March 09, 2013

কমিক্স আঁকিং-সনাতনী পদ্ধতি

সম্প্রতি কিছু আঁকিয়ে সহযোদ্ধা মিলে গোটা চারেক কমিক্স প্রকাশ করার পরে অনেকেই কিভাবে কমিক্স আঁকা যায় (কারিগরি দিক) মানে কী কলম কী কাগজ কোন কালি ইত্যাদি জানতে চেয়েছেন। যখনি আমরা বলি যে আমরা ব্যাপারটা 'ডিজিটালি' করি তখনি বেশীরভাগ মানুষ বলে- 'ও, তাই বলেন' ভাবখানা এই যে ডিজিটালি করা মানে মনিটরে ফুঁ দিলেই হয়ে যাওয়া। আমি আবারো বলছি ডিজিটাল পদ্ধতি বা কম্পিউটারের সাহায্য নেয়া আপনার সময় বাঁচাবে, আঁকা আপনাকে সেই হাতেই করতে হবে। সেটা পেন্সিলেও যা ওয়াকম বা মাউসেও তা। বেসিক আঁকাআঁকি না জানলে কোন লাভ নাই। ক'দিন আগে আঁকান্তিসের একজন সদস্য জানতে চান ডিজিটাল ছাড়া ট্রাডিশনালি কিভাবে কমিক্স আঁকা যায়। এই পোস্ট মূলতঃ তাকে উদ্দেশ্য করেই। অনেকদিন পর আবার সেই কালি কলমে আঁকলাম। এটা একটা স্যাম্পল পেইজ। এতে যা যা ব্যবহার করা হয়েছে তা বাংলাদেশের যে কোন স্টেশনারি এন্ড লাইব্রেরির দোকানেই পাওয়া যাবে। আশা করি এই পোস্ট দেখার পর ট্রাডিশনাল মিডিয়াতে আঁকাটা সবার কাছে আগের চে' সহজ লাগবে।
বাঁ থেকে চার নম্বুরি তুলি, একটা ইকোনো ডিএক্স কলম, ছয় নম্বর তুলি, একটা রেড লিফ মার্কার একটা তিরিশ টাকা দামের হিরো কম্পানীর কালি (অন্য যে কোন তরল কালি-ই চলবে, কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব ইংকজেট প্রিন্টারের ফেলে দেয়া কালি ব্যবহার করেন)

কাগজ- আর্টপেপার (আট টাকা করে প্রতিটি, চাইলে অন্য যে কোন অফসেট পেপারও হবে, একটু মোটা কাগজ হলে ভালো কারণ রাবারের ঘষাঘষি লাগতে পারে বেশ কিছু) একটু বড় করে কেটে নেয়া হয়েছে। মাপ নির্ভর করে কোন মাপে ছাপা হবে তার ওপর। এখানে অনুপাত ছিল ৮X১০

(আসল জিনিস দুইটা ভুলে দেয়া হয় নাই, একটা রাবার-নন ডাস্ট হলে ভালো-আর একটা ফোর বি পেন্সিল)



এবারে কমিক্সের পেইজে কি আঁকা হবে সেটা একটু ছোট করে এঁকে নিয়ে নিজে বুঝে নেয়া ভালো, এটাকে বলে থাম্বনেইলিং। সোজা কথা রাফ করে নেয়া।
রাফ থেকে আইডিয়া নিয়ে পেইজে পেন্সিলে হাল্কা করে ড্রয়িং শুরু করলাম

পরের ধাপে আরেকটু ডিটেইল করা (খেয়াল করুন আঁকতে আঁকতে শেষের লোকটার চেহারা পালটে দিয়েছি, কারণ এইটা বেশী জমছে)



ইঙ্কিং এর প্রথম ধাপ=আউটলাইন, আমি সাড়ে তিনটাকা দামের ইকোনো বলপেন দিয়ে এটা এঁকেছি, আমার দেখা সবচেয়ে মজার কলম।

মার্কার দিয়ে বর্ডার আঁকলাম মোটা করেঃ স্কেল ও মার্কার সাইনপেন সহযোগে
ইরেজার দিয়ে পেন্সিলের দাগ মোছা হল

 খেয়াল করুন কোথায় কোথায় কালো করব সেটা আগেই আউটলাইন দিয়ে আলাদা করে রেখেছি।

এবারে সেই বরাবর চার নম্বর আর ছয় নম্বর তুলি মিলিয়ে 'হিরো' কালি দিয়ে খালি কালো করা

কালি চলছে

ম্যানুয়াল জুম আউটঃ কাজের ফাঁকে ফাঁকে আমি মাঝে মাঝেই গোটা পেইজটা মেঝেতে ছুঁড়ে দেই, এতে দূর থেকে পুরো জিনিসটা দেখতে কেমন সেটা বোঝা যায়। এটা পেন্সিলিং এ ধাপ থকে করাই ভালো।

এবার আবার সেই ইকোনো দিয়ে কিছু টেক্সচার বানাচ্ছি।



আমি সাধারণতঃ পুরো কালি শেষ করে তারপর মনমত কলমে টেক্সচার দেই

পুরো পেইজঃ টেক্সট বক্স সহ

শেষ কাজঃ কোন একটা সাদা রঙ (ফ্লুইড, পোস্টার কালার বা গোয়াশ) দিয়ে এবারে কালোর ওপর সাদা টেক্সচার আঁকা, এখানে বরফের কণা আর বাতাসের ডিরেকশন লাইন আঁকা হচ্ছে।
পেইজঃ সম্পূর্ণ ঘরে বানানো কোন রকম মেশিনের সাহায্য ছাড়াই তৈরী (শুধু মাঝের ফ্রেমটা এম্নি-ই একটু শ্রিংক করতে ইচ্ছে হল ফটোশপ এ)

সুতরাং একেবারে অতিসাধারণ সব সরঞ্জাম দিয়েই আপনি আপনার কমিক্স বা কার্টুন আঁকা শুরু করতে পারেন, কোন কম্পিউটার দরকার নাই, পৃথীবির অসংখ্য যুগান্তকারি কমিক্স শুধু হাতেই আঁকা হয়েছে। রংটাও ওয়াটার কালার বা পেন্সিল বা পোস্টার যা খুশী আপনার করে নিতে পারেন (পারলে এটার একটা জল রঙ সংস্করণ পোস্ট দিবো)

সবশেষে বাজে রেজোলিউশনের ফটোগুলির জন্যে আন্তরিকভাবে দুঃখিত, মোবাইলের ক্যামেরাটা ভালো না।

February 26, 2013

পার্স্পেক্টিভ

ফেং ঝু নামের এক চিংকুর অমানুষিক সব কাজ দেখে শেখার চেষ্টা করি







February 23, 2013

মীনপিশাচঃস্ন্যাপশট

কমিক্স চলছে, অচিরেই বিরাট পোস্ট দিতে যাচ্ছি সব মিলে, দেশে এমন অস্থির একটা সময়ের সাথে আমাদের কমিক্স জড়িয়ে গেল- সময়টা মনে থাকবে আমাদের।


February 19, 2013





আমাদের শান্ত ভাই আর নেই... এখনো কথাটা মাথায় ঢোকেনি, তাঁর আঁকা কমিক্স পড়েই বড় হয়েছি, উন্মাদে তাঁর আঁকা দেখে মনে হত এমন যদি আঁকতে পারতাম, সেই শান্ত ভাই আজ বিকেলে শাহবাগে গণআন্দোলনে স্লোগানরত অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। শান্ত ভাই, আমি আমার একজন ভাই হারিয়েছি, পরশুদিন ফোন এ কথা হয়েছিল, বলেছিলাম কমিক্স প্রকাশনী খুলেছি, এবং সেটা তাঁরই দেখাদেখি। বাংলাদেশে একমাত্র তিনিই আক্ষরিক অর্থে এক হাতে বাংলা কমিক্স করে যাচ্ছিলেন। 'কল্পদূত' নামের সেই প্রকাশনীর কমিক্স পড়েনি এমন আশির দশকের শিশু কিশোর কমই পাওয়া যাবে। প্রতি বছর মেলায় স্টল পেলেও এই প্রথমবার উন্মাদের সাথে তাঁকেও স্টল দেয়া হয়নি। তাতেও এই হাস্যমুখী বিনীত শান্ত ভাইয়ের কোন অভিযোগ ছিলো না। কমিক্স প্রকাশনী করছি শুনে সাথে সাথে বাচচাদের মত খুশী হয়ে বলেছিলেন,-
'এইবার জোর পাব বুঝলা?, চল একদিন বসি'
বলেছিলাম মেলায় আসেন, দেখা হবে। সেই দেখা হ্ল, কথা হল না। কি ভয়ানক অভিমানে বুকের ভেতরে মুচড়ে উঠলো তা বোঝানো যাবে না। কেন যেন মনে হল এই জরদ্গবের দেশে বাংলা কমিক্স এর জগদ্দল একা ঠেলতে ঠেলতে হঠাৎ যেন আমার কথা শুনে নিশ্চিন্তে চলে গেলেন। কত বছর চিনি তাঁকে? চোদ্দ? পনেরো? এমনই হবে। এতদিন একসাথে কাজ করলেও কখনো তাঁর নামে কোন বাজে কথা শুনিনি, কখনো কারো সাথে বাজে ব্যবহার করেননি। আর এমন বহুমুখী প্রতিভা নিয়েও কি অসম্ভব বিনয়ী ছিলেন। তাঁর লেখা ছড়া, রহস্য গল্প, কমিক্স এর ধারে কাছে আসতে আজকালের অনেকেরই সারাজীবন সাধনা করতে হবে, তাঁর মুক্তার মত হাতের লেখা দেখে মুগদ্ধ হয়ে তাকিয়ে থেকেছি কতবার... সেই শান্ত ভাই মাত্র ৪২ এ নেই। ভালো মানুষের বাঁচে না বেশীদিন... বেশ কয়েকবার দেখলাম সেটা। তাঁর ১২৭, ব্যাংকার্স রো'র বাড়িটা থেকে বের হতে হতে দুঃখের বদলে কেন যেন ভয়ানক অভিমানে গলা বন্ধ হয়ে এল।
এ সময়ে চলে গেলেন কেন?
অসময়ে চলে গেলেন কেন?

January 28, 2013

বান্দরবানঃ রঙ প্যালেট স্টাডি

মাথায় বহুদিন ধরে একটা কমিক্স এর আইডিয়া ঘুরছে, বান্দরবান, খামতানাতান, বগা লেক, রেমাক্রি সব জট পাকিয়ে- সেই সাত বছর আগে প্রথমবার কেওক্রাডং এর চুড়ায় বসে আইডিয়াটা মাথায় এসেছিলো, কি অসাধারণ সব গল্প আছে আমাদের, শুধু বলার অপেক্ষা এবারে নামিয়ে ফেলবো, স্টাডি শুরু করেছি

January 18, 2013

সহজ রিক্সা শিক্ষা


রিক্সা জিনিসটা আঁকার জন্যে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। অনেকদিন ধরেই স্টাডি করব করব ভেবে রেখেছিলাম, সেদিন হঠাতই সুযোগ ঘটলো, তেজগাঁয়ের যায়যায়দিন প্রতিদিন অফিসের সামনে আমার রিক্সার চেইন পড়ে গেল। রিক্সাওয়ালা ঘঁটাঘাঁটি করে বিরস মুখ করে জানালো বেশ বড় সমস্যা। মেকার দেখাতে হবে। কপাল ভালো পাশেই মেকার পাওয়া গেল, সারি দিয়ে রাখা রিক্সা আর ভ্যানের পাশে সুযোগ পেয়ে বসে গেলাম স্কেচবুকিং এ। একটানে নামায়ে ফেললাম যেটুকু বোঝার। এখন যাকে বলে- রিক্সার ঝামেলা শেষ!
সবচেয়ে বড় প্যাঁচ যেখানে লাগে সেখান থেকে শুরু করাই ভাল। দুইটা ত্রিভূজ মুখোমুখি বসে একটা ট্রাপিজিয়াম ফর্ম করলো। তার সাথে হাতল ওয়ালা চাকা বসলো প্রথম ত্রিভূজের একবাহুর সাথে সমান্তরালে। এবং সেই প্রথম ত্রিভূজের শীর্ষে বসলো চেইনের বড় গিয়ারটা। (রীতিমত ইউক্লিড মনে হচ্ছিলো নিজেকে যখন সল্ভ করছিলাম, তায় ব্যাপারটা আবার 'এলিমেন্টারি') সিটের গোড়া থেকে আবার ডান্ডা নেমে চলে গেল পেছনে, এটা আসলে ভর নেবে পুরো যাত্রীর।



পেছনের সিট টা বেশ দারুণ। একজোড়া হাফ বুমেরাং কাঠের আড়ার ওপর ত্রিশূল (আসলে পনচশূল) এ গাঁথা পাঁচ খন্ড বরাক বাশের চটা। যা আসলে হাতপাখার মত খুলে বানালো যাত্রীর মাথার ছাউনী। ত্রিশূলের গোড়া আর পেছনের চাকার মাঝে বসানো থাকে পৃথিবীর সবচেয়ে নন ইলাস্টিক স্প্রিং (সম্ভবত প্রথম ডিজাইনের সময় এটার কাজ ছিলো সাসপেন্সর এর, পরে লোকাল মিস্তিরিদের বোঝার ভুলে এটা দিনে দিনে আরো পুরু হয়ে যাচ্ছে)
এবারে লক্ষণীয় যে দুই চাকা আর চেইনের দুই গিয়ার সব গুলি বৃত্তের কেন্দ্র কিন্তু এক রেখা বরাবর থাকে, আর চাকার স্পোকগুলি মাঝের কেন্দ্রের সাথে স্পর্শক আকারে ছড়ায়। দুইবার দুইদিকে। সবার শেষে সবার প্রথমে খেয়াল করবার ব্যাপারটা বলা যাক। সেটা হল অনুপাত। রিক্সা পাশ থেকে দেখলে একটা আয়তক্ষেত্রে। যার লম্বা দিকের তুলনায় পাশের দিক প্রায় দ্বিগুণ। সব ঠিক এঁকে এইটা মিস করলে সবই বৃথা। পরে একসময় রিক্সার অন্যান্য টুকি টাকি আবার দেয়া যাবে, আজ এট্টুকুই
আমার বিরস-বদন রিক্সাওয়ালা

ঢাকা কমিক্সঃ কভার আঁকি


খুবই আনন্দের জীবন কাটাচ্ছি, সকাল বিকাল কমিক্স আঁকছি :)
Life is good

জাপান টাউনে

 মিতু আর অনু ছাড়া আজ ১১ দিন। ইন ফ্যাক্ট একেবারে একা বিদেশে পড়ে আছি সেটাও এই প্রথমবার। কমিকস এর মাস্টার্স প্রায় শেষ পর্যায়ে। ক্যালিফোর্নিয়া ক...