October 30, 2012

করোটি

এতদিন গোটা মানবদেহ নিয়ে মোটামুটি একটা ধারনা করা হলেও একেবারে আসল অংশটাতেই আমরা সেভাবে মনোযোগ দেই নি, সেটা হল মাথা। ভেঙ্গে বললে করোটি ও চোয়াল। যে কোন মেরুদন্ডী প্রানীর মাথা মূলতঃ দুই ভাগে বিভক্ত। করোটি (খুলি) আর চোয়াল। মাথার মধ্যে শুধু এই চোয়ালটাই নড়ে। করোটি ও চোয়ালের ব্যপারটা একবার বুঝে ফেললে যে কোন এক্সপ্রেশন আঁকা অনেক সহজ হয়ে যায়

October 28, 2012

সোজা বনাম বাঁকা লাইন

মানব দেহে (এবং আর অনেক পশুপাখী গাছ পালায়) একটা দারুন ছন্দ পাওয়া যায়। সেটা হল সোজা আর বাঁকার ছন্দ। ব্যপারটা খুবই সহজ, কোথাও একটা সোজা লাইন থাকলে তার ঠিক উলটো দিকটা হবে বাঁকা। এই সোজা বাঁকার (straight vs curve) ব্যকরণ শুনতে অনেক সহজ মনে হলেও এই একটি ব্যপারই প্রকৃতিতে অসামান্য কিছু ডিজাইন তৈরী করেছে। এখানে আমরা আপাতত মোটা দাগে মানবদেহের সেই ছন্দটা বোঝার চেষ্টা করি
পাশ থেকে দেখলে মানবদেহের সোজা বাঁকার ব্যপারটা এভাবে ব্যাখ্যা করা যায়, একটা সোজা একটা বাঁকা, তবে সোজা মানে একেবারে স্কেল বসিয়ে টানা লাইন না, ব্যপারটা হল আর ঠিক উলটো দিকের থেকে সেটা 'তুলনামূলক সোজা'

শুধু পা
শুধু হাত


October 27, 2012

হাড়ের জোড়া

এনাটমির মাসল টাসল বোঝার আগে আমাদের আগে ভেতরের হাড়্গুলির সংযোগ বুঝে নেয়াটা জরুরী। কারণ তার ওপরেই নির্ভর করবে যে মাসলগুলি কিভাবে নড়াচড়া করবে। মোটা দাগে দেখলে দুই ধরনের হাড়ের সংযোগ দেখা যায়। একটা হল বল-সকেট (একটা বল যদি একটা তার চেয়ে একটু বড় গর্তের মধ্যে ঘুরতে থাকে) আরেকটা হল হিঞ্জ বা কব্জা (দরজা জানালার কব্জা যেভাবে কাজ করে)। বল- সকেটের সংযোগটা অনেক ফ্রি ভাবে ঘোরানো যায়। এর উদাহরণ হল আমাদের কাঁধ থেকে বাহু যেখানে শুরু সেখানে অথবা কোমড়ের যেখান থেকে পা নামলো সেখানে। এই দুটো সংযোগ কিন্তু অনেক ভাবে অনেক দিকে ঘোরানো যায় এই সংযোগের কারণেই।
বল-সকেট সংযোগ

এদিক ঠিক তার পরের সংযোগটাই আবার কব্জার মত হয়ে থাকে। যেমন কনুই বা হাঁটু। খেয়াল করুন, এই সংযোগের হাড় মোটামুটি ১৮০ ডিগ্রি ঘোরানো যায়, তারপর আটকে যায়। যেন উল্টো দিক থেকে কিছু একটা দিয়ে হাড়গুলো বেঁধে দেয়া আছে।পরবর্তীতে আমরা মাসলের দুনিয়ায় যত যাই করি না কেন এই সংযোগ কোনটা কেমন তা মাথায় রেখেই তা করতে হবে। না হলে সেটা 'হবে না'।
কব্জা বা হিঞ্জ সংযোগ
মানুষের (ও আরো কিছু প্রাণীর) কনুইএর সংযোগটা একটু অদ্ভুত টাইপ, এখানে একই সাথে বল-সকেট আর কব্জা দুই-ই আছে। নীচের প্রথম ছবিটা দেখুন।কনুই থেকে কব্জা সংযোগে একটা হাড় নেমে গেছে সোজা কনিষ্ঠা আঙ্গুলের দিকে। ঠিক তারপরেই আরেকটা হাড় একটু বেঁকে নেমে এসে কব্জিতে পরিণত হল। এই দ্বিতীয় হাড়টার সংযোগ বল-সকেট। এর কারণেই আমরা আমাদের কবজি ঘোরাতে পারি। ঘোরে মূলতঃ এই দ্বিতীয় হাড়টাই (এটার নাম রেডিয়াস, আগেরটা এলনা)। থাবা ওয়ালা পশুদেরও (বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক) এই হাড়টা থাকে। খুরওয়ালাদের (ঘোড়া, গরু, ছাগল)  ক্ষেত্রে এ দুটো মিশে যায়, তারা হাত ঘোরাতে পারে না।

October 07, 2012

বল সিলিন্ডার

এবারে আমরা আরেক ধাপ সামনে যাই। যেই কাঠি মানুষটা এদ্দিন এঁকে এলাম সেটায় কিছু 'পদার্থ' যোগ করি। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ পথ হল কাঠিটা মাঝে রেখে চারিদিকে পাইপ বা সিলিন্ডার আকৃতি যোগ করা। আরো ভালো ভাবে বলতে গেলে একটা পাইপ তারপর একটা সিলিন্ডার, তারপর আবার পাইপ ইত্যাদি করে করে আগানো। মজার ব্যাপার হল সেভাবে হিউম্যান ফিগার ব্যাখ্যা করা আসলে অনেক সহজ। তবে ত্রিমাত্রিকভাবে পাইপ আঁকাটাই একটা সমস্যা। এর জন্যে শুধু সিলিন্ডারটা বিভিন্নভাবে আঁকার প্র্যাকটিস করাটা অনেক জরুরী। বাসায় কোন পাইপ ধরনের কিছু থাকলে (অথবা পানি খাবার গ্লাস) সেটা সামনে নিয়ে বিভিন্ন ভাবে স্টাডি করা যেতে পারে। সবচেয়ে ভালো হয় দুইটা সিলিন্ডার আকৃতির কিছু একটার সাথে আরেকটা বিভিন্ন ভাবে রেখে আঁকলে (নিচের ছবি দ্রষ্টব্য)। এভাবে শুধু বল আর সিলিন্ডার দিয়ে মানুষের ফিগার আঁকার প্র্যাক্টিস অনেক কাজে দেয়। এই পর্যায়টা যত ভালয়াভবে বোঝা যাবে পরে গিয়ে কাজ তত সহজ হবে। অনেক এডভান্সড লেভেলের আর্টিস্ট দেরো দেখা যায় বল-সিলিন্ডারে ঘাপলা থেকে যায়। তাই এই স্টেজটা অনেক জরুরী।
এবারে আরেকটু ব্যাখ্যা করলে দেক্ষা যাবে সিলিন্ডারগুলি নিচের দিকে ধীরে ধীরে সরু হয়ে যায়- মানে হাত ও পায়ের ক্ষেত্রে। আর আমরা যদি মিনিমাম 'মাসল' এর একটা ধারনা দিতে চাই তাহলে সেটা সেই আগের ফর্মুলাতেই দেয়া যায়। বল-সিলিন্ডার।
আমাদের একেবারে প্রথমে দেখা সেই বুকের খাঁচা আর কোমড় এর মাঝে আরেকতা ব্যপার পুরে দেয়া যাক। সেটা হল-পেট। পেট টা আসলে এই দুইয়ের ফাঁকে ঝুলে থাকে। অর্থাৎ সেটা শুরু হবে বুকের খাঁচা যেখানে শেষ সেখান থেকে আর শেষ হবে কোমড় যেখানে শুরু সেখানে।

মানুষের ফিগারে আসলে এ ধরনের দুটো ধরন পাওয়া যায়। একটা শক্ত আরেকটা নরম। এবং সাধারণত একটা শক্ত পার্টের পরেরটাই নরম হয় (সেটা না হলে শক্তি অংশগুলি নড়তে পারতো না) সহজে বোঝা যায় এভাবে- মনে করুন একটা চটের বস্তার দু' পাশে দূটো ইট পোরা। এবারে যদি ইট গুলি যথেচ্চ ভাবে নড়াচড়া করে তাহলে চটের থলেটার যে অবস্থা হবে। মাঝের অংশে বারবার ভাঁজ পড়তে থাকবে। আমরা পরে গিয়ে এই ব্যাপারে আরেকটু ভালভাবে বুঝবো।


ওপরের গুলি প্র্যাকটিস করার পর, এবারে সব মিলিয়ে আমরা স্টিক ফিগারের এই আপগ্রেড ভার্সনটায় হাত দিতে পারি। এদ্দুর আসতে পারলে আসলে আর চিন্তা নাই। এর পরের কাজ শুধু এর ওপর পলেস্তারা বসানো। সেটা আমরা পারবো।

শেষে জন বুশে'মার আঁকা একটা স্পাইডারম্যান দেয়া হল। আমরা কিন্তু ইতিমধ্যে এই ড্রয়িং এর দ্বিতীয় ধাপে চলে এসেছি। পরের ধাপ পরের পোস্টে- ততক্ষণ আমাদের সঙ্গেই থাকুন।

October 06, 2012

হাড্ডিগুড্ডি- ৩

এই পর্যায়ে এসে কিছু রেফারেন্স দেখে নেয়া ভাল। আমি যে সব বই ঘেঁটেছি তার মধ্যে এন্ড্রু লুমিস কে আমার সবচেয়ে সহজবোধ্য মনে হয়েছে। তাঁর Figure Drawing for all it's worth থেকে আমাদের হাড্ডিগুড্ডি শেখার এই ধাপের সাথে সম্পর্কিত কয়েক পৃষ্ঠা তুলে দিলাম। আগ্রহীগণ বইটা নামিয়ে নিয়ে পড়তে পারেন। আর কোনভাবে ধৈর্য ধরে সেটা পড়ে ফেললে এই ... টাইপ পোস্ট আর না পড়লেও চলবে।




October 05, 2012

হাড্ডিগুড্ডি-২

এবারে আগের পোস্টে কঙ্কাল মানুষটাকে নাড়াচাড়া করানো। তার আগে একটা ব্যপার ভালো মত বোঝা দরকার, সেটা হল বুকের খাঁচা বা কোমর দুটাই আসলে ত্রিমাত্রিক। মানে সেটার একটা আয়তন আছে। এই দুটা ফর্ম তাই আলাদা করে বিভিন্ন ভাবে ত্রিমাত্রিক ভাবে আঁকার প্র্যাক্টিস করা দরকার। সেই সাথে যদি মাথার পার্ট কিছুটা (শুধু খুলি, চোয়াল না) আঁকা যায় তবে মজা আরো জমে। প্রথম ছবিতে শুধু রিব কেইজ বা বুকের খাঁচা বার বার বিভিন্নভাবে আঁকা হল, আর পরেরটায় কোমর।



খেয়াল করুন, কোমর মোটামুটি সুপারম্যন প্যান্টের ওপর যেটা পরে সেটার মতই। সেটার দুই পাশে দুই ছিদ্র বরাবর পা নামে। এবং পায়ের হাড় একেবারে সোজাসুজি না নেমে ভেতরের দিকে বেঁকে থাকে। এই নিয়ে মাস্কুলেচার পর্বে আমরা আরো ডিটেইলে এই দারুণ জিনিসটা দেখব। আপাতত ছবির মত করে পায়ের হাড় এভাবে একটু ভেতরের দিকে নামান।

গোটাটা এবারে একসাথে আঁকা- যতভাবে সম্ভব।

এভাবে আঁকতে থাকুন। পরের পোস্টে আরো মজা আসছে।

October 04, 2012

হাড্ডিগুড্ডি-১

মানুষের ফিগার 'ঠিকভাবে' যারা আঁকতে চান এবং সেই উদ্দেশ্যে যারা কোন না কোন এনাটমির সফট বা হার্ড ভার্সনের  বই খুলে বসেছিলেন এই ভেবে যে- এইবার যাবি কই- তারা নিশ্চিত দু এক পাতা উল্টানোর পরেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে সেই চেষ্টা বাদ দিয়েছেন? কারণ সেই বই অসম্ভব দূর্বোধ্য ও জটিল সব মাসকুলেচারে একাকার। দেখতে ভাল লাগে কিন্তু ওই বই কপি করতে হলে রবার্ট ব্রুসের ধৈর্য দরকার (সেটা থাকলে আর আঁকতে আসছি কেন?)। যাই হোক, অন্যদের কথা জানি না কিন্তু আমি এই ধরনের একটা বিতিকিচ্ছিরি অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছি। ইন্টারনেট যুগের আগে তো চাইলেও তেমন কোন বইয়ের খোঁজ পাওয়া সম্ভব ছিলো না। সে সময় আমি চারুকলার লাইব্রেরি থেকে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে প্রাচীন এক কম্পলিট ব্রিজম্যান জোগাড় করে নীলক্ষেতে থেকে ফটোকপি করে নিয়েছিলাম, সেই জিনিস আমার মাথার ওপর দিয়ে গেছে অনেকটাই (ব্রিজম্যান যথেষ্ট এডভান্সড লেভেলের বই, চারুকলায় প্রথমেই এনাটমির জন্যে কেন এইটা দেয় সেটা ভেবে পরে অবাক হয়েছি)। পরে ইন্টারনেটের কল্যাণে অসংখ্য এনাটমির ওপরে লেখা বই পরার সৌভাগ্য হয়েছে। সেগুলো পড়ে যেটা বুঝেছি তা হল, বইয়ের সব কিছু অত জরুরী না আসলে, পাতা ভরার জন্যেও অনেকে হাবিজাবি লিখে দেয়। অনেক অকারণে জটিল করে. এ সব কিছু ঘেঁটেঘুঁটে অনেক কষ্টে টুক টাক শিখলেও কেন যেন মনমত করে বুঝতে পারছিলাম না। অবশেষে সেই জিনিস মিলল এসে ২০১১ তে। সব্যসাচী মিস্ত্রী হাতে ধরে ধরে দেখালেন ব্যাপারটা কত সিম্পল। আসলে তাঁর মত কয়েকজন গুরু থাকলে আমাদের আঁকিবুকির দুনিয়া অনেক এগিয়ে যেত। যাই হোক, এবারে এনাটমি আমি আমার মত করে যা বুঝি আর কিছু কমন ভুল নিয়ে এই বারের সিরিজ টা। বলে নেয়া ভালো এই সিরিজের জন্যে দায়ী আমার কৈশোরকালীন মেন্টর, তানভীর ভাই দ্যা গ্রেইট! ভাল থাকুন তানভীর ভাই, আমার ভেতর কমিক্সের পোকা ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন সেই ১৬ বছর বয়সে, তার জন্যে থ্যাংক্স।
খুব সহজ দেখলে  মানুষের ফিগারের মূল দুটি অংশ হল তার বুকের খাঁচা, আর কোমর। ফিগার আঁকার একটা সিক্রেট হল মাথা থেকে না এঁকে আগে বডিটা- মানে এই খাঁচা আর কোমড় ঠিকমত আঁকা, তার পর সেটা থেকে মাথা হাত পা ইত্যাদি বের করা। ওপরের ড্রয়িং এ একটা মানুষের ফিগার আঁকায় সবচেয়ে কমন যেই ভুলটা হয় সেটা ঠিক করে আঁকা হয়ছে। সেটা হল পাশ থেকে দেখলে খাঁচা আর কোমর দুটো দুদিকে বেঁকে থাকে। আর সে দুটো মেরুদন্ডের সাথে একপাশে আটকে থাকে। এবং সেই মেরুদন্ড মোটেও সোজা না। মানে আপ্ন শিঁড়দাড়া সোজা করে যতি দাঁড়ান না কেন সেটা আসলে এভাবেই বেঁকে থাকে। কোন ফিগারের ড্রয়িং যতই ভাল হোক, এই ভিতরের ব্যাপারটা যদি ঠিক না থাকে তবে সেটা বাজে ড্রয়িং মনে হয়।




এবারে বাকি অংশ।খেয়াল করুন হাতটা কিন্তু একেবারে গলার থেকে নামে না, যেটা অনেকেই ভুল করেন। এটা নামে খাঁচার ওপর থেকে মাঝ বরাবর। একইভাবে পা টাও কোমরের মাঝামাঝি থেকে নামে। শরীরের প্রোপোর্শন নীয়ে এই লেভেলে কথা না বলাই ভাল। কারণ এনাটমি যিনি শিখতে চাচ্ছেন তাকে ন্যুনতম ওইটুক বুঝবার বোধ মাথায় নিয়ে আসতে হবে। এখানে মাত্র দুটো ছবি হলেও আসলে আমার মতে এই ছবি ক'টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অন্তত আমার জন্যে সেটা তাই। এইটুকু বুঝে যদি বারবার এভাবে ফিগার এঁকে যেতে থাকেন তবে আমরা পরের পোস্টে পরের ধাপে যতে পারব।
প্রথমবারে এইটুকুই।