আরাফাত আর আমি আঁকি-লিখি। কমিক বুক এর কাজ চলছে। পরে আপডেট জানানো হবে, স্টে টিউন্ড...
March 22, 2012
March 19, 2012
March 14, 2012
March 11, 2012
Mr.Green
খুবই মজার একটা কাজ করলাম। আমার বন্ধু শৌনকের ছোট ভাই 'সৌহৃদ' নর্থ সাউথে পরিবেশবাদী একটা সংগঠনের সাথে আছে। তার কাজকর্মের অংশ হিসেবে তারা শিশুদের উদ্দেশ্যে একটা পরিবেশবাদী প্রচারণা চালাবে। এর অংশ হিসেবে তারা একটা বাচচাদের বই লিখে ফেলেছে। দারুণ সুন্দর একটা গল্প। সেদিন ফোন করে জিজ্ঞেস করল আমি টুকটাক কিছু এঁকে দিতে পারবো কি না। গল্পটা পড়ে রাজী হয়ে গেলাম (অনেকটা বাংলা সিনেমার নায়িকাদের স্কৃপ্ট পড়ে রাজী হবার মত- আমি আবার ভিন্নধর্মী স্কৃপ্ট ছাড়া কাজ করি না, ইদানীং বেছে বেছে কাজ করি)।
মাত্র তিনদিনে অফিসের কাজের ফাঁকে ফাঁকে করা। খেয়াল করলাম, এ ধরনের যে কোন বই আমার মাস খানেকের মত সময় লাগে। এইটায় সেই সময়টা না লাগার কারণ
১। গল্পটা মজার
২। একাধিক ক্যারেক্টার ডিজাইনের সুযোগ ছিলো
৩। MANGASTUDIO
তিন নাম্বারটার ভূমিকা এখানে সবচেয়ে বেশী আসলে। এই প্রথম পুরোটা ডিজিটালি একটানে নামানো। এই সফটওয়্যারটা আসলেই দারুণ!
মাত্র তিনদিনে অফিসের কাজের ফাঁকে ফাঁকে করা। খেয়াল করলাম, এ ধরনের যে কোন বই আমার মাস খানেকের মত সময় লাগে। এইটায় সেই সময়টা না লাগার কারণ
১। গল্পটা মজার
২। একাধিক ক্যারেক্টার ডিজাইনের সুযোগ ছিলো
৩। MANGASTUDIO
তিন নাম্বারটার ভূমিকা এখানে সবচেয়ে বেশী আসলে। এই প্রথম পুরোটা ডিজিটালি একটানে নামানো। এই সফটওয়্যারটা আসলেই দারুণ!
February 26, 2012
February 21, 2012
দোরায়মন, মুন্নীর বদনাম ও মোবাইলে বাংলা কি-প্যাড
আমি থাকি ঢাকার শহরতলী
মতন একটা জায়গায়। (জায়গাটির প্রমিত নাম ‘রূপনগর’ কথ্য নাম ‘বাড্ডা-নামাপাড়া’)।
এখানে আমি আছি আজ ১৭ বছর। অর্থাৎ নিজেকে এখানের স্থানীয় বলে দাবী করলে তার
বিরোধিতা করবার খুব বেশী লোক পাওয়া যাবে না। এতদিন এখানে থাকার কারণে এলাকায় অনেকের
সাথে বেশ ভাল সম্পর্ক হয়ে গেছে। গলি ধরে প্রতিদিন যখন বের হই নিদেনপক্ষে
গন্ডাচারেক মানুষের সাথে কুশল বিনিময় হয়। আর এলাকাটা এখনো সেই ‘মহল্লা’ ধরনের।
মানে কি না ‘আমগো মহল্লা’ ‘ওই পাড়াত্তে পোলাপান আইসিল’ ইত্যাদি এখনো বেশ শুনতে
পাওয়া যায়। এই সেদিনও বিলের মধ্যখানে এক বাড়িতে ডাকাত পরেছিলো (আমার ছোটবেলার
বন্ধু মুনিরের বাসায়) শুধু একটা ডাকের অপেক্ষা, পাড়া ভেঙ্গে সবাই লাঠিসোঁটা নিয়ে
উপস্থিত। ডাকাতেরা পালিয়ে রক্ষা পেল কোনমতে। অর্থাৎ আমাদের এখানে এখনো ‘সভ্যতা’
এসে ঢুকতে পারেনি। ছোটবেলা থেকে এই এলাকার প্রায় গোটা পঁচিশেক সমবয়েসী পোলাপান এর
সাথে (সংখ্যাটা আরো বেশী) আমি বড় হয়েছি। সেই দলের কেউ এখন বাস চালায়, কেউ মুদী
দোকানী, কেউ মহাস্থানগড় থেকে তরকারী কারওয়ানবাজার পাঠায়। সে যাই হোক, এত ভুমিকা
দেবার কারণ হল সেই রূপনগরে ইদানীং অনেক কিছুই ঠিক আগের মত মিলছে না। যেমন এখন অনেককেই
চিনি না। খেলার মাঠগুলি ডেভেলপারদের বালুর তোড়ে সাদা হয়ে যাচ্ছে, কয়েক হাজার
গার্মেন্ট কর্মীর চলাফেরায় মেঠো পথ আর অন্যান্য গলি তস্য গলি হয়ে থাকে নরক গুলজার।
আর সবচেয়ে বিরক্তিকর ঘটনার একটা হল হঠাৎ হঠাৎ কোন এক বাড়ির ভেতর থেকে বিকট স্বরে
বেজে ওঠা গান। ইদানীং এত এত ঘরবাড়ি উঠে গেছে যে সেই গান কোথায় বাজছে তা বের করতে
করতে সেটা থেমে যায়। বিশেষ করে কোন পালা পার্বণ হলে তো কথাই নেই। পাল্লা দিয়ে সবাই
বাজিয়ে যায়। সে এক ভয়ানক ব্যাপার। তবে
সেটার সবচেয়ে ভয়ানক দিকটা হল সেই গানের নব্বই ভাগই হিন্দী...। জানি সবাই বলবেন এ
আর নতুন কি? নতুন তখনই যখন সেটা বাজে সব উৎসব ও উপলক্ষ্যে। মানে গত ১৬ই ডিসেম্বর এ
একগাদা ‘পোলাপান’ হিন্দী গান ছেড়ে নাচছে এই দৃশ্য আমাকে আমার রূপনগরে দেখতে হয়েছে।
ঈদ, বিজয় দিবস, বিয়ে, ... আমি আতংকে ছিলাম এবার একুশে ফেব্রুয়ারিতেও এই ব্যাপার
ঘটবে। কপাল ভাল সেটা ঘটেনি। এখন এই গোটা ব্যাপারটাকে আমি কিভাবে দেখছি? মানে আমি
কি এখন ‘এই সময়’ এর দোষারোপ করব? যারা এটা করছিলো তাদের মুন্ডুপাত ঘটাব? নাকি কানে
তুলো গুঁজে কার্টুন এঁকে যাব? আসলে কি করব
সেটা না ভেবে আমি গত ১৬ই ডিসেম্বরেই যেটা করেছি সেটা হল সরাসরি যারা এটা বাজাচ্ছিলো
(১৫-১৮ বছরের কিছু-কানে ইয়ারফোন থুতনীতে দাঁড়ি) তাদের কাছে যাই। তাদেরকে জিজ্ঞেস
করি এটা তারা কেন করছে। তারা যে জবাবটা দেয় সেটার মধ্যে আসলে এই সমস্যার একটা দিক
পরিষ্কার হয়ে যায়। তারা বলে- বাংলা গানের এইরকম সিডি নাই। মানে যা শুনে মজা করে
নাচা যাবে। যেহেতু বিজয় আনন্দের, সেহেতু তারা আনন্দের গান ছেড়ে নাচতে চাচ্ছে। এটার
কি উত্তর দেব বুঝিনি, তবে তাদেরকে বুঝাতে সমর্থ হয়েছিলাম যে অন্য ভাষার গান বাজিয়ে
যাতে না নাচতে হয় সেজন্যেই আমরা যুদ্ধ করেছিলাম। তাৎক্ষণিকভাবে তারা গান বন্ধ করে
দিলেও আনন্দের মাঝে বাগড়া দেয়ায় নিজেরও খারাপ লাগছিলো। এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল ক’দিনের
মাঝেই, আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের একাধিক বন্ধুর বিয়েতে হিন্দী গানের সাথে গুঁড়ি,
বুড়ী, ধাড়ী সবাই মিলে ভুমিকম্প তুলে নাচানাচি করল। আমি উৎসবে নাচানাচির বিপক্ষে
না, কিন্তু যখন আমার আন্টি গোছের কেউ বা বন্ধুস্থানীয়রা ‘মুন্নী বদনাম হুয়ি’ গানের
সাথে কোমর দোলায় তখন ব্যপারটা পরাবাস্তব মনে হয়। এখন ‘এগুলো খারাপ’ ‘হিন্দী এসে সব
নষ্ট করে দিল’ ‘আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে’ ইত্যাদি সস্তা সংলাপ না ভেঁজে আমরা যদি
সমস্যার গোড়ায় তাকাই তাহলে দেখব সে পাড়ার
চ্যাংড়ার দল যা বলেছিল তা-ই ঠিক। আমাদের ‘জোশিলা’ গানের দুর্ভিক্ষ আছে। জানি বলবার
সাথে সাথেই একগাদা প্রগতিশীল পিউরিটান সচেতক (সচেতন-চেতী-লেখক) একটা লম্বা তালিকা
ফেঁদে বসবেন যে আমাদের কত কত ভাল গান আছে আমরা জানি না-ইত্যাদি। কিন্তু নির্মম
বাস্তবতা হল সে তালিকা যত লম্বাই হোক সেটা আমাদের এই সময়কে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। যে কোন উৎসবে
হিন্দী গান বাজাটা তারই প্রমাণ। অর্থাৎ সচেতনভাবে আমরা অবশ্যই বিজাতীয় সংস্কৃতি বর্জন
করব কিন্তু সেই সাথে এর একটা বিকল্পও আমাদের দিতে হবে। যেমন বিয়ের গান- এই সিরিজে
কি ঝিনচ্যাক বাংলা গান হতে পারে না? হাই-বিট, দ্রুত লয়, আধুনিক সাউন্ড সিস্টেমে? দেশের
সেরা ব্যান্ড দল, সেরা সোলো গায়ক গায়িকারা কি সেটা ভেবেছেন? আমি বিশ্বাস করি সেটা
মন দিয়ে করতে পারলে হিন্দী গান বাজানোর সংখ্যা কমতে বাধ্য। মাঝে কিন্তু অনেক বিয়ে
বাড়িতে হাবিব, মাকসুদ, ন্যান্সি এদের গান আমি নিজে শুনেছি। আমাদের অসাধারণ সব গায়ক
গায়িকারা বসে আছেন, ভেবে দেখুন- শুধু এইসব পালা পার্বণ উপলক্ষ্যে যদি আইয়ুব বাচচু,
যেমস, মাকসুদ, হামিন-শাফিন, সুমন, লিংকন, সুফী, মিরাজ, টুটুল ইত্যাদী তেজী গলার
গায়কেরা নতুন গানের এলবাম করেন? আর সেটার প্রচারণা করেন শুধুমাত্র এইসব বিশেষ দিবস
সামনে রেখেই? আশা করি তখন মুন্নীর সাথে নাচার লোক কমবে। সত্যি বলতে অন্যান্য
ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একই। ঘরে ঘরে সবাই হিন্দী সিরিয়াল দেখছে। আমাদের জ্ঞানী
গুণীরা দর্শকদের নিম্ন রুচীর কথা বলেই খালাস। কিন্তু তারা কি ‘উচচ রুচীর’ কোন নাটক
তাদের দিচ্ছেন যাতে দর্শক চ্যানেল ঘুরিয়ে দেশে ফিরবে? হালে ‘দোরায়মন’ কার্টুন নিয়ে
কথা উঠছে, সেটার ডাবিং হিন্দীতে হওয়ায় তার প্রভাব আরো ভয়ানক। বাচচারা খেতে বললে
জবাব দিচ্ছে- বাদ মে। কিন্তু এর দায় কি বাচচাটার? মানুষ যেটা সুবিধার যেটা আনন্দের
সেটাই গ্রহণ করে। তার জন্যে তাকে দোষ দেয়া যায় না। কিন্তু সেটাকে একটা পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণে
রাখা যায়। ‘দোরায়মন’ বা এমন অসাধারণ আরো কিছু কার্টুন কি আমরা কেউ বাংলায় ডাবিং
করার কথা ভেবেছি? যদি না ভেবে থাকি তো এটা নিয়ে কথা বলে লাভ নেই। আমাদের বুঝতে
হবে ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা মানে বছরে একটা দিন খালি পায়ে হাঁটা না। বা ফেইসবুক
স্ট্যাটাসে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো...’ লেখা না। এর মানে আসলেই ভাষার জন্যে
কিছু করা। আমরা যে যেখানে আছি সুযোগ থাকলে এ ধরণের কাজ আমরা শুরু করি।
(আমি এই ভাষা দিবসে কথা দিলাম এই বছর আমি
বাংলাদেশী কমিকস নিয়ে ঝাঁপ দেব, যদিও সেটা শূন্যে ঝাঁপ- তাও বাংলাদেশের শিশুরা যেন
দোরেমন পোকেমন বেন টেনের পাশাপাশি বাংলায় বাংলাদেশী কিছু কার্টুনচরিত্র পায় সে
জন্যে আমি আর কাউকে না পেলেও একাই কাজ করব।)
জানতে পেলাম সরকারও এ ব্যপারে কম করছেন না, হিন্দী সিরিয়াল বা দোরেমন বা
মুন্নীর দাপাদাপির জবাবে সমস্ত মোবাইল সেট এ বাংলা কি-প্যাড বসানো বাধ্যতামূলক করা
হয়েছে- সাধু! মানে কি না ভবিষ্যতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যখন হিন্দীতে এসএমএস
লিখবে তখন বাংলা দেখে দেখে কষ্ট করে টাইপ করতে হবে,
কেমন বোঝো?!
February 17, 2012
Subscribe to:
Posts (Atom)
জাপান টাউনে
মিতু আর অনু ছাড়া আজ ১১ দিন। ইন ফ্যাক্ট একেবারে একা বিদেশে পড়ে আছি সেটাও এই প্রথমবার। কমিকস এর মাস্টার্স প্রায় শেষ পর্যায়ে। ক্যালিফোর্নিয়া ক...
-
দীর্ঘ দশ মাস পর ২০১৮ সালের বিজ্ঞান বিভাগের নবম-দশম শ্রেণির ৫ টা (গণিত, উচ্চতর গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান) ও আর্টস ও কমার্স বি...
-
ইদানীং নিজের পাতা ফাঁদে নিজেই বারবার ধরা খাচ্ছি, আঁকান্তিস নামে যে গ্রুপটা খুলেছিলাম সেখানে সপ্তাহান্তে একটা কিছু কন্টেস্ট ডাকি (নিজেই)।...
-
কমিকবুকের কাজ চলছে, আর সেটা করতে গিয়ে কিছু অদ্ভূত সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে আমাদের। যেমন- আমাদের 'সুপারহিরো' কেমন হবে?ল্যাঙ্গট পড়...





















