহাই পাবার উপায় কি কে জানে! গুজব ভাইরাস আসল ভাইরাসের চাইতে খারাপ বস্তু। সেই ভাইরাসকেও থামাবার উপায় খুঁজতে হবে আমাদের।

সব শেষে প্রবল আতংকের এই সময়টাতেও আমি আমাদের জন্যে পজিটিভ অনেক কিছু দেখছি। কিছু মানুষের যদি কিছু উপলব্ধি হয়, যাদি তারা বোঝে মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য টাকা বানানোই নয়, সম্পত্তি বানানোও নয়। জীবনটা ছোট, আমরা যা ভাবি তার চাইতেও অনেক ছোট। সেই সময়টা প্রিয় মানুষদের নিয়ে ভালো থাকাটাই আসল। প্রকৃতির অন্যান্য প্রাণিদের মতই আমরাও আরেকটা প্রাণি ছাড়া আর কিছুই না। অন্য প্রাণিদের বা প্রকৃতির কোন কিছুকেই নষ্ট করার বা কষ্ট দেবার কোন অধিকার আমাদের নেই। মানুষের প্রয়োজন খুবই সীমিত। অনেক কম নিয়েও ভালভাবেই থাকা যায়। অন্যের সাথে তুলনা না করে নিজের সর্বোচ্চ ভালটা চেষ্টা করে থাকলেই একটা সুখী জীবন পাওয়া যায়। এই সব কিছুর কিছুটাও যদি আমাদের বোধে আসে তো সেটা এই সময়টার জন্যে। হয়ত একটা সময় আমরা এই আপাত অমানিশার সময়টকে তার জন্যে ধন্যবাদই জানাবো।

March 24, 2020

করোনা টাইমে আর্টলাইফ বাকেট লিস্ট

করোনা সংক্রমণের সময়ে প্রায় সবাই বাসায় আটকা। একমাত্র ক্রিয়েটিভ একটা ছোট গ্রুপ ছাড়া বাকি সবাই কি করবেন খুঁজে পাচ্ছেন না, আমি মনে করি হাবিজাবি ফেইক, ক্লিকবেইট বিভিন্ন সব খবর স্ক্রল করে পড়ে পড়ে আর আতঙ্কিত হবার চাইতে বরং এইবেলা কি কী করা যায় এই সময়ে সেটা লিস্টি করে একে একে করে ফেলা বরং কাজের। প্রথমেই করোনার এই সময়ে একমাত্র মাথা ঠণ্ডা রাখার গ্রাফটা কি হবে তা তুলে দি' 

একটা বিপদ (এখন যেমন করোনা এটাক) ঘটেছে> এখানে কি আপনার কিছু করার আছে? 
হ্যাঁ> তাহলে সেটা করুন, ও অন্যদের করতে উৎসাহিত করুন। আমাদের আর্টিস্টদের যেমন প্রচুর সতর্কতামুলক কার্টুন, ড্রয়িং, পোস্টার করার আছে। তবে এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য দেয়াটা খুবই জরুরী। পৃথিবীর সকলের কাছে স্বীকৃত সর্স ব্যবহার করুন এ ক্ষেত্রে।
আরেকট টিপস: অন্য কেউ কেন আমার মত করছে না এটা নিয়ে বিচার করতে বসবেন না, এতে কারোরই কোন লাভ নেই।

না> তাহলে সেটা মাথায় না নিয়ে নিজের কাজ করুন, অযথা সেই নেগেটিভ সংবাদটি ছড়িয়ে দিয়ে আর অসংখ্য মানুষ যাদের আপনার 
মতই এখানে কিছু করার নাই তাদের আরো আতঙ্কিত করবেন না।



আমি ধরে নিচ্ছি আমাদের যা করার আছে তা আমরা করছি, আমরা ঘরে বসে থাকছি, বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থারকথামত নিয়ম মেনে চলছি। কিন্তু তারপর? তারপর আমার হাতে অফুরন্ত সময়। তাহলে এখন কী  করার আছে? আমি আঁকান্তিস গ্রুপে আজ একটা প্রশ্ন পস্ট করেছি, কার জীবনের আর্ট গোল কী? তিনটি পয়েন্টে তিনটি আর্ট গোল বলেছেন অনেকেই। দারুণ দারুন সব পয়েন্ট। বেশ কিছু তার মধ্যে বেশ কমন। তবে অনেকেই গোল বলতে একটু ওপেন আইডিয়া বলেছেন। যেমন- অনেক ভাল আঁকতে চাই। এটা আসলে গোল না, কারণ এটার শেষ নেই। গোল হবে একটা নির্দিষ্ট কিছু, একটা মাইল ফলক।
যেমন, আমি একটা এনিমশন সিনেমা বানাবো। আমি আফ্রিকা ভ্রমণ করে এসে একটা বই লিখব।
মানে দিন শেষে একটা প্রডাক্ট হতে হবে। এখন যাঁরা এমন প্রডাক্ট করবেন বলেছেন তাঁরা কিন্তু এই গোলটা অনেক দিন থেকেই বুকে পুষে আছেন, তাহলে প্রশ্ন হল কেন করা হচ্ছে না?

আমি নিজে সব জেনে বসে আছি আর আমার সব গোল পুরণ হয়ে গেছে এমন না, তবে এ পর্যন্ত আমি বেশ কিছু প্ল্যান নিয়েছি, এবং এ পর্যন্ত তার সব ক'টাই করেছি। সুতরাং আমি আমার প্রসেসটা শেয়ার করি। যে তিনটা মূল কারণে আপনার বাকেট লিস্ট শুরু করা হচ্ছে না তা এইরকম-

১. এখন তো পারিনা। পরে আরো ভাল করে করবো।
এটা অনেকটা- আমি যেহেতু সাঁতার পারি না, তাই পানিতে নামা ঠিক হবেনা, এই ধরনের বোকামো। এখন পারিনা, এটা বোঝা জরুরী। কিন্তু পরে নিজে নিজে সেটা পেরে যাবেন না। মনে করুন এনাটমি শিখবেন, তাহলে আজকে শুরু করুন! একটা খাতা নিন, যে কোন পছন্দের একটা সোর্স (ভিডিও বা প্রিন্ট বই) থেকে শিখুন। বিভিন্ন সোর্স থেকে একেকবার একেক রকম করে না শিখে একটা ফ্লো ফলো করুন। এক মাস এভাবে করুন, আপনার উন্নতি হবেই। এভাবে এগোতে থাকুন।

২. একবারেই সব করে ফাটায়ে ফেলতে হবে! সবাই চিনবে আমাকে!
এটা খুবই খুবই খুবই কমন একটা হাস্যকর পয়েন্ট। আমি একজন বেশ ভাল স্কিল্ড আঁকিয়েকে চিনি যিনি গত বছর পনের খালি আরো ভালো করে করবো ভেবে ভেবে তার কমিক্স আঁকেই নাই। এমনকি আমি যখন প্রথম আমার কমিক্স আঁকা শুরু করি সেটা দেখে সে খুবই বিরক্ত ছিলো যে এত কম স্কিল নিয়ে এরকম 'ট্র্যাশ' বের করার মানে নেই, একটা বিপ্লব ঘটাতে হবে, একটা চেইঞ্জ আনতে হবে। আজ ৭ বছর পর আমাদের ঢাকা কমিক্সের কমিক্স হয়েছে প্রায় ৮০ টা। এবং তার হাত ধরে ধরে বাংলাদেশে একটা কমিক্স কালচার শুরু হয়ে গেছে । কিন্তু সেই আঁকিয়ে এখনও 'ফাটিয়ে' ফেলার স্বপ্নেই আছে। এ ধরনের মানুষেরা শেষ বয়সে হয়ে যায় খ্যাটখ্যাটা বুড়ো। সবার ওপর বিরক্ত একটা মানুষ। এই দেশে কিছু হবে না, সবাই খারাপ-এরকম বুলি তাদের মুখের ডগায় থাকে সবসময়। নিজেকে এই করুণ জায়গায় না দেখতে চাইলে এই মূহুর্তে যা জানেন তার সর্বোচ্চ- আই রিপিট, এই মূহুর্তে যা জানেন তার সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ শুরু করে দিন। প্রতিদিন আগের থেকে ভাল করুন। ফাটিয়ে ফেলার চিন্তা সরান। ট্রেন্ডি কাজ না করে নিজের সবচেয়ে আনন্দের কাজটা করুন। কারো পছন্দ হলে আপনি বিখ্যাত হবেন, কারো পছন্দ না হলে বিখ্যাত হবেন না কিন্তু নিজের আনন্দটা থাকবে। সবার আমাকে চিনতে হবে এটা যদি আপনার গোল হয় তবে আসলে সবাই একসময় চিনবে ঠিকই কিন্তু কেন চিনবে সেটা যারা চেনে তারাও বুঝবে না। এবং এই খ্যাতি উদ্বায়ী। কাজ থাকতে হবে বাজারে। 

৩. অন্যরা তো করে ফেললো
অন্যরা করে ফেলছে অন্যদের কাজ, আপনি করবেন আপনার কাজ। একটু পর পর আর কে কী করল সেটা দেখে দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলা। বেস্ট সাজেশন হবে অন্যদের কাজ যদি আপনাকে হতাশ করে তবে না দেখা! আর যদি কার কাজ আমাকে উৎসাহিত করে যে ওরকম ভালো করবো তবে দেখতে পারেন। অনেকেই আছে যারা এত বেশী অন্যের কাজ দেখে যে নিজে শেখার সময়ই বের করতে পারে না। মনে রাখবেন অন্য সবাই সব কাজ করে ফেলতে পারে কিন্তু পুরো পৃথিবীর কাছে একটা জিনিস নেই যেটা আপনার মধ্যে আছে, সেটা হলেন আপনি নিজে!

আপনি আঁকবেন আপনার মত। আপনি বলবেন আপনার মত। এ ক্ষেত্রে একটা সাজেশন হল নিজেকে আপনি যেখানে দেখতে চান, মনে করুন দশ বছর পরে আমি এমন একজন হব। আর গোছানো, আরো নিয়ম মানা, আরো হেলদি, আর সোশ্যাল, পোশাকে আশাকে সচেতন- আমি বিশ্বাস করি সবারই  মনের মধ্যে এরকম একতা কিছু আছে নিজেকে নিয়ে, তাহলে মনে করুন ওই দশ বছর পরের ক্যারেক্টারটার একটা স্ক্রিপ্ট লিখে আপনার হাতে ধরিয়ে দিলাম আজ, বললাম আপনি ওই চরিত্রে এবারে অভিনয় করুন! দেখন দিন বিশেক এভাবে চলে। আপনি নিজের ভবিষ্যত পার্সোনালিটির ভুমিকায় এখন থেকে অভিনয় করা শুরু করে দিন। এটা খুবই দ্রুত আপনাকে একটা অন্য মাত্রায় নিয়ে যাবে, বিশ্বাস না করলে শুরু করে দেখুন। 

যাই হোক, করোনা সময়ে একটা কাজ চালু করতে চাই, যে যার নিজের একটা আর্ট গোল নিয়ে কাজ শুরু করুন। শর্ত হল
১. টানা ২৪ দিন করতে  হবে
২. প্রতিদিন আগের দিনের চাইতে একটু ভাল করতে হবে/ একটু বেশী শিখতে হবে
৩. পোস্ট করুন আঁকান্তিসে #Myartgoal লিখে। 
তাহলে শুরু হোক!


March 22, 2020

করোনা সতর্কতা কার্টুন: Behind the scene


সারা পৃথিবী এখন একটা শব্দতে আটকে আছে, 'করোনা'।
এই নামের ভাইরাসটি ইতিমধ্যে দশ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটিয়েছে, আর অবিশ্বাস্য দ্রুত গতিতে সেটা ছড়িয়ে পড়ছে পুরো পৃথিবীতে। এর থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাবার একমাত্র উপায় হল একজনের সাথে আরেকজনের ছোঁয়া এড়িয়ে চলা। সেটা করতে গিয়ে সবথেকে নিরাপদ হল নিজেদের বাসায় আটকে ফেলা। যে মানুষটা সহসা বাসায় সময় দিতে পারেনি, কাজের জন্যে পরিবারের অনেকের সাথে দেখাও হত না, সেও এখন বাসায় আটকা। এ ছাড়া আর খুব বেশি কিছু মানুষের করার নেই, কারণ এই লেখাটা লেখা পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোন কার্যকর ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয় নি। 

আমার এমনিতেই বেশ ক'দিন ধরে সিজনাল ফ্লু চলছিলো, এমন সময় এই ভাইরাস ভাইরাল হওয়াতে বাসায় নিজেকে আটকে ফেললাম বাসায়, যদিও দুটো বড় প্রজেক্ট চলছে সমান্তরালে, তারপরেও যেহেতু সারাদিনই বাসায় আছি তাই কিছু এক্সট্রা সময় বের করাই যায়। ক'দিন টানা কিছু করোনা সতর্কতামূলক কার্টুন এঁকে ফেললাম। প্রথম আলোতে তা ছাপাও হল। সেই ড্রয়িংগুলি কিভাবে করা হল তা ছবি তুলে রেখেছিলাম, এবারে এখানে তুলে দিচ্ছি।

যে কোন ক্যারেক্টার ড্রাফট আমি এখনো খাতায় করি। এটা আমার বেশ প্রিয় সাশ্রয়ী নিউজপ্রিন্ট খাতা,
আর সাথে আছে পাইলট কম্পানির 6B Croquis লিড পেন্সিল, তবে যে কোন পেন্সিলেই আঁকা যায়।

রাফ ক্যারেক্টার আইডিয়া। করোনা সতর্কতা মেসেজগুলি ছোটদের মাঝে কিছু বাচ্চা সুপারহিরোদের দিয়ে বলানোর আইডিয়া।
সব নাম ও ক্যারেক্টার ও নাম শেষ পর্যন্ত যদিও এরকম ছিলো না।

মোটামুটি আইডিয়া নিশ্চিত হবার পরে সেই হাতে আঁকা ড্রাফট পৃষ্ঠাতা স্ক্যান করা চলছে। রেজোলিউশন ৩০০ তে রাখলেই চলছে।

আমার সবচেয়ে কম ব্যবহৃত ড্রয়িং ডিভাইস সিনটিক। এটায় কিছুক্ষণ আঁকলেই আমার কাঁধের ব্যাথাটা বাড়ে তাই কম আঁকা হয়। এমনিতে ভাল জিনিস।

ফাঁকতালে কাজের জায়গাটা দেখাই। মূল কাজের টেবিল দূরে দেখা যাচ্ছে।

স্ক্যান করা পেন্সিল রাফ সরাসরি এবারে ক্লিপ স্টুডিওতে খুলে নিলাম।

একটা ক্যারেক্টার আলাদা করে লেয়ারে নিয়ে সেটার ওপাসিটি কমিয়ে নিলাম।

এবারে সরাসরি ইংক না করে আমি আরেকটা লেয়ারে কিছু ঠিকঠাক করে একটা ক্লিন পেন্সিল করে নেই। নইলে পরে প্যাঁচ লাগে।

পছন্দের পেনে ইংক।

ব্যস, এবারে ইচ্ছামত কালার।

সব ক্যারেক্টার।

প্রথম আলোর গোল্লাছুট পাতায় মাহফুজ রহমানের দারুণ ছড়ার সাথে মিলে যেভাবে ছাপা হল পরে।

ক্যারেক্টার ডিজাইনগুলি ইচ্ছে করেই খুব সিম্পল করে করার কারণ হল সদ্য শেখা এনিমশনের কিছু জ্ঞান ফলানোর ইচ্ছে।
MOHO নামের সফটওয়ারে নিয়ে একটা ক্যারেক্টার এবারে ট্রেস করছি ভেক্টর লেয়ারে। চাইলে র‍্যাস্টারেও করা যায় যদিও।

BONE RIGGING

টুকটাক ভয়েস ও এনিমশন যোগ করার পর এক্সপোর্টিং।

বেড়াছেড়া ভাবে যা দাঁড়াল তা এই।


কাজ যেমনই হোক করে বেশ আনন্দ পেয়েছি, আর তার চেয়েও বেশি ভাল লেগেছে যে এই সব ম্যাটেরিয়াল আপ করার পর বেশ কিছু সংগঠন নিজ যোগাযোগ করেছে মূল ফাইলগুলির জন্যে। সেগুলি প্রিন্ট করে বিলানোর জন্যে। এরকম আরো কেউ থেকে থাকলে তাঁদের জন্যে মূল ফাইলগুলি এখানে তুলে দিলাম- 


সবাই সাবধানে থাকুন, সতর্ক থাকুন, ভাল থাকুন।

জাপান টাউনে

 মিতু আর অনু ছাড়া আজ ১১ দিন। ইন ফ্যাক্ট একেবারে একা বিদেশে পড়ে আছি সেটাও এই প্রথমবার। কমিকস এর মাস্টার্স প্রায় শেষ পর্যায়ে। ক্যালিফোর্নিয়া ক...