February 23, 2013
মীনপিশাচঃস্ন্যাপশট
কমিক্স চলছে, অচিরেই বিরাট পোস্ট দিতে যাচ্ছি সব মিলে, দেশে এমন অস্থির একটা সময়ের সাথে আমাদের কমিক্স জড়িয়ে গেল- সময়টা মনে থাকবে আমাদের।
February 19, 2013
আমাদের শান্ত ভাই আর নেই... এখনো কথাটা মাথায় ঢোকেনি, তাঁর আঁকা কমিক্স পড়েই বড় হয়েছি, উন্মাদে তাঁর আঁকা দেখে মনে হত এমন যদি আঁকতে পারতাম, সেই শান্ত ভাই আজ বিকেলে শাহবাগে গণআন্দোলনে স্লোগানরত অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। শান্ত ভাই, আমি আমার একজন ভাই হারিয়েছি, পরশুদিন ফোন এ কথা হয়েছিল, বলেছিলাম কমিক্স প্রকাশনী খুলেছি, এবং সেটা তাঁরই দেখাদেখি। বাংলাদেশে একমাত্র তিনিই আক্ষরিক অর্থে এক হাতে বাংলা কমিক্স করে যাচ্ছিলেন। 'কল্পদূত' নামের সেই প্রকাশনীর কমিক্স পড়েনি এমন আশির দশকের শিশু কিশোর কমই পাওয়া যাবে। প্রতি বছর মেলায় স্টল পেলেও এই প্রথমবার উন্মাদের সাথে তাঁকেও স্টল দেয়া হয়নি। তাতেও এই হাস্যমুখী বিনীত শান্ত ভাইয়ের কোন অভিযোগ ছিলো না। কমিক্স প্রকাশনী করছি শুনে সাথে সাথে বাচচাদের মত খুশী হয়ে বলেছিলেন,-
'এইবার জোর পাব বুঝলা?, চল একদিন বসি'
বলেছিলাম মেলায় আসেন, দেখা হবে। সেই দেখা হ্ল, কথা হল না। কি ভয়ানক অভিমানে বুকের ভেতরে মুচড়ে উঠলো তা বোঝানো যাবে না। কেন যেন মনে হল এই জরদ্গবের দেশে বাংলা কমিক্স এর জগদ্দল একা ঠেলতে ঠেলতে হঠাৎ যেন আমার কথা শুনে নিশ্চিন্তে চলে গেলেন। কত বছর চিনি তাঁকে? চোদ্দ? পনেরো? এমনই হবে। এতদিন একসাথে কাজ করলেও কখনো তাঁর নামে কোন বাজে কথা শুনিনি, কখনো কারো সাথে বাজে ব্যবহার করেননি। আর এমন বহুমুখী প্রতিভা নিয়েও কি অসম্ভব বিনয়ী ছিলেন। তাঁর লেখা ছড়া, রহস্য গল্প, কমিক্স এর ধারে কাছে আসতে আজকালের অনেকেরই সারাজীবন সাধনা করতে হবে, তাঁর মুক্তার মত হাতের লেখা দেখে মুগদ্ধ হয়ে তাকিয়ে থেকেছি কতবার... সেই শান্ত ভাই মাত্র ৪২ এ নেই। ভালো মানুষের বাঁচে না বেশীদিন... বেশ কয়েকবার দেখলাম সেটা। তাঁর ১২৭, ব্যাংকার্স রো'র বাড়িটা থেকে বের হতে হতে দুঃখের বদলে কেন যেন ভয়ানক অভিমানে গলা বন্ধ হয়ে এল।
এ সময়ে চলে গেলেন কেন?
অসময়ে চলে গেলেন কেন?
January 28, 2013
January 18, 2013
সহজ রিক্সা শিক্ষা
রিক্সা জিনিসটা আঁকার জন্যে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। অনেকদিন ধরেই স্টাডি করব করব ভেবে রেখেছিলাম, সেদিন হঠাতই সুযোগ ঘটলো, তেজগাঁয়ের যায়যায়দিন প্রতিদিন অফিসের সামনে আমার রিক্সার চেইন পড়ে গেল। রিক্সাওয়ালা ঘঁটাঘাঁটি করে বিরস মুখ করে জানালো বেশ বড় সমস্যা। মেকার দেখাতে হবে। কপাল ভালো পাশেই মেকার পাওয়া গেল, সারি দিয়ে রাখা রিক্সা আর ভ্যানের পাশে সুযোগ পেয়ে বসে গেলাম স্কেচবুকিং এ। একটানে নামায়ে ফেললাম যেটুকু বোঝার। এখন যাকে বলে- রিক্সার ঝামেলা শেষ!
![]() |
| আমার বিরস-বদন রিক্সাওয়ালা |
November 12, 2012
বিউটি বোন ও ঠ্যাং
এইবারে কিছু বোঝার ব্যপার। এতক্ষণ আমরা যে বুকের খাঁচা আঁকলাম তার ঠিক ওপরের দিকে গলার নিচে এক জোড়া হাড় থাকে(কন্ঠার হাড় বা বিউটি বোন যাকে বলে), আমাদের হাত বা বাহুর গোড়া সেই হাড় থেকে 'বল-সকেট' জয়েন্ট হয়ে নামে। অর্থাৎ হাত কখনই বুকের খাঁচা থেকে নামে না, সেটা কন্ঠার হাড় আর পিঠের দিকের ডানা ধরনের হাড় (স্ক্যাপুলা) দুইটার মাঝে থেকে ঝুলে থাকে। ফলে সবসময়েই বুকের খাঁচা থেকে তার একটা দুরত্ব থাকে। নীচের ছবিটাতে ব্যাপারটা পরিষ্কার করার চেষ্টা করা হল।
এবারে পা। পা কোমড়ের ঠিক দুই পাশ থেকে নামে, আর কোমড়টা আমরা আগেই জানি কিছুটা সামনের দিকে বেঁকে থাকে।
আরো ভালভাবে বুঝতে গেলে এখানে একটা মজার জিনিস দেখা যাবে। সেটা হল, পায়ের প্রথম হাড়টা (ফিমার) কোমড় থেকে একটু কোণাকুণিভাবে বাইরের দিকে ছড়িয়ে যায়, আর তার একটু পরেই সেটা আবার ভেইতরের দিকে বেঁকে থাকে। মানে বাইরে থেকে আমাদের পা যতই সোজা দেখাক না কেন সেটা আসলে ভিতরে একবারে বাঁকা ধরনের একটা জিনিস। প্রথম জয়েন্ট টা 'বল-সকেট' পরেরটা (মানে হাঁটু) হিঞ্জ।
এই বাঁকা পা দুটোর ওপর দিয়ে বিভিন্ন রকম মাসল আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে তাকে আবার সোজা বানিয়ে দেয়।পায়ের এই বক্রতা বোঝাটা আমাদের ফিগার ড্রয়িং এর ক্ষেত্রে অনেক জরুরী। আমরা পরে গিয়ে এর মাহাত্ম্যটা দেখতে পাব আশা রাখি।
আজ এটুকুই।
![]() |
| পিঠের কমলা স্ক্যাপুলা আর সামনের নীল কন্ঠার হাড়ের মাঝামাঝি হাতটা ঝুলে থাকে |
এবারে পা। পা কোমড়ের ঠিক দুই পাশ থেকে নামে, আর কোমড়টা আমরা আগেই জানি কিছুটা সামনের দিকে বেঁকে থাকে।
![]() |
| শেষে এসে সেই স্ট্রেইট কার্ভের সহজ নিয়মে মাসল বসানো হয়েছে। |
আরো ভালভাবে বুঝতে গেলে এখানে একটা মজার জিনিস দেখা যাবে। সেটা হল, পায়ের প্রথম হাড়টা (ফিমার) কোমড় থেকে একটু কোণাকুণিভাবে বাইরের দিকে ছড়িয়ে যায়, আর তার একটু পরেই সেটা আবার ভেইতরের দিকে বেঁকে থাকে। মানে বাইরে থেকে আমাদের পা যতই সোজা দেখাক না কেন সেটা আসলে ভিতরে একবারে বাঁকা ধরনের একটা জিনিস। প্রথম জয়েন্ট টা 'বল-সকেট' পরেরটা (মানে হাঁটু) হিঞ্জ।
![]() |
| হাঁটুর সংযোগটা একেবারে অন্যরকম, এখানে দুইটা শক্ত হাড় মাঝখানে আরেকটা ছোট গোল চাকতি ধরনের হাড়ের সাথে এসে (যাকে আমরা হাঁটুর বাটি বা মালাই চাকি বলি) মেশে। মাসলে গিয়ে এটা আমরা আরো সহজে বুঝবার চেষ্টা করব |
এই বাঁকা পা দুটোর ওপর দিয়ে বিভিন্ন রকম মাসল আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে তাকে আবার সোজা বানিয়ে দেয়।পায়ের এই বক্রতা বোঝাটা আমাদের ফিগার ড্রয়িং এর ক্ষেত্রে অনেক জরুরী। আমরা পরে গিয়ে এর মাহাত্ম্যটা দেখতে পাব আশা রাখি।
আজ এটুকুই।
November 05, 2012
ফর্ম এর সাথে ফর্মঃ মাসলে যাবার আগে
এনাটমি বোঝার ক্ষেত্রে মাসলের স্টাডিটা আমার কাছে বরং খুবই সহজ মনে হয়। তার চে' কঠিন হল 'ফর্ম' বোঝা। কোন ফর্ম আগে কোনটা পরে কোনটা কোনটার চে' কত উঁচু এইগুলি বোঝা বরং কঠিন, আর এটা একবার বুঝে ফেললে মাসল বোঝাটা পানিভাত হয়ে যাবে। এই পোস্টে সেটা যতটা সম্ভব সহজে বলার চেষ্টা করা হল। আর এই ব্যাপারটা শুধু এনাটমি না, আসলে যে কোন কিছু (মূলতঃ থৃ ডি) আঁকতে গেলেই লাগবে।
ডেভিড ফিনচ এর কাজ স্টাডি করলে আমাদের আজকের পোস্ট টা আরো ভাল করে বোঝা যাবে।
ডেভিড ফিনচ এর কাজ স্টাডি করলে আমাদের আজকের পোস্ট টা আরো ভাল করে বোঝা যাবে।
![]() |
| ডেভিড ফিনচ এর পোস্ট থেকে, (ওপরে তাঁর নামে ক্লিক করলে মূল পোস্ট টি পাবেন) |
Subscribe to:
Posts (Atom)
জাপান টাউনে
মিতু আর অনু ছাড়া আজ ১১ দিন। ইন ফ্যাক্ট একেবারে একা বিদেশে পড়ে আছি সেটাও এই প্রথমবার। কমিকস এর মাস্টার্স প্রায় শেষ পর্যায়ে। ক্যালিফোর্নিয়া ক...
-
দীর্ঘ দশ মাস পর ২০১৮ সালের বিজ্ঞান বিভাগের নবম-দশম শ্রেণির ৫ টা (গণিত, উচ্চতর গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান) ও আর্টস ও কমার্স বি...
-
কমিকবুকের কাজ চলছে, আর সেটা করতে গিয়ে কিছু অদ্ভূত সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে আমাদের। যেমন- আমাদের 'সুপারহিরো' কেমন হবে?ল্যাঙ্গট পড়...
-
ইদানীং নিজের পাতা ফাঁদে নিজেই বারবার ধরা খাচ্ছি, আঁকান্তিস নামে যে গ্রুপটা খুলেছিলাম সেখানে সপ্তাহান্তে একটা কিছু কন্টেস্ট ডাকি (নিজেই)।...














