March 29, 2013

কমিক্স চলেঃ অগ্নিনাগা

নিহিলিন ক্লাব সিরিজের নতুন কমিক্স চলছে



March 13, 2013

আমার কমিক্স: স্ন্যাপশটস

শো একশাইটেড

মীনপিশাচঃ আমার প্রথম কমিক্স!

এইটা নিয়া বিরাট পোস্ট দেবার ইচ্ছা আছে। ঢাকা কমিক্স থেকে আমার প্রথম কমিক্স বের হল এই বছর, থ্যাংক ইউ ঢাকা কমিক্স (ইমোশনাল কান্না)নীচে কমিক্স করার প্রথম ধাপ- থাম্বনেইলিং এর থেকে এক পাতা

March 09, 2013

কমিক্স আঁকিং-সনাতনী পদ্ধতি

সম্প্রতি কিছু আঁকিয়ে সহযোদ্ধা মিলে গোটা চারেক কমিক্স প্রকাশ করার পরে অনেকেই কিভাবে কমিক্স আঁকা যায় (কারিগরি দিক) মানে কী কলম কী কাগজ কোন কালি ইত্যাদি জানতে চেয়েছেন। যখনি আমরা বলি যে আমরা ব্যাপারটা 'ডিজিটালি' করি তখনি বেশীরভাগ মানুষ বলে- 'ও, তাই বলেন' ভাবখানা এই যে ডিজিটালি করা মানে মনিটরে ফুঁ দিলেই হয়ে যাওয়া। আমি আবারো বলছি ডিজিটাল পদ্ধতি বা কম্পিউটারের সাহায্য নেয়া আপনার সময় বাঁচাবে, আঁকা আপনাকে সেই হাতেই করতে হবে। সেটা পেন্সিলেও যা ওয়াকম বা মাউসেও তা। বেসিক আঁকাআঁকি না জানলে কোন লাভ নাই। ক'দিন আগে আঁকান্তিসের একজন সদস্য জানতে চান ডিজিটাল ছাড়া ট্রাডিশনালি কিভাবে কমিক্স আঁকা যায়। এই পোস্ট মূলতঃ তাকে উদ্দেশ্য করেই। অনেকদিন পর আবার সেই কালি কলমে আঁকলাম। এটা একটা স্যাম্পল পেইজ। এতে যা যা ব্যবহার করা হয়েছে তা বাংলাদেশের যে কোন স্টেশনারি এন্ড লাইব্রেরির দোকানেই পাওয়া যাবে। আশা করি এই পোস্ট দেখার পর ট্রাডিশনাল মিডিয়াতে আঁকাটা সবার কাছে আগের চে' সহজ লাগবে।
বাঁ থেকে চার নম্বুরি তুলি, একটা ইকোনো ডিএক্স কলম, ছয় নম্বর তুলি, একটা রেড লিফ মার্কার একটা তিরিশ টাকা দামের হিরো কম্পানীর কালি (অন্য যে কোন তরল কালি-ই চলবে, কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব ইংকজেট প্রিন্টারের ফেলে দেয়া কালি ব্যবহার করেন)

কাগজ- আর্টপেপার (আট টাকা করে প্রতিটি, চাইলে অন্য যে কোন অফসেট পেপারও হবে, একটু মোটা কাগজ হলে ভালো কারণ রাবারের ঘষাঘষি লাগতে পারে বেশ কিছু) একটু বড় করে কেটে নেয়া হয়েছে। মাপ নির্ভর করে কোন মাপে ছাপা হবে তার ওপর। এখানে অনুপাত ছিল ৮X১০

(আসল জিনিস দুইটা ভুলে দেয়া হয় নাই, একটা রাবার-নন ডাস্ট হলে ভালো-আর একটা ফোর বি পেন্সিল)



এবারে কমিক্সের পেইজে কি আঁকা হবে সেটা একটু ছোট করে এঁকে নিয়ে নিজে বুঝে নেয়া ভালো, এটাকে বলে থাম্বনেইলিং। সোজা কথা রাফ করে নেয়া।
রাফ থেকে আইডিয়া নিয়ে পেইজে পেন্সিলে হাল্কা করে ড্রয়িং শুরু করলাম

পরের ধাপে আরেকটু ডিটেইল করা (খেয়াল করুন আঁকতে আঁকতে শেষের লোকটার চেহারা পালটে দিয়েছি, কারণ এইটা বেশী জমছে)



ইঙ্কিং এর প্রথম ধাপ=আউটলাইন, আমি সাড়ে তিনটাকা দামের ইকোনো বলপেন দিয়ে এটা এঁকেছি, আমার দেখা সবচেয়ে মজার কলম।

মার্কার দিয়ে বর্ডার আঁকলাম মোটা করেঃ স্কেল ও মার্কার সাইনপেন সহযোগে
ইরেজার দিয়ে পেন্সিলের দাগ মোছা হল

 খেয়াল করুন কোথায় কোথায় কালো করব সেটা আগেই আউটলাইন দিয়ে আলাদা করে রেখেছি।

এবারে সেই বরাবর চার নম্বর আর ছয় নম্বর তুলি মিলিয়ে 'হিরো' কালি দিয়ে খালি কালো করা

কালি চলছে

ম্যানুয়াল জুম আউটঃ কাজের ফাঁকে ফাঁকে আমি মাঝে মাঝেই গোটা পেইজটা মেঝেতে ছুঁড়ে দেই, এতে দূর থেকে পুরো জিনিসটা দেখতে কেমন সেটা বোঝা যায়। এটা পেন্সিলিং এ ধাপ থকে করাই ভালো।

এবার আবার সেই ইকোনো দিয়ে কিছু টেক্সচার বানাচ্ছি।



আমি সাধারণতঃ পুরো কালি শেষ করে তারপর মনমত কলমে টেক্সচার দেই

পুরো পেইজঃ টেক্সট বক্স সহ

শেষ কাজঃ কোন একটা সাদা রঙ (ফ্লুইড, পোস্টার কালার বা গোয়াশ) দিয়ে এবারে কালোর ওপর সাদা টেক্সচার আঁকা, এখানে বরফের কণা আর বাতাসের ডিরেকশন লাইন আঁকা হচ্ছে।
পেইজঃ সম্পূর্ণ ঘরে বানানো কোন রকম মেশিনের সাহায্য ছাড়াই তৈরী (শুধু মাঝের ফ্রেমটা এম্নি-ই একটু শ্রিংক করতে ইচ্ছে হল ফটোশপ এ)

সুতরাং একেবারে অতিসাধারণ সব সরঞ্জাম দিয়েই আপনি আপনার কমিক্স বা কার্টুন আঁকা শুরু করতে পারেন, কোন কম্পিউটার দরকার নাই, পৃথীবির অসংখ্য যুগান্তকারি কমিক্স শুধু হাতেই আঁকা হয়েছে। রংটাও ওয়াটার কালার বা পেন্সিল বা পোস্টার যা খুশী আপনার করে নিতে পারেন (পারলে এটার একটা জল রঙ সংস্করণ পোস্ট দিবো)

সবশেষে বাজে রেজোলিউশনের ফটোগুলির জন্যে আন্তরিকভাবে দুঃখিত, মোবাইলের ক্যামেরাটা ভালো না।