March 08, 2018

জাফর ইকবাল স্যার ও আমাদের মসজিদের ঈমামের বয়ান



টেক্সট বইয়ের কাজ চলছে। জাফর ইকবাল স্যার আর ইয়াসমিন ম্যাডামের সাথে বলতে গেলে প্রায়দিনই তাঁদের বনানীর বাসায় বসে থাকি। সেই সাথে দুই বেলা নিয়মিত তাঁদের অন্ন ধ্বংস করে যাচ্ছি আমি আর মিতু। দিন দিন স্যারের নতুন করে ফ্যান হয়ে যাচ্ছি। এত পজিটিভ মানুষ যে হতে পারে আমার ধারনা ছিল না। কারো সম্পর্কেই তাঁর কোন বাজে মন্তব্য নেই, ভয়ানক বিরক্তিকর মানুষকেও হাসিমুখে ডিল করেন তিনি। এইরকম এক দিন নিজের বাসা থেকে আমাদের এলাকার মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজে গেছি। বাংলা বয়ান চলছে, অল্প বয়সি এক নতুন ঈমাম, কোরবানীর ঈদ সামনে রেখে চামড়ার ভাগাভাগি বিষয়ক কোন আলোচনা করছেন। এমন সময় হঠাত খেয়াল করলাম তিনি উত্তেজিত চিতকার শুরু করেছেন। সেটা এমন

- ‘আর এখন? এখন আমাদের দেশের নাস্তিক মুরতাদেরা কোরবানীর বিরুদ্ধে কথা বলে!’

 আমি উৎকর্ন হলাম। এমন বিরাট সংবাদ আমি সংবাদপত্রে কাজ করেও মিস করে গেলাম? শুনি কী বলে। তারপরের কথা হল-

এই দেশের অনেক বড় শিক্ষিত, ঢাকা ভার্সিটির বড় পরফেসর জাফর ইকবাল, সে বলেছে গরু নাকিমানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ! এই সব নাস্তিকদের...

আমি হতভম্ব হয়ে ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করলাম। এই মূর্খ লোকটা মুহম্মদ জাফর ইকবাল যে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান সেটাও জানে না তা বোঝা গেল কিন্তু পরের অংশটা কোত্থেকে এল? গত - মাস স্যারের সাথে সাথেই ছিলাম, গরু বিষয়ক কোন কথা উনি কোথাও বলেছেন বলে শুনি নাই। একটু পরেই বুঝতে পারলাম, কারণ ঈমাম বলছেন-

প্রথম আলো পত্রিকায় এই জাফর ইকবাল লিখেছেন গরুকে কোরবানী দেয়া যাবে না, সে মানুষের চেয়ে সেরা জানোয়ার

ঘটনাটা হল কিশোর আলো তে শাহরিয়ার ভাইয়ের একটা কার্টুন কে পেঁচিয়ে ওইরকম একটা কিছু বানানোর চেষ্টা হয়েছিলো। যেখানে একটা ভিন গ্রহে মানুষ যায় সেই গ্রহে গরুর মত দেখতে প্রানীরাই সব চালায়। তারা বলে মানুষ তো কোন ছাড় তারাই বরং সেরা। কোরবানির আগে এটা থেকে দুইয়ে দুইয়ে পাঁচ করার চেষ্টা। কিন্তু সেই চেষ্টাটা করেছে একটা অখ্যাত পোর্টাল, আরো অসংখ্য আগড়ম বাগড়ম ভুয়া নিউজ বানানোর মত পোর্টালের এই নিউজে আনিসুল হক জাফর ইকবাল স্যারের হাস্যোজ্জ্বল ছবি নিচে লেখা জাফর ইকবালের পত্রিকায় গরুকে সৃষ্টির সেরা জীব বলা। ক্লিক করে দেখা যাবে আসল ঘটনা এমন কিছুই না। জাফর স্যার এই পত্রিকার উপদেষ্টা ছিলেন, সুতরাং এটা তাঁর পত্রিকা, আর যে যা লিখছে এটা আসলে তাঁরই কথা- এভাবেই দূর্বল ব্যাখ্যার চেষ্টা সেখানে।

আমার মাথায় মুহূর্তে যেটা এল এই অল্পবয়সী ঈমাম সাহেবের তারমানে অবশ্যই ফেইসবুক একাউন্ট আছে, এবং সেখানে সে দিনের একটা বড় সময় কাটায়। কারণ এই ফেইক নিউজটা ওই পোর্টাল ছাড়া আর কোথাও আসেনি, আর সেটা শেয়ার হয়েছে শুধু ফেইসবুকে। আর সেটায় ক্লিক করে সে ডিটেইল পড়েনি ক্লিক বেইট লিংকটার।  কী ভয়ানক! আর এখন মসজিদ ভর্তি তিনশো মানুষ যাদের অনেকেই নিরীহি মুসলিম। অনেকে সাধারণ ভ্যানওয়ালা, গার্মেন্ট কর্মী তারা জানলো জাফর ইকবাল একজন ভয়ানক খারাপ ইসলাম বিদ্বেষী।

সময় আমি আমার চরিত্রের বাইরে গিয়ে একটা কাজ করলাম, ঈমামের কথার মাঝে হাত তুললাম। যদিও ভেতরে রীতিমত ধুকপুক করছিলো কারন উপাসনালয়ে মূল ব্যাক্তির বিপক্ষে হাত তোলা সাধারনত ধর্মদ্রোহ। আসলেও তাই হল। আশেপাশের অনেক বিস্মিত মানুষ আমাকে থামিয়ে দিল। যে এখন না পরে বলেন, বয়ান শেষ হোক। আমি বলতে চাইলাম, উনি মিথ্যা বলছেন, উনি ভুল তথ্য দিচ্ছেন, উনি ঘৃণা তৈরী করছেন, না জেনে। ফিতনা তৈরী করা মানুষ বর্জনীয়। এই ধরনের মানুষ মসজিদে ঢুকে ঈমাম হয়ে যাচ্ছেন এটা মানা যায় না। ওইদিন কিছু বলতে পারিনি, চেয়েছিলাম ঈমাম সাহেবকে পরে আলাদা বুঝিয়ে বলব, সবার সামনে বলে তাঁকে অপদস্থ করা ঠিক না, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সেটাই ভুল ছিলো।

জাফর স্যারের উপর হামলাকারী কিন্তু একজন ফয়জুর না, এমন হাজারো , লক্ষ লক্ষ ফয়জুর  তৈরী করছে বেশ কিছু মূর্খ মানুষ। যারা ধর্মকে সামনে রেখে ব্যক্তিগত স্বার্থ নিয়ে কাজ করছে। মসজিদে ঈমাম নিয়োগে আমার মতে আরো সতর্ক ব্যবস্থা নেয়া দরকার। সবচেয়ে স্পর্শকাতর চাকরীর এটা অন্যতম। এই পোস্টের বেতন হওয়া উচিত প্রথম শ্রেনীর, আর যারা আসবেন তাঁরা ভাল শিক্ষিত হবেন। বেশ মানসম্মত একটা নির্বাচনী পরীক্ষায় পাশ করে তাঁরা ঈমাম হবেন। সেটার প্রশ্নমালায় অন্য ধর্ম সম্পর্কে প্রার্থীদের ভাবনা কেমন সেটাও জানা হবে, তাঁর চিন্তাভাবনা ইসলামের মতই সহনশীল কি না সেটাও দেখতে হবে।

শুধু গোয়েন্দা একটিভিটি করে দুই একটা খুনের আসামী ধরে আদপে কোন লাভ নেই। আর আমাদের দিক থেকে যেটা করার সেটা হল, যে যার অবস্থানে থেকে ধর্মের নামে মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান, শুধু সাবধান সেটা আবার আরেক ধরনের ঘৃণার জন্ম দিলে তার সাথে অপরপক্ষের  পার্থক্য থাকবে না।

ক্লায়েন্ট বোঝার তরিকা

কার্টুন ড্রয়িং আর অন্যান্য ইলাস্ট্রেশন করার সুবাদে বেশ কিছু অদ্ভূত আর কিম্ভূত মানুষদের সাথে পরিচয়, দেখা-সাক্ষাত হয়েছে। তার মধ্যে কাজ করতে গিয়ে কয়েকটা প্যাটার্ন দেখেছি যেগুলিতে ফেলে দিয়ে এখন সহজেই কোন মানুষ কাজ করার জন্যে কেমন হবে সেটা বোঝা সহজ হয়। নতুন যারা কাজ করছে, তাদেরও নিশ্চই এই সব সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা কিছু লিখে দিলে তা যদি কারো কাজে আসে তো ক্ষতি কী? আমার কয়েকটা ক্লায়েন্ট সম্পর্কিত অবজারভেশন এইরকম-

১. আসেন বসি ক্লায়েন্ট


সমস্যা
এই দলের লোকেরা প্রথমেই বলবে আসেন একদিন বসি- খবরদার, বসেছেন কি মোটামুটি জীবনের কয়েকটা দিন শেষ, বসতে বসতে পেছন ব্যাথা হয়ে যাবে কাজ আর হবে না। আসেন বসি, ভাবি কী করা যায়, আমাদের অনেক প্ল্যান- এই কথা যারা বলে আসলে তাদের কোন প্ল্যানই নাই। কাজও নাই। তারা এখনো নিশ্চিত না তারা কী করবে। তারা আসলে আপনার সাথে কথাবার্তা বলে পরে ভেবে টেবে জানাবে যে এখন তাহলে না করে কদিন পরে 'ভাল' মত করব। আসল কাজের ক্ল্যায়েন্ট আপনাকে নির্দিষ্ট কাজের কথাই বলবে। কয়টা ড্রয়িং কয়দিনে লাগবে, কালার কেমন হবে ইত্যাদি।

সমাধান একেবারে যারা শুরু করেছে তাদের পক্ষে প্রথম প্রথম এই জিনিস এড়ানো কঠিন। তবে একটা ভালো পদ্ধতি হল এদের খুব ভদ্রভাবে বলা- ভাই আপনার প্ল্যানটি আমাকে ইমেইল করুন, ফিরতি ইমেইলে আমি কোন কাজের জন্যে কত টাকা নেব আর ক'দিন লাগবে তা জানাবো। তার সাথে আমার এই প্রজেক্টের সাথে যায় এমন স্যাম্পল পাঠিয়ে দেব। এই কথার পরে বেশিরভাগ 'আসেন বসি' ক্লায়েন্ট ঝরে যাবে।


২. এডিট ক্লায়েন্ট


সমস্যা এই গ্রুপ আপনাকে প্রথমে বলবে কাজটা খুবই সামান্য, বি ভেরি কেয়ারফুল- এটা সাইকলজিক্যাল ট্রিক। আপনাকে আগেই বুঝিয়ে দিল এটা কিছুই না, মানে আপনি আর কয় টাকাই বা চাইবেন। এবং আদপে কাজ করার পর দেখা যাবে সেটার এডিট আসা শুরু করবে। আসতেই থাকবে। আসতেই থাকবে। ছোট একটা কাজ অনেক এডিট হবে। তারা বলবে যে আসলে তারা হ্যাপি-ই ছিলো কিন্তু তাদের বস (যিনি সাধারণত বিদেশেই থাকেন) এইটা ফিডব্যাক দিয়েছেন।

সমাধান এটার সহজ সমাধান হল আপনার প্রোপোজালে বা প্রথম ইমেইলের শেষে ছোট্ট করে লিখে দেয়া যে প্রথম যেই ডিজাইনে সবাই একমত হবে তারপর যে কোন এডিট করলেই পাঁচ হাজার টাকা। এবার যত ইচ্ছা এডিট দিন। এটা ম্যাজিকের মত কাজ করেছে আমার জন্যে।

৩. দেশের কাজ করা ক্লায়েন্ট 


সমস্যা এরা অতি দেশপ্রেমিক। মোটেও নিজেদের লাভের জন্যে কাজ করছে না, 'সম্পূর্ণ' অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। এটা শুনলেই ডাবল সতর্ক হন। যদি আসলেই তাই হয় তবে সেটা তাদের সমাজ সেবা, আপনার না। কিন্তু তারা প্রথমেই তারা যে কত মহান একটা কাজ নিঃস্বার্থভাবে করেন সেটা শুনিয়ে আপনাকে বোঝাবে যে কাজে কাজেই এই কাজটা আপনার বিনা পয়সায় করে দেয়া উচিত।

সমাধান বি প্রফেশনাল। সমাজসেবা আপনি করেন, কিন্তু সেটা অচেনা একজন ক্লায়েন্টের জন্যে নয়। বলে দিন আপনার যা রেট তার এক টাকাও কমবে না। তবে বিল ক্লিয়ার হলে তাদের কাজ ভাল লাগলে আপনার ইচ্ছা হলে সেখান থেকে আপনি একটা ডোনেশন দিতেও পারেন।

৪. সময় নাই ক্লায়েন্ট


সমস্যা ভাই কাজটা কিন্তু খুব আর্জেন্ট,করে দিতে পারবেন? - এই কথা বলা কর্পোরেট একটা ট্রিক্স। আপনার শুনেই মনে হবে বাহ, এটা তো চ্যালেঞ্জিং বেশ। ট্রাই করি তো। এদের একটা অংশের আসলে অনেক সময় আছে কিন্তু চাপে রেখে আপনাকে দিয়ে কাজ করালে আপনার একটা সেন্স অফ প্রাইড আসবে যে বাহ্‌ আমি কত দ্রুত করে দিয়ে এদের বিরাট ব্যবসা বাঁচালাম। আরেকটা গ্রুপ আসলেই সব জায়গায়  ঢিলেমি করে আসল কাজের জায়গায় এসে সব কিছু আর্টিস্টের ওপর চাপায়। এদেরকে যাস্ট 'না' বলুন। কারণ চাপের মধ্যে আপনি করলে দুইটা সমস্যা, তারা পরে কাজে ধরে নিবে এই সময়ই যথেষ্ট, কারণ আগে তো দুইদিনে আপনি বিশটা ড্রয়িং করেছেন তাহলে এখন কেন হবে না, বা মাত্র দুইদিনের কাজে এত টাকা চাচ্ছেন? আরেকটা আরো বড় সমস্যা হল এতে আপনার কাজের মান খারাপ হবে। পেছনের কাহিনি কেউ জানবে না, থেকে যাবে কাজটা।

সমাধান এদের উত্তরে আমি বলি, 'ভাই কে বলেছে সময় নাই? আমার তো অনেক সময়, আপনার সময় নাই, সেটার যন্ত্রনা আমি কেন নেব?'

৫. বন্ধু ক্লায়েন্ট


সমস্যা এরা সাধারণত পরিচিতদের মধ্যে থাকে, তারা প্রস্তাব দেবে এমন যে একটা কাজ 'আমরা' পেতে পারি, তুমি কিছু ড্রয়িং কর, 'ক্লায়েন্ট' যদি খায় তাহলে টাকা পাব। সাবধান। সে ছদ্মবেশী ক্লায়েন্ট ছাড়া আর কিছুই না। যে কাজ দিচ্ছে সে-ই ক্লায়েন্ট। এই গ্রুপটা পরিচয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে এমন ভাব ধরবে যেন আপনি আর সে একটা টিম। সবাই মিলে একটা কাজ পাচ্ছি।

সমাধান আসলে ব্যপারটা মোটেও তা না। তাকে চক্ষুলজ্জ্বা ভুলে বলে দিন, কাজ যার নির্দেশে করব বিল ও তার থেকেই নেব। আমার ক্লায়েন্ট ভাই তুমি। কন্ডিশনাল কাজ করার চে না করা ভাল।

এখন কথা হল এত বাছাবাছি আমি এদ্দিন পরে করতে পারছি, নতুন কাজের সময় এত কিছু করাটা কঠিন হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে কী করার? নতুন আঁকিয়েদের জন্যে তবে ট্রিকস কী হবে। সেটা অচিরেই আবার লিখে তুলে দিচ্ছি ব্লগেই।

চোখ রাখুন এইখানেই :D


February 26, 2018

বইমেলা ২০১৮

অনেকদিন পর লিখতে বসেছি। পর পর এত কিছুর মধ্যে দিয়ে গত কয়েকমাস যেতে হয়েছে যে লিখতে বসার মুডটা সেভাবে আসছিলোই  না। আর যতই দিন যাচ্ছিল ততই লেখার বিষয়বস্তুর তালিকা দীর্ঘ হচ্ছিলো, ফলে লিখতে বসার আগে আবার আলসেমি পাচ্ছিলো বারবার। যা যা করা হল এরই ফাঁকে ফাঁকে তার অতি সংক্ষিপ্ত একটা যাকে বলে-'ইন আ নাটশেল' মানে বাদামের খোসায় পুরে বলতে গেলে তা দাঁড়াবে অনেকটা এমন-

১. ছোটকাকু সিরিজের দুইটি কমিক্স

কন্ট্রাকচুয়াল কাজ। বেশ সময়সাপেক্ষ ড্রয়িং, রঙ করতে সাহায্য করেছে কার্টুনিস্ট রোমেল বড়ুয়া। সারা বছর টেক্সট বইয়ের কাজের ফাঁকে এই বই দুটো সমান্তরালে চলেছে। বইমেলায় কমিক্স দুটি প্রকাশ করেছে SRK শোটাইমস। পাওয়া যাচ্ছে সপ্তডিঙ্গা স্টলে, সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের শিশু চত্বরে।






২. হুমায়ূন আহমেদের গল্পে ছোটদের কমিক্স

অনেক দিন আগের পরিকল্পনা, এবারে করা হল। ভূমিকা লিখে দিয়েছেন আহসান হাবীব। সংকলনে কার্টুনিস্ট জুনায়েদ আজীমের একটা কমিক্সও থাকার কথা ছিলো। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ক'দিন আগেই জুনায়েদের ছোট ভাই সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হয়। তাই এর মধ্যে তাকে আর জ্বালাইনি। সংকলনে হুমায়ূন আহমেদের অসাধারণ চারটা গল্পের কমিক্স এসেছে- 

১. নীল হাতী
২. কানী ডাইনী
৩. চেরাগের দৈত্য
৪. ভূত মন্ত্র

এটা বের হয়েছে আমাদের ঢাকা কমিক্স থেকে। (কেনার লিংক)

৩. নবীন সিরিজ 'জুম' (প্রচ্ছদ)

ঢাকা কমিক্স থেকে একেবারে নতুন কমিক্স আঁকিয়েদের জন্যে আমরা একটা নতুন সিরিজ চালু করেছি গত বছর থেকে। 'নবীন সিরিজ' নামে। তার ধারাবাহিকতায় এবারে এলো 'জুম',  সব্যসাচী পোলোর আঁকা। রাঙ্গামাটির প্রেক্ষাপটে বলা এক লোকাল সুপারহিরোর গল্প। ব্যাক্তিগতভাবে আমি সুপারহিরদের স্টিরিওটাইপের ঘোর বিরোধী কিন্তু নতুনদের মৌলিক ঘরানায় বলার চাষ্টা করাটাকে উৎসাহ দিলে শেষ পর্যন্ত আরো ভালো কিছুই  আসবে বলে বিশ্বাস করতে চাচ্ছি। এর আগের বের হওয়া ইব্রাহীম গল্পটাও আমার নিজের বেশ ভালো লেগেছে। এটার প্রচ্ছদে লেটারিংটা করে দিয়েছে কার্টুনিস্ট মাহাতাব।

৪. পিশাচ কাহিনি ১ (প্রচ্ছদ ও গল্প)

আমার অনেক আগের পছন্দের একটা গল্প। শেষমেশ ঝাঁড়পোঁছ করে এবারে বের হল। এঁকেছে এড্রিয়ান অনীক। ওর ড্রয়িংটার সাথে হররটা 'যায়'। প্রচ্ছদ আমার।

৫. স্যালামান্ডার জিন (প্রচ্ছদ)

এ সময়ের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল লেখক, আমার নিজেরও পছন্দের মাশুদুল হক নিজেই এই নতুন বইটার জন্যে নক করলো। স্টোরি প্লট বেশ দারুন। তাঁর ডঃ কিজিল সিরিজের সম্ভবত দ্বিতীয় বই।


৬. বিগ ব্যাং থেকে হোমো স্যাপিয়েন্স (প্রচ্ছদ)

এবং শেষে মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের বই। স্যার ফোন করে বলে দিলেন কিভাবে কী হতে পারে। সেইটাকে মূল ধারনায় রেখে ফটো দিয়েই করা বিগ ব্যাং থেকে হোমো স্যপিয়েন্স। বের হবার পরে স্টলে বসে আছি, হঠাত দেখি বিরাট এক জটলা আমাদের স্টলের দিকে আসছে। আমরা এত জনপ্রিয় হয়ে গেছি ভেবে অবাক হলেও একটু পরেই দেখি স্যার আর ম্যাডাম আমাদের দিকে আসছেন, পিছনে এক দঙ্গল ভক্ত। তাঁরা এই বইটি ও সাথে স্যারের এবারে অন্যতম সায়েন্স ফিকশন 'ত্রাতিনা' নিয়ে আমাদের স্টলে আসছেন! ত্রাতিনা বইটি নিয়ে একটা কথা শেয়ার করার লোভ সামলানো যাচ্ছে না, সেটা হল, এই বইটি স্যার এবারে আমাদের দুইজনকে, মানে মিতু আর আমাকে উৎসর্গ করেছেন। যা লিখেছেন তা জানাতে অস্বস্তি লাগলেও এখানে তুলে দিচ্ছি।- 



৭. মুহম্মদ জাফর ইকবাল : দুইশত গ্রন্থ তালিকা (প্রচ্ছদ)

তাম্রলিপির রনি ভাইয়ের অনুরোধের প্রচ্ছদ। জাফর স্যারের এই মেলায় ওই বিগ ব্যাং থেকে হোমো স্যাপিয়েন্স বইটি নাকি ২০০ তম বই হয়ে বের হয়েছে। সুতরাং তাঁর সব বইয়ের একটা মেগা তালিকা না  করলেই না। আর সেটার একটা কিঞ্চিত রিয়েলিস্টিক প্রচ্ছদও তাই চাই। 

৮. হালদা (উন্মাদ ফিচার)

বইমেলার তালিকায় উন্মাদের পরের মাসের ফিচার আসবে কি না জানি না। কিন্তু করছি ফেব্রুয়ারিতেই, তাই দিয়ে দিলাম, তৌআহমেদের নতুন সিনেমা -হালদা।

৮. উন্মাদ বইমেলা ভলিউম প্রচ্ছদ

আর উন্মাদের ভলিউমের প্রচ্ছদ, যা না দিলেই নয় এঈ পোস্টে।

মোটামুটি এই ছিল এবারে আমার কাজ। আরেকটা যেটা করে রেখেছিলাম বেশ আগেই সেটা আর ্ইযাঁ মেলায় আনতে পারিনি, আসবে মার্চ মাসে, সেটা হল রুহান রুহান গ্রাফিক নভেলের ৪ নম্বর সংক্যা। শুধু ড্রাফট প্রচ্ছদটা দিয়ে রাখি আপাতত।

সব মিলে একটা খরার বছর গেল। ২০১৮ তে অনেক কাজ করার ইচ্ছা রাখি। 

February 07, 2018

Concept art

পুরোনো একটা কন্সেপ্ট থেকে আঁকা, ব্লগে শেয়ার দেয়া হয় নি। 

December 07, 2017

অনলাইন ড্রয়িং কোর্স: CGMA

ইদানীং ড্রয়িং এর অবস্থা যা-তা। এনাটমি, কালার লাইট শেড, এনভায়রনমেন্ট সবই আঁকতে বেশ কষ্ট হচ্ছে, কারণ আঁকার সময় খেয়াল করি সেই গত কয়েক বছর এই একই জিনিস এঁকে যাচ্ছি, শিখছি না। একটা লেভেল আপের দরকার অনেক দিন থেকেই। সবচেয়ে বিপদ হয় কমিক্সের ক্যারেক্টার করতে। এক ক্যারেক্টার একেক ফ্রেমে একেকরকম হয়। ওদিকে ইউটিউবে টিউটোরিয়াল দেখে শেখার সমস্যা হল একেক জন একেক ভাবে বলছে, আর সেটা দেখে দেখে করলে সেটার ফিডব্যাক তো আর পাচ্ছি না। তাই জীবনে প্রথম একটা অনলাইন আর্ট কোর্স করলাম। FUNDAMENTALS OF CHARACTER DESIGN with আহমেদ আলদুরিব্রেট বিন (এই দুইজনের কাজ অবশ্যই দেখবেন সবাই) under CGMA  ।
জীবন শেষ করে দিলো ব্যাটারা, আঁকতে আঁকতে হাত ব্যাথা, একেবারে সেই গোড়া থেকে আবার সব শুরু, জেশ্চার, সিলিন্ডার, ফর্ম, রেফারেন্স ফটো স্টাডি। সব শেষে যে কোন একটা থিম ঠেকে একটা পূর্ণ ক্যারেক্টার তার গল্প সহ তোইরী করা। আমি আমাদের আদিবাসী থিমের সাথে সাই-ফাই মিলিয়ে একটা ক্যরেক্টার করেছি শেষে।
কোর্স করে মহা আর্টিস্ট হয়ে গেছি তা না, কিন্তু কি কী সমস্যা আছে সেটা জেনেছি। এটাই একটা বিরাট মোটিভেশন। আশা করি আঁকা নিয়ে আরো সিরিয়াস হব এখন থেকে।
বিঃদ্রঃ ইহা হয় একটি দামী কোর্স, সিনটিক কেনার জন্যে যেই টাকাটা স্পন্সর পেয়েছিলাম কার্টুনিস্ট মিতুর থেকে, দিন শেষে দু'জনেরই মনে হল সেটা দিয়ে একটা গেজেট না কিনে বরং কিছু শিখি। আশা করি বেটার ইনভেস্ট ছিলো।

















December 04, 2017

টেক্সট বই প্রিন্ট আপডেট

জীবনের এ পর্যন্ত সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট শেষের পথে। পৃন্ট মিডিয়ার কাজ যতই ভাল হোক সব পৃন্ট হাতে না আসা পর্যন্ত আতংক গলার কাছে আটকে থাকে। কখন কোথায় কী ঘটে যায় বলা যায় না। যেমন এবারেই টেক্সট বইয়ের পৃন্ট ভার্সন করার আগে যা হল তা নিয়ে 'ছাপাখানার ভুত ভুতং ভুতৌ ও অন্যান্য' নামে একটা বই লিখে ফেলা যাবে। পৃন্ট শুরু হবা এক সপ্তাহ আগে কি মনে করে সব পেইজ খুলে চেক দিচ্ছিলাম। হাজার ফাজার পৃষ্ঠা একটা একটা করে ইপিএস ফরম্যাট দেখার একমাত্র সহজ উপায় হল এডোবি ব্রিজ এ থাম্ব ভিউ দিয়ে জুম করে দেখা। তাতে যা যা ধরা পড়ল তা দেখে আক্কেল গুড়ুম সবার। এডোবির অতি স্মার্ট ইপিএস এক্সপোর্ট পদ্ধতি যত ধরনের ফর্মুলা আছে সব পালটে আরেকটা ফন্ট করে দিয়েছিলো। অতঃপর এনসিটিবির অফিসে গিয়ে মূল গ্রাফিক অপারেটরের সাথে বসে পুরো টিম মিলে বলতে গেলে আবার সব ধরে ধরে সব পৃষ্ঠা ঠিক করতে হয়েছে, কষ্টের কাজটা এনসিটিবির টিমই করেছে শেষে। সব ঠিক করার পরেও মনের মধ্যে এবার ভয় ঢুকে গেল। বিকট সব স্বপ্ন দেখা শুরু হল আমার আর মিতুর।
আমি দেখলাম, স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা, আমার বায়োলজি স্যার প্রশ্ন দিতে দিতে হাসিমুখে বললেন-

- 'সব কিন্তু এজ ইটিজ আঁকবি। আর মনে রাখবি, সব রঙ করতে হবে।' 
- 'রঙ করার টাইম হবে না স্যার' আমি আতঙ্কে বললাম।
- 'টেক্সট বই আঁকার সময় খেয়াল ছিলো না? হাহাহাহা' (কুৎসিত হাসি)

আমার সবচেয়ে প্রিয় বায়োলজি স্যারের এইরকম শত্রুতা দেখে জেগে উঠে পরদিন আবার মিতু দেখলো ফিজিক্স বইয়ের সব ফন্ট সফটওয়ারের কারণে চাইনিজ ফন্ট হয়ে গেছে। এবং বাংলাদেশের সব পত্রিকায় এ বিষয়ে চীনের শি জিন পিং আনন্দ বার্তা জানিয়েছেন।

এইসব কারণে আমরা মুখ শুখনা করে ঘোরা শুরু করলাম। মিডিয়ার কল্যাণে আর নিজে পণ্ডিতি করে ব্লগে লিখে দুনিয়ার সবাইকে জানিয়ে দিয়েছি আমরা এই প্রজেক্টে আছি, তাই পরে পালানোরু উপায় নেই। হঠাত একদিন স্যারের ফোনে জানলাম পৃন্ট শুরু হচ্ছে। শুনে রীতিমত প্রেশার হাই হয়ে গেল আমাদের। এবং কিছুদিন পর আবার একদিন স্যারের কল আসলো। এনসিটিবি থেকে তাঁকে দাওয়াত করা হয়েছে কিভাবে পৃন্ট হচ্ছে তা দেখতে। আমরা যেতে চাই কি না। অবশ্যই চাই। এক শুক্রবার সকালে এনসিটিবির কর্মকর্তা রতন সিদ্দিকী তাঁর বিরাট গাড়ি নিয়ে এলেন স্যারের বাসায়। রওনা হলাম, স্যার, ইয়াসমীন ম্যাডাম, স্যারের মেয়ে ইয়েশিম আর আমি-মিতু। প্রেস নাকি সব মাতুয়াইলে! এত দূরে যেতে হবে আগে বুঝিনি। কিন্তু বড় বড় সব প্রেস নাকি সব ওখানেই। বিশেষ করে এনসিটিবির পৃন্ট ওখানেই হয়। পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ প্রিন্টিং। ৩৫ কোটি বই প্রতি বছর! স্যারের এনালাইসিস সব বই পর পর রাখলে পুরো পৃথিবী ৬ বার প্রদক্ষিণ করতে পারবে। এটা একটা বিশ্ব রেকর্ড, প্রজেক্টটা করার আগে আমার কোন ধারনা ছিলো না। এবং মাতুয়াইলে গিয়ে প্রেস দেখে আমি আর মিতু একসাথে বললাম- 'বাপরে!' 

গলি তস্য গলি পাড় হয়ে যেই প্রেসেই ঢুকি সেখানে এলাহী কাণ্ড। মেশিনের পর মেশিনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একের পর এক বই বের হচ্ছে। এখানে বড় বড় শিট হাতে ভাঁজ করে ফর্মা (সবচেয়ে বড় যে শিটে একসাথে ছাপা হতে পারে, পরে এটাকে ভাঁজ দিয়ে বা কেটে বইয়ের মাপে আনা হয়) করা লাগে না। মেশিনই ফর্মা ভাঁজ করে দেয়। আর পৃন্ট থেকে বাইন্ড পর্যন্ত ধরে একটা প্রেস দিনে বই ছাপতে পারে এক লক্ষ! আমার আগে ধারনা ছিলো শুধু চায়নাতেই এটা করা যায়। এবারে জানলাম আমাদের পৃন্টিং কত দ্রুত আরো কত পেশাদারি জায়গায় চলে যাচ্ছে। আর পৃন্ট? আমার আগের দেখা যে কোন টেক্সট বইয়ের চে' কাগজ ভালো, পৃন্ট কোয়ালিটিও দারুণ। দুই এক জায়গায় টুকটাক কারিগরি সমস্যা যে হচ্ছে না তা না। তবে এখন থেকে আর আমরা দুঃস্বপ্ন দেখবো না আর এটা নিশ্চিত। লেখা আর না বাড়িয়ে ছবিতে আর ভিডিওতে বাকিটা শেষ করা যাক।


পদার্থবিজ্ঞান আর জীববিজ্ঞানের ফুল শিট প্রচ্ছদ সহ আমি, প্রেস মালিক (নাম মনে নেই :/) ইয়াসমীন ম্যাডাম, স্যার, মিতু

ঝকঝকে রসায়ন বই।

সরেজমিনে পৃন্টিং দেখতে স্যার একটা মেশিনের পাটাতনে, বাঁয়ে প্রেসের ম্যানেজার (নাম মনে নেই :/) ডানে রতন সিদ্দিকী সাহেব।

(নাম মনে নেই -ম্যানেজার) স্যার, ম্যাডাম, আর স্যারের মেয়ে ইয়েশিম।  

জীববিজ্ঞান (জেনারেল লাইন)

জীববিজ্ঞান (মাদ্রাসা লাইন)

সরেজমিন


প্রিন্টিং প্রক্রিয়া



বাঁধাই চলছে





জাপান টাউনে

 মিতু আর অনু ছাড়া আজ ১১ দিন। ইন ফ্যাক্ট একেবারে একা বিদেশে পড়ে আছি সেটাও এই প্রথমবার। কমিকস এর মাস্টার্স প্রায় শেষ পর্যায়ে। ক্যালিফোর্নিয়া ক...