February 02, 2012

কালার হারমোনি (রঙ সিরিজ-২)

এইবার আমরা হুইলের আসল কাজটা দেখি। মানে রঙ করার সময় এটা আসলে কি কাজে লাগে। একটা ছবি রঙ করার সময় আসলে মূল যে ব্যপারটা মাথায় আগে আনতে হবে সেটা হল ছবিটা কিসের? মানে সেটার 'ভাব'টা কী। সেটা কি আনন্দ? দুঃখ? ক্রোধ? লালসা? রঙ করার আগে আসলে সেটাই প্রথম কাজ। সেটা করার জন্যে কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। তার প্রধান কয়েকটা আমরা একটু দেখি,


COLOR HARMONY  (এখানে ক্লিক করে মুল সাইটটায় যেতে পারেন যেখান থেকে এই সব কিছু নেয়া)


Complementary Harmony বা উলটা হারমোনি  
হুইলের যেকোন রঙের সাথে যদি ঠিক তার উলটো দিকের রঙ নেয়া হয় তবে এই হারমোনি ঘটে।
সাধারণতঃ উজ্জ্বল, চড়া দাগের ভাব ধরতে এই প্যালেট টা ব্যবহার করা হয়

Analogous Harmony বা পাশাপাশি হারমোনি
হুইলের পাশাপাশি কমপক্ষে তিনটা রঙ নিয়ে যদি রঙ করা হয় তবে এটা ঘটবে।
নরম কোমল ভাবের ছবি- ল্যান্ডস্কেপ, স্বপ্নালু দৃশ্যপট ইত্যাদিতে এই প্যালেট বেশ কাজে দেয়
Triadic Harmony বা ত্রিভূজ হারমোনি-
এই ধরণের একটা সমবাহু ত্রিভূজ ভেবে নিয়ে যদি হুইল থেকে রঙ নেয়া হ।
এটা আর পরের Split complementary আসলে complementary' র মতই
তবে কম চড়া


Rectangle (tetradic) color Harmony বা বাক্স হারমোনি-
এ ক্ষেত্রে একই কাজ করা হয় একটা আয়তক্ষেত্র এঁকে
চিল্ড্রেন বুক এ বা কমিক্স এ এই রঙের প্রাধান্য দেখা যায়।
বেশ ঝলমলে একটা অনুভুতি আনে এই প্যালেটটা


Square color Harmony বা 
বর্গ হারমনি আসলে এ পর্যন্ত এসে আপনি বুঝে যাবেন যে কালার হুইলের ওপর
যে কোন একটা জ্যামিতিক অবয়ব ফেলে দিলেই সেটা কিছু একটা হয়ে যায়, আর রঙের সবচেয়ে
মজাদার জগৎ এখান থেকেই শুরু হবে কারণএখন আপনি নিজেই নিজের
মত করে বিভিন্ন হারমনিয়াস স্কিম বানাতে পারবেন।


পরের পোস্ট টা হবে রঙের উত্তাপ আর সাদা কালোর ভ্যালু নিয়ে। ততক্ষণ সাথেই থাকুন :)

_________________________
ডিস্ক্লেইমার- রঙ সম্পর্কে আমি নাদান ব্যক্তি। তাও যা জানি এ পর্যন্ত তা সবার সাথে না বলে থাকতে পারছি না, কেউ যদি কোন ভুল ধরিয়ে দেন বা নতুন কিছু যোগ করে(ন) তাহলে খুবই খুশী হব।

February 01, 2012

রঙ চাক্কি (Color Wheel)-১

আমি কালার হুইল কখনই বুঝতাম না ( তার মানে এখন যে বুঝি তাও না-Disclaimer 1)। যতবারই আস্তিন গুটিয়ে বসেছি-হুঁহুঁ বাবা, এইবার বুঝেই ছাড়ব- ততবারই একটা সময়ে এসে তালগোল পাকিয়ে যেত। প্রাইমারি কালার ক্যান ক্যাট ক্যাট করে, টারশিয়ারি কালার কেন ম্যাদ ম্যদা- ইত্যাদি না বুঝেই বছরের পর বছর রঙ করে গেছি। তার ফলে কখনই রঙ করাটা হাতে আসে নাই (তার মানে এখন যে আসে তাও না-Disclaimer 2) । অনেক মন মিশায়ে রঙ করার পরেও প্রকাশক বলতেন- আরিট্টু 'উজ্জ্বল' করা যায় না? সম্পাদক বলেন- 'এইরম মরা কালার ক্যান?' আমিও আসলে সেটা টের পেতাম। এবং অনেক ভেবে চিনতে আবারো সেই কালার হুইল নিয়ে বসতাম, কিন্তু সত্যি বলতে থিওরির ভীড়ে খালি ডুবেই যেতাম, বুঝতাম না (আবার Disclaimer 1 হবে)। যাই হোক। অবশেষে ব্যপারটা বোঝা শুরু করি সব্যদা (সব্যসাচী মিস্ত্রী) দ্যা গ্রেইট এর কাছে। গ্রাফার CONCEPT ART কর্মশালায় সব্যদা আধা ঘন্টার মধ্যে ব্যাপারটা বুঝায়ে হাত নেড়ে বল্লেন-'শিইম্পল খুব শিম্পল'- আসলেও ব্যপারটা শিম্পলই। অন্ততঃ এই মুহূর্তে আমি যেভাবে বুঝি। তো এইবেলা 'শিম্পলি' সেটা সবার সাথে ভাগ করে নেয়া যাক।




প্রথমে মৌলিক তিনটা রং-লাল, নীল, হলুদ। ইংরেজীতে Cyan, Magenta, Yellow মানে কি না CMYK এর C M আর  Y.    k বা BLACK * আসলে কোন রঙ না- এটা আসলে অন্ধকার বা আলোর অনুপস্থিতি। এই CMY রঙ তিনটাকে বলা হয় মৌলিক রঙ বা Primary Color


এবারে আমরা যদি পাশাপাশি দুটো কালার মেশানো শুরু করি- অর্থাৎ লাল-হলুদ, লাল-নীল, নীল-হলুদ, তবে আমরা আরো তিনটা নতুন রঙ পাব। এই তিনটা যথাক্রমে কমলা, বেগুনী আর সবুজ। যেহেতু এদেরকে প্রাইমারি বা মৌলিক রঙ মিশিয়ে পেতে হয়েছে তাই এদের নাম  সেকেন্ডারি রঙ


একইভাবে আমরা যদি আবার পাশাপাশি দুট করে রঙ মিশিয়ে নতুন আরো রঙ বানাতে থাকি তবে সেটা হবে এইরকম- এবং এদের বলা যায় টারশিয়ারি রঙ (কেউ কি সেকেন্ডারি, আর টারশিয়ারির ভাল বাংলা জানেন?)


একইভাবে ব্যপারটা উপর্যুপরি করে গেলে তা অনেকটা এমন রঙধনুর রুপ নেবে, আর এটাই আসলে কালার হুইল। বলা হয় এখানে প্রায় ১৬ বিলিয়ন রঙ পাওয়া সম্ভব। (এখানে একটা ব্যপার মনে রাখা ভাল- এই বৃত্তের রঙ্গগুলো একেবারে খাঁটি রং, একে বলে HUE। এর সাথে সাদা আর কালো মিশিয়ে এবার অন্যান্য 'শেড' তৈরি করা হবে)





আর সেই ১৬ বিলিয়ন রঙ পেতে  হলে পরের ধাপটা বুঝতে হবে।

 TINT SHADE TONE
মনে করুন এই রঙের বৃত্তের ঠিক মাঝখানে রাখা হল কালো কালি। আর তার চারিদিকে রাখা হল সাদা রঙ। এবারে ক্রমান্বয়ে প্রতিটা রঙ যদি দু'পাশে ছড়িয়ে দেয়া হয় অর্থাৎ ভিতরের দিকে যত ছড়ানো হবে তত এতে কালো কালি মিশতে থাকবে আর চারিদিকে যত ছড়ানো হবে তত মিশবে সাদা রঙ। তাহলে ব্যাপারটা অনেকটা এমন দাঁড়াবে।





খেয়াল করুন এবার একই রঙের (HUE) সাথে শুধু সাদা আর কালো মিশিয়ে অসংখ্য রঙ তৈরি হচ্ছে।  এমন করে যত কালো মেশানো হবে তত বলা হবে এর TONE বাড়ছে, যত সাদা মিলবে তত বলা যাবে রঙ TINT এর দিকে যাচ্ছে। আর ধুসর রঙ মিশানো হলে সেটা যেদিকে যাবে তার নাম SHADE. নিচে ব্যাপারটা সহজে বুঝবার চেষ্টা করা যাক।




এই কালার হুইল যে কোন মাধ্যমের জন্য সত্য। আপনি জল রঙ তেল রঙ পোস্টার এক্রিলিক যাই করেন কথা একই। এটা রঙের একেবারে প্রাথমিক ব্যকরণ।

এবারে ডিজিটাল আর্টিস্টদের মধ্যে যারা ফটোশপএ রঙ করেন তাদের জন্যে কিছু কথা। এখানে আপনি কিছু অদ্ভুত ব্যাপার দেখবেন যেমন- এখানের হুইলটা লম্বা একটা ফিতার মত (আমি জানি না কেন)আমি এখানে পাশে সেটা গোল করে এঁকে দেখালাম। আর এখানে আপনি TINT SHADE TONE এর একটা চারকোণা বাক্স পাবেন(COREL groupএর সফটোয়্যার এ এটা একটা ত্রিভূজাকারে থাকে সেটা বোঝা আরো সহজ)। যার ওপরের ডান কোণায় HUE বা সবথেকে উজ্জ্বল, ক্যাটক্যাটা, ব্রাইট বা খাঁটি রঙ। বামের কোণাকুণি গেলে সাদা মিশতে থাকবে অর্থাৎ TINT . বামের নিচের কোণায় যেতে থাকলে ধুসর রঙ মিশতে থাকবে- SHADE আর ডান দিকের নিচের কোণায় মিশবে কালো, মানে -TONE





খবরের কাগজে যারা কাজ করেন, অর্থাৎ নিউজপ্রিন্ট কাগজে যাদের আঁকা ছাপা হয় তাদের জন্যে ছোট্ট একটা থাম্ব রুল- এই ফটোশপ বাক্সটাকে চারভাগে ভাগ করলে বাম দিকের ওপরের আর ডান দিকের নিচের বাক্স থেকে রঙ করাই ভালো। মাঝে মাঝে ডান দিকের ওপরেরটা ব্যবহার করতে পারেন। আমাদের দেশী নিউজপ্রিন্ট এর ছাপায় এটা ভাল ফল দেয়।
(পরের পর্বে কালার হারমোনি নিয়ে বলা হবে-ততক্ষণ আমাদের সাথেই থাকুন)
________________________________
*BLACK কে K দিয়ে লেখা হয় দুটো কারণে ১. B দিয়ে BLUE ও হতে পারে ২. প্রেস এ চার রঙের প্লেট মেলানোর সময় কালো প্লেট টাকে KEY registration কালার ধরা হয়- এজন্যে K

January 16, 2012

অহংকারী পৃথিবীর গল্প

ধ্রুব এষের লেখা ছোটোদের একটা বই আঁকি, এই বইমেলায় আসবে। করতে খবর হয়ে যাচ্ছে...


January 11, 2012

আমার বিলাই ধইরা কিলাই

আমার একটা বিড়াল আছে যে জন্মুসূত্রে আমার বাসার নাগরিক। এবং সে বিশ্বাস করে যে, আমরা তাকে পুষি। এবং সে আরো বিশ্বাস করে যে, আমি তার মনিব। (অহিংস ও সহিংস দুইভাবেই তার এই ভুল ভাঙ্গানোর চেষ্টা করা হয়েছে- কাজ হয়নি) তার দিনের তিনভাগের দুইভাগ সময় সে ঠিক যেই সব জায়গায় ঘুমালে আমার মেজাজ তিরিক্ষি হবে (আমার ব্যাগ, আমি না থাকামাত্রই আমার চেয়ার, আমার স্যুয়েটার, কম্বল, সর্বত্র সে তার পৌনঃপুনিক ভাগের মত শেষ না হতে চাওয়া পাতাঝরা লোমের নিদর্শন ছড়িয়ে যায়) সে সব জায়গায় এমন ভাবে ঘুমায় যেন আমি-ই তার আশ্রিত। এবং বাকি একভাগ সময় সে পৃথিবীর সর্বোচচ বিরক্তিকর মিয়াঁও, ইঁয়্যাও, ঙ্গাঁওও এমন কী মাঝে মাঝে 'ঘ্র্যাঁও' ধরণের শব্দের চর্চা করে । ত্যাক্ত হয়ে কিছু খাবার দিলে সেটা কিছুক্ষণের জন্যে থামে। সবশেষে রাত ঘনালে সে পাড়ায় মাস্তানি করতে বের হয়। তার আগে আমার পড়ার টেবিলে উঠে কতভাবে সে তার শরীর বাঁকাতে পারে তার একটা এক্রোব্যাটিক শো করে, পন্ডিতমশাইয়ের মত-ক্ষণে হেথায়, ক্ষণে হোথায়- চুলকায়। 

সেদিন সে সব ভঙ্গীর কিছু খাতায় টুকে নিয়েছিলাম, তারই কিছু-

রস+আলো প্রচ্ছদ ২০১২

গত দুই মাসে আমার আঁকাআঁকির পদ্ধতি পাল্টেছে। এখন প্রায় পুরোটাই ডিজিটালি করা হচ্ছে। আঁকতে আগ্রহী বা এঁকে যাচ্ছেন এমন অনেকেই আমাকে মাঝে মাঝে প্রশ্ন করেন আমি ফটোশপ কত তে কাজ করি, বা আমার কি সিনটিক আছে কি না। আসলে আর্টওয়ার্কের ক্ষেত্রে এগুলো নিতান্তই তুচ্ছ বিষয়,এ সবই আসলে কিছু 'টুল' পৃথিবীর সেরা টুল নিয়ে বসে থাকলেও যদি আঁকতে না জানেন তাহলে লাভ নেই আর জানলে একটা বলপেন দিয়েই সব করা যায় (সেদিন পৃথিবী বিখ্যাত ক্যারিক্যাচারিস্ট JASON SEILER এর একটা ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখলাম, সেটাতে দেখলাম উনি শুধু একটা বলপেনন দিয়েই আঁকেন, আঁকতে আঁকতে তিনি বলছেন- this tool is really nice, u can even create different grades just with your pressure control) খাতা কলমে আঁকার সাথে ডিজিটালের পার্থক্য আমার কাছে লাগে মূলতঃ দুইটা জায়গায়-
১। এটা অনেক দ্রুত 
২। এতে একই কাজের ওপর অনেক এক্স পেরিমেন্ট করা যায় মুল আর্টওয়ার্ক ঠিক রেখেই।

(আর হ্যাঁ অতি অবশ্যই- আনডু) এ ছাড়া বাকি সব কিন্তু একই। যাই হোক, ইদানীং যেভাবে আঁকছি তা শেয়ার করার জন্যে নিচের স্ক্রিনশটগুলি তুলে দিলাম। এখন দুইটা আলাদা সফটোয়্যার এ কাজ করছি। MANGASTUDIO EX4- এটাতে ড্রয়িং করি, আর PHOTOSHOP CS এ কালার


মাঙ্গাস্টুডিও- পেনসিলিং শুরু, একশন লাইন

আঁকা শুরু- থাম্বনেইলিং




মোটামুটিভাবে রাফ লাইন ঠিক করা
শিয়াল স্টাডি- এই কাজটা আগে করতাম না। কিন্তু এটা ছাড়া কাজ করা ঠিক না, যা আঁকছি তা আসলে দেখতে কেমন গুগল থাকতে সেটা না দেখাটা বোকামী

অন্য লেয়ার এ ইংকিং শুরু- মাঙ্গার নিব পেনগুলি অসাধারণ!


ইংকিং মোটামুটি ডান
কুমীরের বাচচা কালারিং (গুগলিং করে রিয়েল কুমীরের বাচচা থেকে রঙ নিয়ে আঁকা, খেয়াল করুন রঙ্গটা কিন্তু সবুজাভ দেখালেও আসলে হউদের সাথে গ্রে'র মিশ্রণ)

মোটামুটি ডান


January 08, 2012

আঁকান্তিস স্কেচ বুকিং


রমনা পার্ক এ গিয়েছিলাম আঁআন্তিসে স্কেচ সেশন এ , সেখান থেকে আঁকা, এই স্কেচিং সেশন খুবঅই জমে উঠেছে ইদানীং। রীতিমতন উপভোগ করছি! আশা করি এইবার এই সেশন থেকে আরো কিছু কমপ্লিট কাজ নামানো যাবে।

জাপান টাউনে

 মিতু আর অনু ছাড়া আজ ১১ দিন। ইন ফ্যাক্ট একেবারে একা বিদেশে পড়ে আছি সেটাও এই প্রথমবার। কমিকস এর মাস্টার্স প্রায় শেষ পর্যায়ে। ক্যালিফোর্নিয়া ক...