February 03, 2015

হাজার প্রাণের চিৎকার।

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির সাথে পরিচিতি নন এমন কেউ হয়ত আমাদের দেশে এখন নেই। সাভারের এই প্লাজা কাঠামোগত ত্রুটির জন্যে ধ্বসে পড়ে এক হাজারের ওপরে মানুষ মারা যায়! এবং ভয়ানক কথা হল তার আগেরদিন ওই দালানের ফাটল দেখে অনেকেই আশংকা করেছিলো যে এই দালান ধ্বসে যেতে পারে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিল্ডিং এর মালিক ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠী সেটা খালি করতে দেয় নি। তারা বলেছিলো কোন সমস্যা হবে না। কিন্তু সমস্যা হয়ছে। স্মরণকালের সবচেয়ে বেশী সমস্যাই হয়েছে, জীবন্ত চাপা পড়ে মূলত মারা গেছে হতদরিদ্র গার্মেন্ট কর্মীরা। আমার সৌভাগ্য হোক দূর্ভাগ্য হোক ওই দূর্যোগের উদ্ধারকর্মী হিসেবে এক রাত দুইদিন কাজ করার সুযোগ হয়ছিলো। আমার আপন খালাত ভাইয়ের দোকান ছিলো ওই মার্কেটেই। ঘটনাক্রমে সে দূর্ঘটনার আগের মাসেই সেই দোকান অন্য কাউকে বুঝিয়ে দিয়েছিল। তার কপাল ভাল- কিন্তু কপাল খারাপ ছিলো অগুনতি মানুষের। আমি বরাবরের শক্ত নার্ভের মানুষ বলে নিজেকে মনে করি। তবে এইবার- ওই বিভিষীকা থেকে ফিরে প্রায় ১৫ দিন আমি কোন কাজ করতে পারিনি। লাশের পঁচা গন্ধ আর কাটা হাত পা দান্তের ইনফার্নোর বর্ননার চেয়ে ভয়ানক। আমি সেই স্মৃতি মনে চেপে এখনো আছি- কখনো সাহস হলে সেটা বলা যাবে। সেই উদ্ধার কাজের ফাঁকে এসে কিছু কার্টুন এঁকেছিলাম, আমি একা না, সশরীরে আর কার্টুনিস্ট না যেতে পারলেও কলমে তাদের মূল কাজটা কিন্তু তারা ঠিকই করেছিলো। তার মধ্যে অভাবনীয় সাড়া পড়েছিলো কার্টুনিস্ট মিতু'র একটা কাজ এ- একটা জিন্স এর প্যান্ট এর প্রাইস ট্যাগ এ দামের জায়গায় কোন সংখ্যার বদলে কিছু রক্তের ছোপ। ব্যস- এটা ভাইরাল হয়ে গেলো। এমনকী সেটা স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করার কারণে গার্মেন্টস মালিকদের কেউ কেউ শেয়ারকারী সহ স্বয়ং কার্টুনিস্টকেও হুমকী দিতে লাগলো। আমি মনে করি এই কার্টুনটি ঘটনাক্রমে বাংলাদেশের কার্টুন ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। 

যাই হোক, ক'দিন আগে সংহতি প্রকাশনা থেকে 'হাজার প্রাণের চিৎকার' নামে রানা প্লাজা ট্রাজেডি নিয়ে একটি ডকুমেন্টেশন সংকলন করা হয়েছে, সেখান থেকে একটা দাওয়াত পেলাম, মিতু এবং আমার একটি করে এই সংক্রান্ত কার্টুন সেখানে নেয়া হয়েছে। (জিন্স এর কার্টুনটাই তার মিস করে গেছে কেন জানি)। এ ব্যাপারে জোনায়েদ সাকী ভাই আর তাসলিমা আখতার কে ধন্যবাদ।

প্রকাশনা উৎসবে যেতে না পারলেও পরে বইটা ঠিকই হাতে পেলাম। দারুণ কাজ,সেখানে একটা হলেও এমন কাজ থাকাতে বেশ ভাল লাগছে। তবে রানা প্লাজার লাশের গন্ধ নাক থেকে মুছতে আমাকে আরো কাজ করতে হবে। ওই দুলে ওঠা দালানে দাঁড়ানো অবস্থায় এক রাতে আমি কঠিন কিছু প্রতিজ্ঞা করেছি।






সেই জিন্স এর কার্টুনটা এখানে দিয়ে দিলাম

No comments:

Post a Comment